ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুবদল জেলা ও মহানগর ইউনিটকে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় জরুরি নির্দেশনা


যুবদল জেলা ও মহানগর ইউনিটকে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় জরুরি নির্দেশনা

যুবদল জেলা, মহানগর ও অধীনস্থ ইউনিটগুলোকে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনা দেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা, পৌর ও থানা পর্যায়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির। জেলা এবং মহানগর যুবদলের সুপারিশের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

নির্দেশনায় ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি গঠন, পুনর্গঠন, বিলুপ্তি, অথবা কোনো ব্যক্তিকে বহিষ্কার, অব্যাহতি, পদ স্থগিত বা কারণ দর্শানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিকে অবহিত করার পর জেলা ও মহানগর যুবদল সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

এছাড়া, নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিকে অবহিত করা বা কেন্দ্রীয় কমিটির পরামর্শ নেওয়া ছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউনিটে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না।

অন্যদিকে, ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন, পুনর্গঠন, বিলুপ্তি, বহিষ্কার, অব্যাহতি, পদ স্থগিত বা কারণ দর্শানোর মতো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে উপজেলা, পৌর বা থানা পর্যায়কে জেলা অথবা মহানগর যুবদলকে অবহিত করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট উপজেলা, পৌর বা থানা এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে, যদি কোনো উপজেলা, পৌর বা থানা কমিটিহীন থাকে, তাহলে ওই ইউনিটের অধীন বা আওতাভুক্ত ওয়ার্ডের বিষয়ে জেলা বা মহানগর যুবদল সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে জারি করা এসব কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে যুবদল সতর্ক করেছে।

আরও পড়ুন: জামায়াত নেতার কথা শুনে ব্যথিত হয়েছি: ইশরাক হোসেন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাবিতে সাপের উপদ্রব: চলতি বছরে উদ্ধার ৮৫টি সাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


রাবিতে সাপের উপদ্রব: চলতি বছরে উদ্ধার ৮৫টি সাপ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস এবং এর আশপাশের এলাকা থেকে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রায় ৮৫টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর মধ্যে ১৫টি সাপ বিষধর এবং বাকি প্রায় ৭০টি নির্বিষ। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে বনজঙ্গল বেষ্টিত এলাকা ডুবে যাওয়ার কারণে এবং আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার ফলে সাপের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সম্প্রতি আবাসিক হলে বিষধর সাপের কামড়ে এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণী ও পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সোয়ান (SWAN) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা থেকে এসব সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিষধর সাপের মধ্যে ১২টি গোখরা, দুটি কালাচ এবং একটি রাসেলস ভাইপার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে দুটি কালাচ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে রাসেলস ভাইপারটি ক্যাম্পাসের বাইরের এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

সংগঠনটির রেসকিউ টিমের সদস্য ফাহিম মুনতাসির রাফিন জানান, বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে বনজঙ্গল বেষ্টিত এলাকা ডুবে গেলে সাপ আবাসস্থল সংকটে পড়ে এবং মানুষের সংস্পর্শে আসে। এ বছর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ২৪টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে, যা ক্যাম্পাস এবং আশপাশের মেস এলাকা থেকে সংগৃহীত।

তিনি আরও বলেন, সাপের খবর পেলে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকেরা নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী সাপ উদ্ধার করেন। ক্যাম্পাস থেকে উদ্ধার করা সাপ বন বিভাগের পরামর্শে জনবসতিহীন বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়। ক্যাম্পাসের বাইরের সাপগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সম্প্রতি এক শিক্ষার্থী সাপের কামড়ের শিকার হওয়ায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনের প্রথম লক্ষ্য মানুষের নিরাপত্তা, তবে সাপও পরিবেশের খাদ্যশৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুতরাং, সাপ না মেরে উদ্ধার করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসের বনাঞ্চল সংরক্ষণ, হলের কক্ষ পরিষ্কার রাখা, নিচতলার জানালায় নেট লাগানো এবং ড্রেনে সাপের প্রবেশ ঠেকানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তবে নির্বিচারে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা উচিত নয়। আর কার্বলিক অ্যাসিড সাপ তাড়াতে পারে না।

এদিকে, ২৭ সেপ্টেম্বর ভোররাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষ থেকে প্রায় তিন ফুট লম্বা একটি বিষধর কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সাপটির কামড়ে ওই কক্ষের এক শিক্ষার্থী আহত হন। এই ঘটনায় আবাসিক হলগুলোতে সাপের উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আবাসিক শিক্ষার্থী মো রেজওয়ান ইসলাম জানান, রাতে রুম থেকে বের হওয়া বা বাথরুমে যাওয়ার সময় ভয় লাগে। কয়েকদিন আগে একটি রুমে সাপ ঢুকে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি বলেন, আমরা চাই, হলের আশপাশের ঝোপঝাড় ও নোংরা জায়গাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হোক এবং জানালায় নেট লাগানোসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে শিক্ষার্থীদের আতঙ্ক অনেকটাই কমবে।

সাপের আবাসস্থল ও মানুষের সঙ্গে সংঘাতের বৈজ্ঞানিক কারণ জানতে চাইলে রাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো সাইফুল ইসলাম ফারুকী আরটিভিকে বলেন, বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে সাপের স্বাভাবিক আবাসস্থল ডুবে যায়। মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় সাপ আশ্রয়ের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসতে পারে। ক্যাম্পাসে জলাশয়, ঝোপঝাড় ও বনাঞ্চল থাকায় সাপের জন্য উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। সাপ দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে তা মেরে ফেলা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের সাপ সম্পর্কে সচেতন করতে সেমিনার আয়োজনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সাপের আবাসস্থল সংরক্ষণ করা জরুরি। সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

এদিকে, ক্যাম্পাসে সাপের উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান আরটিভিকে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় প্রশাসন আগে থেকেই কাজ করছে। হলগুলোর আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং জানালায় নেট লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু জায়গায় কাজ চলমান থাকতেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনার পর সব হলকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি সাপের খাবার হিসেবে ব্যবহৃত ইঁদুরসহ অন্যান্য প্রাণীর উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাবি মেডিকেল সেন্টারে অ্যান্টিভেনম রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কিছু চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। তবে সাপে কাটার ঘটনায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীকে দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বামী মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে রেললাইনে স্ত্রীর আত্মহত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৯ পি.এম


স্বামী মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে রেললাইনে স্ত্রীর আত্মহত্যা

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগড় ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে এক নারী রেললাইনে আত্মহত্যা করেছেন।

স্বজনদের মতে, তিনি স্বামীর প্রতি অগাধ ভালোবাসার প্রমাণ দিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মারা যাওয়া দম্পতি হচ্ছেন হরেন্দ্রনাথ বর্মন (৮০) এবং তার স্ত্রী নিত্য বালা বর্মন। হরেন্দ্রনাথ স্থানীয় মন্দিরের পূজারী ছিলেন এবং তার স্ত্রীও নিয়মিত পূজারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটার দিকে নিজেদের ফসলির জমিতে করা শ্বশ্মানে স্বামী-স্ত্রীকে পাশাপাশি দুই চিতায় পোড়ানো হয়। এ ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে হরেন্দ্রনাথ বর্মন বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত স্ত্রী নিত্য বালা স্বামীর মরদেহের পাশে বসে কান্নাকাটি করতে থাকেন। তবে মঙ্গলবার ভোরে স্বামীর শোক সইতে না পেরে তিনি বাড়ির পাশে রেললাইনে শুয়ে পড়েন। এ সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড় অভিমুখী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস নিত্যবালার শরীরের উপর দিয়ে যায়, যার ফলে তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা হাঁটতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে যান। এরপর সকাল আটটার দিকে দুই স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতা করে পোড়ানো হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, স্ত্রীর আত্মাহুতি স্বামীর শোকে সনাতনীদের মাঝে বিরল ঘটনা। বর্তমান যুগে স্বামীর প্রতি এমন ভালোবাসা স্ত্রীদের মধ্যে দেখা যায় না। তবে মাত্র ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনা হৃদয় বিদারক।

যতীন চন্দ্র বর্মণ নামে এক প্রতিবেশী বলেন, "তারা দুইজনই আমার কাকা-কাকি। ছোটবেলা থেকে দেখেছি, কাকি কাকাকে অনেক ভালোবাসতেন। আজকে স্বামী চলে গেছে বলে তার শোক সইতে না পেরে তিনি ট্রেনের নিচে আত্মাহুতি দিয়ে নিজেকে শেষ করে দিলেন। আসলে এই শোক সইবার মতো অবস্থা পরিবারের সদস্যদের নেই। আমরা তাদের স্বর্গবাস কামনা করছি।"

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, "ঘটনার পরপরই মরদেহ উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে সৎকার করা হয়েছে। পরে আমরা বিষয়টি জেনেছি। যেহেতু এটি রেললাইনে কাটা পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনা, তাই রেলওয়ে পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন বাহিনী ইরাক ছাড়ছে, বাড়তে পারে ইরানের প্রভাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১১ পি.এম


মার্কিন বাহিনী ইরাক ছাড়ছে, বাড়তে পারে ইরানের প্রভাব

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় সামরিক উপস্থিতির পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইরাকের সর্বশেষ সেনাঘাঁটিগুলো থেকে স্থায়ীভাবে সরে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। সেনা প্রত্যাহারকে নিজেদের ঐতিহাসিক জয় হিসেবে উদ্‌যাপন করছে ইরানের মিত্র শিয়া সশস্ত্র দলগুলো। অন্যদিকে, পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন বাহিনীর এই প্রস্থান মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করছে। খবর রয়টার্সের।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সেনার প্রস্থানে সৃষ্ট শূন্যতায় ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) পুনরায় সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জসিম আল-বাহাদলি মন্তব্য করেন, মার্কিন বাহিনীর প্রস্থান ইরানের জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করল। এতদিন দেশটিতে তেহরানের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যে ভারসাম্য বজায় রাখছিল, তা এবার উঠে গেল। এর ফলে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করবে।

আল-বাহাদলির মতে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠীগুলো মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে নিজেদের আন্দোলনের বিজয় হিসেবে তুলে ধরবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করবে।

ইরান-সমর্থিত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর কমান্ডার আবু মোজতবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ইরাকি ইসলামি প্রতিরোধ গোষ্ঠী ও সম্মানিত ইরাকিদের ঐতিহাসিক বিজয়’ এবং ‘আমেরিকার প্রকল্পের চরম পরাজয়’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি ‘কালো অধ্যায়ের’ অবসান এবং দেশটির ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার দখলদারির ব্যর্থতা উদ্‌যাপন করা হবে। তার ভাষায়, বিদেশি সেনার মাধ্যমে নয়, বরং প্রতিরোধ ও জনগণের ইচ্ছার মাধ্যমেই ইরাক প্রমাণ করেছে যে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব।

তবে দেশটির অনেক নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা এই প্রত্যাহারের সময় নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। ফালুজার সুন্নি ট্রাইবাল নেতা আবদুর রহমান আল-জোবাই মন্তব্য করেন, সব ইরাকি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব চায়, তবে এভাবে হুট করে মার্কিন জোট চলে গেলে যে নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হবে, সেটাই সবার বড় ভয়।

প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে সুন্নি মুসলিম শাসক সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পরে দেশটি দখলে নিয়ে শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠা করে এবং কয়েক বছর ধরে বিদ্রোহ দমনের অভিযান চালায়। ২০১১ সালের শেষ দিকে মার্কিন সেনারা ইরাক ছাড়ে।

তবে তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তারা আবার ইরাকে ফিরে আসে। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যুদ্ধে ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করে মার্কিন সেনারা।

ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪ হাজার ৫০০ সেনা নিহত হন। ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’ নামে পরিচিত এই যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা আফগানিস্তানের সমান্তরাল যুদ্ধে নিহত সেনার প্রায় দ্বিগুণ। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শেষ হয় ২০২১ সালে আকস্মিক সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাক এমন একমাত্র দেশ হিসেবে রয়েছে, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই দেশেরই ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। কখনো কখনো ইরাকের ভূখণ্ড দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

২০২০ সালে বাগদাদ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। এর পর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বারবার ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এসব হামলার জবাবে কখনো কখনো পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইসিসির প্রতিনিধি দল ১ অক্টোবর বাংলাদেশে আসছে বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিদর্শনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১২ পি.এম


আইসিসির প্রতিনিধি দল ১ অক্টোবর বাংলাদেশে আসছে বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিদর্শনে

আসন্ন ২০২৭ সালের নারী অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ভেন্যু ও প্রস্তুতি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে আগামী ১ অক্টোবর ঢাকায় আসছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতিনিধি দল। এই প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে তিনটি ক্রিকেট ভেন্যু পরিদর্শন করবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানায়, আইসিসির প্রতিনিধিরা আগামী ২ ও ৩ অক্টোবর ভেন্যুগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। এই পরিদর্শনের সময় মাঠের অবস্থা, ড্রেসিংরুম, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করা হবে।

আইসিসির দলটি বাংলাদেশের আগে নেপালের প্রস্তুতিও পরিদর্শন করেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুতে বিশ্বকাপের জন্য নির্ধারিত ভেন্যুগুলো তারা ঘুরে দেখেছেন।

২০২৭ সালের নারী অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে ১৬টি দল। স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশ ও নেপাল সরাসরি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

আইসিসির পরিদর্শন ও মূল্যায়নের পর বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের জন্য চূড়ান্ত ভেন্যু নির্ধারণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%