প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধের ফলস্বরূপ একটি মসজিদের প্রধান প্রবেশপথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি দক্ষিণপাড়া বাইতুল আমান জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার জন্য একই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৮২ সালে তিন ভাই শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও মনির হোসেন সম্মতিক্রমে মসজিদের নামে তিন শতাংশ জমি দান করেন। পরবর্তীতে রেকর্ড-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য বড় ভাই শফিকুল ইসলাম ও ছোট ভাই মনির হোসেন আরও এক শতাংশ জমি মসজিদের নামে দান করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ওই জমির ওপরেই মসজিদ পরিচালনা হয়ে আসছিল।
তাদের অভিযোগ, গত সাত থেকে আট বছর ধরে রফিকুল ইসলাম কি ধরনের মসজিদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাধা প্রদান করে আসছেন। এমনকি, মসজিদের গাছগুলো কেটে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। সর্বশেষ, তিনি মসজিদের প্রধান প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দিয়ে মুসল্লিদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।
নামাজ আদায় করতে আসা কয়েকজন মুসল্লি জানিয়েছেন, তারা প্রতিদিনের মতো মসজিদে এসে হঠাৎ করে প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দেখতে পান। এতে মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে তারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা এ ঘটনার শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধান চান।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাহানুর আলম বলেন, প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে মুসল্লিদের নিয়মিত মসজিদে আসায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইদ্রিস আলী প্রধান বলেছেন, নতুন কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি সামনে এসেছে। তিন ভাইয়ের দান করা জমির ওপরেই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এলাকার মানুষদের সহযোগিতায় পাকা মসজিদ নির্মিত হয়েছে। সম্প্রতি রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, মসজিদের কিছু অংশ তার জমির মধ্যে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তিন ভাইকে একসঙ্গে বসার আহ্বান জানানো হলেও তা করা হয়নি। কোনও আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে মসজিদের প্রবেশপথে বেড়া দেওয়ায় এলাকাবাসী বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমি কোনো কিছু কর্ম গোপন করিনি। যে জায়গায় বেড়া দিয়েছি, সেটি আমার নিজস্ব জায়গা। আমাকে বাধ্য করা হয়েছে বলেই এই কাজটি করতে হয়েছে। বিষয়টি যদি আইনগত বা সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি হয়, আমি সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত।’
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি দেখে জানতে পেরেছেন। তবে, সেটি মতলব উত্তরের ঘটনা হিসেবে নিশ্চিত ছিলেন না। যদি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ বা কোনো ব্যক্তির চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে থাকে, তাহলে প্রশাসন অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।
তিনি আরও বলেছেন, যেকোনও পক্ষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেব। ব্যক্তিগত বিরোধ থাকলেও কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ এইভাবে বন্ধ করে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন