০৪:১০ পি.এম
বাংলাদেশে আয়কর সম্পর্কিত বিভিন্ন কার্যক্রমে টিআইএন বা টিন নম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। টিন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয়কর কার্যক্রমসহ বিভিন্ন আর্থিক কাজে। এই সার্টিফিকেট অনলাইনে ঘরে বসেই তৈরি করা সম্ভব। তবে করদাতার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন তথ্য ও ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটে আয়কর সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাসার জন্য টিন করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যা লাগবে
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি
যদি করদাতা প্রাপ্তবয়স্ক হন, তাহলে অনলাইনে ই-টিআইএন করার জন্য প্রয়োজন হবে- করদাতার নাম, বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্মতারিখ।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য
অপ্রাপ্তবয়স্ক করদাতার জন্য ই-টিআইএন করতে প্রয়োজন হবে- করদাতার নাম, অভিভাবকের নাম, অভিভাবকের টিআইএন নম্বর এবং করদাতার পাসপোর্ট সাইজের ছবির সফট কপি।
প্রবাসীদের জন্য
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে
যদি প্রবাসী বাংলাদেশি কেউ টিন সার্টিফিকেট করতে চান, তাহলে প্রয়োজন হবে পাসপোর্ট নম্বর, পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ, ভিসা নম্বর, ভিসা ইস্যুর তারিখ এবং করদাতার পাসপোর্ট সাইজের ছবির সফট কপি।
টিআইএন বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর একটি ইউনিক নম্বর, যা করদাতার পরিচিতি হিসেবে কাজ করে। এটি আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র কেনা, ব্যবসার লাইসেন্স নেওয়া ইত্যাদির ক্ষেত্রেও টিন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হতে পারে।
টিন সার্টিফিকেটে ভুল হলে কী করবেন
টিন সার্টিফিকেট করার সময় নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখসহ বিভিন্ন তথ্য ভুল হতে পারে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধনের আবেদন করা সম্ভব। সাধারণত এ সংশোধনের জন্য কোনো ফি লাগে না।
আরও পড়ুন: কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য: ড. তিতুমীর
যেভাবে টিনের তথ্য সংশোধন করবেন
১. প্রথমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-টিআইএন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। যদি আগে থেকে অ্যাকাউন্ট থাকে, তাহলে লগইন করতে হবে। অ্যাকাউন্ট না থাকলে নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে।
২. ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘রেজিস্টার’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
৩. নাম, ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর
৪. নিবন্ধন শেষ হলে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে পোর্টালে লগইন করতে হবে।
৫. লগইন করার পর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘টিন ইনফরমেশন’ বা ‘আপডেট টিন ইনফরমেশন’ অপশনে যেতে হবে।
৬. সেখানে টিন সার্টিফিকেটে থাকা তথ্য দেখা যাবে। যে তথ্য সংশোধন করতে চান, তার পাশে থাকা ‘এডিট’ বা ‘আপডেট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
৭. এরপর সঠিক তথ্য দিয়ে সংশোধনের আবেদন করতে হবে।
আরও পড়ুন: মসলিনের টেকসই উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি
৮. প্রয়োজনে সংশোধনের কারণ উল্লেখ করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনের পক্ষে প্রমাণপত্রও আপলোড করতে হতে পারে, যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ বা অন্য কোনো সরকারি নথি।
৯. সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর আবেদনপত্র যাচাই করে ‘সাবমিট’ বা ‘আপডেট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর রিসিট ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করলে ঘরে বসেই অনলাইনে টিন সার্টিফিকেটের তথ্য সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পর্যটনে ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা জাপানের
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন