প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এই নির্দেশনার উদ্দেশ্য হলো ভূমি সেবা নিতে আসা নাগরিকদের হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতি বা দালালের শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করা।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং স্বচ্ছ ও দ্রুত ভূমিসেবা নিশ্চিত করা জেলা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। আজ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।
ফরিদা খানম বলেন, "একজন নাগরিক ভূমি অফিসে কোনো ব্যক্তির কাছে নয়, রাষ্ট্রের কাছে সেবা নিতে আসেন।" তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা হচ্ছে নাগরিককে যথাযথ সেবা প্রদান করা। তিনি আরও বলেন, ভূমি সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম বা হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যে, নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে দ্রুত সেবা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। নামজারি, খতিয়ান, মিউটেশনসহ ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
জেলা প্রশাসক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ঘুষ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল আটকে রাখা, অযথা হয়রানি কিংবা দালালের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি সতর্ক করেন যে, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত রাখার নির্দেশ দেন এবং নাগরিকদের সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি ও সেবা প্রদানের সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করতে হবে।
ফরিদা খানম নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, "একজন সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর জমি হয়তো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।" তাই তিনি নিশ্চিত করতে চান যে, কোনো নাগরিক যেন ভূমি অফিস থেকে অপমানিত বা হয়রানির শিকার হয়ে ফিরে না যান।
সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঢাকা জেলায় সাধারণ খাতে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি ছিল ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার ২৮০ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৬ টাকা, যা দাবির ১১০.৬ শতাংশ।
এছাড়া সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২৬ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১৬০ টাকা এবং অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি বাবদ ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার ১২৫ টাকা আদায় হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসীলদার ও সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের রাজস্ব আদায়ে এ সাফল্যের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, "এ অর্জন তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন।" তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ফাইল নিষ্পত্তি করা নয়, মানুষের সমস্যার সমাধান করা। জনগণ যেন দালাল ছাড়াই স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়ায় ভূমিসেবা পান এবং হয়রানি ছাড়াই সন্তুষ্টচিত্তে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, ভূমিসেবা সহজীকরণ ও নাগরিক ভোগান্তি কমানোর বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন