০২:৫৫ পি.এম
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত যখন নতুন মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। হামলার পালটা হামলায় মধ্যপ্রাচ্য হয়ে পড়েছে অস্থির। এ অবস্থায় ভবিষ্যতের প্রযুক্তির শক্তি গড়ে তুলতে ব্যস্ত রয়েছে ইরান। এমনভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে ক্ষুদে যোদ্ধাদের তৈরির। সেখানে শিক্ষার্থীরা তৈরি করেছে ছোট ছোট যুদ্ধ রোবট, যা মুখোমুখি লড়াইয়ে নামানো হচ্ছে। আর প্রতিযোগীরা এই রোবটগুলোকে দূর থেকে রিমোটের মাধ্যমে পরিচালনা করে প্রতিপক্ষের রোবটকে অচল করার চেষ্টা করছে। তবে এই প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা যদি কম মনে হয়, তাও বহু বিশ্লেষকদের মতে, এমন আয়োজন ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত দক্ষতা গড়ে তোলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এবং এই দক্ষতা ইরানের শিল্প, গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং কৌশলগত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম।
এই দৃশ্যটি ইরানের রাজধানী তেহরানে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত টেক অলিম্পিকের। দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রোবট যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন ও স্মার্ট ডিভাইস তৈরির প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। কারও হাতে রোবটের নকশা, কেউ তৈরি করছে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন, আবার কেউ কাজ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে। তবে বিশেষভাবে নজর কাড়ে রোবটের মুখোমুখি লড়াই। যেখানে শিক্ষার্থীদের তৈরি যুদ্ধধর্মী রোবটগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণ হয়ে যায়।
প্রতিযোগীরাও জানায়, রোবটের নকশার চেয়ে গতিশীলতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যিনি রোবটটি পরিচালনা করেন। কারণ আক্রমণের সময়, স্থান এবং পদ্ধতি সবিকিছু নির্ধারণ করেন অপারেটরই।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
অপরদিকে, আরেকজন প্রতিযোগী জানান, প্রযুক্তি শেখার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো শিক্ষাসামগ্রীর অভাব। ফারসি ভাষায় প্রায় কোনো উপকরণই পাওয়া যায়নি। এমনকি ইংরেজিতে প্রয়োজনীয় তথ্যও ছিল খুব সীমিত। এ কারণে অনেক বিষয়েই নিজেদের গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা নিতে হয়েছে। পরে তারা তাদের ড্রোনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড্ডয়ন করানো, নির্ধারিত পথে উড়ে আবার নিরাপদে অবতরণ করার চ্যালেঞ্জেও সফলতার প্রমাণ দেন।
এদিকে, দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানের প্রযুক্তি খাতকে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি দাঁড় করালেও দেশটি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ড্রোন ও সাইবার প্রযুক্তিতে আঞ্চলিক শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে। সেই লক্ষ্য পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিযোগিতাকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পরীক্ষাগার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন