০২:৪৬ পি.এম
হামের সুরক্ষা বলয় ভেঙে পড়ায় দেশে আবারও ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে এই রোগটি। প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ জনের মৃত্যু হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে যারা জটিল নানা রোগে আক্রান্ত, তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। যদিও পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে, তথাপি শিশু নির্বাচনে সংখ্যা সম্পর্কিত ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করছেন জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক। অন্যদিকে, চলতি বছরে ডেঙ্গুর জিনোটাইপ পরিবর্তন ঘটছে। ডেন-থ্রিতে আক্রান্তের হার অধিক রূপে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
হামে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা একটি দেশে কীভাবে আবারও এই মরণঘাতী রোগ ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের উদাহরণ উপস্থাপন করা যেতে পারে। প্রায় দুই দশক পর গত মার্চে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। নিয়মিত টিকা ক্যাম্পেইন না হওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা কেনার ক্ষেত্রে ভুল নীতিগত সিদ্ধান্ত এর জন্য দায়ী বলেই মনে করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সারাদেশে টিকাদান ক্যাম্পেইন চালানো হলেও মৃত্যুর ঘটনা থামানো যাচ্ছে না। এখনও প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ জনের প্রাণ ঝরছে। আক্রান্তের সংখ্যা হাজারেরও বেশি। এরকম পরিস্থিতিতে টিকা দেওয়া সত্ত্বেও কেন হামে মৃত্যু বন্ধ হচ্ছে না, এটি একটি জটিল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সুরক্ষা বলয় ভেঙে পড়ার ফলে জটিল নানা রোগে আক্রান্তরাই অধিকতর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। যথেষ্ট টিকা থাকা সত্ত্বেও কার্যক্রম বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহমাদ সাফি জানিয়েছেন, এবারের ভাইরাসের সিকুয়েন্স বিশ্লেষণ ও সিকুয়েন্সিং জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটেই সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভিটামিন এর কর্মসূচিতে একই বয়সের প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ শিশুকে লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। অন্যদিকে, হামের টিকার জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ। কিন্তু এখানে একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক ঘাটতির অস্তিত্ব রয়েছে। প্রতিবছর ইপিআইয়ের মাইক্রোপ্ল্যান করা হয় এবং পরবর্তী মাইক্রোপ্ল্যানে এই ঘাটতি পূরণ করা প্রয়োজন।
হামের টিকা শিশুদের শরীরে কার্যকর হতে প্রায় চার সপ্তাহ সময় লাগে। এরপর এই টিকা কীভাবে শিশুদের শরীরে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করছে এবং টিকা কার্যকর হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে।
হাম নিয়ে উদ্বেগের মাঝে ডেঙ্গুও চোখ রাঙাচ্ছে। টানা বৃষ্টি এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা দ্রুত বংশবিস্তার করতে সক্ষম। ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
আইসিডিডিআরবি জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুর জিনোটাইপ পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমানে ডেন-থ্রি ধরনে আক্রান্তের হার বেশি দেখা যাচ্ছে ডেন-টু এর তুলনায়। এর ফলে চলতি বছরের তুলনায় আগামী বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের হার আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
আইসিডিডিআরবির গবেষক মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন, ডেঙ্গুর সেরোটাইপ কয়েক বছর পরপর পরিবর্তিত হয়। ২০১৯ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত দেশে ডেন-টু ধরন বেশি দেখা গেছে। এবার ডেন-থ্রি বেশি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী বছর বড় ধরনের ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব দেখা দেবে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, ডেঙ্গুর টিকা আবিষ্কারের কাজেও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি নিয়োজিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন