সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৪ পি.এম
ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে অংশগ্রহণের সময় ইতালিতে হামলার শিকার হওয়ার পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন তার সিনেমার টিমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, হামলার পর ভেনিসে অবস্থানরত সিনেমার টিমের সদস্যরা তাকে একপ্রকার বর্জন করেন এবং উৎসবের বাকি কার্যক্রমে তাদের সঙ্গে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাঁধন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালির মেস্ত্রে শহরে যাওয়ার সময় বাঁধনকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। তার অভিযোগ, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মীদের হাতে তিনি হামলার শিকার হন। এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
দেশে ফিরে বাঁধন বলেন, “আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজওন করেছে। ফেস্টিভ্যালের বাকি দিনগুলোতে তাদের সঙ্গে অংশ নিতে নিষেধ করেছে। এমনকি পরবর্তীতে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা আমাকে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।”
তবে এই কঠিন সময়ে সিনেমার সহকর্মীদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা তাকে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান অভিনেত্রী।
হামলার পর ইতালি ও বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথাও জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ঘটনার রাতেই সরকারি দপ্তর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডরও তাকে ব্যাপক সহযোগিতা করেছেন।
বাঁধনের ভাষ্য, ইতালি সরকারের কালচারাল মিনিস্টার, আন্ডার সেক্রেটারি এবং পুলিশ বিভাগ তাকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক তাকে লিডোতেই থাকার ব্যবস্থা করে দেন।
দেশবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাঁধন বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।” রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য ভুলে দেশ ও প্রবাসের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন তিনি কখনো ভুলবেন না বলেও জানান।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেন অভিনেত্রী। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচিত হয়। সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ঘটনাটিকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে অভিহিত করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত আইন নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অমিত শাহ মন্তব্য করেন, কয়েকটি রাজ্যে ইতোমধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ২০২৯ সালের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট শাসিত ২১টি রাজ্যে এই আইন কার্যকর হবে।
ভারতে ফৌজদারি আইন সবার জন্য অভিন্ন হলেও বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারের মতো ব্যক্তিগত বিষয়গুলো দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব আইন ও রীতিনীতির আওতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব ব্যক্তিগত আইনকে এক আইনের আওতায় আনার উদ্দেশ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি সরকার।
এখন পর্যন্ত ভারতের অন্তত চারটি রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর করা হয়েছে। তবে আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশ মনে করছে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তাদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত আইন পালনের অধিকারকে সীমিত করতে পারে।
অন্যদিকে ইউসিসির সমর্থকদের দাবি, এই আইন বহুবিবাহের সুযোগ বন্ধ করবে, নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পত্তির অধিকারে সমতা নিশ্চিত করবে এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারীদের আইনি সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে প্রায় ২২ কোটি মুসলিমের বসবাস রয়েছে। জনসংখ্যার দিক থেকে দেশটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল। তাই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম শাহীনুজ্জামান শাহীনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি একটি অপহরণ মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ডিসি জানান, এস এম শাহীনুজ্জামান শাহীনকে রোববার রাতে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।
ডিসি বলেন, শাহীনুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি অপহরণ মামলা রয়েছে। অপহরণের ঘটনাটি উত্তরা ক্লাবের পাশে ঘটে এবং মামলাটিতে তিনি চার্জশিটভুক্ত আসামি।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে ‘কাঁচি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা ছিল শাহীনুজামানের। তিনি জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
এই মামলার বিষয়ে শাহীনুজ্জামান জানতেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, শাহীন উত্তরায় ব্যবসা করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে—এ বিষয়ে তিনি নিজে জানতেন না।
শাহীনুজ্জামানের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে ডিসি তারেক আহমেদ বলেন, তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে বিমানের ভেতর এক নারী যাত্রীর বিরুদ্ধে পোশাক খুলে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটেছে। বিমানটি মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর ওই নারীকে আটক করে পুলিশ।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৭৭৯ বাল্টিমোর বিমানবন্দর থেকে মায়ামির উদ্দেশে রওনা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে যাত্রা শুরু করা বিমানটি মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় ৯ নম্বর সারির এক নারী যাত্রীর আচরণ নিয়ে ককপিটে খবর দেন কেবিন ক্রুরা।
এয়ারলাইভের তথ্য অনুযায়ী, ৯-ডি আসনে বসা ওই যাত্রী নিজের পোশাক খুলে ফেলেন এবং সহযাত্রীদের সামনে আপত্তিকর আচরণ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় বিমানের প্রধান অ্যাটেনডেন্ট বিষয়টি এয়ারলাইন্সের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও মায়ামি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানান।
এছাড়াও, বিমান অবতরণের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিত রাখার অনুরোধ করা হয়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্লাইটটি মাঝপথে জরুরি অবতরণ না করে নির্ধারিত গন্তব্য মায়ামি বিমানবন্দরেই যায়।
বিমানটি গেটে পৌঁছানোর পরপরই পুলিশ সেখানে প্রবেশ করে অভিযুক্ত নারী যাত্রীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে ফ্লাইট চলাকালে কেবিন ক্রুরা ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে বিভিন্ন কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। ভিসা বাতিলের ফলে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত এসব ভিসা বাতিল করছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য দেশটির সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি জানতে পেরেছেন, ভিসা বাতিলের সংখ্যা বর্তমানে ৪ হাজার ৮০০-তে উন্নীত হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আলোকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথমে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন এসব ভিসা বাতিল করা হচ্ছে এবং বিষয়টি এভাবে হওয়া উচিত নয়। যাদের ভিসা বাতিল হয়েছে, তাদের পুনরায় যাচাই-বাছাই করার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসীরা জানান, জুলাই মাস থেকে অনেকের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। কারও ই-মেইলে, কারও মোবাইলে আবার সংশ্লিষ্ট কফিলের কাছে এ-সংক্রান্ত বার্তা যাচ্ছে। অনেকেই ছুটিতে দেশে এসে ভিসা বাতিলের খবর পেয়ে আমিরাতে ফিরতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই জানান, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত অভিযোগ নেই। তারা আমিরাতে ব্যবসা ও পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। কিন্তু হঠাৎ ভিসা বাতিল হওয়ায় দেশে ফিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। আমিরাতে ফিরতে না পারলে ব্যবসা ও জীবিকা—সবকিছু হারানোর আশঙ্কা করছেন।
এ পরিস্থিতিতে ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের ঘটনায় দেশটির শ্রমবাজার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট নিরসনে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা জরুরি।
এ বিষয়ে সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস শেকিল চৌধুরী মনে করেন, এই পরিস্থিতির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির সম্পর্ক থাকতে পারে। তিনি আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশিদের যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
এদিকে যেসব প্রবাসীর ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হচ্ছে, তাদের দূতাবাসের নির্ধারিত ইমেইলে তথ্য জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ