সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৩ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সুখী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থান দখল করেছে হাওয়াই, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে, পশ্চিম ভার্জিনিয়া তালিকার নিচের দিকে অবস্থান করছে, যেখানে জীবনযাত্রার মান ও বিভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচকে পিছিয়ে পড়েছে। এই তথ্যটি মার্কিন গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান 'ওয়ালেটহাব'-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।
প্রতিবেদনটি ৩০টি ভিন্ন সূচকের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা, কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক-পরিবেশগত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে। ওয়ালেটহাবের মতে, ৬৫ দশমিক ৫০ স্কোর নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে হাওয়াই। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মেরিল্যান্ড, যার স্কোর ৬৪ দশমিক ১৩, তৃতীয় স্থানে নেব্রাস্কা ৬৩ দশমিক ৬১ স্কোর নিয়ে, চতুর্থ স্থানে নিউ জার্সি ৬৩ দশমিক ৪২ স্কোর নিয়ে এবং পঞ্চম স্থানে কানেকটিকাট ৬২ দশমিক ৫৩ স্কোর নিয়ে অবস্থান করছে।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে যে, হাওয়াইয়ের শীর্ষস্থান অর্জনের পেছনে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন নিয়ে উচ্চমাত্রার সন্তুষ্টি, বিষণ্নতার নিম্নহার এবং দীর্ঘ গড় আয়ু বড় ভূমিকা পালন করেছে। অঞ্চলটির প্রায় ৮৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো বলে জানিয়েছেন। এছাড়া, ২ দশমিক ৪ শতাংশের কম বেকারত্ব এবং উঁচুমাত্রার বার্ষিক পরিবারিক আয় রাজ্যটির অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
মেরিল্যান্ড, যা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্পর্কের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে। এই অঙ্গরাজ্যটিতে আত্মহত্যার হার দেশের পঞ্চম সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, তৃতীয় স্থানে থাকা নেব্রাস্কায় বেকারত্বের হার মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সেখানে দাম্পত্য বিচ্ছেদের হার দেশের মধ্যে ষষ্ঠ সর্বনিম্ন। নিউ জার্সি সামগ্রিক বিচারে চতুর্থ হলেও মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার পৃথক সূচকে এবং বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার সর্বনিম্ন হারে দেশজুড়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে।
সূচক বিশ্লেষণে পরবর্তী স্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে উটাহ, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ার, ম্যাসাচুসেটস ও আইডাহো। এর মধ্যে কর্মপরিবেশ এবং পরিবেশগত সূচকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে উটাহ।
তালিকার অপরপ্রান্তে, অর্থাৎ ৫০তম স্থানে অবস্থান করছে পশ্চিম ভার্জিনিয়া, যার সামগ্রিক স্কোর মাত্র ৩২ দশমিক ০৪। তলানির দিকে থাকা অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে ৪৯তম স্থানে রয়েছে লুইজিয়ানা এবং ৪৮তম স্থানে রয়েছে আরকানসাস।
ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো জানান, "আর্থিক স্বচ্ছলতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও কেবল টাকাপয়সা সুখ নিশ্চিত করতে পারে না।" তিনি আরো বলেন, "অর্থের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য, উপযুক্ত কর্ম পরিবেশ এবং সামাজিক ও পারিবারিক সুসম্পর্ক মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।" এই তালিকা মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরো, শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো, সিডিসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য ডেটা বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযানের নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪০ ভরি সোনা আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি হলেন মামলার বাদী ব্যবসায়ী নিঝুমের দুলাভাই, যিনি সদর উপজেলার চকআলমপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী। ইতোমধ্যে মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ২০ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সোনা উদ্ধারের জন্য অভিযান চলছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের গ্রেপ্তার করা হয় গত শনিবার গভীর রাতে সদর থানায় মামলা হওয়ার পর।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর সোনা ব্যবসায়ী নিঝুমের ভাইয়ের জুয়েলার্সের দোকান থেকে অর্ডার অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে সোনা পাঠানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৪০ ভরি গলিত সোনা একটি চালান চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাঠানো হলে সেটি নিয়ে আসেন নিঝুমের দুলাভাই মোহাম্মদ আলী।
গত ৮ আগস্ট সদর উপজেলার কালীনগর ব্রিজের পাশে এক ব্যবসায়ীর কাছে সোনা চালানটি পৌঁছে দেওয়ার পরপরই সেখানে কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুজন উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তারা ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪০ ভরি সোনা নিয়ে চলে যান।
নিঝুমের অভিযোগ, মোহাম্মদ আলী, তার ছেলে নয়ন এবং কনস্টেবল জাকির মিলে সোনাগুলো ভাগ-বাটোয়ারা করেন। ঘটনার পর কনস্টেবল জাকির এক মাসের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে অফিসার্স মেসে যোগ দেন তিনি। পরে সোনা আত্মসাতের অভিযোগ জানাজানি হলে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
ঘটনাটি অনুসন্ধানের জন্য জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। এর মধ্যে শনিবার রাতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিঝুম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় আরও দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং একজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর রাতেই কনস্টেবল জাকির হোসেন ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ২০ ভরি সোনা উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ আলী তার কাছে থাকা সোনা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন এবং বাকি সোনা কনস্টেবল জাকির হোসেনের কাছে থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে জাকির হোসেন এখন পর্যন্ত অভিযোগের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সোনা পরিমাণ সাড়ে ২০ ভরি। বাকি সোনা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলকে একই পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট নির্মাণের জন্য ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
‘ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫): সাউদার্ন রুট’ শীর্ষক প্রকল্পটি বর্তমানে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) একনেকের তৃতীয় সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেকের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রকল্প পরিকল্পনার আওতায়, নতুন মেট্রোরেল করিডোরটি ঢাকার গাবতলী থেকে শুরু হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। মাঝপথে ট্রেনটি টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাব নগর, আফতাব নগর সেন্টার, আফতাব নগর ইস্ট ও নাসিরাবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টকে যুক্ত করবে। এই লাইনটি ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিমমুখী যাতায়াতকে সহজ করবে এবং এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন) এবং এমআরটি লাইন-১-এর সঙ্গে সরাসরি ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা নিশ্চিত করবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিলের অংশ হিসেবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা যোগাবে এবং বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ থেকে সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে আসবে।
প্রকল্পটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, সাউদার্ন রুটের প্রাথমিক সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকে সবচেয়ে লাভজনক হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা কয়েক দফায় ব্যয় ও নকশা পর্যালোচনার পর নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই লাইনটি চালু হলে রাজধানীর ওপর অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ কমবে এবং ঢাকার দুই প্রান্তের যাত্রীরা দ্রুত ও সুশৃঙ্খল যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জে পারিবারিক কলহের কারণে ঘুমন্ত স্ত্রীর শ্বাসরোধে হত্যার পর ফজরের নামাজ আদায় করে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অভিযানে নেমে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
গ্রেপ্তার হওয়া সুমন সরকার (৪০) গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামের বাছেদ সরকারের পুত্র। পেশায় তিনি একজন রংমিস্ত্রি। তার স্ত্রী রিনা বেগম (৩২) টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের ইব্রাহিমের কন্যা। তাদের বিয়ের বয়স ১৭ বছর।
পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম জানান, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে সুমন বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর কাছে খাবার চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সুমন তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলেন। পরে রাত ১০টার দিকে রিনা তার মেয়েকে নিয়ে একটি কক্ষে এবং সুমন পাশের কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত ১টার দিকে সুমন স্ত্রীর কক্ষে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় রিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর সুমন বাড়িতে অবস্থান করেন এবং পরে স্থানীয় মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সুমন কুমিল্লার বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনা থানা এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। গজারিয়া থানা-পুলিশের একটি দল তার অবস্থান শনাক্ত করে নজরদারি চালায়। পরে ঢাকার দিকে রওনা হলে টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকা থেকে শনিবার ভোর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ ঘটত। এর আগে স্ত্রীকে একাধিকবার মারধরও করেছিলেন তিনি।
মেনহাজুল আলম বলেন, এ ঘটনায় রিনার ভাই সাফায়েত হোসেন রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সুমন সরকারসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সুমন সরকারকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে অংশগ্রহণের সময় ইতালিতে হামলার শিকার হওয়ার পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন তার সিনেমার টিমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, হামলার পর ভেনিসে অবস্থানরত সিনেমার টিমের সদস্যরা তাকে একপ্রকার বর্জন করেন এবং উৎসবের বাকি কার্যক্রমে তাদের সঙ্গে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাঁধন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালির মেস্ত্রে শহরে যাওয়ার সময় বাঁধনকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। তার অভিযোগ, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মীদের হাতে তিনি হামলার শিকার হন। এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
দেশে ফিরে বাঁধন বলেন, “আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজওন করেছে। ফেস্টিভ্যালের বাকি দিনগুলোতে তাদের সঙ্গে অংশ নিতে নিষেধ করেছে। এমনকি পরবর্তীতে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা আমাকে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।”
তবে এই কঠিন সময়ে সিনেমার সহকর্মীদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা তাকে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান অভিনেত্রী।
হামলার পর ইতালি ও বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথাও জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ঘটনার রাতেই সরকারি দপ্তর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডরও তাকে ব্যাপক সহযোগিতা করেছেন।
বাঁধনের ভাষ্য, ইতালি সরকারের কালচারাল মিনিস্টার, আন্ডার সেক্রেটারি এবং পুলিশ বিভাগ তাকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক তাকে লিডোতেই থাকার ব্যবস্থা করে দেন।
দেশবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাঁধন বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।” রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য ভুলে দেশ ও প্রবাসের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন তিনি কখনো ভুলবেন না বলেও জানান।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেন অভিনেত্রী। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচিত হয়। সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ঘটনাটিকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে অভিহিত করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ