০৯:০০ পি.এম
যশোর স্টেডিয়ামে বিসিবির সহযোগিতায় নির্মাণাধীন তিনটি সেন্টার ক্রিকেট উইকেট অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা নষ্ট করে দিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা নির্মাণাধীন উইকেটের ওপর উঠে হাঁটাহাঁটি ও লাফালাফি করার মাধ্যমে পুরো উইকেটটি নষ্ট করে দেয়। এর ফলে শেষ পর্যায়ে থাকা নির্মাণকাজে ব্যাহত হয়েছে এবং নতুন করে সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
উইকেট নির্মাণের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত একজন কর্মকর্তা ও ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব এএফএম মইনুদ্দিন রোম জানান, 'বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তিনটি সেন্টার ক্রিকেট উইকেট নির্মাণের জন্য প্রায় চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। এই উইকেট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। তবে শুক্রবার বিকেলে অজ্ঞাত পরিচয়ের দুর্বৃত্তরা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে এবং উইকেটের ওপর উঠে তাণ্ডব চালায়। তাই পুরো পৃষ্ঠটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে উইকেটের সমতল অবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনার ফলে সময়ের পাশাপাশি প্রকল্পেরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।'
তিনি আরও জানান, 'যশোর স্টেডিয়ামে দিনের বেলায় কোনো প্রহরীর ব্যবস্থা নেই। এজন্য মাঠটি দিনের অধিকাংশ সময়েই কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। স্টেডিয়ামের প্রাচীর টপকে প্রতিদিনই অনেক মানুষ মাঠে প্রবেশ করে খেলাধুলা করেন। এটি কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না।'
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে মাদক সেবনের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার এমন শিথিল অবস্থার কারণে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন স্থাপনা ও ক্রীড়া অবকাঠামো ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।
ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, যশোরের ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নে বিসিবির অর্থায়নে নির্মিত উইকেটটি জেলার ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারতো। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় দুর্বৃত্তরা সহজেই নির্মাণাধীন উইকেটে তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেয়েছে। এই ঘটনায় শুধু একটি উইকেটই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বরং বিসিবির অর্থে বাস্তবায়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্পও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এই ঘটনার পর ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব মাহাতাব নাসির পলাশ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দিনের বেলায় স্থায়ী প্রহরী নিয়োগ, স্টেডিয়ামে অবাধ প্রবেশ বন্ধ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সর্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তার মতে, 'কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও যদি সেগুলোর ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তাই যশোর স্টেডিয়ামের ক্রীড়া অবকাঠামো রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সময় এসেছে।'
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন