প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মা যখন হাসপাতালে মৃত্যুর যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে তার বড় ছেলে চিকিৎসার জন্য ব্যাংকে জমা করা দেড় লাখ টাকা তুলে নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার করুণানগর এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই অমানবিক ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অর্থের অভাবে ঢাকা শহরের শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই মায়ের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। মা তার বাবার বাড়ির ওয়ারিশি সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দুই ছেলে— মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিনের নামে সোনালী ব্যাংকের একটি যৌথ অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছিলেন। এই অর্থ ভবিষ্যতে নিজের বিপদ বা চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল।
সপ্তাহখানেক আগে ওই নারী তৃতীয়বারের মতো স্ট্রোক করলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে মায়ের চিকিৎসার জন্য জরুরি খরচের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে দুই ভাই আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিন সোনালী ব্যাংক কমলনগর শাখা থেকে যৌথ অ্যাকাউন্টের পুরো টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু টাকা তোলার পরপরই বড় ভাই আলাউদ্দিন ছোট ভাই সালাউদ্দিনকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে যখন স্বজনরা যোগাযোগের চেষ্টা করেন, তখন আলাউদ্দিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন— মায়ের নামে থাকা জমি তার নামে লিখে না দিলে তিনি চিকিৎসার জন্য এই টাকা দেবেন না। যদিও ঘটনাটি রোববারের, কিন্তু বুধবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে সালাউদ্দিন বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান।
ছোট ছেলে সালাউদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "বড় ভাই বেশ কিছুদিন ধরেই মায়ের জমি নিজের নামে লিখে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু মা রাজি হননি। এখন মায়ের জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে তিনি প্রতারণা করে চিকিৎসার টাকা আটকে রেখে জমি লিখে নেওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। টাকার অভাবে মায়ের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, আমরা এখন চরম দিশেহারা।"
ঘটনাটি জানার পর স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোলাইমান তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা টাকা তুলে ছেলে চম্পট দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। এমন পাষণ্ড সন্তানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।"
করুণানগর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবুল কালাম আফসোস করে বলেন, "মাতা-পিতার আত্মত্যাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যে সন্তান মাকে মৃত্যুর মুখে ফেলে টাকা নিয়ে পালাতে পারে, আল্লাহ যেন এমন কুলাঙ্গার সন্তান আর কারো ঘরে না দেন। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।"
জানা গেছে, অভিযুক্ত আলাউদ্দিন উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করুণানগর এলাকার মৃত হানিফ বেপারীর বড় ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুটি বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। ঘটনার পর থেকে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার টাকা নিয়ে সটকে পড়া এবং শর্ত জুড়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দ্রুত লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন