ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তেলাপোকা আন্দোলনে গুরুতর আহত তরুণী, শঙ্কাজনক শারীরিক অবস্থা


তেলাপোকা আন্দোলনে গুরুতর আহত তরুণী, শঙ্কাজনক শারীরিক অবস্থা

ভারতের নয়াদিল্লীতে জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা ‘সংসদ অভিযান’ কর্মসূচি কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও পদদলিত হওয়ার ঘটনায় গুরুতর আহত এক ২২ বছর বয়সী তরুণীর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটায়, তাকে রাজধানীর রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তরুণীকে ভেন্টিলেটর সহায়তায় রাখা হয়েছে এবং তার ঘাড়ে ও মাথায় একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে।

সামাজিক মাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা গেছে, যন্তর মন্তরের অবস্থান মঞ্চের অদূরে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে যারা বিক্ষোভকারীদের জমায়েতে যোগ দেন, সেখানেই পুলিশ কাদানে গ্যাসের সেল ছুড়লে বিশৃঙ্খলা ও দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। এ সময় ওই তরুণী ব্যারিকেডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান এবং পদদলিত হয়ে মাথায় ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পান।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, কর্মসূচির অনুমতি না থাকলেও সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির প্রায় ২০ হাজার ছাত্র-যুব সদস্য হাতে জাতীয় পতাকা ও সংবিধান নিয়ে যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের দিকে যাত্রা শুরু করেন। বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান ও সংসদ চত্বর সুরক্ষিত রাখতে পুলিশ একাধিক ব্যারিকেড দিয়ে পথ রোধ করে। তবে আন্দোলনকারীরা পুলিশি বাধা ঠেলে সংসদ ভবনের মূল ফটকের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করে।

পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতের ঘটনায় ৮০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী আহত হয়। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের পর মঙ্গলবার সকালের দিকে হাসপাতালে ভর্তি থাকা আহত অন্তত ৭৯ জন ছাত্র-যুবকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আইসিইউতে থাকা তরুণীসহ আরও কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সংঘর্ষের মুখে পড়ে অন্তত ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীও আহত হয়েছেন।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্ব পদত্যাগ ও নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিচার চেয়ে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনের সমর্থনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা মঙ্গলবার হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নেন। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে এটিকে স্রেফ লোক দেখানো মন্তব্য করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জমি নিয়ে বিরোধের কারণে মসজিদের প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০২ পি.এম


জমি নিয়ে বিরোধের কারণে মসজিদের প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধের ফলস্বরূপ একটি মসজিদের প্রধান প্রবেশপথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি দক্ষিণপাড়া বাইতুল আমান জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার জন্য একই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৮২ সালে তিন ভাই শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও মনির হোসেন সম্মতিক্রমে মসজিদের নামে তিন শতাংশ জমি দান করেন। পরবর্তীতে রেকর্ড-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য বড় ভাই শফিকুল ইসলাম ও ছোট ভাই মনির হোসেন আরও এক শতাংশ জমি মসজিদের নামে দান করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ওই জমির ওপরেই মসজিদ পরিচালনা হয়ে আসছিল।

তাদের অভিযোগ, গত সাত থেকে আট বছর ধরে রফিকুল ইসলাম কি ধরনের মসজিদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাধা প্রদান করে আসছেন। এমনকি, মসজিদের গাছগুলো কেটে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। সর্বশেষ, তিনি মসজিদের প্রধান প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দিয়ে মুসল্লিদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।

নামাজ আদায় করতে আসা কয়েকজন মুসল্লি জানিয়েছেন, তারা প্রতিদিনের মতো মসজিদে এসে হঠাৎ করে প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দেখতে পান। এতে মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে তারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা এ ঘটনার শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধান চান।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাহানুর আলম বলেন, প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে মুসল্লিদের নিয়মিত মসজিদে আসায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইদ্রিস আলী প্রধান বলেছেন, নতুন কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি সামনে এসেছে। তিন ভাইয়ের দান করা জমির ওপরেই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এলাকার মানুষদের সহযোগিতায় পাকা মসজিদ নির্মিত হয়েছে। সম্প্রতি রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, মসজিদের কিছু অংশ তার জমির মধ্যে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তিন ভাইকে একসঙ্গে বসার আহ্বান জানানো হলেও তা করা হয়নি। কোনও আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে মসজিদের প্রবেশপথে বেড়া দেওয়ায় এলাকাবাসী বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমি কোনো কিছু কর্ম গোপন করিনি। যে জায়গায় বেড়া দিয়েছি, সেটি আমার নিজস্ব জায়গা। আমাকে বাধ্য করা হয়েছে বলেই এই কাজটি করতে হয়েছে। বিষয়টি যদি আইনগত বা সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি হয়, আমি সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত।’

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি দেখে জানতে পেরেছেন। তবে, সেটি মতলব উত্তরের ঘটনা হিসেবে নিশ্চিত ছিলেন না। যদি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ বা কোনো ব্যক্তির চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে থাকে, তাহলে প্রশাসন অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।

তিনি আরও বলেছেন, যেকোনও পক্ষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেব। ব্যক্তিগত বিরোধ থাকলেও কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ এইভাবে বন্ধ করে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১০ পি.এম


পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর প্রাণহানি

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় খেলাধুলা শেষ করে পুকুরে গোসল করতে নেমে ভাই-বোন সহ তিন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরের সময় উপজেলার ভালতা আদর্শ গুচ্ছগ্রামে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৃত তিন শিশু হচ্ছে ওই গ্রামের তানজিব (৮), তার বোন সুরাইয়া (৫) এবং প্রতিবেশী জাকিরুল (৬)। তিনটি শিশু স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, দুপুরের দিকে সুরাইয়া আর তার ভাই তানজিব বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রতিবেশী জাকিরুলের সঙ্গে গ্রামের উঠানে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে, পরিবারের অজ্ঞাতে তারা পাশের একটি পুকুরে গোসলের জন্য নেমে পড়ে। গোসলের সময় তিনজনই পানির গভীর অংশে তলিয়ে যায়।

পুকুরের পাশে যাচ্ছিলেন এমন একজন স্থানীয় ব্যক্তি সুরাইয়াকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে দ্রুত চিৎকার শুরু করেন। এরপর আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সুরাইয়া ও জাকিরুলকে উদ্ধার করা হলেও তারা তখন মৃত অবস্থায় ছিল। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে তানজিবের মরদেহ উদ্ধার করেন।

কাহালু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ব্রজেন চন্দ্র মহাতো বলেছেন, 'ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে রংপুর চিনিকলের বিপুল সম্পদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৪ পি.এম


রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে রংপুর চিনিকলের বিপুল সম্পদ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে অবস্থিত রংপুর চিনিকলটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে।

উত্তরবঙ্গের এই অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বর্তমানে কারখানা প্রাঙ্গণে কেবলই সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।

এক সময় সাইরেনের আওয়াজের মধ্যে প্রতিদিন ভোরে মেহনতী মানুষের কোলাহলে পুরো জনপদ জেগে উঠত।

সেখানে আখের ট্রাক ও ট্রলির দীর্ঘ সারি, চিমনি থেকে ওঠা অবিরাম ধোঁয়া এবং দেশীয় চিনির গন্ধে তা পরিপূর্ণ থাকত।

কিন্তু এখন আর সেই সাইরেনের আওয়াজ শোনা যায় না, আখবাহী ট্রাকও চলাচল করে না, চিমনির ধোঁয়াও বাতাসে মিলিয়ে গেছে।

চিনিকলটির বন্ধ থাকার কারণে, দেশীয় চিনির উৎপাদন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে খোলা আকাশের নিচে, রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ভিজে অযত্ন ও অবহেলায় হাজার কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উত্তরের বিস্তীর্ণ জনপদের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করার জন্য যে কারখানা ছিল, তা এখন জং ধরে ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

এদিকে, বিপুল এই সম্পদের রক্ষায় কার্যকর কোন উদ্যোগ এখনও নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের অভিমতের ভিত্তিতে জানা যায় যে, এই চিনিকলটি একটি কারখানা নয়; বরং এটি ছিল উত্তরবঙ্গের হৃদস্পন্দন।

এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে এবং শ্রমজীবীদের জীবিকার তাগিদে মিলটি দ্রুত পুনঃচালু করার প্রয়োজন।

রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু সুফিয়ান সুজা তার বক্তব্যে জানিয়েছেন, 'রংপুর চিনিকল উত্তরের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। এই কারখানা সচল হলে এখানকার শ্রমিক-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।'

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী মনজুর হাবীব মনজু মন্তব্য করেন, 'চিনিকলের সব কিছুই প্রস্তুত আছে। শুধুমাত্র মিলটিতে ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা নতুন করে বিনিয়োগ করতে পারলে এটি আবার পূর্বের অবস্থানে ফিরে যেতে সক্ষম হবে।'

চিনিকলের বর্তমান ইনচার্জ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের মতে, কারখানাটি পুনরায় চালু করার জন্য যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এখনো বিদ্যমান।

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন জানান, 'চিনিকলটি তৃতীয় ধাপে চালুর ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এখন চ্যালেঞ্জ হল এটি দ্বিতীয় ধাপে চালু করা যাবে কি না।'

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন এবং শিল্পমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, মিলটি চালু রাখতে যে পরিমাণ আখ প্রয়োজন, তা রংপুর চিনিকলের আছে।

মিলের অবকাঠামো, যন্ত্রাংশ ও যানবাহন দ্বারা ৪ থেকে ৫ মাস মিলটি সচল রাখা সম্ভব হলে চিনি উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

রংপুর চিনিকলের ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিনূল ইসলাম বলেন, 'মিলের যন্ত্রপাতি ও অপারেশনের প্রধান স্থানগুলোকে সঠিকভাবে মেরামত করা এবং জনবলকে দক্ষভাবে কাজে লাগাতে পারলে, মাত্র ৪ থেকে ৫ মাস কারখানাটিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে এটিকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।'

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী মোবাইল ফোনে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, 'বন্ধ থাকা অন্যান্য চিনিকলসহ সব ধরণের শিল্পকারখানা পুনঃচালু করার বিষয়ে সরকারের একটি নীতিগত ভাবনা ও উদ্যোগ রয়েছে।'

১৯৫৪ থেকে ১৯৫৭ সালের মধ্যে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৭-৫৮ মাড়াই মৌসুমে এই চিনিকলে চিনি উৎপাদন শুরু হয়। ১ হাজার ৯২৫ দশমিক ৩৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত চিনিকলের বার্ষিক চিনি উৎপাদন সক্ষমতা ১৫ হাজার মেট্রিক টন। ২০২০ সালের বুধবার (২ ডিসেম্বর) এই চিনিকলের আখ মাড়াই স্থগিত ঘোষণা করে সরকার।

মাড়াই বন্ধ থাকলেও, বর্তমানে ৯২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এই কারখানাটিতে কর্মরত রয়েছেন।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এটি এই অঞ্চলের লাখ লাখ আখচাষী ও শ্রমিকের রুটিরুজির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করেছে।

এলাকার মানুষ এখন দাবি করছে যে, কারখানাটি পুনরায় সচল হলে উত্তরবঙ্গের হারিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার্ক অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৮ পি.এম


সার্ক অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

ঢাকা, ২১ জুলাই, ২০২৬ : দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা, কৃষিপণ্যের মূল্য শৃঙ্খল উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়েছে সার্কভুক্ত দেশগুলো থেকে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার জন্য অভিন্ন মানদণ্ড, প্রযুক্তি বিনিময় ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সার্ক কৃষি কেন্দ্র কর্তৃক আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভার্চুয়াল কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপদ খাদ্যশস্য উৎপাদন ও মূল্য শৃঙ্খল’- নিয়ে বক্তারা এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। এই কর্মশালায় সার্ক অঞ্চলের নীতিনির্ধারক, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সহনশীল কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন।’ তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপদ খাদ্যশস্য উৎপাদন এবং মূল্য শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করার জন্য সার্ক কৃষি কেন্দ্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (শস্য) ড. সিকান্দার খান তানভীর কর্মশালার উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো মূল্য শৃঙ্খলে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

আঞ্চলিক পরিস্থিতি তুলে ধরে নেপালের খাদ্য প্রযুক্তি ও গুণগত নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সিনিয়র ফুড রিসার্চ অফিসার মোহন কৃষ্ণ মহারজন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুর্বল নিয়ন্ত্রক প্রয়োগ, সীমিত পরীক্ষাগার সক্ষমতা এবং দুর্বল ট্রেসেবিলিটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যার মোকাবিলায় খাদ্য নিরাপত্তা মানের সমন্বয়, সাফটা কার্যকর বাস্তবায়ন, আধুনিক কাস্টমস ব্যবস্থা এবং খাদ্য নিরাপত্তা সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনিয়তার কথা বলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব, জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং উত্তম চর্চার প্রসার আঞ্চলিক কৃষি মূল্য শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে।

প্রধান অতিথি শ্রীলঙ্কার কৃষি বিভাগের মহাপরিচালক ড. ডব্লিউ এ আর টি উইক্রমারাচ্চি মন্তব্য করেন, ‘খামার থেকে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা আস্থা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক কৃষি বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক মানদণ্ড গ্রহণের পাশাপাশি টেকসই কৃষি চর্চার প্রসার এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে।’

২৩ জুলাই পর্যন্ত চলা এই কর্মশালায় খামার পর্যায়ের মানদণ্ড বাস্তবায়ন, জলবায়ু-সহনশীল ফসল উৎপাদন, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, জৈব কৃষি, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনা, ফসল সংগ্রহোত্তর খাদ্য নিরাপত্তা এবং সার্ক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নীতি ও বিধিমালা সংস্কার নিয়ে একাধিক কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%