শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:২১ পি.এম
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণের টিউশনির সঞ্চিত সামান্য টাকায় ফুটপাতের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বর্ণমালা শেখানোর মাধ্যমে ২০১২ সালে শুরু হয়েছিল একটি নীরব মানবিক বিপ্লবের। ১৪ বছর পর তা আজ রূপান্তরিত হয়েছে এক সুবিশাল আশার বাতিঘরে। ‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন’ নামের সেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি আজ কেবল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিঃস্ব, আশ্রয়হীন ও প্রবীণদেরই ভরসাস্থল নয়; বরং সীমানা পেরিয়ে ফিলিস্তিনের গাজা, নেপাল ও সুদানের যুদ্ধ ও দুর্যোগকবলিত বিপন্ন মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে বাংলাদেশের ভালোবাসা ও মানবিকতার স্পর্শ।
বাংলাদেশ এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (যৌথ স্টক) নিবন্ধিত এই অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংস্থাটি কেবল জরুরি ত্রাণ বিতরণের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখছে না। বরং শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাবলম্বিতা, স্বাস্থ্যসেবা ও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার মাধ্যমে এক টেকসই সামাজিক রূপান্তর ঘটিয়ে চলেছে।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাকালীন দর্শন ও লক্ষ্য তুলে ধরে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি কাজের মূল উদ্দেশ্য মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমরা বিশ্বাস করি, একজন মানুষকে সাময়িকভাবে সাহায্য করার পাশাপাশি তাকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মানুষ যখন মানবিক সংকটে পড়ে, তখন সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
তিনি জানান, মাস্তুল ফাউন্ডেশন তার অগ্রযাত্রার ১৫ বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান, নিজস্ব সেবামূলক প্রকল্পসমূহ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংকট মোকাবিলায় বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক সংঘাত ও দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যমতে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ ও চরম অবরোধের প্রেক্ষাপটে বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন রক্ষায় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গাজায় জরুরি ভিত্তিতে সুপেয় পানি, শুকনো ও রান্না করা পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছানোর পাশাপাশি আহত শিশু ও রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
একইভাবে নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত দুর্গতদের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণের পাশাপাশি ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনে নগদ অর্থ ও নির্মাণসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়া সুদান সংকট ও গৃহযুদ্ধের ফলে সৃষ্ট তীব্র দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুচ্যুত পরিবার ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা পার্সেল বিতরণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে সংস্থাটি।
বৈশ্বিক অঙ্গনে এই মানবিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে কাজী রিয়াজ রহমান বাসস’কে বলেন, ‘যুদ্ধ ও সংঘাতের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা। গাজা থেকে শুরু করে সুদান কিংবা নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়া মানুষের করুণ চিত্র আমাদের ব্যথিত করে। দেশের মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতাকে পাথেয় করে আমরা বিশ্বের যেখানেই বিপন্ন মানুষ পাই, সেখানেই মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
টেকসই স্বাবলম্বিতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধা মুক্তি ও মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে সরকারের সহযোগী হিসেবে মাস্তুল ফাউন্ডেশন কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, জাকাত ও সাদকার শরিয়াহসম্মত ব্যবহারের মাধ্যমে দরিদ্র ও কর্মক্ষম মানুষকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। অসচ্ছল পরিবারগুলোর হাতে সেলাই মেশিন, উন্নত জাতের গাভী, ছাগল, হাঁস-মুরগি, রিকশা-ভ্যান এবং বীজ ও সার তুলে দিয়ে উপার্জনের স্থায়ী পথ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে বেকার তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে আইটি প্রশিক্ষণ, মোটর ড্রাইভিং ও কারিগরি শিক্ষা দিয়ে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে মাস্তুল প্রধান বলেন, ‘মাস্তুলের লক্ষ্য হলো সহায়তা পাওয়া একজন মানুষ যেন ভবিষ্যতে নিজের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি আরও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যোগ্য হয়ে ওঠে। মানুষের দেওয়া জাকাত, সাদকা ও দানের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই— যা জীবন পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করে।’
১৫ স্থানে ‘মেহমানখানা’ ও বিনামূল্যে খাবার
সংস্থাটি জানায়, দেশে একটি ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের নিয়মিত উদ্যোগ ‘মেহমানখানা’র মাধ্যমে রাজধানীর ১৫টি নির্ধারিত জনবহুল পয়েন্টে প্রতিদিন হাজারো অসহায়, পথচারী, দিনমজুর ও প্রবীণদের মাঝে বিনামূল্যে মানসম্মত রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। খাদ্য সহায়তার ক্ষেত্রে কোনো করুণা নয়, বরং গ্রহীতার আত্মমর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয় ফাউন্ডেশন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে ৩০ লাখ বৃক্ষরোপণ
মাস্তুল ফাউন্ডেশন জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সংস্থাটি দেশব্যাপী ৩০ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক ও উপকূলীয় অঞ্চল, উত্তরবঙ্গের খরাপ্রবণ এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এতিমখানা এবং মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক লাখ ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
আশ্রয়হীনদের জন্য প্রবীণ নিবাস ও শেষ বিদায়ের মর্যাদা
সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজধানীর হাজারীবাগের বারইখালিতে নিজস্ব ভবনে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আবাসিক মাদ্রাসা, স্কুল ও এতিমখানা পরিচালনা করছে মাস্তুল।
এছাড়া নিঃসঙ্গ প্রবীণদের জন্য একটি ১০ তলা বিশিষ্ট ‘ইসলামিক শেল্টারহোম কমপ্লেক্স’ নির্মাণাধীন রয়েছে—যেখানে আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম, চিকিৎসাকেন্দ্র ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে।
এর পাশাপাশি আর্সেনিকপ্রবণ ও সামুদ্রিক উপকূলীয় দুর্গম এলাকায় গভীর নলকূপ ও ওয়াটার ফিল্টারিং প্ল্যান্ট স্থাপন করে সুপেয় পানির সংস্থান করা হয়েছে। একইসাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমোদনে বেওয়ারিশ ও পরিচয়হীন মরদেহের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী গোসল, জানাজা ও দাফনকাজ পরিচালনা করছে সংস্থাটি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি আধুনিক গোসলখানা স্থাপনের উদ্যোগও এতে রয়েছে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
জানা যায়, মাস্তুল ফাউন্ডেশন তাদের সেবা কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সরকারের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কাঠামোতে যুক্ত করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠাতা কাজী রিয়াজ রহমানের নেতৃত্বে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সাবেক সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ, ডিরেক্টর হিসেবে মেজর জেনারেল (অব.) কাজী ইফতেখার-উল-আলম এবং চিফ পাবলিক রিলেশনস অফিসার হিসেবে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মানের অডিট ফার্মের মাধ্যমে আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা এবং শরিয়াহ বোর্ডের তদারকিতে জাকাত তহবিল পরিচালিত হয়।
কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, ‘একটি শিশুর নিরাপদ শৈশব ও শিক্ষার সুযোগ, একটি দরিদ্র পরিবারের স্থায়ী উপার্জন, একজন প্রবীণের নিরাপদ আশ্রয় কিংবা যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি পরিবারের মুখে খাবার পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল অঙ্গীকার। নতুন এই অধ্যায়ে দেশের মানুষের সহযোগিতাকে শক্তি করে বাংলাদেশে মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বিপন্ন মানুষের পাশে আমরা থাকতে চাই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পুনর্গঠন ঘোষণা করা হয়েছে। মো. নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক হিসেবে এবং আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এই নতুন কমিটিতে মোট ১৯৫ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দলের দপ্তর সেলের সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এনসিপির নতুন কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ। এছাড়াও, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে মো. সারজিস আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রয়েছেন।
পুনর্গঠিত কমিটিতে ১৫ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- অ্যাড. আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, ড. আতিক মুজাহিদ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, মাহবুব আলম, অ্যাড. মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন এবং মাওলানা আশরাফ মাহাদী।
অন্যদিকে, ৬ জনকে যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- আলাউদ্দীন মোহাম্মদ (আন্তর্জাতিক), এস. এম. সাইফ মুস্তাফিজ (কোষাধ্যক্ষ), মো. নিজাম উদ্দিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা, ফরিদুল হক এবং মো. আতাউল্লাহ।
কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পাশাপাশি, বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপির ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’-এর সদস্যদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কমিটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক, দিলশানা পারুল, প্রীতম দাশ, সামান্তা শারমিন, ইসহাক সরকার, তারেক এ আদেল এবং এ. কে. ফ্লোরাকে পর্ষদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাউখালী সাপ্তাহিক হাটে ফুটপাত ও মূল সড়ক দখলের মহোৎসব চলছে। ফলে, বাজারের দিনগুলোতে আসা হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের যাতায়াত মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।
কাউখালী বাজারে প্রতি শুক্রবার ও সোমবার সাপ্তাহিক হাট বসে। এই হাটে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাজাপুর, স্বরূপকাঠি ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ কেনাকাটা করতে আসেন।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য ড্রেনের ওপর ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছিল এবং মূল রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু চিরাপাড়া ব্রিজের ঢাল থেকে শুরু করে দক্ষিণ বাজার ও উত্তর বাজার পর্যন্ত রাস্তার পাশে ফুটপাত অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। ফুটপাতে দোকান বসানো ও মালামাল সাজিয়ে রাখার কারণে হেঁটে চলারও উপায় নেই। এর ফলে সাধারণ মানুষ গাড়ি চলাচলের পথে চলতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে গাড়ি চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
এছাড়া, মূল সড়কের ওপর চাকাযুক্ত ভ্যানগাড়িতে দোকান সাজিয়ে বসায় এবং ইজিবাইক/অটোরিকশার অতিরিক্ত চাপের কারণে বাজারে আসা মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
স্থানীয়রা জানান, পূর্বে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ফুটপাত দখলের বিষয়ে আলোচনা শেষে রেজুলেশনের মাধ্যমে ফুটপাত সর্বদা হকার ও দখলমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। প্রশাসন কর্তৃক মাইকিং ও সতর্কবার্তা দেওয়ার পর কিছুদিন ফুটপাত দখলমুক্ত ছিল। তবে সম্প্রতি দক্ষিণ বাজার থেকে উত্তর বাজার পর্যন্ত পুনরায় অধিকাংশ ফুটপাত ও রাস্তা দখলদারদের দখলে চলে গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম বলেন: "বাজারে সাধারণ মানুষের চলাচলের কোনো নিরাপত্তা নেই। বিশেষ করে নারী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা হাটের দিনগুলোতে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্বাভাবিক বাজার পরিচালনার জন্য প্রশাসনের দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। ভ্যানগাড়ির দোকান ও ফুটপাত মুক্ত করলে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।"
প্রশাসনের বক্তব্যে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান: "বাজারের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার বলেন: "আমি নতুন যোগদান করেছি এবং অভিযোগের বিষয়টি শুনলাম। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারের পরিবেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তিনি আরও আশ্বাস দেন যে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় পথচারী ও সচেতন মহল আশা করছেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই দ্রুত পদক্ষেপে কাউখালী বাজার দ্রুতই দখলমুক্ত হবে এবং ক্রেতা-সাধারণের স্বস্তি ফিরে আসবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মন্তব্য করেছেন যে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য শুধুমাত্র মশক নিধন কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়, বরং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিমন্ত্রী এই বক্তব্য দেন।
এ তথ্য বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ছাত্রদল, যুবদলসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠন, বিডি ক্লিন, স্কাউটস একত্রিত হয়ে কালাই পৌর এলাকাকে পরিচ্ছন্ন করার জন্য এই অভিযান পরিচালনা করছে।
জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর নির্দেশনায় ‘নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি’ এই মূলমন্ত্রে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশের লক্ষ্যে জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
ফেসবুক পেইজে জানানো হয়েছে, কালাই পৌরসভার টিএন্ডটি এলাকায় গতকাল বিডি ক্লিন ও স্কাউটস এর ৪০ জন সেচ্ছাসেবক এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে এবং পর্যায়ক্রমে পৌরসভার নয়টি স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো পরিষ্কার করা হয় এবং নাগরিকদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, কালাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ইব্রাহিম হোসেন ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক মৌদুদ আলম ও রফিকুল ইসলাম টুকু, কালাই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমান তালুকদার সোহেল, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীমসহ স্থানীয় নেতাকর্মী এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়া বিডি ক্লিন, স্কাউটস ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে রাতের টহল চলাকালে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম এবং পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানের চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি পুলিশের তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার) জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত (২৩ অক্টোবর) শেষ রাত সাড়ে ৩টার দিকে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে টঙ্গী-ঘোড়াশাল মহাসড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় নিয়মিত টহল ও ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্ব পালন করছিলেন এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। শেষ রাত সাড়ে ৩টার দিকে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে মহাসড়কের পাশে টহল গাড়ি থামিয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। এ সময় একটি অজ্ঞাতনামা কাভার্ড ভ্যানের চালক পুলিশ সদস্যদের এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে ধাক্কা দেন বলে পুলিশের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে রফিকুল ইসলাম, এসআই মিজানুর রহমান, পিএসআই জাবেদ ওমর এবং ড্রাইভার কনস্টেবল ফজলে রাব্বি আহত হন। পুলিশের প্রাথমিক বিবরণে আরও বলা হয়, ধাক্কায় এসআই মিজানুর রহমান কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে আটকে গেলে চালক তাঁকে টেনে আনুমানিক আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে দ্রুত ঘোড়াশালের দিকে চলে যান।
পরে স্থানীয় রিকশাচালক রকিবুল ও পথচারী ইমরুল কায়েস আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি কালিগঞ্জ ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।
গুরুতর আহত এসআই মিজানুর রহমান এবং পিএসআই জাবেদ ওমরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যদিকে ড্রাইভার কনস্টেবল ফজলে রাব্বিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৬টা ৪৭ মিনিটে এসআই মিজানুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
পিএসআই জাবেদ ওমর সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরপরই কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ও পরিদর্শক (তদন্ত) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে ঘটনার পরও কাভার্ড ভ্যান ও চালক শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ায় তাঁদের পরিচয় এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে এ ঘটনায় নিহত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের গভীর রাতে ওই স্থানে অবস্থানের বিষয়টি নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে মহাসড়কের পাশে তিনি কী কারণে সেখানে ছিলেন, কার সঙ্গে ছিলেন এবং পুলিশের টহল দলের কাছাকাছি কীভাবে উপস্থিত হলেন-এসব বিষয় নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি পরিষ্কার করতে ঘটনার আগে ও পরের পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
একই সঙ্গে পুলিশের দুই সদস্যের মৃত্যু এবং আরেক সদস্যের চিকিৎসাধীন থাকার ঘটনায় কাভার্ড ভ্যানের চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ