প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বালির ধূধু প্রান্তর, চারপাশে শুধুই শুষ্কতা এবং প্রাণহীনতার দৃশ্য—এটি চিলির আতাকামা মরুভূমির পরিচিত চিত্র। বিশ্বের সবচেয়ে শুকনো মরুভূমি হিসেবে পরিচিত এই বিশাল অঞ্চলটি এবার চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রকৃতির অদ্ভুত খেয়ালে বালির প্রান্তর এখন ছেয়ে গেছে নানা রঙের ফুলে।
চিলির আতাকামা মরুভূমি প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় এখানে বৃষ্টির দেখা মেলে না। ফলে বিস্তীর্ণ মরুভূমিতে গাছপালা বা প্রাণীর উপস্থিতি খুবই কম।
তবে প্রতি কয়েক বছর পরপরই এই মরুভূমির চেহারায় বড় পরিবর্তন দেখা দেয়। নির্দিষ্ট আবহাওয়াগত পরিস্থিতি তৈরি হলে মাটির নিচে দীর্ঘদিন ধরে সুপ্ত থাকা ফুলের বীজ জেগে ওঠে। তখন বালির জায়গা দখল করে নেয় রঙিন ফুল।
এই সময় আতাকামাকে বলা হয় ‘ফুলে ফোটা মরুভূমি’। প্রায় ২০০ ধরনের ফুল ফুটে মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা রঙিন হয়ে ওঠে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বালির ওপর যেন কেউ রঙিন কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছে।
এবারও প্রকৃতির বিশেষ পরিস্থিতিতে আতাকামায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এল নিনোর প্রভাবে গত আগস্টে মরুভূমিটিতে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর সঙ্গে ছিল তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়া।
বৃষ্টি এবং ঠান্ডার এই সমন্বিত প্রভাবেই মরুভূমির মাটিতে দীর্ঘদিন ঘুমিয়ে থাকা ফুলের বীজগুলো অঙ্কুরিত হতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।
শুষ্ক মরুভূমির এমন অভাবনীয় রূপ দেখতে এখন সেখানে ভিড় করছেন অনেক মানুষ। বছরের বেশিরভাগ সময় যে অঞ্চলকে প্রাণহীন বালির প্রান্তর মনে হয়, সেই আতাকামাই এখন পরিণত হয়েছে রঙিন ফুলের অপূর্ব দৃশ্যে।
প্রকৃতির এই বিরল পরিবর্তন শুধু পর্যটকদের আকর্ষণ করছে না, বরং মরুভূমির কঠিন পরিবেশেও কীভাবে জীবনের অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে, তার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে আতাকামা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন