প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বুন্দিবুগিও ভেরিয়েন্টের ইবোলার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য একটি টিকার মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করা হয়েছে।
বিডি-ইবোভ নামে ফেজ-১ পর্যায়ের এই গবেষণাটি অক্সফোর্ডে ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সি ৫০ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীর ওপর পরিচালিত হবে। এর মধ্যে চ্যাডক্স১ বিডিবিভি নামের টিকার নিরাপত্তা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে। বর্তমানে অংশগ্রহণকারী নিবন্ধন চলছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর টিকা প্রয়োগ শুরু হবে।
এটি তৈরিতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ ও প্যানডেমিক সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট কাজ করেছে। এতে একই চ্যাডক্স১ ভাইরাল ভেক্টর প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে, যা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল।
ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট (এসআইআই) মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষামূলক এই টিকার প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার ডোজ উৎপাদন ও মজুত করেছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ডোজ ফেজ-১ ট্রায়ালের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ারডনেস ইনোভেশনস (সিইপিআই)-এর ৮৬ লাখ মার্কিন ডলার অনুদানে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সাপেক্ষে উগান্ডাতেও অতিরিক্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রস্তুতি চলেছে।
গবেষণার প্রধান বৈজ্ঞানিক গবেষক প্রফেসর তেরেসা ল্যাম্ব বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বুন্দিবুগিও ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার মাত্র ৫৭ দিনের মধ্যে টিকাটি মানবদেহে পরীক্ষার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি এই সংকট মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
যদি টিকাটি নিরাপদ প্রমাণিত হয় এবং শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হয়, তবে সিইপিআই আরও বড় পরিসরে শেষ ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সহায়তা করবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে টিকাটির জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন বা পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
এদিকে আফ্রিকা সিডিসি-এর মহাপরিচালক ড. জ্যাঁ কাসেয়া এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রাথমিক পর্যায়ের এই পরীক্ষা চলমান প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা করতে না পারলেও, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ইবোলা মহামারির জন্য কার্যকর টিকা উন্নয়নে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন