প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
অনলাইনে মিথ্যা তথ্য প্রচার প্রতিরোধের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার সংশোধিত আইন মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
এতে আইনটি বারবার অপরাধে জড়িতদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান দুপুরে রাখা হয়েছে। তবে মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন আইন অনুযায়ী, বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য নতুন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
দেশটিতে বিভ্রান্তিকর ডিজিটাল তথ্য নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ আইন কার্যকর করা হলো। এর মধ্যে তারকাদের জড়িয়ে আলোচিত কয়েকটি ঘটনা ও রয়েছে।
সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ বিষয়ে খবর দিয়েছে।
যাহোক, বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ, নাগরিক সমাজের গোষ্ঠী ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ আইন মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করার পাশাপাশি সরকারের প্রভাবাধীন সেন্সরশিপের পথও খুলে দিতে পারে।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় মিথ্যা তথ্য মোকাবিলা করতে সাধারণ মানহানি আইন ও দেওয়ানি ক্ষতিপূরণের বিধান ব্যবহৃত হতো। তবে তথাকথিত 'ভুয়া খবর' মোকাবেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো আইনি কাঠামো না থাকায় তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছিল।
তথ্য ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আইনের সংশোধনের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া এখন সেইসব দেশের দলে যুক্ত হয়েছে, যারা বাস্তব জীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে অনলাইনে এমন মিথ্যা তথ্যের প্রবাহ মোকাবেলার চেষ্টা করছে।
নতুন আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণের সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে আদালত নির্দেশ দিতে সক্ষম হবে।
এ ছাড়া যাদের প্রকাশিত তথ্য আদালত অবৈধ বলে রায় দিয়েছে, তাদের পুনরাবৃত্ত অপরাধীদের সর্বোচ্চ ১০০ কোটি ওয়ন (৬ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানা করা যাবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার নেভার ও কাকাও এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুগল ও মেটাসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীদের জন্য কথিত মিথ্যা বা বিকৃত তথ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এক্ষেত্রে, প্রতি ছয় মাসে অভিযোগের সংখ্যা এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ করে একটি স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।
২০২৪ সালে ব্যর্থ সামরিক আইন জারির চেষ্টার পর দক্ষিণ কোরিয়ায় অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
সাম্প্রতিক এক বহুল আলোচিত ঘটনায়, একজন ডানপন্থি ইউটিউবারের বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি অডিও ব্যবহার করে অভিনেতা কিম সু-হিউনের বিরুদ্ধে মিথ্যা দাবি ছড়ানোর অভিযোগে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় কিম সু-হিউন জনসমক্ষে উপস্থিতি স্থগিত করতে বাধ্য হন এবং তার একটি বড় প্রকল্পও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।
সংশোধিত আইনের সমালোচকাদের মতে, 'মিথ্যা' বা 'বিকৃত' তথ্যের কোনো স্পষ্ট আইনি সংজ্ঞা না থাকার কারণে প্রথমে আইনের প্রয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বিস্তৃতভাবে আইন প্রয়োগের ঝুঁকিও থাকবে।
প্রধান বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টি (পিপিপি) এ সংশোধনের সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে। দলটির দাবি, সরকারের সঙ্গে বিরোধ এড়িয়ে প্ল্যাটফর্মগুলো নিজেদের বিভিন্ন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে পারে। আর ব্যবহারকারীরাও আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশ থেকে বিরত থাকবেন।
জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন অব কোরিয়াও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ পরিবেশন ও তথ্য সংগ্রহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন