ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পচা-নষ্ট আম থেকে পাল্প তৈরি হচ্ছে, কিনছে দেশের নামি-দামি জুস কোম্পানিগুলো


পচা-নষ্ট আম থেকে পাল্প তৈরি হচ্ছে, কিনছে দেশের নামি-দামি জুস কোম্পানিগুলো

পোকা ও ছত্রাকের আক্রমণে পচে নষ্ট হয়ে যাওয়া, ফাটা ও গলে যাওয়া খাবার অনুপযোগী আম থেকে পাল্প তৈরির অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এসব আমের পাল্প কিনে নিচ্ছে দেশের নামি-দামি জুস কোম্পানিগুলো। নামমাত্র মূল্যে ১০০ টাকা মণ দরে এসব নিম্নমানের আম সংগ্রহের পর তা থেকেই প্রস্তুত হচ্ছে আমের জুসের প্রধান কাঁচামাল পাল্প। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই প্রতিদিন শত শত টন এমন আম থেকে তৈরি হচ্ছে আমের পাল্প। স্থানীয় প্রশাসনের গাফেলতি ও উদাসিনতায় এমন পাল্প তৈরির কারখানা গড়ে উঠলেও নেয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৌসুমের শেষ দিকেও জমজমাট কোনাবেচা দেশের সবচেয়ে বড় আমবাজার চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে। এখনো বাজার সরগরম আশ্বিনা জাতের আমে। এ বাজারেই গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক আমের আড়ত। বাজার ও এসব আড়তে কাঁচা ও পাকা জাতের আশ্বিনা আম বিক্রি হচ্ছে ১৫০০-২০০০ টাকা মণ দরে। অথচ একই বাজারে একই জাতের আম মিলছে ১০০ টাকা মণ দরেও। তাও প্রতি মণ আমে কৃষককে দিতে হচ্ছে ৫২-৫৫ কেজি। পোকা ও ছত্রাকের আক্রমণে পচে নষ্ট হয়ে যাওয়া, ফাটা ও গলে যাওয়া খাবার অনুপযোগী এসব আম নামমাত্র মূল্যে কিনে নিচ্ছেন আড়তদাররা। এরপর এসব আম যাচ্ছে পাল্প প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোতে।

আমচাষি ও আড়তদাররা জানান, বিভিন্ন পোকা ও নানারকম ছত্রাকের আক্রমণ এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির প্রভাবে চলতি বছর আশ্বিনা আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমনকি পঁচে যাওয়া এসব আম গাছ থেকে পড়েই নষ্ট হচ্ছে। খাবার অনুপযোগী হওয়ায় বাজারে নিতে চান না ক্রেতারা। এমন অবস্থায় নামমাত্র মূল্যে এসব আম কিনছেন কানসাট বাজারের আড়তদাররা। সরেজমিনে দেখা যায়, নিম্নমানের পঁচে নষ্ট ও দাগ লাগা এসব আম কিনে নেয়া হয়। এরপর সবচেয়ে খারাপ আম আলাদা করে তা ক্যারেটভর্তি করে নিয়ে গিয়ে মণপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা লাখে বিক্রি করা হয় পাল্প প্রস্তুতকারক কোম্পানীতে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

কৃষকরা জানান, কৃষকের কাছে সংগ্রহের পর এসব পচা নষ্ট হওয়া এসব আম যায় জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নর আলমপুর এলাকায় গড়ে ওঠা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ ফিটুর মালিকানাধীন চাঁপাই এগ্রো প্রোডাক্ট মার্কেটিং কোম্পানী লিমিটেডের ফ্যাক্টরিতে। এরপর এমন নিম্নমানের আম থেকেই তৈরি হয় জুসের প্রধান কাঁচামাল পাল্প। এসব পাল্প কিনে নেয় দেশের নামি-দামি জুস কোম্পানি। ফ্যাক্টরিতে গিয়েও দেখা যায়, ড্রামে খোলা আকাশের নিচেই রাখা হয়েছে প্রস্তুতকৃত পাল্প। এমনকি এসব পাল্পের ড্রামের উপরে জমেছে বৃষ্টির পানি। এমন পচা, গলে যাওয়া আম থেকে পাল্প তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সচেতন আমচাষী, কৃষক নেতা ও অভিভাবকদের।

কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, কানসাট বাজারে অর্ধশতাধিক আড়তে এসব পচা নষ্ট আম কিনে নেয়া হয় নামমাত্র মূল্য দিয়ে। অথচ মাত্র ১০০ টাকারও বেশি খরচ হয় ৫০-৫৫ কেজি আম বাজারে আনতে। কিন্তু কোন উপায় না থাকায় বাধ্য হয়েই এমন দামে আম বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। এবার রোগবালাইয়ের এত বেশি আক্রমণ হয়েছে যে শ্রমিক, সার, কীটনাশকের খরচই উঠছে না, লাভ তো অনেক দূরের কথা। পথে বসার উপক্রম হয়েছে আমচাষিদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আড়তদার সময় সংবাদকে জানান, সকলেই প্রকাশ্যেই এসব আম কিনছে কানসাট বাজারে। তাই আমরাও কিনছি। এসব নষ্ট হওয়া আম যেহেতু খাবার উপযোগী নয়, তাই বাজারে এর কোনরকম চাহিদা নেই। সেই সুযোগ কম দাম দিয়ে এসব আম কিনে মনপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা লাভে পাল্প কোম্পানিতে বিক্রি করছি। আমরা এসব আম না কিনলে ফেলে দিতে হতো। এসব আম কানসাট বাজার থেকে সরাসরি পাশের উপজেলা গোমস্তাপুরের বোয়ালিয়ায় চাঁপাই এগ্রো প্রোডাক্ট মার্কেটিং কোম্পানী লিমিটেডের ফ্যাক্টরিতে।

বোয়ালিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা ও মুদি দোকানি তারেক রহমান বলেন, এখানে আকিজের আরও একটি প্রতিষ্ঠান আমের পাল্প তৈরি করে। এতে তারা আমের মৌসুমে বিপুল পরিমান আম নিয়ে জুসের জন্য পাল্প তৈরি করে থাকে। কিন্তু তারা একটিও পাকা আম নেয় না। বরং কাঁচা আম সংগ্রহ করে সেগুলো পাকিয়ে তারপর পাল্প তৈরি করে। কিন্তু আ.লীগ গোলাম মোহাম্মদ ফিটুর চাঁপাই এগ্রো প্রোডাক্ট মার্কেটিং কোম্পানী লিমিটেডের ফ্যাক্টরিতে জেলার যতগুলো পাঁকা, পচা, নষ্ট হওয়া আম কিনে নেয়। এসব আম দিয়েই তারা জুসের পাল্প তৈরি করে, এটা এলাকার সবাই জানে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

কৃষক নেতা মুনজের আলম মানিক সময় সংবাদকে জানান, পাল্প তৈরির অনেকগুলো ধাপ থাকে। তবে জীবাণুযুক্ত ও পঁচা নষ্ট হওয়া আম দিয়ে পাল্প তৈরির সময় এসব ধাপে তা বিনষ্ট না করলে এটি কোনভাবেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি করবে।

সচেতন নাগরিক ও অভিভাবক শহিদুল ইসলাম, আরিফুল হক, মোজাম্মেল আহমেদ বলেন, জুসের অন্যতম প্রধান অংশ ক্রেতাই হলো শিশুরা। বিজ্ঞাপনগুলোতে নিরাপদ ও সুমিষ্ট আম থেকে জুস তৈরির কথা বললেও পচা নষ্ট হওয়া আম থেকে জুস তৈরির বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। কারন কোমলমতি শিশুরা এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে। এটি কোনভাবেই কাম্য নয়।

ফ্যাক্টরিতে পচা, নষ্ট, খাবার অনুপযোগী আম আসলেও পাল্প তৈরির প্রক্রিয়ার সময় আমের সেই অংশ কেটে ফেলে দেয়া হয় বলে দাবি ফ্যাক্টরি মালিক ও গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ ফিটুর। সময় সংবাদকে তিনি বলেন, সকল নিয়ম সঠিকভাবে মেনেই পাল্প তৈরি করা হয়। এছাড়াও আমাদের পাল্প কিনে নেয় দেশের নামি-দামি জুস প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো। আমাদের পাল্প নেয়ার আগে তারা নমুনা সংগ্রহ করার পরই নিশ্চিত হলে কিনে নেয়।

পচা আম দিয়ে পাল্প উৎপাদনকে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি বলছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শাকিলুজ্জামান। তিনি জানান, নিরাপদ খাদ্য আইনে এধরনের আম দিয়ে পাল্প বা জুস তৈরি মারাত্মক অপরাধ। কারন এতে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

আমের আড়তদারসহ পাল্প তৈরির সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস স্থানীয় প্রশাসনের। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, এমন আম বিক্রি, কেনা ও পাল্প তৈরির সাথে জড়িতেদর আইনের আওতায় আনা হবে। কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিক্রেতাদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেধাবী তরুণ নাজমুলের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে পাশে প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


মেধাবী তরুণ নাজমুলের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে পাশে প্রধানমন্ত্রী

উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে আর্থিক অনিশ্চয়তার সম্মুখীন মেধাবী তরুণ মো. নাজমুল হাসানের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে, নাজমুল হাসানের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাঁর হাতে অনুদান তুলে দেন।

এই সহায়তা কেবল আর্থিক সহযোগিতা নয়, বরং এটি একজন তরুণের মেধা ও স্বপ্নের প্রতি আস্থা প্রদর্শন করে।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক উপস্থিত সংবাদে এ তথ্য প্রদান করেন।

তিনি জানান, নাজমুল হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স (থিসিস) স্তরের শিক্ষার্থী। সে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদকও।

সম্প্রতি, তিনি সুইডেনের University of Skövde থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য পূর্ণ বৃত্তি অর্জন করেন।

তবে বিদেশযাত্রা, প্রাথমিক আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা তাঁর পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এ সংকটকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা নাজমুলের স্বপ্নের যাত্রায় নতুন আশা ও সম্ভাবনার সঞ্চার করেছে।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান নাজমুল এখন আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার দ্বারপ্রান্তে।

তার এই পথচলা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাজারো স্বপ্নবান তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনআইডির জন্মতারিখ ও নাম সংশোধনে নতুন নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩৭ পি.এম


এনআইডির জন্মতারিখ ও নাম সংশোধনে নতুন নির্দেশনা

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এখন থেকে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করবেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই সম্পর্কিত নতুন পরিপত্র জারি করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তারিখে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষা সনদের বিপরীতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এবার থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারাই নিষ্পত্তি করবেন।

তবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধন এবং নিজের ও পিতা-মাতার নামের পুরো পরিবর্তনের জন্য আবেদন নিষ্পত্তি করবেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি)।

এছাড়া, জন্মতারিখ, নিজের নাম এবং পিতা-মাতার নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তন একবার করা হলে দ্বিতীয়বার সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।

নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে এনআইডির তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের আবেদন মাঠ পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হবে এবং কোনগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে নিষ্পত্তি হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাত সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ ৫৬ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৪৪ পি.এম


সাত সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ ৫৬ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে

সাত জন সহকারী পুলিশ কমিশনার ও ৪৯ জন পুলিশ পরিদর্শকসহ মোট ৫৬ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্যের ঘোষণা করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের কর্মরত নির্ধারিত ৪৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হয়ে গেছে, তাদের সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।

অবসর প্রাপ্ত ৪৯ জন পুলিশ পরিদর্শক বিভিন্ন জেলা, ডিএমপি, সিআইডি, পিবিআই, এসবি, রেলওয়ে পুলিশসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কাজ করছিলেন।

অন্যদিকে, পৃথক একটি প্রজ্ঞাপনে সহকারী পুলিশ সুপার সমপর্যায়ের ৭ কর্মকর্তাকেও একই আইনের আওতায় অবসর প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেন—ঢাকা র‍্যাব হেডকোয়ার্টার্সের সহকারী পুলিশ সুপার নূরে আলম সিদ্দিকী, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার (পেট্রোল) মো. নুরুল মোত্তাকিন, খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা সার্কেলর সহকারী পুলিশ সুপার কাজী ওয়াজেদ আলী, পটুয়াখালীর গলাচিপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সৈয়দুজ্জামান, ঢাকা মোহাম্মদপুর র‍্যাব-২ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম কিবরীয়া, ঢাকা আরআরএফের এএসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সিরাজগঞ্জ জেলার সহকারী পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবসরজনিত সুবিধা পাবেন। জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টিকা দেয়ার পরও হামে মৃ/ত্যু থামছে না, ডেঙ্গুও চোখ রাঙাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৪৬ পি.এম


টিকা দেয়ার পরও হামে মৃ/ত্যু থামছে না, ডেঙ্গুও চোখ রাঙাচ্ছে

হামের সুরক্ষা বলয় ভেঙে পড়ায় দেশে আবারও ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে এই রোগটি। প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ জনের মৃত্যু হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে যারা জটিল নানা রোগে আক্রান্ত, তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। যদিও পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে, তথাপি শিশু নির্বাচনে সংখ্যা সম্পর্কিত ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করছেন জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক। অন্যদিকে, চলতি বছরে ডেঙ্গুর জিনোটাইপ পরিবর্তন ঘটছে। ডেন-থ্রিতে আক্রান্তের হার অধিক রূপে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হামে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা একটি দেশে কীভাবে আবারও এই মরণঘাতী রোগ ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের উদাহরণ উপস্থাপন করা যেতে পারে। প্রায় দুই দশক পর গত মার্চে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। নিয়মিত টিকা ক্যাম্পেইন না হওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা কেনার ক্ষেত্রে ভুল নীতিগত সিদ্ধান্ত এর জন্য দায়ী বলেই মনে করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সারাদেশে টিকাদান ক্যাম্পেইন চালানো হলেও মৃত্যুর ঘটনা থামানো যাচ্ছে না। এখনও প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ জনের প্রাণ ঝরছে। আক্রান্তের সংখ্যা হাজারেরও বেশি। এরকম পরিস্থিতিতে টিকা দেওয়া সত্ত্বেও কেন হামে মৃত্যু বন্ধ হচ্ছে না, এটি একটি জটিল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সুরক্ষা বলয় ভেঙে পড়ার ফলে জটিল নানা রোগে আক্রান্তরাই অধিকতর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। যথেষ্ট টিকা থাকা সত্ত্বেও কার্যক্রম বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহমাদ সাফি জানিয়েছেন, এবারের ভাইরাসের সিকুয়েন্স বিশ্লেষণ ও সিকুয়েন্সিং জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটেই সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ভিটামিন এর কর্মসূচিতে একই বয়সের প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ শিশুকে লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। অন্যদিকে, হামের টিকার জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ। কিন্তু এখানে একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক ঘাটতির অস্তিত্ব রয়েছে। প্রতিবছর ইপিআইয়ের মাইক্রোপ্ল্যান করা হয় এবং পরবর্তী মাইক্রোপ্ল্যানে এই ঘাটতি পূরণ করা প্রয়োজন।

হামের টিকা শিশুদের শরীরে কার্যকর হতে প্রায় চার সপ্তাহ সময় লাগে। এরপর এই টিকা কীভাবে শিশুদের শরীরে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করছে এবং টিকা কার্যকর হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে।

হাম নিয়ে উদ্বেগের মাঝে ডেঙ্গুও চোখ রাঙাচ্ছে। টানা বৃষ্টি এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা দ্রুত বংশবিস্তার করতে সক্ষম। ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

আইসিডিডিআরবি জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুর জিনোটাইপ পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমানে ডেন-থ্রি ধরনে আক্রান্তের হার বেশি দেখা যাচ্ছে ডেন-টু এর তুলনায়। এর ফলে চলতি বছরের তুলনায় আগামী বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের হার আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

আইসিডিডিআরবির গবেষক মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন, ডেঙ্গুর সেরোটাইপ কয়েক বছর পরপর পরিবর্তিত হয়। ২০১৯ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত দেশে ডেন-টু ধরন বেশি দেখা গেছে। এবার ডেন-থ্রি বেশি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী বছর বড় ধরনের ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব দেখা দেবে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, ডেঙ্গুর টিকা আবিষ্কারের কাজেও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি নিয়োজিত রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%