০১:০৭ এম
ঢাকা, ৭ জুলাই, ২০২৬ : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানায় ১৫ বছর আগে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া একই ধারায় মাহমুদা খানম উষার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
এদিকে, মাহফুজকে অপহরণ করায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় আসামী বিল্লাল শেখ, জামাল শেখ, রঞ্জু শেখ, শামীম শেখ ও মাহমুদা খানম উষার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া, প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণ করেন আসামিরা। পরে তারা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেয়ে, প্রায় দেড় মাস আটকে রাখার পর ২০১২ সালের ২০ আগস্ট রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নিজাম শিকদার আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন