ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দাফনের জন্য মাটি ‘না পেয়ে’ ভেলায় ভাসছে মরদেহ, ভিডিওটি ভাইরাল!


দাফনের জন্য মাটি ‘না পেয়ে’ ভেলায় ভাসছে মরদেহ, ভিডিওটি ভাইরাল!

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যার পানির মধ্যে ভেলায় একটি মরদেহ ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত ব্যক্তি হলেন কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফোরকান (ড্রাইভার)।

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন ব্যক্তি কলাগাছের তৈরি একটি অস্থায়ী ভেলায় সাদা কাফনে আবদ্ধ একটি মরদেহ বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, এবং সেটি বন্যাকবলিত এলাকায় দাফনের সংকটের চিত্র হিসেবে প্রচারিত হতে শুরু করে।

তবে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ভেলায় মরদেহ বহনের ঘটনাটি সত্য হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও বিকৃত।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

স্থানীয়দের কথায়, গত শুক্রবার ভোরে মোহাম্মদ ফোরকানের মৃত্যু ঘটে। তার স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর পর মরদেহ দাফন করার বিষয়টি তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বাড়ির চারপাশ এবং পুরো এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে যাওয়ায় কবরস্থানে মরদেহ নেওয়ার স্বাভাবিক কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

এদিকে, আশেপাশে দাফনের উপযোগী শুকনো জায়গাও পাওয়া যায়নি। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় কয়েকটি কলাগাছের মাধ্যমে একটি অস্থায়ী ভেলা তৈরি করা হয়। সেই ভেলায় মরদেহ কবরস্থানে নেওয়া হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন কার্যটি সম্পন্ন করা হয়।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি সত্য, তবে ভিডিওটি ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তি মাছ ধরতে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা যান। তখন সেখানে কোনো নৌকা ছিল না। তারা যে ভেলায় মাছ ধরছিলেন, সেই ভেলাতেই মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যান। পরে জানাজার পর স্বাভাবিক নিয়মে দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়।

ইউএনও আরও জানান, ভিডিওটি এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে যেন বন্যার কারণে মাটি না পেয়ে মরদেহ ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথবা প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা ছিল না। আসলে, এমন কিছু ঘটেনি। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "ভিউ ব্যবসা" বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি ফ্যাক্ট-চেক করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সকলকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচারের আগে যাচাই-বাছাই করে নেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, সাতকানিয়ায় বন্যাকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসন আরও তিনটি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ইউএনও জানান, বাজালিয়া ইউনিয়নে বন্যার পানির প্রবল স্রোতে একটি কবরস্থানের বেশ কয়েকটি কবর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সেখান থেকে স্থানান্তরিত হওয়া তিনটি মরদেহ স্থানীয়রা অন্য একটি নিরাপদ কবরস্থানে পুনরায় দাফন করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ উন্মাদনা: রাবি যেন একটি ফুটবল গ্যালারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


বিশ্বকাপ উন্মাদনা: রাবি যেন একটি ফুটবল গ্যালারী

২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ধীরে ধীরে একটি ছোট্ট ফুটবল নগরীতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তে এসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রিয় দলের জয়ধ্বনি, হাতে পতাকায় চঞ্চল ওড়াওড়ি আর ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজমান। সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে এক প্রচন্ড বিশ্বকাপ উন্মাদনা।

বিশ্বকাপের এই তুমুল উন্মাদনা শুধুমাত্র স্লোগানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। রোববার (১২ জুলাই) অনুষ্ঠিত শেষ আটের আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভিন্নতর এক উৎসবমুখর দৃশ্য দেখা গেছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা শুরুর পূর্বে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়ার মতো ভিড় ছিল যা সত্যিই চোখে পড়ার মতো ছিল। নীল-সাদা জার্সিতে, কপালে প্রিয় দলের পতাকা এবং তারুণ্যের অবিরাম উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে পুরো মাঠ যেন রূপ নিয়েছিল জীবন্ত এক ফুটবল গ্যালারিতে।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে একটি অপার্থিব আবহের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে যদিও দলভেদে সমর্থনের দিক থেকে বিভক্তি ছিল, কিন্তু আনন্দের ক্যানভাসে সবাই ছিলেন এক সুতোয় বাঁধা। বৃষ্টিস্নাত ভোরের আকাশ থেকে ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যেও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে সেই উন্মাদনার চিত্র। ভোরের আলো, সমর্থকদের উত্তাল ঢল এবং রঙিন সমর্থনে মুখর হয়ে ওঠা পুরো ক্যাম্পাস যেন কয়েক ঘণ্টার জন্য এক বিশাল ফুটবল উৎসবমঞ্চে পরিণত হয়েছিল।

খেলা দেখতে এসে আর্জেন্টিনা সমর্থক আব্দুল্লাহ আল মাহিম তার অনুভূতি প্রকাশ করে আরটিভিকে বলেন, "আজ প্রিয় দলের সমর্থনে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মাঠে এসে উপস্থিত হয়েছি। মেসিবাহিনী আমাদের হতাশ করেনি। আজ জয় নিয়েই আমরা ঘরে ফিরেছি। এবারও আমরা টানা চ্যাম্পিয়ন হবো।"

আর্জেন্টিনা সমর্থক এবং অন্যতম সংগঠক মো. সজিবুর রহমান আরটিভিকে বলেন, "বিশ্বকাপ এলেই ক্যাম্পাসে অন্যরকম একটা মায়াবী আবহ তৈরি হয়। আর্জেন্টিনা দল হিসেবে সবসময় চাপের মুহূর্তে সেরাটা ঢেলে দেয়। তাই আমরা শতভাগ আশাবাদী, এবারো দল কোটি ভক্তের প্রত্যাশা পূরণ করে শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখবে।"

শিক্ষার্থীদের এই আকাশচুম্বী চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখার রাজকীয় ব্যবস্থা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। রাতভর শত শত শিক্ষার্থী একত্রে shoulder to shoulder বসে প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করেন। প্রতিটি আক্রমণ এবং গোলের মুহূর্তে পুরো মাঠ গগনবিদারী উল্লাসে মেতে ওঠে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরচেনা পরিবহন চত্বরেও এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখানোর আয়োজন করেছে শাখা ছাত্রদল। ফলে ক্যাম্পাসের একাধিক প্রান্তে একসঙ্গে জমে উঠেছে বিশ্বকাপের জমজমাট আসর।

বিশ্বকাপের এই রঙিন উৎসব শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত ও একঘেয়ে একাডেমিক জীবনে এনে দিয়েছে ভিন্ন এক প্রাণচাঞ্চল্য। দল আলাদা হতে পারে, জার্সির রঙ ভিন্ন থাকতে পারে - কিন্তু ফুটবলকে ঘিরে রাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে অনাবিল আনন্দ এবং বন্ধুত্ব, তা সত্যিই অনন্য।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবশেষে সুন্দরবনে ফিরেছে সেই বাঘিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


অবশেষে সুন্দরবনে ফিরেছে সেই বাঘিনী

গুরুতর আহত ঐ রয়েল বেঙ্গল টাইগার (বাঘিনী), যা শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়েছিল, অবশেষে তার নিজস্ব নিবাস সুন্দরবনে ফিরে গেছে।

রোববার (১২ জুলাই) বেলা ১টা ৫ মিনিটে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বাঘটিকে সুন্দরবনে ছেড়ে দিয়েছেন।

বন বিভাগ জানায়, প্রাণীটি ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল এলাকার বনে শিকারিদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়ে। এরপর বাঘটিকে ট্রাংকুলাইজার এবং বন্দুকের মাধ্যমে অচেতন করে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফাঁদের রশিতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে সেখানে পচনও ধরেছিল।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, শিকারিদের রশির ফাঁদে আটকে পড়ার পর টানাটানিতে বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে তিন ইঞ্চি পরিমাণ চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সেখানে পচন ধরেছিল। কিন্তু পরে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের নিয়মিত চিকিৎসায় বাঘটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে তার স্বাভাবিক চেহারায় ফিরে এসেছে। তার ওজন বাড়েছে, পাশাপাশি বেড়েছে ক্ষিপ্রতাও। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় দেখা যায়, বর্তমানে স্ত্রী বাঘটি (বাঘিনী) শিকার ধরতে সক্ষম হয়েছে। বাঘটির বয়স ৯-১০ বছর হবে।

ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী আরও জানান, ২১ মে বাঘ গবেষক এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বন বিভাগ একটি ভার্চুয়াল সভা আয়োজন করে। সেই সভায় বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে জুলাই মাসে যেখান থেকে বাঘটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেই এলাকার বনেই অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা বৃষ্টিতে সুস্থ থাকতে ভুলেও যেসব ভুল করা উচিত নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ পি.এম


টানা বৃষ্টিতে সুস্থ থাকতে ভুলেও যেসব ভুল করা উচিত নয়

বর্ষার টানা বৃষ্টি প্রকৃতিকে যেমন সতেজ করে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। জলাবদ্ধতা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, মশার উপদ্রব, দূষিত পানি এবং সংক্রমণের কারণে এই সময়ে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে বর্ষাকালে নিজেকে এবং পরিবারকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখা সম্ভব।

বৃষ্টিতে ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব ভিজে কাপড় বদলে শুকনো কাপড় পরে নেওয়া উচিত। দীর্ঘ সময় ভেজা পোশাক পরে থাকলে সর্দি-কাশি, ত্বকের সংক্রমণ ও ছত্রাকজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

বর্ষাকালে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সবসময় ফুটানো অথবা বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। বাইরে থাকলে নিরাপদ বোতলজাত পানি ব্যবহার করাই ভালো। রাস্তার খোলা পানীয় অথবা বরফ দেওয়া শরবত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

খাবারের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এই সময়ে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই বাসি খাবারের পরিবর্তে গরম ও টাটকা খাবার খাওয়াই ভালো। ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে এবং রাস্তার খোলা খাবার খাওয়ার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণ থেকে বাঁচতে নিয়মিত সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। বাইরে থেকে ফিরে, খাবার খাওয়ার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর অবশ্যই হাত পরিষ্কার করতে হবে।

টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে মশা দ্রুত বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব কিংবা আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজন হলে মশারি, মশা প্রতিরোধক ক্রিম অথবা স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাইরে থেকে ফিরে পা ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নেওয়াও জরুরি। দীর্ঘ সময় ভেজা জুতা অথবা মোজা পরে থাকলে পায়ে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। প্রয়োজনে ছত্রাক প্রতিরোধে উপযোগী পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে।

বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধ এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কোথাও ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার থাকতে পারে। পানি জমে থাকা অবস্থায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। মৌসুমি ফল, শাকসবজি, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও হালকা ব্যায়ামের অভ্যাসও জরুরি।

বাইরে বের হলে ছাতা, বৃষ্টির পোশাক এবং একটি অতিরিক্ত শুকনো কাপড় বা তোয়ালে সঙ্গে রাখা ভালো। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ইলেকট্রনিক যন্ত্র জলরোধী ব্যাগে রাখলে ক্ষতির আশঙ্কাও কমে।

এদিকে জ্বর, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, তীব্র কাশি বা দীর্ঘ সময় অসুস্থতা অনুভব করলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বর্ষাকালে অনেক রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণ মনে হলেও পরে তা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সামান্য কিছু সতর্কতা, পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই টানা বৃষ্টির মধ্যেও আপনাকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান আমেরিকার বিরুদ্ধে যে নতুন যুদ্ধপ্রযুক্তি তৈরি করছে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


ইরান আমেরিকার বিরুদ্ধে যে নতুন যুদ্ধপ্রযুক্তি তৈরি করছে!

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত যখন নতুন মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। হামলার পালটা হামলায় মধ্যপ্রাচ্য হয়ে পড়েছে অস্থির। এ অবস্থায় ভবিষ্যতের প্রযুক্তির শক্তি গড়ে তুলতে ব্যস্ত রয়েছে ইরান। এমনভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে ক্ষুদে যোদ্ধাদের তৈরির। সেখানে শিক্ষার্থীরা তৈরি করেছে ছোট ছোট যুদ্ধ রোবট, যা মুখোমুখি লড়াইয়ে নামানো হচ্ছে। আর প্রতিযোগীরা এই রোবটগুলোকে দূর থেকে রিমোটের মাধ্যমে পরিচালনা করে প্রতিপক্ষের রোবটকে অচল করার চেষ্টা করছে। তবে এই প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা যদি কম মনে হয়, তাও বহু বিশ্লেষকদের মতে, এমন আয়োজন ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত দক্ষতা গড়ে তোলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এবং এই দক্ষতা ইরানের শিল্প, গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং কৌশলগত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম।

এই দৃশ্যটি ইরানের রাজধানী তেহরানে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত টেক অলিম্পিকের। দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রোবট যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন ও স্মার্ট ডিভাইস তৈরির প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। কারও হাতে রোবটের নকশা, কেউ তৈরি করছে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন, আবার কেউ কাজ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে। তবে বিশেষভাবে নজর কাড়ে রোবটের মুখোমুখি লড়াই। যেখানে শিক্ষার্থীদের তৈরি যুদ্ধধর্মী রোবটগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণ হয়ে যায়।

প্রতিযোগীরাও জানায়, রোবটের নকশার চেয়ে গতিশীলতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যিনি রোবটটি পরিচালনা করেন। কারণ আক্রমণের সময়, স্থান এবং পদ্ধতি সবিকিছু নির্ধারণ করেন অপারেটরই।

অপরদিকে, আরেকজন প্রতিযোগী জানান, প্রযুক্তি শেখার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো শিক্ষাসামগ্রীর অভাব। ফারসি ভাষায় প্রায় কোনো উপকরণই পাওয়া যায়নি। এমনকি ইংরেজিতে প্রয়োজনীয় তথ্যও ছিল খুব সীমিত। এ কারণে অনেক বিষয়েই নিজেদের গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা নিতে হয়েছে। পরে তারা তাদের ড্রোনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড্ডয়ন করানো, নির্ধারিত পথে উড়ে আবার নিরাপদে অবতরণ করার চ্যালেঞ্জেও সফলতার প্রমাণ দেন।

এদিকে, দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানের প্রযুক্তি খাতকে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি দাঁড় করালেও দেশটি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ড্রোন ও সাইবার প্রযুক্তিতে আঞ্চলিক শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে। সেই লক্ষ্য পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিযোগিতাকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পরীক্ষাগার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%