মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৯ পি.এম
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগড় ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে এক নারী রেললাইনে আত্মহত্যা করেছেন।
স্বজনদের মতে, তিনি স্বামীর প্রতি অগাধ ভালোবাসার প্রমাণ দিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মারা যাওয়া দম্পতি হচ্ছেন হরেন্দ্রনাথ বর্মন (৮০) এবং তার স্ত্রী নিত্য বালা বর্মন। হরেন্দ্রনাথ স্থানীয় মন্দিরের পূজারী ছিলেন এবং তার স্ত্রীও নিয়মিত পূজারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটার দিকে নিজেদের ফসলির জমিতে করা শ্বশ্মানে স্বামী-স্ত্রীকে পাশাপাশি দুই চিতায় পোড়ানো হয়। এ ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে হরেন্দ্রনাথ বর্মন বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত স্ত্রী নিত্য বালা স্বামীর মরদেহের পাশে বসে কান্নাকাটি করতে থাকেন। তবে মঙ্গলবার ভোরে স্বামীর শোক সইতে না পেরে তিনি বাড়ির পাশে রেললাইনে শুয়ে পড়েন। এ সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড় অভিমুখী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস নিত্যবালার শরীরের উপর দিয়ে যায়, যার ফলে তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা হাঁটতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে যান। এরপর সকাল আটটার দিকে দুই স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতা করে পোড়ানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, স্ত্রীর আত্মাহুতি স্বামীর শোকে সনাতনীদের মাঝে বিরল ঘটনা। বর্তমান যুগে স্বামীর প্রতি এমন ভালোবাসা স্ত্রীদের মধ্যে দেখা যায় না। তবে মাত্র ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনা হৃদয় বিদারক।
যতীন চন্দ্র বর্মণ নামে এক প্রতিবেশী বলেন, "তারা দুইজনই আমার কাকা-কাকি। ছোটবেলা থেকে দেখেছি, কাকি কাকাকে অনেক ভালোবাসতেন। আজকে স্বামী চলে গেছে বলে তার শোক সইতে না পেরে তিনি ট্রেনের নিচে আত্মাহুতি দিয়ে নিজেকে শেষ করে দিলেন। আসলে এই শোক সইবার মতো অবস্থা পরিবারের সদস্যদের নেই। আমরা তাদের স্বর্গবাস কামনা করছি।"
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, "ঘটনার পরপরই মরদেহ উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে সৎকার করা হয়েছে। পরে আমরা বিষয়টি জেনেছি। যেহেতু এটি রেললাইনে কাটা পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনা, তাই রেলওয়ে পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় সামরিক উপস্থিতির পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইরাকের সর্বশেষ সেনাঘাঁটিগুলো থেকে স্থায়ীভাবে সরে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। সেনা প্রত্যাহারকে নিজেদের ঐতিহাসিক জয় হিসেবে উদ্যাপন করছে ইরানের মিত্র শিয়া সশস্ত্র দলগুলো। অন্যদিকে, পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন বাহিনীর এই প্রস্থান মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করছে। খবর রয়টার্সের।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সেনার প্রস্থানে সৃষ্ট শূন্যতায় ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) পুনরায় সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জসিম আল-বাহাদলি মন্তব্য করেন, মার্কিন বাহিনীর প্রস্থান ইরানের জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করল। এতদিন দেশটিতে তেহরানের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যে ভারসাম্য বজায় রাখছিল, তা এবার উঠে গেল। এর ফলে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করবে।
আল-বাহাদলির মতে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠীগুলো মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে নিজেদের আন্দোলনের বিজয় হিসেবে তুলে ধরবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করবে।
ইরান-সমর্থিত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর কমান্ডার আবু মোজতবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ইরাকি ইসলামি প্রতিরোধ গোষ্ঠী ও সম্মানিত ইরাকিদের ঐতিহাসিক বিজয়’ এবং ‘আমেরিকার প্রকল্পের চরম পরাজয়’ বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি ‘কালো অধ্যায়ের’ অবসান এবং দেশটির ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার দখলদারির ব্যর্থতা উদ্যাপন করা হবে। তার ভাষায়, বিদেশি সেনার মাধ্যমে নয়, বরং প্রতিরোধ ও জনগণের ইচ্ছার মাধ্যমেই ইরাক প্রমাণ করেছে যে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব।
তবে দেশটির অনেক নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা এই প্রত্যাহারের সময় নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। ফালুজার সুন্নি ট্রাইবাল নেতা আবদুর রহমান আল-জোবাই মন্তব্য করেন, সব ইরাকি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব চায়, তবে এভাবে হুট করে মার্কিন জোট চলে গেলে যে নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হবে, সেটাই সবার বড় ভয়।
প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে সুন্নি মুসলিম শাসক সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পরে দেশটি দখলে নিয়ে শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠা করে এবং কয়েক বছর ধরে বিদ্রোহ দমনের অভিযান চালায়। ২০১১ সালের শেষ দিকে মার্কিন সেনারা ইরাক ছাড়ে।
তবে তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তারা আবার ইরাকে ফিরে আসে। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যুদ্ধে ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করে মার্কিন সেনারা।
ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪ হাজার ৫০০ সেনা নিহত হন। ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’ নামে পরিচিত এই যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা আফগানিস্তানের সমান্তরাল যুদ্ধে নিহত সেনার প্রায় দ্বিগুণ। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শেষ হয় ২০২১ সালে আকস্মিক সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাক এমন একমাত্র দেশ হিসেবে রয়েছে, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই দেশেরই ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। কখনো কখনো ইরাকের ভূখণ্ড দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
২০২০ সালে বাগদাদ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। এর পর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বারবার ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এসব হামলার জবাবে কখনো কখনো পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন ২০২৭ সালের নারী অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ভেন্যু ও প্রস্তুতি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে আগামী ১ অক্টোবর ঢাকায় আসছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতিনিধি দল। এই প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে তিনটি ক্রিকেট ভেন্যু পরিদর্শন করবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানায়, আইসিসির প্রতিনিধিরা আগামী ২ ও ৩ অক্টোবর ভেন্যুগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। এই পরিদর্শনের সময় মাঠের অবস্থা, ড্রেসিংরুম, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করা হবে।
আইসিসির দলটি বাংলাদেশের আগে নেপালের প্রস্তুতিও পরিদর্শন করেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুতে বিশ্বকাপের জন্য নির্ধারিত ভেন্যুগুলো তারা ঘুরে দেখেছেন।
২০২৭ সালের নারী অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে ১৬টি দল। স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশ ও নেপাল সরাসরি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
আইসিসির পরিদর্শন ও মূল্যায়নের পর বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের জন্য চূড়ান্ত ভেন্যু নির্ধারণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার ঢাকায় মনোরেল ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মূলত, এটি মেট্রোরেলের যাত্রীদের যাতায়াতের শেষ ধাপের সংযোগ উন্নত করতে ফিডার সার্ভিস হিসেবে চালু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশনকে প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য নিয়োগ দিতে যাচ্ছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ডিটিসিএ এবং বুয়েটের মধ্যে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তির পর ঢাকা মহানগর অঞ্চলে প্রস্তাবিত পাঁচটি করিডরের পাশাপাশি সম্ভাব্য অন্যান্য রুটও সমীক্ষায় যাচাই করা হবে। এর মধ্যে দুটি করিডরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি) অনুযায়ী, প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি মনোরেল করিডর প্রস্তাব করা হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে উপযুক্ত একটি করিডর বাছাই করার কথা রয়েছে। পুরো সমীক্ষা শেষ করতে ছয় মাস সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত করিডরগুলো হলো—পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা (২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার), মধ্য বাড্ডা-ভুলতা (১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার), রামপুরা-ডেমরা (১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার), মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা (১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার) ও উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর-সাভার (১৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার)।
সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই সমীক্ষায় রুটের বিন্যাস, সম্ভাব্য স্টেশন ও ডিপোর অবস্থান, যাত্রী চাহিদা, কারিগরি ও কাঠামোগত উপযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হবে।
বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেল এবং অন্যান্য গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে মনোরেলের সমন্বয়ের বিষয়টিও এতে খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে মেট্রোরেলের যাত্রীদের যাতায়াতের শেষ ধাপের সংযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
মনোরেল সাধারণত উড়ালপথে চলাচল করে। ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ যেসব এলাকায় সড়কের জায়গা সীমিত এবং ভারী অবকাঠামোর কারণে মেট্রোরেল নির্মাণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে মনোরেল গণপরিবহনের সংযোগ হিসেবে কাজ করতে পারবে কি না, তা যাচাই করার পরিকল্পনা করছে ডিটিসিএ।
নির্মাণ ব্যয়, যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা, পরিচালন ব্যয় এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্ভাব্যতা নির্ভর করবে সমীক্ষার ফলাফলের ওপর।
ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত একটি মনোরেল রুট চালু করা।’
তিনি জানান, প্রাথমিক বিবেচনায় পাঁচটি রুট রাখা হয়েছিল। বুয়েটের পরামর্শে এখন ১৪টি রুট যাচাই করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সুবিধা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতার ভিত্তিতে সেখান থেকে বাস্তবায়নযোগ্য একটি রুট বেছে নেওয়া হবে।
ঢাকায় মনোরেল সেবা চালুর নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুদ্ধ শুধুমাত্র সেনাবাহিনী, সরকার বা রাজনৈতিক শক্তির সংঘাতের বিষয় নয়, বরং এর সবচেয়ে গভীর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে পড়ে। প্রতিটি পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে একজন মানুষ, ধ্বংসস্তূপের পেছনে একটি পরিবার এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ভয়, ক্ষতি ও অনিশ্চয়তার গল্প—এভাবে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব মিডিয়া: নৈতিক দায়বদ্ধতা ও আত্মপর্যালোচনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে সত্য, মানবিক মর্যাদা, প্রাসঙ্গিকতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন উপাচার্য। তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির প্রতি শ্রদ্ধার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য শেয়ার করার আগে সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি কি সমঝোতায় অবদান রাখছি, নাকি বিদ্বেষ ছড়াচ্ছি?" -এ প্রশ্ন প্রত্যেকের বিবেচনা করা উচিত। গণমাধ্যম একা যুদ্ধ বন্ধ করতে না পারলেও, মানুষ কীভাবে যুদ্ধকে অনুধাবন করবে, তা প্রভাবিত করতে পারে উল্লেখ করে তিনি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপর জোর দেন।
উল্লেখ্য, সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস। অনুষ্ঠানে ইরানের রাষ্ট্রদূত, রুশ রাষ্ট্রদূতের প্রতিনিধিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ