শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:১৯ পি.এম
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানকে দেখতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গেছেন।
রাষ্ট্রপতি শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে তার শারীরিক অবস্থা এবং চলমান চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেন।
ড. মঈন খান স্থানীয় সরকার হাসপাতালের সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বুকে ব্যথা নিয়ে গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ করেন এবং ড. মঈন খানের শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : অস্ট্রেলিয়া উত্তর কোরিয়ার দুই ব্যক্তি ও কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা ভুয়া পরিচয়ে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে কাজ করার এবং সাইবার অপরাধের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে জারি করা হয়েছে। শুক্রবার দেশটি এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি বিদেশে উত্তর কোরিয়ার সাইবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত বিপুল অর্থ উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা উত্তর কোরিয়ার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ভুয়া পরিচয়ে আইটি কর্মী নিয়োগ ও কাজ করানোর মাধ্যমে দেশটির শাসকগোষ্ঠীর পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করে।’
উত্তর কোরিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাধিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে আরোপিত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে যে, এসব নিষেধাজ্ঞা এড়াতে উত্তর কোরিয়া হাজার হাজার আইটি কর্মীকে অন্য দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করাচ্ছে। এসব কর্মী ভুয়া পরিচয়ে কাজ করে অর্জিত অর্থ সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে পাঠান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে উত্তর কোরিয়া এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এসব অভিযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো সতর্ক করে বলেছিল, উত্তর কোরিয়ার কর্মীরা নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছেন।
এর আগে গত মাসে নিউজিল্যান্ডের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছিল, উত্তর কোরিয়ার এক আইটি কর্মী ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে দেশটির একটি প্রতিষ্ঠানে দূরবর্তীভাবে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন। পরে তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ হয়ে পড়লে তিনি প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস করার হুমকি দেন।
শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা দুই ব্যক্তি হলেন ইউ পু উং এবং সিম হিয়ন সপ। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইতোমধ্যে তাদের নাম প্রকাশ করেছে।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় চীনভিত্তিক ইউকে উত্তর কোরিয়ার অবৈধ অর্থ উপার্জন কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। মন্ত্রণালয়টি সতর্ক করে বলেছিল, শনাক্ত হওয়া এড়াতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহারে তিনি দক্ষ।
অন্যদিকে, সিমকে উত্তর কোরিয়ার সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ‘ছায়া ব্যাংকার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) তাকে অর্থ স্থানান্তর এবং দেশটির বাইরে অর্থ পাঠানো ও সেখান থেকে অর্থ আনার কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে খুঁজছে।
তার গ্রেফতারে সহায়ক তথ্যের জন্য ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বনানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও চিত্রনায়িকা মেঘলা মুক্তা এখনও ন্যায়বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। দীর্ঘ সময় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা শারীরিক সুস্থতা অর্জন করলেও দুর্ঘটনার মামলা নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তিনি ও তার পরিবার। এ ঘটনার পুলিশি তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেত্রী।
এক সাক্ষাৎকারে মেঘলা মুক্তা জানিয়েছেন, গত ২৮ জুলাই বনানীতে দুর্ঘটনার পর তার চিকিৎসা ও শারীরিক সুস্থতা ছিল পরিবারের প্রধান চিন্তা। এ সময় তার বন্ধু ও সহকর্মী অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু, তার দাবি, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কর্মকর্তা তার বক্তব্য গ্রহণ করেননি। পরিবারের সদস্যরাও বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি।
অভিনেত্রীর অভিযোগ, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রথমে থানার কম্পিউটার ব্যবস্থায় অভিযোগ নিবন্ধিত ছিল না। পরে ১ সেপ্টেম্বর তার বাবা থানায় গিয়ে অভিযোগটি নিবন্ধন করান। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ি ও চালককে আটক করার কথা জানানো হয়। এত দিন পর কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মেঘলা মুক্তা। তার মতে, যদি শুরু থেকেই আন্তরিকভাবে তদন্ত করা হতো, তাহলে এত দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতো না।
মেঘলা আরও জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য তার বাবাকে নিয়মিত আদালতে যেতে হচ্ছে। অভিযুক্ত পক্ষ জামিনের আবেদন করায় সেটি ঠেকানোর চেষ্টা করতে হচ্ছে পরিবারকে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার কারণে তার শরীরে এখনো ক্ষত রয়েছে এবং পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও সময় লাগবে। এমন পরিস্থিতিতে বারবার আদালতে যাওয়া তার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার জন্য বনানী থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। যদি আরও কিছু প্রয়োজন হয়, তবে তা দিতেও তারা প্রস্তুত।
পুরো ঘটনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে মেঘলা মুক্তা বলেন, ন্যায়বিচার পেতে মানুষকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজের সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার বিষয়টিও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি চান, দুর্ঘটনার ঘটনাটি যথাযথভাবে তদন্ত করা হোক এবং প্রকৃত সত্য সামনে আসুক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই হাসপাতালটি ঢাকা আহছানিয়া মিশন দ্বারা পরিচালিত হয় এবং ফ্লোর সুপারভাইজার পদে জনবল নিয়োগের উদ্দেশ্যে এই বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়েছে।
আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ২০ অক্টোবর থেকে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।
প্রতিষ্ঠানের নাম: আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল
পদের নাম: ফ্লোর সুপারভাইজার
পদসংখ্যা: ০১টি
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিবিএস, স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: হাসপাতালে কাজের দক্ষতা
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ২ বছর
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই
কর্মস্থল: ঢাকা (উত্তরা ১০ সেক্টর)
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী
আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
আবেদনের শেষ সময়: ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণের টিউশনির সঞ্চিত সামান্য টাকায় ফুটপাতের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বর্ণমালা শেখানোর মাধ্যমে ২০১২ সালে শুরু হয়েছিল একটি নীরব মানবিক বিপ্লবের। ১৪ বছর পর তা আজ রূপান্তরিত হয়েছে এক সুবিশাল আশার বাতিঘরে। ‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন’ নামের সেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি আজ কেবল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিঃস্ব, আশ্রয়হীন ও প্রবীণদেরই ভরসাস্থল নয়; বরং সীমানা পেরিয়ে ফিলিস্তিনের গাজা, নেপাল ও সুদানের যুদ্ধ ও দুর্যোগকবলিত বিপন্ন মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে বাংলাদেশের ভালোবাসা ও মানবিকতার স্পর্শ।
বাংলাদেশ এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (যৌথ স্টক) নিবন্ধিত এই অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংস্থাটি কেবল জরুরি ত্রাণ বিতরণের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখছে না। বরং শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাবলম্বিতা, স্বাস্থ্যসেবা ও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার মাধ্যমে এক টেকসই সামাজিক রূপান্তর ঘটিয়ে চলেছে।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাকালীন দর্শন ও লক্ষ্য তুলে ধরে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি কাজের মূল উদ্দেশ্য মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমরা বিশ্বাস করি, একজন মানুষকে সাময়িকভাবে সাহায্য করার পাশাপাশি তাকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মানুষ যখন মানবিক সংকটে পড়ে, তখন সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
তিনি জানান, মাস্তুল ফাউন্ডেশন তার অগ্রযাত্রার ১৫ বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান, নিজস্ব সেবামূলক প্রকল্পসমূহ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংকট মোকাবিলায় বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক সংঘাত ও দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যমতে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ ও চরম অবরোধের প্রেক্ষাপটে বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন রক্ষায় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গাজায় জরুরি ভিত্তিতে সুপেয় পানি, শুকনো ও রান্না করা পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছানোর পাশাপাশি আহত শিশু ও রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
একইভাবে নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত দুর্গতদের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণের পাশাপাশি ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনে নগদ অর্থ ও নির্মাণসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়া সুদান সংকট ও গৃহযুদ্ধের ফলে সৃষ্ট তীব্র দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুচ্যুত পরিবার ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা পার্সেল বিতরণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে সংস্থাটি।
বৈশ্বিক অঙ্গনে এই মানবিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে কাজী রিয়াজ রহমান বাসস’কে বলেন, ‘যুদ্ধ ও সংঘাতের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা। গাজা থেকে শুরু করে সুদান কিংবা নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়া মানুষের করুণ চিত্র আমাদের ব্যথিত করে। দেশের মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতাকে পাথেয় করে আমরা বিশ্বের যেখানেই বিপন্ন মানুষ পাই, সেখানেই মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
টেকসই স্বাবলম্বিতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধা মুক্তি ও মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে সরকারের সহযোগী হিসেবে মাস্তুল ফাউন্ডেশন কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, জাকাত ও সাদকার শরিয়াহসম্মত ব্যবহারের মাধ্যমে দরিদ্র ও কর্মক্ষম মানুষকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। অসচ্ছল পরিবারগুলোর হাতে সেলাই মেশিন, উন্নত জাতের গাভী, ছাগল, হাঁস-মুরগি, রিকশা-ভ্যান এবং বীজ ও সার তুলে দিয়ে উপার্জনের স্থায়ী পথ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে বেকার তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে আইটি প্রশিক্ষণ, মোটর ড্রাইভিং ও কারিগরি শিক্ষা দিয়ে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে মাস্তুল প্রধান বলেন, ‘মাস্তুলের লক্ষ্য হলো সহায়তা পাওয়া একজন মানুষ যেন ভবিষ্যতে নিজের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি আরও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যোগ্য হয়ে ওঠে। মানুষের দেওয়া জাকাত, সাদকা ও দানের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই— যা জীবন পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করে।’
১৫ স্থানে ‘মেহমানখানা’ ও বিনামূল্যে খাবার
সংস্থাটি জানায়, দেশে একটি ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের নিয়মিত উদ্যোগ ‘মেহমানখানা’র মাধ্যমে রাজধানীর ১৫টি নির্ধারিত জনবহুল পয়েন্টে প্রতিদিন হাজারো অসহায়, পথচারী, দিনমজুর ও প্রবীণদের মাঝে বিনামূল্যে মানসম্মত রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। খাদ্য সহায়তার ক্ষেত্রে কোনো করুণা নয়, বরং গ্রহীতার আত্মমর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয় ফাউন্ডেশন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে ৩০ লাখ বৃক্ষরোপণ
মাস্তুল ফাউন্ডেশন জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সংস্থাটি দেশব্যাপী ৩০ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক ও উপকূলীয় অঞ্চল, উত্তরবঙ্গের খরাপ্রবণ এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এতিমখানা এবং মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক লাখ ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
আশ্রয়হীনদের জন্য প্রবীণ নিবাস ও শেষ বিদায়ের মর্যাদা
সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজধানীর হাজারীবাগের বারইখালিতে নিজস্ব ভবনে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আবাসিক মাদ্রাসা, স্কুল ও এতিমখানা পরিচালনা করছে মাস্তুল।
এছাড়া নিঃসঙ্গ প্রবীণদের জন্য একটি ১০ তলা বিশিষ্ট ‘ইসলামিক শেল্টারহোম কমপ্লেক্স’ নির্মাণাধীন রয়েছে—যেখানে আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম, চিকিৎসাকেন্দ্র ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে।
এর পাশাপাশি আর্সেনিকপ্রবণ ও সামুদ্রিক উপকূলীয় দুর্গম এলাকায় গভীর নলকূপ ও ওয়াটার ফিল্টারিং প্ল্যান্ট স্থাপন করে সুপেয় পানির সংস্থান করা হয়েছে। একইসাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমোদনে বেওয়ারিশ ও পরিচয়হীন মরদেহের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী গোসল, জানাজা ও দাফনকাজ পরিচালনা করছে সংস্থাটি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি আধুনিক গোসলখানা স্থাপনের উদ্যোগও এতে রয়েছে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
জানা যায়, মাস্তুল ফাউন্ডেশন তাদের সেবা কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সরকারের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কাঠামোতে যুক্ত করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠাতা কাজী রিয়াজ রহমানের নেতৃত্বে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সাবেক সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ, ডিরেক্টর হিসেবে মেজর জেনারেল (অব.) কাজী ইফতেখার-উল-আলম এবং চিফ পাবলিক রিলেশনস অফিসার হিসেবে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মানের অডিট ফার্মের মাধ্যমে আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা এবং শরিয়াহ বোর্ডের তদারকিতে জাকাত তহবিল পরিচালিত হয়।
কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, ‘একটি শিশুর নিরাপদ শৈশব ও শিক্ষার সুযোগ, একটি দরিদ্র পরিবারের স্থায়ী উপার্জন, একজন প্রবীণের নিরাপদ আশ্রয় কিংবা যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি পরিবারের মুখে খাবার পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল অঙ্গীকার। নতুন এই অধ্যায়ে দেশের মানুষের সহযোগিতাকে শক্তি করে বাংলাদেশে মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বিপন্ন মানুষের পাশে আমরা থাকতে চাই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ