প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ধীরে ধীরে একটি ছোট্ট ফুটবল নগরীতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তে এসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রিয় দলের জয়ধ্বনি, হাতে পতাকায় চঞ্চল ওড়াওড়ি আর ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজমান। সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে এক প্রচন্ড বিশ্বকাপ উন্মাদনা।
বিশ্বকাপের এই তুমুল উন্মাদনা শুধুমাত্র স্লোগানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। রোববার (১২ জুলাই) অনুষ্ঠিত শেষ আটের আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভিন্নতর এক উৎসবমুখর দৃশ্য দেখা গেছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা শুরুর পূর্বে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়ার মতো ভিড় ছিল যা সত্যিই চোখে পড়ার মতো ছিল। নীল-সাদা জার্সিতে, কপালে প্রিয় দলের পতাকা এবং তারুণ্যের অবিরাম উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে পুরো মাঠ যেন রূপ নিয়েছিল জীবন্ত এক ফুটবল গ্যালারিতে।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে একটি অপার্থিব আবহের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে যদিও দলভেদে সমর্থনের দিক থেকে বিভক্তি ছিল, কিন্তু আনন্দের ক্যানভাসে সবাই ছিলেন এক সুতোয় বাঁধা। বৃষ্টিস্নাত ভোরের আকাশ থেকে ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যেও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে সেই উন্মাদনার চিত্র। ভোরের আলো, সমর্থকদের উত্তাল ঢল এবং রঙিন সমর্থনে মুখর হয়ে ওঠা পুরো ক্যাম্পাস যেন কয়েক ঘণ্টার জন্য এক বিশাল ফুটবল উৎসবমঞ্চে পরিণত হয়েছিল।
খেলা দেখতে এসে আর্জেন্টিনা সমর্থক আব্দুল্লাহ আল মাহিম তার অনুভূতি প্রকাশ করে আরটিভিকে বলেন, "আজ প্রিয় দলের সমর্থনে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মাঠে এসে উপস্থিত হয়েছি। মেসিবাহিনী আমাদের হতাশ করেনি। আজ জয় নিয়েই আমরা ঘরে ফিরেছি। এবারও আমরা টানা চ্যাম্পিয়ন হবো।"
আর্জেন্টিনা সমর্থক এবং অন্যতম সংগঠক মো. সজিবুর রহমান আরটিভিকে বলেন, "বিশ্বকাপ এলেই ক্যাম্পাসে অন্যরকম একটা মায়াবী আবহ তৈরি হয়। আর্জেন্টিনা দল হিসেবে সবসময় চাপের মুহূর্তে সেরাটা ঢেলে দেয়। তাই আমরা শতভাগ আশাবাদী, এবারো দল কোটি ভক্তের প্রত্যাশা পূরণ করে শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখবে।"
শিক্ষার্থীদের এই আকাশচুম্বী চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখার রাজকীয় ব্যবস্থা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। রাতভর শত শত শিক্ষার্থী একত্রে shoulder to shoulder বসে প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করেন। প্রতিটি আক্রমণ এবং গোলের মুহূর্তে পুরো মাঠ গগনবিদারী উল্লাসে মেতে ওঠে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরচেনা পরিবহন চত্বরেও এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখানোর আয়োজন করেছে শাখা ছাত্রদল। ফলে ক্যাম্পাসের একাধিক প্রান্তে একসঙ্গে জমে উঠেছে বিশ্বকাপের জমজমাট আসর।
বিশ্বকাপের এই রঙিন উৎসব শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত ও একঘেয়ে একাডেমিক জীবনে এনে দিয়েছে ভিন্ন এক প্রাণচাঞ্চল্য। দল আলাদা হতে পারে, জার্সির রঙ ভিন্ন থাকতে পারে - কিন্তু ফুটবলকে ঘিরে রাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে অনাবিল আনন্দ এবং বন্ধুত্ব, তা সত্যিই অনন্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন