মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৫৩ পি.এম
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এই নির্দেশনার উদ্দেশ্য হলো ভূমি সেবা নিতে আসা নাগরিকদের হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি বা দালালের শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করা।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং স্বচ্ছ ও দ্রুত ভূমিসেবা নিশ্চিত করা জেলা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। আজ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।
ফরিদা খানম বলেন, "একজন নাগরিক ভূমি অফিসে কোনো ব্যক্তির কাছে নয়, রাষ্ট্রের কাছে সেবা নিতে আসেন।" তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা হচ্ছে নাগরিককে যথাযথ সেবা প্রদান করা। তিনি আরও বলেন, ভূমি সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম বা হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যে, নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে দ্রুত সেবা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। নামজারি, খতিয়ান, মিউটেশনসহ ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
জেলা প্রশাসক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ঘুষ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল আটকে রাখা, অযথা হয়রানি কিংবা দালালের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি সতর্ক করেন যে, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত রাখার নির্দেশ দেন এবং নাগরিকদের সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি ও সেবা প্রদানের সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করতে হবে।
ফরিদা খানম নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, "একজন সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর জমি হয়তো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।" তাই তিনি নিশ্চিত করতে চান যে, কোনো নাগরিক যেন ভূমি অফিস থেকে অপমানিত বা হয়রানির শিকার হয়ে ফিরে না যান।
সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঢাকা জেলায় সাধারণ খাতে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি ছিল ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার ২৮০ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৬ টাকা, যা দাবির ১১০.৬ শতাংশ।
এছাড়া সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২৬ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১৬০ টাকা এবং অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি বাবদ ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার ১২৫ টাকা আদায় হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসীলদার ও সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের রাজস্ব আদায়ে এ সাফল্যের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, "এ অর্জন তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন।" তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ফাইল নিষ্পত্তি করা নয়, মানুষের সমস্যার সমাধান করা। জনগণ যেন দালাল ছাড়াই স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়ায় ভূমিসেবা পান এবং হয়রানি ছাড়াই সন্তুষ্টচিত্তে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, ভূমিসেবা সহজীকরণ ও নাগরিক ভোগান্তি কমানোর বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে পাঠানো একটি চিঠিতে এই প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
চিঠির মধ্যে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এবং দেশের জনগণের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে, এ ব্যাপারে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তার আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেন।
এছাড়া, বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। একইসঙ্গে, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগের কথা তিনি সবসময় মনে রাখবেন বলেও উল্লেখ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের স্ত্রী, দুই ছেলে এবং মেয়ের নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ রয়েছে কি না, তা উদঘাটনের জন্য সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিতে।
আজ দুদক প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য প্রকাশ করেন।
দুদক জানায়, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকার সম্পদ পাওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় দায়েরকৃত একটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে অনুসন্ধানে শেখ সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা সেলিমের নামে বৈধ্য আয়ের চেয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৩৫৫ টাকার অতিরিক্ত সম্পদ পাওয়া গেছে। তাঁর নামে-বেনামে অন্য কোনো গোপন সম্পদ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একইভাবে, শেখ সেলিমের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ ফজলে ফাহিমের নামে আয়ের চেয়ে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬ টাকার বেশি সম্পদ পাওয়া গেছে। তাঁর নামে-বেনামে আরও সম্পদ রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানে একই ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সংস্থাটি।
অপর পুত্র শেখ ফজলে নাঈমের নামে বৈধ্য আয়ের চেয়ে ১১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ টাকার অতিরিক্ত সম্পদ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক। তাঁর নামে-বেনামে থাকা সম্পদের বিস্তারিত তথ্য জানতেও একই আইনি ধারায় নির্দেশ জারির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া, শেখ সেলিমের কন্যা শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার নামে আয়ের চেয়ে ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বৈধ্য উৎসবিহীন সম্পদ পাওয়া গেছে। তাঁর অর্জিত সম্পদের সঠিকতা নিরূপণ ও গোপন তথ্য উদঘাটনে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
দুদকের বিশেষ তদন্ত সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল নথিতে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তা জানান, উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গকে তাদের বর্তমান ঠিকানায় না পাওয়ায় আদেশপত্র তাদের স্থায়ী ঠিকানায় লটকিয়ে (নোটিশ টানিয়ে) জারি করা হবে।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অনুসন্ধানকারী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুদকের উপপরিচালক মো. খায়রুল হক। এই দলের অন্য সদস্যরা হলেন—সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার এবং উপসহকারী পরিচালক এলমান আহাম্মদ অনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) অর্থোপেডিক সার্জারি সেবায় আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনের অংশ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়েছে অত্যাধুনিক ‘সি-আর্ম’ ফ্লুরোস্কোপি ইমেজিং মেশিন।
এই নতুন চিকিৎসা প্রযুক্তির উদ্বোধন আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের ১০ম তলায় অনুষ্ঠিত হয় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
সি-আর্ম মেশিন চালুর ফলে অর্থোপেডিক সার্জারির সময় রোগীর হাড়ের রিয়েল-টাইম বা লাইভ এক্স-রে ইমেজ সরাসরি দেখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে জটিল হাড়ের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা সম্ভব হবে আরো নিরাপদ, নিখুঁত ও কার্যকরভাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী মন্তব্য করেন, "বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় রোগীদের বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তিনি আরো উল্লেখ করেন, অত্যাধুনিক সি-আর্ম মেশিন অর্থোপেডিক সার্জনদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করবে।
তিনি বলেন, "জটিল হাড়ের ফ্র্যাকচার নিয়ে আসা রোগীরা এখন দেশেই অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক সার্জারি সেবা পাবেন।" আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সংযোজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবা উন্নত ও জনবান্ধব করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বিএমইউর প্রক্টর ও অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ জানান, সি-আর্ম প্রযুক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের সময় ভাঙা হাড়ের অবস্থান ও সার্জারির অগ্রগতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। ফলে, ফ্র্যাকচার চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্ক্রু, প্লেট, রড, ইমপ্ল্যান্ট ও কে-ওয়্যার সঠিক অবস্থানে স্থাপন করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যাবে।
তিনি আরো বলেন, "এই প্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি বা ন্যূনতম কাটাছেঁড়ার মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের সুযোগ।" ফলে, অনেক ক্ষেত্রে বড় ধরনের কাটাছেঁড়ার পরিবর্তে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে জটিল ফ্র্যাকচারের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে। লাইভ ইমেজিং সুবিধার কারণে সার্জনরা দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এতে অস্ত্রোপচারের সময় কমার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় কাটাছেঁড়া ও টিস্যু ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রক্তক্ষরণ ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে এবং রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়বে।
অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল সি-আর্ম প্রযুক্তিতে তুলনামূলকভাবে কম রেডিয়েশন ডোজ ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। ফলে, রোগীর পাশাপাশি অপারেশন থিয়েটারে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও এটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
অনুষ্ঠানে উপাচার্যের একান্ত সচিব-১ অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, নার্স এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপি, ঘিওরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জনি এবং যুবলীগ নেতা মো. আবুল বাশারের সম্পদের হিসাব তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপটি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
দুদকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ফারহানা রহমান হ্যাপি, মাহবুবুর রহমান জনি এবং মো. আবুল বাশারের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ এবং অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
অভিযোগের মধ্যে আরও বলা হয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপির নামে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তার অর্জিত সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ উদঘাটন এবং আয়ের উৎসের সঠিকতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে এই আদেশ প্রদান করা হচ্ছে।
দুদক জানায়, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জনির নামে ৬৯ লাখ ৯৪ লাখ ১৮৪ টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদ পাওয়া গেছে। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সঠিক হিসাব বের করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী একই আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। যুবলীগ নেতা মো. আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অবৈধ বালু ব্যবসা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার মালিকানাধীন ১৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৮৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪৯ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদক আরও জানায়, আবুল বাশারের নামে আরও বেনামি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ থাকতে পারে। তাই তার অর্জিত সব সম্পদের উৎস ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ