ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে নতুন ভিসা বিধিনিষেধ


যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে নতুন ভিসা বিধিনিষেধ

যুক্তরাষ্ট্রের সরকার নতুন ভিসা বিধিনিষেধ নীতি ঘোষণা করেছে, যা জন্মসূত্রে সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ঠেকাতে কার্যকর হবে। এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, বিদেশি বাণিজ্যিক ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে এই নীতি প্রয়োগ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও জানায়, সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দিতে ভ্রমণ করা পর্যটন ভিসার অনুমোদিত উদ্দেশ্য নয়।

রুবিও বলেন, বিদেশি বাণিজ্যিক ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নেটওয়ার্কগুলো মুনাফার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। এসব নেটওয়ার্ক বিদেশিদের কাছে বিজ্ঞাপন দেয় এবং ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে উৎসাহিত বা পরামর্শ দেয়।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

এছাড়া, এসব নেটওয়ার্ক শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ সংগ্রহ করে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রুবিও জানান, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১২(এ)(৩)(সি) ধারার আওতায় নতুন এই ভিসা বিধিনিষেধ নীতি কার্যকর করা হচ্ছে।

যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নতুন নীতিতে লক্ষ্য করা হয়েছে, যারা জেনেশুনে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে যুক্ত হন, আগে যুক্ত ছিলেন অথবা এতে সহায়তা করেন।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

এর আওতায় থাকবেন—

১. বাণিজ্যিকভাবে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ সুবিধা দেওয়া নেটওয়ার্কের মালিক, পরিচালনাকারী ও ব্যবস্থাপক;

২. ভিসা দালাল, যারা আবেদনকারীদের জালিয়াতির কৌশল শেখায়;

৩. বিদেশি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী, যারা জেনেশুনে এ ধরনের ভ্রমণে সহায়তা করেন;

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

৪. যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেড ব্যবস্থার জালিয়াতিমূলক ব্যবহারে সহায়তাকারী ব্যক্তিরা;

৫. বাণিজ্যিক ‘বার্থ ট্যুরিজম’-কে সমর্থন, সহায়তা বা পরিচালনায় ভূমিকা রাখা অন্য ব্যক্তিরা।

রুবিও বলেন, মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা রক্ষা, জনকল্যাণমূলক সুবিধা ও করদাতাদের শোষণ থেকে রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।

তিনি আরও বলেন, যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত এবং এর মাধ্যমে মুনাফা করে, তাদের উভয় পক্ষের জন্য ভিসা দেওয়া সীমিত করে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের সদস্যও এই ভিসা বিধিনিষেধের আওতায় পড়তে পারেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ভিসার নিয়মে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দিতে দেশটিতে ভ্রমণকে অনুমোদিত পর্যটন উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাম্বুরা খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে শিশুকে ঘরে নিয়ে যান মিরাজ, অতঃপর ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ পি.এম


জাম্বুরা খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে শিশুকে ঘরে নিয়ে যান মিরাজ, অতঃপর ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় ছয় বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রী শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মিরাজ শেখ (৩৮) নামের এক যুবককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। পাশাপাশি, তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরপর তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত মিরাজ শেখ নগরকান্দা উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা এবং শিশুটির প্রতিবেশী।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে শিশুটি মিরাজের বাড়িতে তার এক সহপাঠীর সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। এ সময় মিরাজ শিশুটিকে জাম্বুরা খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার ঘরে নিয়ে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেন। শিশুটি চিৎকার করলে মিরাজ তাকে ছেড়ে দেন। পরে বাড়ি ফিরে শিশুটি তার মায়ের কাছে ঘটনার কথা জানায়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ওইদিনই বাদী হয়ে মিরাজকে একমাত্র আসামি করে নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন নগরকান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান। তিনি ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি মিরাজকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, "একজন শিশুর সাথে যে ঘটনা ঘটেছে এটা অমার্জনীয়। এই অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ধারার সর্বোচ্চ রায়টা আদালত দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হঠাৎ ৩ লাখ ১০ হাজার ফেনসিডিলের বোতল গুঁড়িয়ে দিলেন শুভেন্দু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


হঠাৎ ৩ লাখ ১০ হাজার ফেনসিডিলের বোতল গুঁড়িয়ে দিলেন শুভেন্দু

‘নেশামুক্ত ভারত-২০২৯’ কর্মসূচির আওতায় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে জব্দ করা ৩ লাখ ১০ হাজার বোতল ফেনসিডিল ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার কলকাতার নিউটাউনের ইকোপার্ক চত্বরে রোড রোলার ব্যবহার করে ফেনসিডিলগুলো ধ্বংস করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধ্বংস করা ফেনসিডিলের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩১ কোটি রুপি বলে জানা গেছে।

রাজ্য পুলিশ, বিএসএফ এবং পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স এসটিএফের বিভিন্ন অভিযানে এসব ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছিল। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের উদ্যোগে এই ধ্বংস কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। এটি পশ্চিমবঙ্গে ফেনসিডিল ধ্বংসের দ্বিতীয় বড় কর্মসূচি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গে মাদকের অবৈধ উৎপাদন ও ব্যবসা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। তিনি মাদকাসক্তির কারণে পরিবার ও সমাজের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে আরও জোরদারের কথা জানান।

মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বাংলার যুব সমাজকে মাদকের কবল থেকে রক্ষা করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি জানান, ড্রাগ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এর আগে ২ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে প্রায় ২ লাখ বোতল ফেনসিডিল ধ্বংস করা হয়েছিল। ওই চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ২০ কোটি রুপি। বালুরঘাটের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বুলডোজার চালিয়ে ফেনসিডিল ধ্বংসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ মাদক কারবারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের জন্য পুলিশের ১২টি বিশেষ নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের জন্য পুলিশের ১২টি বিশেষ নির্দেশনা

বাংলাদেশ পুলিশ মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের জন্য ১২টি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে, যা সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই নির্দেশনাগুলি প্রকাশ করা হয়।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোটরসাইকেল চালক এবং আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার করা উচিত এবং গাড়ির চালক ও যাত্রীদের সিট বেল্ট পরিধান করতে হবে। মোটরসাইকেলে চালকসহ সর্বাধিক দুইজন চলাচল করতে পারবেন বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।

গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং অহেতুক হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ এবং ট্রাফিক সিগন্যাল যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বড় ও ভারী যানবাহনের ‘ব্লাইন্ড স্পট’ সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি লেন পরিবর্তন বা মোড় নেওয়ার আগে ইন্ডিকেটর ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। অন্য যানবাহনের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে গাড়ি চালানোর জন্যও নির্দেশনা রয়েছে।

কুয়াশা, বৃষ্টি বা খারাপ আবহাওয়ার সময় গতি কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক জ্যাম বা অন্য চালকের ভুলের কারণে ধৈর্য হারানো থেকে বিরত থাকতে এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যও চালকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় মাদক সেবন করে, তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় বা উল্টো পথে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং না করে নির্ধারিত লেন মেনে চলার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ যানবাহনের সব হালনাগাদ কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ চালকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, নিজেদের এবং পরিবারের সুরক্ষার জন্য এসব নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুযোগ, তবে চাইলেই কি সম্ভব?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


বাংলাদেশে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুযোগ, তবে চাইলেই কি সম্ভব?

বিভিন্ন কারণে অনেক নারী সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা কিছুটা পিছিয়ে দেন। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে গর্ভধারণের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। বিশেষ করে মধ্য ত্রিশের পর এই সম্ভাবনা দ্রুত হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে বয়স বৃদ্ধির ফলে ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমজনিত ত্রুটির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। ফলে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের জন্য ডিম্বাণু সংরক্ষণের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে এই প্রযুক্তির সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। তবে যে কোনো নারী চাইলেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতে সন্তানধারণের নিশ্চয়তা পাবে, এমনটি বলা যায় না।

বয়স কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, নারীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা প্রায় ৩০ বছর বয়সের পর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। মধ্য ত্রিশের পর এই হার আরও দ্রুত হ্রাস পায়। ৪৫ বছর বয়সের দিকে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা খুবই কমে যায়।

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ডিম্বাণুর গুণগত মানও হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমাল অস্বাভাবিকতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ফলে গর্ভধারণের সময় ভ্রূণের কিছু জিনগত বা জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

ডিম্বাণু সংরক্ষণ কীভাবে করা হয়?

ডিম্বাশয়ে অবস্থিত ডিম্বাণুগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থায় থাকলে সেগুলো সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এজন্য প্রথমে হরমোন ইনজেকশনের মাধ্যমে একসাথে একাধিক ডিম্বাণুকে পরিণত করে তোলা হয়। সাধারণত ৮ থেকে ১২ দিন পর নির্দিষ্ট সময়ে ডিম্বাণু সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এই সময়ে রোগীকে ঘুমের ওষুধ বা চেতনানাশক প্রদান করা হয়। এরপর ট্রান্সভ্যাজাইনাল সনোগ্রাফি বা টিভিএস প্রোবের মাধ্যমে বিশেষ সূচের সাহায্যে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়।

সংগৃহীত ডিম্বাণু তরল নাইট্রোজেনের অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা সম্ভব।

পরবর্তী সময়ে ওই নারী সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সংরক্ষিত ডিম্বাণু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনা হয়। এরপর শুক্রাণুর মাধ্যমে ডিম্বাণুর নিষেক ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। পরে সেই ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।

কারা ডিম্বাণু সংরক্ষণ করতে পারেন?

ক্যানসারে আক্রান্ত কোনো নারীর চিকিৎসার কারণে ভবিষ্যতে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শে আগেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যতে সন্তানধারণের একটি সম্ভাবনা ধরে রাখার সুযোগ দিতে পারে।

এছাড়া সুস্থ কোনো নারী যদি ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে চান, তিনিও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। তবে ডিম্বাণু সংরক্ষণ তাঁর জন্য উপযুক্ত কি না, তা নির্ভর করবে বয়স, শারীরিক অবস্থা, ডিম্বাণুর মজুত ও গুণগত মানসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।

ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলেই কি সন্তানধারণ নিশ্চিত?

না। ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যতে সন্তানধারণের নিশ্চয়তা দেয় না। বিশেষ করে সংরক্ষিত ডিম্বাণু পরে গলিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় আনার সময় কিছু ডিম্বাণু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এরপর নিষেক ও ভ্রূণ তৈরির ক্ষেত্রে সাফল্য নিশ্চিত নয়।

এছাড়া বয়স বৃদ্ধির সাথে নারীর অন্যান্য শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপনের পরও গর্ভপাতসহ বিভিন্ন জটিলতার আশঙ্কা থাকতে পারে। ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলেও ভবিষ্যৎ সন্তানের জন্মগত ত্রুটি সম্পূর্ণভাবে ঠেকানো সম্ভব এমন নিশ্চয়তাও নেই।

ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ডিম্বাণু সংগ্রহের আগে দেওয়া হরমোন ইনজেকশনের কারণে কারও কারও ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম (OHSS) হতে পারে। এতে ডিম্বাশয় ফুলে যাওয়া, শরীরে পানি জমা, পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব, বমি বা পাতলা পায়খানা হতে পারে।

জটিলতা বেশি হলে দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া, তীব্র পেটব্যথা, অনবরত বমি, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা রক্ত জমাট বাঁধার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এছাড়া হরমোনের প্রভাবে ডিম্বাশয় বড় ও ভারী হয়ে গেলে সেটি নিজের অক্ষের ওপর মুচড়ে যেতে পারে, যাকে ওভারিয়ান টরশন বলা হয়। এটি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এমন একটি পরিস্থিতি।

ডিম্বাণু সংগ্রহের সময় যোনিপথ বা ডিম্বাশয়ের রক্তনালিতে আঘাত লাগারও আশঙ্কা থাকে। বিরল ক্ষেত্রে মূত্রথলি, অন্ত্র বা আশপাশের রক্তনালিতেও আঘাত লাগতে পারে। সংক্রমণের ঝুঁকিও পুরোপুরি বাদ যায় না।

খরচও কম নয়

ডিম্বাণু সংরক্ষণের পুরো প্রক্রিয়া তুলনামূলক ব্যয়বহুল। ডিম্বাণু সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পাশাপাশি ফ্রিজারে সংরক্ষিত ডিম্বাণুর জন্য প্রতিবছর অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।

তাহলে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। একই সাথে যে প্রতিষ্ঠানে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে, সেখানে ডিম্বাণু সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ভবিষ্যতে ব্যবহারের প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ সব মিলিয়ে মোট খরচ সম্পর্কে আগেই বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যতে সন্তানধারণের একটি সুযোগ ধরে রাখার প্রযুক্তি হলেও এটি কোনো নিশ্চয়তা নয়। কার জন্য এটি উপযুক্ত, কখন করা ভালো এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কতটা, এসব সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতেই নেওয়া উচিত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%