মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৩ পি.এম
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে একটি ধানক্ষেতের পাশে রাস্তা থেকে মো. নাঈম (১৪) নামে এক মাদরাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে মনে করছে। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাগ্যা গ্রামের এবায়েদ উল্যার বাড়ির কাছে ধানক্ষেতের পাশে রাস্তা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাঈম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ইব্রাহীম খলিলের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে সুবর্ণচরে নানার বাড়িতে বসবাস করে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদরাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাঈমের মা-বাবার বিচ্ছেদ প্রায় তিন বছর আগে ঘটে। এরপর থেকে সে নানার বাড়িতে থাকত এবং মাদরাসায় পড়াশোনা করত। স্থানীয়দের মতে, সে বুলু নেতা সমাজের এবায়েদ উল্যার মেয়ের সন্তান।
নিহতের নানা এবায়েদ উল্যাহ জানান, শনিবার নাঈম মাদরাসা থেকে চলে আসে। পরে তার বাবা ফোন করে তাদের ছেলের অবস্থান জানায়। এরপর তার নানি আমেনা খাতুন ওই স্থান থেকে নাতিকে বাড়িতে নিয়ে আসে। সোমবার রাতে নাঈম রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ফজরের নামাজের সময় নামাজ পড়তে উঠলে ঘরের দরজা খোলা দেখে সে শোবার ঘরে নেই।
পরে সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে সার আনতে যাওয়ার সময় ধানক্ষেতের পাশে রাস্তার ওপর নাঈমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এবায়েদ উল্যাহ অভিযোগ করেন, "২০-২৫ দিন আগে আমার মেয়ের নতুন করে বিয়ে হয়। এরপর নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিল ও তার মা সুমি আক্তার নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। তারা বলে কীভাবে ছেলের আয়-রোজগার খায় দেখে নেবে।" নিহতের মা তার বাবাকে সন্দেহ করছেন। সকালে ছেলের মৃত্যুর খবর দেওয়ার জন্য তাকে অনেকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে নিজে ফোন করলে তাকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এরপর দুপুর ১টা পর্যন্ত ছেলের মরদেহ দেখতে আসেননি বাবা।
অভিযোগের বিষয়ে নিহতের বাবা ইব্রাহীম খলিলের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার বলেন, "খবর পেয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহতের থুতনির নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এটি কীভাবে হয়েছে এবং মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।"
তিনি আরও জানান, নিহতের বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম অথবা ফেনীতে রয়েছেন এবং ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রতিদিন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের সকাল কফির গাঢ় সুবাসে শুরু হয়। কর্মব্যস্ত জীবনে এক কাপ কফি যেমন সতেজতা এনে দেয়, তেমনি আধুনিক নগরজীবনের সামাজিকতা ও আড্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে এই পানীয়টি। তবে কফির এই জনপ্রিয়তার ইতিহাস ইউরোপের ক্যাফে থেকে নয়, বরং এর শিকড় ইয়েমেনের সুফি সাধনা, ইসলামী জ্ঞানচর্চা এবং অটোমান সাম্রাজ্যের সামাজিক সংস্কৃতিতে বিস্তৃত।
কফির ইতিহাস নিয়ে প্রচলিত একটি কাহিনিতে ইথিওপিয়ার ছাগলপালক কালদির উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়, বুনো লাল ফল খাওয়ার পর তার ছাগলগুলো অস্বাভাবিকভাবে চঞ্চল হয়ে ওঠে। তবে কফির বীজকে ভেজে গরম পানীয় তৈরির প্রচলন গড়ে ওঠে লোহিত সাগরের ওপারে ইয়েমেনের উচ্চভূমিতে।
পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইয়েমেনের জাবিদসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক শহর ও মোক্কার আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় সুফি সাধকেরা কফির বীজ ভেজে ও ফুটিয়ে পান করতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় রাত জেগে ইবাদত, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতের সময় সজাগ থাকতে কফি তাদের কাছে একটি সহায়ক পানীয় হয়ে ওঠে।
সুফি সাধকদের কাছে কাহওয়া নামে পরিচিত এই পানীয় বিশেষ করে তাহাজ্জুদ ও ফজরের আগের আধ্যাত্মিক সাধনায় ব্যবহৃত হতো। ইবাদতের আগে বা মাঝে তারা একসঙ্গে বসে কফি পান করতেন। কফির বীজের প্রচলনের আগে ইয়েমেনে কফি ফলের শুকনো খোসা দিয়ে ‘কিশর’ নামে এক ধরনের পানীয় তৈরির চল ছিল, যাতে আদা ও দারুচিনি মেশানো হতো।
ধীরে ধীরে কফির জনপ্রিয়তা আরব উপদ্বীপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের আল-মোক্কা বন্দর কফি বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। আধুনিক ‘মোচা’ শব্দটির উৎপত্তিও এই বন্দরনগরীর নাম থেকে হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ইয়েমেন কফি বাণিজ্যে প্রায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। মূল্যবান ফসলটির গুরুত্ব বিবেচনায় জীবন্ত কফি গাছ বা অঙ্কুরোদ্গমে সক্ষম বীজ বিদেশে নেওয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো। কফি বিন বিদেশে পাঠানোর আগে সেগুলো সেদ্ধ, ঝলসে বা পুড়িয়ে দেওয়া হতো, যাতে অন্যত্র সহজে নতুন গাছ জন্মাতে না পারে।
বাণিজ্যপথ ও হজযাত্রার মাধ্যমে কফি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মক্কা-মদিনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। ষোড়শ শতাব্দীর শুরুতে পানীয়টি কায়রোতেও পৌঁছে যায়। আল-আজহারকে ঘিরে থাকা শিক্ষার্থীদের আবাসিক এলাকায় কফি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ইয়েমেনি শিক্ষার্থীরা রাত জেগে ইসলামী আইন ও কোরআন অধ্যয়নের সময় কাহওয়া পান করতেন।
তবে কফির জনপ্রিয়তার সঙ্গে বিতর্কও শুরু হয়। কফি শরীরের জন্য ক্ষতিকর কি না এবং ধর্মীয়ভাবে এটি বৈধ কি না, এ নিয়ে আলেম ও ফকিহদের মধ্যে আলোচনা হয়। পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় ও চিকিৎসাবিষয়ক পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে কফি মুসলিম সমাজে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।
ষোড়শ শতাব্দীতে অটোমান সাম্রাজ্যের প্রভাব আরব ভূখণ্ডে বিস্তৃত হলে কফি পৌঁছে যায় ইস্তাম্বুলের রাজদরবারে। সুলতান সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের সময় কফি প্রস্তুত করা এক ধরনের আনুষ্ঠানিক শিল্পে পরিণত হয়। দক্ষ কফি প্রস্তুতকারীরা কফি বিন ভেজে গুঁড়া করে তামার লম্বা হাতলযুক্ত পাত্র ‘সেজভে’তে ফুটিয়ে পরিবেশন করতেন।
তবে কফির ইতিহাসে অটোমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল ‘কাহভেহানে’ বা গণকফিঘরের বিকাশ। এসব জায়গা কেবল কফি পান করার স্থান ছিল না, বরং সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক যোগাযোগের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সেখানে দাবা খেলা, কবিতা আবৃত্তি, দর্শন ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনা চলত। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একই জায়গায় মিলিত হওয়ার সুযোগ পেতেন।
পরবর্তীতে অটোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূত্রে ভেনিসের ব্যবসায়ীরা কফির সঙ্গে পরিচিত হন। সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে ভাজা কফি বিন ইতালিতে আমদানি শুরু হয়। ভেনিস থেকে দ্রুত ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে কফি ও কফিঘরের সংস্কৃতি।
১৬৫২ সালে গ্রিক ও অটোমান বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী পাসকোয়া রোজি লন্ডনে একটি কফিঘর চালু করেন। এরপর প্যারিস, ভিয়েনা ও আমস্টারডামেও কফিঘর গড়ে ওঠে।
ইউরোপে এসব কফিঘরও ধীরে ধীরে সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। লন্ডনে মাত্র এক পেনিতে এক কাপ কফি কিনে দীর্ঘ সময় আলোচনা করার সুযোগ থাকায় এসব স্থান ‘পেনি ইউনিভার্সিটি’ নামেও পরিচিতি পায়। বাণিজ্য, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও রাজনৈতিক চিন্তাচর্চার বিকাশেও ইউরোপের কফিঘরগুলোর ভূমিকার কথা ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়।
সুফি সাধকদের রাতের ইবাদত থেকে অটোমান দরবার, সেখান থেকে ইউরোপের কফিঘর পর্যন্ত দীর্ঘ এই যাত্রায় কফি শুধুমাত্র একটি পানীয় হিসেবে নয়, বরং সামাজিকতা, জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে।
সূত্র : হালাল ট্রিপ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বালির ধূধু প্রান্তর, চারপাশে শুধুই শুষ্কতা এবং প্রাণহীনতার দৃশ্য—এটি চিলির আতাকামা মরুভূমির পরিচিত চিত্র। বিশ্বের সবচেয়ে শুকনো মরুভূমি হিসেবে পরিচিত এই বিশাল অঞ্চলটি এবার চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রকৃতির অদ্ভুত খেয়ালে বালির প্রান্তর এখন ছেয়ে গেছে নানা রঙের ফুলে।
চিলির আতাকামা মরুভূমি প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় এখানে বৃষ্টির দেখা মেলে না। ফলে বিস্তীর্ণ মরুভূমিতে গাছপালা বা প্রাণীর উপস্থিতি খুবই কম।
তবে প্রতি কয়েক বছর পরপরই এই মরুভূমির চেহারায় বড় পরিবর্তন দেখা দেয়। নির্দিষ্ট আবহাওয়াগত পরিস্থিতি তৈরি হলে মাটির নিচে দীর্ঘদিন ধরে সুপ্ত থাকা ফুলের বীজ জেগে ওঠে। তখন বালির জায়গা দখল করে নেয় রঙিন ফুল।
এই সময় আতাকামাকে বলা হয় ‘ফুলে ফোটা মরুভূমি’। প্রায় ২০০ ধরনের ফুল ফুটে মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা রঙিন হয়ে ওঠে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বালির ওপর যেন কেউ রঙিন কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছে।
এবারও প্রকৃতির বিশেষ পরিস্থিতিতে আতাকামায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এল নিনোর প্রভাবে গত আগস্টে মরুভূমিটিতে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর সঙ্গে ছিল তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়া।
বৃষ্টি এবং ঠান্ডার এই সমন্বিত প্রভাবেই মরুভূমির মাটিতে দীর্ঘদিন ঘুমিয়ে থাকা ফুলের বীজগুলো অঙ্কুরিত হতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।
শুষ্ক মরুভূমির এমন অভাবনীয় রূপ দেখতে এখন সেখানে ভিড় করছেন অনেক মানুষ। বছরের বেশিরভাগ সময় যে অঞ্চলকে প্রাণহীন বালির প্রান্তর মনে হয়, সেই আতাকামাই এখন পরিণত হয়েছে রঙিন ফুলের অপূর্ব দৃশ্যে।
প্রকৃতির এই বিরল পরিবর্তন শুধু পর্যটকদের আকর্ষণ করছে না, বরং মরুভূমির কঠিন পরিবেশেও কীভাবে জীবনের অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে, তার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে আতাকামা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
পদের নাম: কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ
পদসংখ্যা: ৪
শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি
অন্যান্য যোগ্যতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, এমএস অফিসের উপর ভালো জ্ঞান থাকা আবশ্যক। বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে, প্রার্থীদের জন্য ১ থেকে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তবে অভিজ্ঞতা না থাকলেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: ২০ থেকে ৩০ বছর
কর্মস্থল: ঢাকা (মিরপুর)
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে, মোবাইল বিল, পারফরম্যান্স বোনাস, লভ্যাংশ বা মুনাফার অংশ, বিমা, বছরে ২টি উৎসব বোনাস এবং প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট।
আবেদনের নিয়মাবলী: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফিফার কার্যক্রম ও পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে স্বাধীন পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর নিজের আগ্রহও প্রকাশ করেছেন।
একটি চিঠিতে, যা ফিফা কাউন্সিলের সদস্য এবং ২১১টি সদস্যসংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে, ইনফান্তিনো জানান যে, স্বাধীন একটি পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিফার কার্যক্রমে সম্ভাব্য উন্নয়নের বিষয়ে সুপারিশ নেওয়া হবে। তিনি আগামী মাসে কাউন্সিলের বৈঠকের আগে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে মতামত নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
এই পর্যালোচনার মধ্যে ফিফা সভাপতির ভূমিকা, বড় কৌশলগত উদ্যোগে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার বাস্তবসম্মত উপায়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।
সম্প্রতি, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) প্রস্তাব নিয়ে ইনফান্তিনো চাপের মুখে পড়েন। এই প্রস্তাবে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে ফিফা।
চিঠিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ইনফান্তিনো লিখেছেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে আপনাদের উদ্দেশে লেখার আগে আমি সময় নিয়ে সবার কথা শুনেছি।’
তিনি কনফেডারেশন, সদস্যসংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরামর্শপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এফএফই প্রস্তাবের পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ইনফান্তিনো দাবি করেন যে, এতে খেলাধুলাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে ফিফার নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তাঁর ভাষ্য, ফিফার নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই প্রস্তাবটি জনসমক্ষে চলে আসে।
কাউন্সিল ও সদস্যসংস্থাগুলোর কাছে পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপনের আগেই বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়ে গেছে। তবে ইনফান্তিনোর দাবি, বাস্তবে এমন কিছু হয়নি।
ফিফা সভাপতি আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, স্বাধীনতা ও ক্রীড়াসংক্রান্ত কর্তৃত্ব কখনো বিক্রির জন্য ছিল না। এখনো নয়, ভবিষ্যতেও হবে না।’
এফএফই প্রস্তাব বাতিল হলেও ফুটবলে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য থেকে সরে আসছেন না ইনফান্তিনো। তিনি জানিয়েছেন যে, সদস্যসংস্থাগুলোর উন্নয়ন ও সংহতি সহায়তা বাড়াতে ফিফার সম্পদ টেকসইভাবে বৃদ্ধির পথ খোঁজা অব্যাহত থাকবে।
ইনফান্তিনোর ভাষায়, ‘আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বদলাচ্ছে না; বদলাচ্ছে বড় ধারণাগুলো যেভাবে তৈরি, যাচাই ও চূড়ান্ত করা হয়, সেই প্রক্রিয়া।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ