ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্যাগ দেখতে চাওয়ায় রেগে নারী, তল্লাশিতে বেরিয়ে এলো আসল রহস্য


ব্যাগ দেখতে চাওয়ায় রেগে নারী, তল্লাশিতে বেরিয়ে এলো আসল রহস্য

ভারতের উত্তরপ্রদেশের নয়ডার একটি শপিংমলে একটি নারীর ব্যাগ তল্লাশি করার চেষ্টা করা হলে তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তার ব্যাগে ঘি ও রান্নার তেলের বোতল রয়েছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) নয়ডার লা মার্শ মলে এই ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ওই নারী তার স্বামীর সাথে শপিং করতে গিয়েছিলেন। কিছু সময় পর, যখন তার স্বামী কাউন্টারে ছিলেন, তখন ওই নারী একা শপিংমল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময়, তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে গেটে অবস্থানরত এক নিরাপত্তাকর্মী তার ব্যাগ পরীক্ষা করতে চান। এতে ওই নারী আপত্তি জানান এবং এক পর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীর সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে সেখানে আরও নিরাপত্তাকর্মী উপস্থিত হন।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

পরে শপিংমলের কর্মীরা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন। ফুটেজে দেখা যায়, ওই নারী একটি এক কেজির ঘিয়ের বোতল ও এক লিটার রান্নার তেলের বোতল তার ব্যাগে রেখেছেন। এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে ব্যাগ তল্লাশি করেন। অন্য ক্রেতাদের উপস্থিতিতে ব্যাগ থেকে ওই দুটি পণ্য বের করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ওই নারী এক মাসেরও বেশি সময় ধরে শপিংমলটিতে আসছিলেন এবং এর আগে কয়েকবার চুরি করেছেন বলে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ ছিল। মলের এক কর্মকর্তা জানান, একজন কর্মচারী সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ওই নারীর চুরির প্রমাণ পেয়েছেন।

ওই কর্মচারীর বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে ওই নারী শপিংমল থেকে কয়েক হাজার রুপির ঘি এবং অন্যান্য মুদি পণ্য চুরি করার অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, একজন ভালো পরিবারের নারী কেন ঘি বা রান্নার তেলের মতো পণ্য চুরি করবেন। আবার অনেকে ধারণা করছেন, তিনি হয়তো ক্লেপ্টোম্যানিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। তবে ওই নারী কেন এসব পণ্য চুরি করেছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

তবে শেষ পর্যন্ত, ওই নারী চুরি করা পণ্যগুলোর মূল্য পরিশোধ করলে শপিংমল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সেখানেই মীমাংসা করে। এ ঘটনায় কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

সূত্র: এনডিটিভি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেঘনায় মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


মেঘনায় মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি

জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষার উদ্দেশ্যে সরকার আগামী বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্য রাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিনের সময়ে জেলেদের জনপ্রতি ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল প্রদান করা হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা-জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালিত হবে।

জেলা মৎস্য অফিসের সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ৫৪ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এই জেলেরা মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ৪২ হাজার ১৫০ জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলেও ১১ হাজার ৮৫০ জেলে ভিজিএফের চাল পাচ্ছেন না। তাদের পর্যায়ক্রমে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই একশ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে সব ধরনের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুতকরণ নিষিদ্ধ থাকবে।

জেলেদের সচেতন করার উদ্দেশ্যে নদী ও উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিং ও পোস্টারিংসহ বিভিন্ন প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগ।

নিষেধাজ্ঞার সময় ৪২ হাজার ১৫০ জেলে পরিবারকে ১৫৩ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে। প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি হারে খাদ্য সরবরাহ করা হবে।

জেলেরা জানিয়েছেন, যে পরিমাণ জেলে রয়েছে, সেই পরিমাণ সরকারি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয় না। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের সঠিক তালিকা তৈরি এবং দ্রুত যাতে সবাই চাল পান, তা নিশ্চিত করার দাবি তাদের।

জেলা মৎস্য অফিসার মো. জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা-জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালিত হবে। এই সময়ে জেলেদের জন্য ২৫ কেজি হারে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। এরপরও যারা আইন অমান্য করে নদীতে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান সফল হলে অধিক পরিমাণ ইলিশ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পঞ্চগড়ে সাবেক এমপি নাঈমুজ্জামান গ্রেপ্তার, রয়েছে ১২টি মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ পি.এম


পঞ্চগড়ে সাবেক এমপি নাঈমুজ্জামান গ্রেপ্তার, রয়েছে ১২টি মামলা

আওয়ামী লীগের পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভুঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড় সদরের ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নাঈমুজ্জামানকে পঞ্চগড় আদালতে হাজির করা হয়েছে। এ সময় আদালতজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা রয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া আল আমিন গুম ও হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার সকালে তাকে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোশাররফ হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা প্রথমবারের মতো দলের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জোয়ারের সঙ্গে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই করে টিকে থাকে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


জোয়ারের সঙ্গে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই করে টিকে থাকে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীরা

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীকে দিনে দুবার নিয়মিতভাবে ধেয়ে আসা জোয়ারের নোনা পানির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং একের পর এক প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এই প্রাণীদের, বিশেষ করে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব এখন চরম সংকটে। জোয়ারের পানির অস্বাভাবিক উচ্চতা এবং বনের স্থলভাগ ক্রমে সংকুচিত হতে থাকায় বনের জীববৈচিত্র্যকে প্রতিদিন বেঁচে থাকার এক অসম সংগ্রামে নামতে হচ্ছে।

স্রোতের প্রথম ধাক্কা

জোয়ারের পানি যখন তীব্র বেগে বনের ভেতরের সরু খাল ও খাঁড়ি দিয়ে ঢুকতে শুরু করে, তখন বনের শান্ত পরিবেশ নিমেষেই অশান্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষায় ‘প্রথম পালি’র ধাক্কায় সবচেয়ে বিপদে পড়ে চিত্রা হরিণের সদ্যজাত ছানা ও বন্যশূকরের দল। বড় প্রাণীদের মতো সাঁতরে নিজেদের ধরে রাখার সামর্থ্য তাদের নেই। তীব্র স্রোত তাদের ভাসিয়ে নেয় মূল নদীতে, যেখানে ওত পেতে থাকে ক্ষুধার্ত নোনা পানির কুমির।

দিনের চেয়ে অমাবস্যা-পূর্ণিমার রাতে জোয়ারের রূপ আরও মারাত্মক। বনের বানর, তক্ষক বা বুনো পাখি যখন অন্ধকারে গাছের ডালে ঘুমিয়ে থাকে, তখন হুড়মুড় করে পানি চলে আসে। রাতের অন্ধকারে পানির গভীরতা ও স্রোতের তীব্রতা আন্দাজ করতে না পেরে অনেক সময় বন্যপ্রাণী ও পাখির বাসা পানির নিচে চলে যায়। রাতে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার লড়াই তাই দিনের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক।

বাঘের জলযুদ্ধ ও হরিণের জীবনবাজি

জোয়ারের সময় সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দক্ষ সাঁতারু হয়ে ওঠে। জোয়ারের স্রোতের বিপরীতে মাইলের পর মাইল সাঁতরে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যাতায়াত সুন্দরবনের বাঘের নিত্যদিনের রুটিন। গবেষকেরা বনের গাছে গাছে ক্যামেরা ট্র্যাপসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখেছেন, জোয়ারের সময় বাঘ কীভাবে স্রোতের বিপরীতে সাঁতরায় এবং হরিণ কীভাবে দলবদ্ধভাবে উঁচু স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির দাঁড়িয়ে থাকে।

পানি বাড়তে শুরু করলেই চিত্রা হরিণ ও বন্যশূকরের দল বনের তুলনামূলক উঁচু জায়গা বা কৃত্রিম মাটির ঢিবির দিকে ছুটতে থাকে। এসব ঢিবি ‘কেল্লা’ নামে পরিচিত। সাধারণ জোয়ারে প্রাণীদের তেমন সমস্যা না হলেও অমাবস্যা-পূর্ণিমার ‘জো’ কিংবা বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপের কারণে যখন স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে পাঁচ ফুট উঁচুতে পানি আছড়ে পড়ে, তখন পুরো সুন্দরবন ডুবে যায়। তখন হরিণ, বন্যশূকর ও বাঘের প্রধান ভরসা এই কেল্লা। পানি বাড়লে শত শত হরিণ ও বন্যপ্রাণী কেল্লায় গাদাগাদি করে আশ্রয় নেয়। তবে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি প্রাণী চলে আসায় এবং খাবারের অভাবে সেখানেও শুরু হয় বেঁচে থাকার নীরব লড়াই।

টেরিটরি দখলের যুদ্ধ ও শত্রুর সঙ্গে সহাবস্থান

সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের নিজেদের মধ্যে টিকে থাকার লড়াইও নির্মম। প্রতিটি বাঘ প্রস্রাব ও গাছের ছাল আঁচড়ে নিজের একটি নির্দিষ্ট টেরিটরি বা এলাকা চিহ্নিত করে রাখে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাঘের এই এলাকা সংকুচিত হয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে এক বাঘের এলাকায় অন্য বাঘ ঢুকে পড়ায় প্রায়ই রক্তক্ষয়ী লড়াই হয়। এই ভ্রাতৃঘাতী লড়াইয়ে অনেক সময় প্রবীণ বা দুর্বল বাঘ মারা যায় অথবা এলাকাছাড়া হয়ে লোকালয়ের কাছে চলে আসে।

এদিকে জোয়ারের পানি যখন বনের মাটি ছাড়িয়ে গাছের কাণ্ড ছুঁয়ে ফেলে, তখন মাটির গর্তে থাকা বিষধর সাপ, যেমন কিং কোবরা, বাঁচার জন্য গাছের মগডালে আশ্রয় নেয়। একই গাছে হয়তো আশ্রয় নিয়েছে কোনো বানর বা পাখি। জীবনের এমন চরম সংকটে শিকার ও শিকারিকে একই গাছের ডালে পাশাপাশি বসে পানি নেমে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।

জোয়ারের পর মিঠা পানির হাহাকার

জোয়ারের পানি নেমে যাওয়ার পর বন্যপ্রাণীর সবচেয়ে বড় লড়াই শুরু হয় মিঠা পানির খোঁজে। সুন্দরবনের নদী-খালের পানি প্রচণ্ড নোনা। প্রাণীদের তৃষ্ণা মেটানোর একমাত্র উপায় বনের ভেতরের প্রাকৃতিক বা মানুষের খনন করা কিছু মিঠা পানির পুকুর। কিন্তু বড় জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসের সময় নোনা পানি ঢুকে পুকুরগুলো নোনা হয়ে যায়। ফলে তৃষ্ণায় ছটফট করলেও প্রাণীরা পানি পান করতে পারে না। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তীব্র তৃষ্ণা নিয়েই তাদের ধুঁকে ধুঁকে বাঁচতে হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এই সংকটের পাশাপাশি স্থানীয় কাঠুরে ও গোলপাতা সংগ্রহকারী, যারা বাওয়ালি নামে পরিচিত এবং জেলেরা যখন অতিরিক্ত মাত্রায় বনের ভেতরের খালের গভীরে বিচরণ করেন, তখন প্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটে। ভয় পেয়ে হরিণ বা বাঘ এমন এলাকায় চলে যায়, যেখানে জোয়ারের পানির গভীরতা বেশি। এতে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে।

গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের তথ্য

সুন্দরবনের এই রূঢ় জীবনযুদ্ধ কোনো কাল্পনিক গল্প নয়। দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের জরিপে এর বাস্তব চিত্র বারবার উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীদের যৌথ গবেষণায় (শারীফ এ মুকুল ও সহযোগীরা, ২০১৯) বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির বর্তমান ধারা চলতে থাকলে ২০৭০ সালের মধ্যে সুন্দরবনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের বসবাসের উপযোগী কোনো স্থান অবশিষ্ট থাকবে না।

এর আগে ২০১০ সালে ডব্লিউডব্লিউএফের নেতৃত্বে কোলবি লাউকস ও সহযোগীদের গবেষণায় (ক্লাইমেটিক চেঞ্জ জার্নাল) হিসাব করা হয়, ২০০০ সালের তুলনায় সমুদ্রপৃষ্ঠ ২৮ সেন্টিমিটার বাড়লে সুন্দরবনে বাঘের অবশিষ্ট আবাসস্থল ৯৬ শতাংশ কমে যাবে এবং প্রজননক্ষম বাঘের সংখ্যা ২০টির নিচে নেমে আসবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বাঘ বিশেষজ্ঞ ড. মো. আবদুল আজিজের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের বাঘের খাদ্যের জৈবভরের প্রায় ৭৮ শতাংশ জোগান দেয় চিত্রা হরিণ। যেসব অঞ্চলে চিত্রা হরিণের ঘনত্ব বেশি, সেসব অঞ্চলেই বাঘের ঘনত্বও সবচেয়ে বেশি। গবেষকদের মতে, শিকার, আবাসস্থল হ্রাস বা পরিবেশগত কারণে হরিণের সংখ্যা কমলে বাঘের টিকে থাকা সরাসরি ঝুঁকিতে পড়বে।

সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় রিমালের সময় সুন্দরবন প্রায় ৩৬ ঘণ্টা জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসের পানির নিচে ছিল। জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ৮ থেকে ১২ ফুট বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। পরবর্তী উদ্ধার অভিযানে বন বিভাগ ৯৬টি মৃত হরিণ উদ্ধার করে। অন্য একটি প্রতিবেদনে সাত দিনে ১৩৪টি হরিণ উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে।

একই জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবনের ভেতরের ৮০টি মিঠা পানির পুকুর নোনা পানিতে প্লাবিত হয়। এতে বন্যপ্রাণী ও বনকর্মীরা সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েন।

সুন্দরবনের পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা মারাত্মকভাবে বাড়ায় প্রধান গাছ সুন্দরী পুষ্টিহীনতা ও শীর্ষমরা রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্রমে কমে যাচ্ছে। এতে হরিণের প্রধান খাদ্য উপাদান কমছে, যা বাঘের খাদ্যশৃঙ্খলকেও চরম সংকটে ফেলছে।

সংকট উত্তরণে করণীয়

সুন্দরবনের বিপন্ন জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বন্যপ্রাণীকে জোয়ার ও নোনা পানির আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে অবিলম্বে কিছু বাস্তবমুখী ও বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বনের ভেতরে তৈরি কৃত্রিম মাটির ঢিবি বা কেল্লার উচ্চতা বাড়াতে হবে, যাতে অস্বাভাবিক জলোচ্ছ্বাসেও সেগুলো ডুবে না যায়। কেল্লার চারপাশে লবণসহিষ্ণু এবং হরিণের খাদ্য উপযোগী ঘাস ও গাছের চারা লাগাতে হবে। বনের গভীর অংশে নতুন কেল্লাও নির্মাণ করতে হবে।

বন্যপ্রাণীকে বাঁচানোর সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি সুপেয় মিঠা পানির জোগান ধরে রাখা। পুকুরগুলোর পাড় আরও উঁচু ও টেকসই করতে হবে, যাতে জলোচ্ছ্বাসের নোনা পানি ঢুকতে না পারে। পুকুরের মুখে আধুনিক স্লুইস গেট বসানো যেতে পারে, যা জোয়ারের সময় বন্ধ থাকবে এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

হরিণ ও বাঘের চোরাশিকার নির্মূলে বন বিভাগের টহল আরও জোরদার করতে হবে। দুর্গম ও সংবেদনশীল এলাকায় ক্যামেরা ট্র্যাপের পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো দরকার, যাতে চোরাশিকারিরা ফাঁদ পাততে না পারে।

জলোচ্ছ্বাসে মিঠা পানির পুকুর নোনা হলে প্রাণীরা পানি ও আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসে এবং মানুষের হাতে মারা পড়ে। এটি ঠেকাতে বনের সংবেদনশীল সীমানায় শক্তিশালী নাইলনের বেড়া দেওয়া প্রয়োজন, যা প্রাণীদের লোকালয়ে প্রবেশে বাধা দেবে এবং বাঘ-মানুষের দ্বন্দ্ব কমাবে।

কোর জোন বা বন্যপ্রাণীর প্রধান প্রজনন এলাকায় মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। পর্যটনও এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে লঞ্চ বা স্পিডবোটের শব্দে ভয় পেয়ে বাঘ বা হরিণ গভীর পানিতে ঝাঁপ না দেয়।

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ফোরামে জোরালো ভূমিকা রেখে যেতে হবে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান সামান্য হলেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। তিনি জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তায় জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সুন্দরবনে মিঠা পানির প্রবাহ বাড়াতে এবং বড় জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণে সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

সুন্দরবন-সংলগ্ন নদীগুলোরও পলি অপসারণ বা ড্রেজিং প্রয়োজন, যাতে নদীর পানি ধারণক্ষমতা বাড়ে এবং জোয়ারের পানি বনে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি করতে না পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কথা আছে বলে মোটরসাইকেল থামান নারী, অতঃপর মারধর ও টাকা লুটের অভিযোগে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


কথা আছে বলে মোটরসাইকেল থামান নারী, অতঃপর মারধর ও টাকা লুটের অভিযোগে মামলা

পঞ্চগড়ের বোদায় একটি নারী মোটরসাইকেল থামানোর পর চালককে মারধর করার, টাকা ও মোটরসাইকেল লুটের অভিযোগে পাঁচ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, বোদা পৌর যুবদলের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ওরফে রনি (৩০) এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সোহেল রানা (৩৪)।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে আটোয়ারী উপজেলার বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র বর্মন (৩০) মোটরসাইকেলে বোদা উপজেলা শহরের প্রামাণিকপাড়া-শিমুলতলী মোড়ে যান। সেখানে এক অপরিচিত নারী তার মোটরসাইকেল থামিয়ে কথা আছে বলে জানান।

পরিমল ওই নারীর সঙ্গে কথা বলার সময় সেখানে কয়েকজন যুবক এসে অভিযোগ করেন যে, তার সঙ্গে ওই নারীর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য ইউসুফ আলীর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওই বাড়িতে পরিমল ওই নারীকে দেখতে পান এবং এ সময় তার পকেট থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তার মোটরসাইকেলটি আটকে রেখে চারটি ১০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

বাড়িতে ফিরে পরিমল বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানান। পরদিন বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি প্রামাণিকপাড়া-শিমুলতলী মোড়ে যান। সেখানে যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন ও সোহেল রানাকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর করা স্ট্যাম্প ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুজনকে হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনায় রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে বোদা থানায় পরিমল চন্দ্র বর্মন পাঁচ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, বোদা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন মজুমদার (৫০), ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন আরিফ (৩৫) এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি রাজু ইসলাম (৩২)।

ঘটনার পর রাজু ইসলাম ছাড়া অপর চার যুবদল নেতার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ স্থগিত করেছে বোদা পৌর যুবদল। পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. অলিয়ার রহমান ও সদস্যসচিব মো. আফছারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে অভিযুক্তদের তিন দিনের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে কেন তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অলকান্ত রায় জানান, গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার হোসেন ও সোহেল রানাকে সোমবার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%