প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বনানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও চিত্রনায়িকা মেঘলা মুক্তা এখনও ন্যায়বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। দীর্ঘ সময় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা শারীরিক সুস্থতা অর্জন করলেও দুর্ঘটনার মামলা নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তিনি ও তার পরিবার। এ ঘটনার পুলিশি তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেত্রী।
এক সাক্ষাৎকারে মেঘলা মুক্তা জানিয়েছেন, গত ২৮ জুলাই বনানীতে দুর্ঘটনার পর তার চিকিৎসা ও শারীরিক সুস্থতা ছিল পরিবারের প্রধান চিন্তা। এ সময় তার বন্ধু ও সহকর্মী অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু, তার দাবি, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কর্মকর্তা তার বক্তব্য গ্রহণ করেননি। পরিবারের সদস্যরাও বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি।
অভিনেত্রীর অভিযোগ, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রথমে থানার কম্পিউটার ব্যবস্থায় অভিযোগ নিবন্ধিত ছিল না। পরে ১ সেপ্টেম্বর তার বাবা থানায় গিয়ে অভিযোগটি নিবন্ধন করান। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ি ও চালককে আটক করার কথা জানানো হয়। এত দিন পর কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মেঘলা মুক্তা। তার মতে, যদি শুরু থেকেই আন্তরিকভাবে তদন্ত করা হতো, তাহলে এত দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতো না।
মেঘলা আরও জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য তার বাবাকে নিয়মিত আদালতে যেতে হচ্ছে। অভিযুক্ত পক্ষ জামিনের আবেদন করায় সেটি ঠেকানোর চেষ্টা করতে হচ্ছে পরিবারকে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার কারণে তার শরীরে এখনো ক্ষত রয়েছে এবং পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও সময় লাগবে। এমন পরিস্থিতিতে বারবার আদালতে যাওয়া তার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার জন্য বনানী থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। যদি আরও কিছু প্রয়োজন হয়, তবে তা দিতেও তারা প্রস্তুত।
পুরো ঘটনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে মেঘলা মুক্তা বলেন, ন্যায়বিচার পেতে মানুষকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজের সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার বিষয়টিও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি চান, দুর্ঘটনার ঘটনাটি যথাযথভাবে তদন্ত করা হোক এবং প্রকৃত সত্য সামনে আসুক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন