বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৫২ পি.এম
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করছেন। নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালনকালে, নিউইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশমী রোজের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে তার সাক্ষাৎ ঘটে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎটি হয়।
রুশমী রোজের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের খবর পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন তার সাবেক শিক্ষক মামুনুর রশিদ। প্রায় দুই দশক আগে বগুড়ায় রুশমীকে পড়িয়েছিলেন তিনি। নিউইয়র্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে দায়িত্বশীল পদে কাজ করতে এবং দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে দেখা করতে দেখে গর্বিত বোধ করছেন এই শিক্ষক।
রুশমী রোজ বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রয়াত মাহফুজ আরা মিভার বড় মেয়ে। তিনি প্রায় ২২ থেকে ২৩ বছর আগে শিক্ষক মামুনুর রশিদের কাছে পড়াশোনা করেছেন। উল্লেখ্য, রুশমীর ছোট বোন রোশানা ও একই শিক্ষকের ছাত্রী ছিলেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছান। পরদিন থেকে শুরু হয় তার বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি। ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘকেন্দ্রিক ব্যস্ততার মধ্যে সদর দপ্তরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রুশমীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথা হয়।
বগুড়ার মেয়ে রুশমী নিউইয়র্ক পুলিশে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন, এই খবর জানার পর প্রধানমন্ত্রী তার খোঁজখবর নেন। শিক্ষক মামুনুর রশিদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করা রুশমীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। নিউইয়র্কের মাটিতে সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তিনি আবেগাপ্লুত হয়েছেন।
এই সাক্ষাৎকে প্রধানমন্ত্রীর কম আনুষ্ঠানিকতার নীতির একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এর অংশ হিসেবে তার গাড়িবহর ১৩-১৪টি গাড়ি থেকে কমিয়ে চারটি করা হয়েছে। রাস্তায় চলাচলের সময় সাধারণ ট্রাফিক সংকেত মেনে চলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের মতো বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের ব্যস্ততার মধ্যেও একজন প্রবাসী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই স্বাভাবিক কথোপকথন আলোচনায় এসেছে। একদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের বিভিন্ন কর্মসূচি, অন্যদিকে নিউইয়র্ক পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশমীর কাজ—দুটি বিষয়ই ওই সাক্ষাৎকে বিশেষ করে তুলেছে।
নিজের সাবেক ছাত্রীকে এমন অবস্থানে দেখে শিক্ষক মামুনুর রশিদও নিজের শিকড় ও শিক্ষাদানের গৌরব অনুভব করছেন। রুশমীর এই সাফল্য দেশ-বিদেশে থাকা বাঙালিদের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের গুরুত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসে এসব বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসে এ খাতে সর্বোচ্চ রপ্তানি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
গত দুই বছরে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি, তবে চলতি অর্থবছরে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে রপ্তানির রেকর্ড সত্ত্বেও এসব বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির মাসিক গড়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাসিক গড় রপ্তানি ছিল ৫৭৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার, যা চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেড়ে ৬১১ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ এসেছিল অপ্রচলিত বাজার থেকে, যা চলতি অর্থবছরে বেড়ে ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল মন্তব্য করেন, "অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এতদিন এসব বাজারে সেভাবে নজর দেওয়া হয়নি। এখন এসব বাজারকে গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সময় এসেছে।"
তিনি আরও বলেন, "অপ্রচলিত বাজার মানেই শুধু দামি পোশাকের বাজার নয়। এসব দেশে বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাকের বড় চাহিদা রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশগুলোতে শত শত বিলিয়ন ডলারের পোশাকের বাজার রয়েছে। তাই প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি আরও বাড়াতে অপ্রচলিত বাজারের দিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।"
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান ছিল বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য। দেশটিতে ১১৮ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ৭৫ দশমিক ১৪ মিলিয়ন, ভারতে ৭২ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন, তুরস্কে ৫৯ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন এবং কোরিয়া প্রজাতন্ত্রে ৪৫ দশমিক ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক।
এছাড়া, মেক্সিকোতে ৩২ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন, ব্রাজিলে ২৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন, চীনে ২০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন এবং সৌদি আরবে ১৯ দশমিক ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।
একই সময়ে মালয়েশিয়ায় ১৫ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন, চিলিতে ১৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৩ দশমিক ১০ মিলিয়ন, রাশিয়ায় ৯ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন এবং নিউজিল্যান্ডে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। অন্যান্য অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি হয়েছে আরও ৮৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৬০৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে অপ্রচলিত বাজারে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি নতুন বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
রপ্তানি গন্তব্যে বৈচিত্র্য আনার এই প্রবণতা প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি নতুন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে। আগস্টের রেকর্ড রপ্তানি এবং চলতি অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারের বাড়তে থাকা অংশ বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করেছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মা যখন হাসপাতালে মৃত্যুর যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে তার বড় ছেলে চিকিৎসার জন্য ব্যাংকে জমা করা দেড় লাখ টাকা তুলে নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার করুণানগর এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই অমানবিক ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অর্থের অভাবে ঢাকা শহরের শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই মায়ের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। মা তার বাবার বাড়ির ওয়ারিশি সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দুই ছেলে— মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিনের নামে সোনালী ব্যাংকের একটি যৌথ অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছিলেন। এই অর্থ ভবিষ্যতে নিজের বিপদ বা চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল।
সপ্তাহখানেক আগে ওই নারী তৃতীয়বারের মতো স্ট্রোক করলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে মায়ের চিকিৎসার জন্য জরুরি খরচের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে দুই ভাই আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিন সোনালী ব্যাংক কমলনগর শাখা থেকে যৌথ অ্যাকাউন্টের পুরো টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু টাকা তোলার পরপরই বড় ভাই আলাউদ্দিন ছোট ভাই সালাউদ্দিনকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে যখন স্বজনরা যোগাযোগের চেষ্টা করেন, তখন আলাউদ্দিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন— মায়ের নামে থাকা জমি তার নামে লিখে না দিলে তিনি চিকিৎসার জন্য এই টাকা দেবেন না। যদিও ঘটনাটি রোববারের, কিন্তু বুধবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে সালাউদ্দিন বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান।
ছোট ছেলে সালাউদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "বড় ভাই বেশ কিছুদিন ধরেই মায়ের জমি নিজের নামে লিখে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু মা রাজি হননি। এখন মায়ের জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে তিনি প্রতারণা করে চিকিৎসার টাকা আটকে রেখে জমি লিখে নেওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। টাকার অভাবে মায়ের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, আমরা এখন চরম দিশেহারা।"
ঘটনাটি জানার পর স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোলাইমান তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা টাকা তুলে ছেলে চম্পট দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। এমন পাষণ্ড সন্তানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।"
করুণানগর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবুল কালাম আফসোস করে বলেন, "মাতা-পিতার আত্মত্যাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যে সন্তান মাকে মৃত্যুর মুখে ফেলে টাকা নিয়ে পালাতে পারে, আল্লাহ যেন এমন কুলাঙ্গার সন্তান আর কারো ঘরে না দেন। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।"
জানা গেছে, অভিযুক্ত আলাউদ্দিন উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করুণানগর এলাকার মৃত হানিফ বেপারীর বড় ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুটি বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। ঘটনার পর থেকে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার টাকা নিয়ে সটকে পড়া এবং শর্ত জুড়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দ্রুত লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আইন বিভাগের তিন শিক্ষার্থী সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্যটি জানা যায়।
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) অধীনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষার পর তাদের সিভিল জজ পদে সুপারিশ করা হয়।
সুপারিশপ্রাপ্ত তিন শিক্ষার্থী হলেন, আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ৭ম ব্যাচের জান্নাতুল আইশা, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ৬ষ্ঠ ব্যাচের জয়ন্ত হালদার এবং ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ৪র্থ ব্যাচের মো. নাইম হোসাইন।
প্রকাশিত ফলাফলে জান্নাতুল আইশা ১৫তম এবং জয়ন্ত হালদার ৬৭তম স্থান অর্জন করেছেন। একই পরীক্ষায় মো. নাইম হোসাইনও সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে তিন শিক্ষার্থীর এই সাফল্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে জয়ন্ত হালদার বলেন, "দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ধৈর্য ও একাগ্রতার পর এই সাফল্য অর্জন করতে পেরে তার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।" তিনি এই দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রায় পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অবদান অপরিসীম উল্লেখ করে বলেন, "তাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন ছাড়া এ পথ অতিক্রম করা সম্ভব হতো না।"
তিনি আরও বলেন, "মেধা তালিকায় ৬৭তম স্থান অর্জন করেছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারি।"
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কাইসার আহমেদ বলেন, "সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত আমাদের তিন কৃতী শিক্ষার্থী জান্নাতুল আইশা, নাইম হোসাইন ও জয়ন্ত হালদারকে আইন বিভাগের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, "তারা কর্মক্ষেত্রে নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও সততার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও বিচার বিভাগের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও আইন বিভাগের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে।"
তিনি আরও বলেন, "তাদের এই সাফল্য বিভাগের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।" ভবিষ্যতেও বিভাগের শিক্ষার্থীরা সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সরকার নতুন ভিসা বিধিনিষেধ নীতি ঘোষণা করেছে, যা জন্মসূত্রে সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ঠেকাতে কার্যকর হবে। এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, বিদেশি বাণিজ্যিক ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে এই নীতি প্রয়োগ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও জানায়, সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দিতে ভ্রমণ করা পর্যটন ভিসার অনুমোদিত উদ্দেশ্য নয়।
রুবিও বলেন, বিদেশি বাণিজ্যিক ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নেটওয়ার্কগুলো মুনাফার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। এসব নেটওয়ার্ক বিদেশিদের কাছে বিজ্ঞাপন দেয় এবং ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে উৎসাহিত বা পরামর্শ দেয়।
এছাড়া, এসব নেটওয়ার্ক শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ সংগ্রহ করে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রুবিও জানান, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১২(এ)(৩)(সি) ধারার আওতায় নতুন এই ভিসা বিধিনিষেধ নীতি কার্যকর করা হচ্ছে।
যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
নতুন নীতিতে লক্ষ্য করা হয়েছে, যারা জেনেশুনে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে যুক্ত হন, আগে যুক্ত ছিলেন অথবা এতে সহায়তা করেন।
এর আওতায় থাকবেন—
১. বাণিজ্যিকভাবে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ সুবিধা দেওয়া নেটওয়ার্কের মালিক, পরিচালনাকারী ও ব্যবস্থাপক;
২. ভিসা দালাল, যারা আবেদনকারীদের জালিয়াতির কৌশল শেখায়;
৩. বিদেশি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী, যারা জেনেশুনে এ ধরনের ভ্রমণে সহায়তা করেন;
৪. যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেড ব্যবস্থার জালিয়াতিমূলক ব্যবহারে সহায়তাকারী ব্যক্তিরা;
৫. বাণিজ্যিক ‘বার্থ ট্যুরিজম’-কে সমর্থন, সহায়তা বা পরিচালনায় ভূমিকা রাখা অন্য ব্যক্তিরা।
রুবিও বলেন, মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা রক্ষা, জনকল্যাণমূলক সুবিধা ও করদাতাদের শোষণ থেকে রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।
তিনি আরও বলেন, যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত এবং এর মাধ্যমে মুনাফা করে, তাদের উভয় পক্ষের জন্য ভিসা দেওয়া সীমিত করে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের সদস্যও এই ভিসা বিধিনিষেধের আওতায় পড়তে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ভিসার নিয়মে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দিতে দেশটিতে ভ্রমণকে অনুমোদিত পর্যটন উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ