ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যশোর স্টেডিয়ামে বিসিবির অর্থায়নে নির্মিত ক্রিকেট উইকেট নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা


যশোর স্টেডিয়ামে বিসিবির অর্থায়নে নির্মিত ক্রিকেট উইকেট নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা

যশোর স্টেডিয়ামে বিসিবির সহযোগিতায় নির্মাণাধীন তিনটি সেন্টার ক্রিকেট উইকেট অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা নষ্ট করে দিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা নির্মাণাধীন উইকেটের ওপর উঠে হাঁটাহাঁটি ও লাফালাফি করার মাধ্যমে পুরো উইকেটটি নষ্ট করে দেয়। এর ফলে শেষ পর্যায়ে থাকা নির্মাণকাজে ব্যাহত হয়েছে এবং নতুন করে সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

উইকেট নির্মাণের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত একজন কর্মকর্তা ও ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব এএফএম মইনুদ্দিন রোম জানান, 'বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তিনটি সেন্টার ক্রিকেট উইকেট নির্মাণের জন্য প্রায় চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। এই উইকেট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। তবে শুক্রবার বিকেলে অজ্ঞাত পরিচয়ের দুর্বৃত্তরা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে এবং উইকেটের ওপর উঠে তাণ্ডব চালায়। তাই পুরো পৃষ্ঠটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে উইকেটের সমতল অবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনার ফলে সময়ের পাশাপাশি প্রকল্পেরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।'

তিনি আরও জানান, 'যশোর স্টেডিয়ামে দিনের বেলায় কোনো প্রহরীর ব্যবস্থা নেই। এজন্য মাঠটি দিনের অধিকাংশ সময়েই কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। স্টেডিয়ামের প্রাচীর টপকে প্রতিদিনই অনেক মানুষ মাঠে প্রবেশ করে খেলাধুলা করেন। এটি কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না।'

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে মাদক সেবনের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার এমন শিথিল অবস্থার কারণে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন স্থাপনা ও ক্রীড়া অবকাঠামো ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।

ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, যশোরের ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নে বিসিবির অর্থায়নে নির্মিত উইকেটটি জেলার ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারতো। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় দুর্বৃত্তরা সহজেই নির্মাণাধীন উইকেটে তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেয়েছে। এই ঘটনায় শুধু একটি উইকেটই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বরং বিসিবির অর্থে বাস্তবায়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া উন্নয়ন প্রকল্পও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এই ঘটনার পর ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব মাহাতাব নাসির পলাশ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দিনের বেলায় স্থায়ী প্রহরী নিয়োগ, স্টেডিয়ামে অবাধ প্রবেশ বন্ধ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সর্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তার মতে, 'কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও যদি সেগুলোর ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তাই যশোর স্টেডিয়ামের ক্রীড়া অবকাঠামো রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সময় এসেছে।'

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যায় ভাসছে চট্টগ্রাম: ৫০ জনের মৃত্যু, ৮০ হাজার বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০২ পি.এম


বন্যায় ভাসছে চট্টগ্রাম: ৫০ জনের মৃত্যু, ৮০ হাজার বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

ছবি, সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং উজানের পানির ফলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বিভাগের ৩৯৪১টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ৩৪৭২৩ জন মানুষ। বন্যার কারণে ৭৯১৮৭টি বসতঘর, ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩৮৪০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩৩৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আজ রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত_latest তথ্য_ অনুযায়ী, বিভাগের ১১ জেলার মোট ৪০৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যায় আক্রান্ত আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা। এছাড়া কক্সবাজারে ৭৪টি, রাঙামাটিতে ৪২টি, খাগড়াছড়িতে ৪১টি এবং বান্দরবানে ৩৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে, যেখানে মৃতের সংখ্যা ২৮ জন। চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এছাড়াও রাঙামাটি ও কক্সবাজারে একজন করে মোট দুইজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম জেলায়। চট্টগ্রামের ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২৬০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। কক্সবাজারের ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন ১৫৮০ জন, বান্দরবানে ২০০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬২৫০ জন, রাঙামাটির ৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৯০৩ জন এবং খাগড়াছড়ির ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৮১ জন অবস্থান করছেন।

বন্যায় কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি ৪৮৬৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বান্দরবানে ১৫৩৩০টি, চট্টগ্রামে ১৪২৮১টি, খাগড়াছড়িতে ১০৪০টি এবং রাঙামাটিতে ৪৭৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবি ছাত্রীর আকুতি ক্যানসারে আক্রান্ত বাবাকে বাঁচানোর জন্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


ইবি ছাত্রীর আকুতি ক্যানসারে আক্রান্ত বাবাকে বাঁচানোর জন্য

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত এক ছাত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত বাবাকে বাঁচানোর জন্য আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানানোর জন্য সবার কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

এই ছাত্রীর নাম ফারিয়া (ছদ্মনাম), যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবर्षের শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের কাছে মানবিক ও আর্থিক সহায়তা প্রার্থনা করতে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে যে, ক্যানসারে আক্রান্ত বাবার নাম মো. আব্দুল ওহাব। তিনি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার মুরুটিয়া বলরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। রোগীর বায়োপসি চিকিৎসা করেছেন ডা. শাহাবুব আলম এবং হেমাটোলজিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ডা. এম. এ. খান।

দুর্ভাগ্যবশত, আর্থিক সংকটের কারণে প্রায় পাঁচ মাস ধরে তার মূল চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়নি। এই কারণে রোগটি আরও জটিল হয়ে ওঠেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, তাকে PET-CT Scan, প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা, IHC Report ও Slide Review ভারতে করাতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইবি ছাত্রী বলেন, "আমার বাবা একজন শিক্ষক। তিনি ব্লাড ক্যানসারে (Non-Hodgkin Lymphoma) আক্রান্ত। চিকিৎসার দীর্ঘ সময় ধরে চলছে। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে ইতোমধ্যে আমাদের পরিবারের সঞ্চিত অর্থ এবং সম্পদ সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে বাবার শারীরিক অবস্থা খুব সংকটাপন্ন এবং চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। উন্নত চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। এই কঠিন সময়ে আপনার সামান্য সহযোগিতাও আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী যে কোনো পরিমাণ অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়ালে আমরা চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যেন তাকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন, নেক হায়াত দান করেন এবং এই কঠিন সময়টি آسان করে দেন।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাম বাড়াচ্ছে উদ্বেগ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত ৬৯৬ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


হাম বাড়াচ্ছে উদ্বেগ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত ৬৯৬ জন

দেশে কয়েক মাস ধরে হাম রোগ মরণব্যাধি হিসেবে ব্যাপকভাবে উৎপাত করছে। প্রতিদিন শিশুদের তাজা প্রাণ ঝরে পড়ছে। পাশাপাশি হাজার হাজার শিশু হাম নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন করে আরও ৬৯৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৭৫৮ জনের মৃত্যু হলো।

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে এই সময়ে আরও ৮৭৯ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৩ হাজার ৫০০ জনের হাম শনাক্ত করা হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৪ হাজার ৩৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতালে থেকে ৯০ হাজার ৬০৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে নিহত বেড়ে ২৮, বন্যা ও পাহাড়ধসে আক্রান্ত পরিস্থিতি সংকটজনক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৮ পি.এম


কক্সবাজারে নিহত বেড়ে ২৮, বন্যা ও পাহাড়ধসে আক্রান্ত পরিস্থিতি সংকটজনক

টানা বৃষ্টির ফলে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতি বর্তমানে ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। বৃষ্টির অব্যাহত থাকার কারণে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষজনের ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে বন্যা এবং পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় কক্সবাজারে মৃত্যুর সংখ্যা মোট ২৮ জনে পৌঁছেছে, যা প্রশাসন কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান এই মৃত্যু সংখ্যার তথ্য নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় জনগণের মধ্যে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) দিনে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমছিল। বৃষ্টি কমে যাওয়ায় বন্যার পানিও কিছুটা নেমে গিয়েছিল। কিন্তু রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত আবারও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এই কারণে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে। দুর্গত মানুষগুলো খাবার এবং পানীয় জলের সংকটে ভুগছেন। একই সঙ্গে পাহাড়ধসে ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে সাথে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোও দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণে এগিয়ে এসেছে। তবে চাহিদার তুলনায় এসব ত্রাণ অপ্রতুল বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।

রোববার (১২ জুলাই) চকরিয়া, রামু, কক্সবাজার সদর এবং উখিয়ার দুর্গতদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণের সময় তিনি বলেন, বন্যার্তদের ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় মানবিক সহায়তার পরিমাণ অপর্যাপ্ত, সরকারি সহযোগিতা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

কক্সবাজার সদর আসনের এমপি লুৎফুর রহমান কাজল রামু, ঈদগাঁও ও কক্সবাজার সদর এলাকায় বন্যা দুর্গতদের জন্য ত্রাণ বিতরণ করেছেন এবং পাহাড় ধসে নিহতদের পরিবারের জন্য অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। এই ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে জেলা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ দুর্গতদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য প্রদান করছেন। পেকুয়াতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে ছফুয়ানুল করিমের নেতৃত্বে দিনে এবং রাতে শুকনো খাবার, পানিসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ভারি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে জেলায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসে এক নারী এবং পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে ১৯ মাস বয়সী এক শিশু রয়েছে। এই ঘটনায় কক্সবাজারে চলমান দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে।

পেকুয়ার ইউএনও রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শনিবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে ১৯ মাস বয়সী মুশফিকুর রহিম নামে এক শিশুর মৃত্যু ঘটে। ওই শিশুর পরিবার জানায়, ওই সময় শিশুটিকে ঘরে রেখে বাইরে কাজ করছিলেন তার মা। পরে শিশুটি পানিতে পড়ে যায় এবং স্রোতে ভেসে যায়। তার খোঁজার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে প্রায় দেড়শ ফুট দূরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্ন করলে ইউএনও রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটলেও অনেক এলাকায় এখনো পানি রয়েছে। তাই সকলের অপেক্ষা করা উচিত সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে।

অন্যদিকে, শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউপির পূর্ব কলাতলীর ঝরঝরিপাড়ায় পাহাড়ধসে রোজিনা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হন। তিনি ওই এলাকার আব্দুল মজিদের স্ত্রী।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসাইন জানান, রাতের খাবারের প্রস্তুতির সময় পাহাড়ঘেঁষা রান্নাঘরে অবস্থান করছিলেন রোজিনা বেগম। এসময় হঠাৎ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে এবং ঘরসহ তিনি মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান চালিয়ে প্রায় দু’ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এসময় তার স্বামী আব্দুল মজিদ সন্তানসহ দোকানে উপস্থিত ছিলেন।

আব্দুল মজিদ বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি স্ত্রীকে বারবার রান্নাঘরে যেতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু রাতের খাবার প্রস্তুত করার দুর্ভাগ্যের কারণে এই মারাত্মক ঘটনায় আক্রান্ত হন।

কক্সবাজার সদরের ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, টানা বর্ষণে জেলার ক্ষতবিক্ষত পাহাড়গুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হলেও অনেকেই পাহাড়ঘেঁষা বসতিতে ফিরে আসছেন। টানা বর্ষণের সময় পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ঝুঁকি দেখলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়াই শ্রেষ্ঠ উপায়। মাইকিংসহ ফোর্সের প্রয়োগ করা হলেও বাড়ি ছাড়তে না চাওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঘটনার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করা উচিত নয়।

ইউএনও আরও জানান, গত ৭ জুলাই বিকেলে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বরওয়ার্ডের দরিয়ানগর বড়ছড়া হাজীঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে লিমা আক্তার (২৫) মারা যান। এসময় তার স্বামী জসিম উদ্দিনও আহত হন। বৃষ্টির মাঝেও মেরিন ড্রাইভের হিমছড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কিছুক্ষণ যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়। বৃষ্টি দুর্যোগকালীন সময়ে সবাইকে নিরাপদে থাকার আবেদন করেছেন ইউএনও।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আগামী কয়েকদিন মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। অতিভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজনকে সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, জেলার দুর্গত উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করে চলেছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। সকলকে প্রশাসনের নির্দেশনা পালন করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার জন্য অনুরোধ জানান ডিসি। কক্সবাজার জেলায় সপ্তাহজুড়ে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মোট ২৮ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে ১৭ জন ছিলেন রোহিঙ্গা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%