সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৪ পি.এম
মুন্সীগঞ্জে পারিবারিক কলহের কারণে ঘুমন্ত স্ত্রীর শ্বাসরোধে হত্যার পর ফজরের নামাজ আদায় করে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অভিযানে নেমে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
গ্রেপ্তার হওয়া সুমন সরকার (৪০) গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামের বাছেদ সরকারের পুত্র। পেশায় তিনি একজন রংমিস্ত্রি। তার স্ত্রী রিনা বেগম (৩২) টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের ইব্রাহিমের কন্যা। তাদের বিয়ের বয়স ১৭ বছর।
পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম জানান, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে সুমন বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর কাছে খাবার চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সুমন তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলেন। পরে রাত ১০টার দিকে রিনা তার মেয়েকে নিয়ে একটি কক্ষে এবং সুমন পাশের কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত ১টার দিকে সুমন স্ত্রীর কক্ষে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় রিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর সুমন বাড়িতে অবস্থান করেন এবং পরে স্থানীয় মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সুমন কুমিল্লার বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনা থানা এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। গজারিয়া থানা-পুলিশের একটি দল তার অবস্থান শনাক্ত করে নজরদারি চালায়। পরে ঢাকার দিকে রওনা হলে টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকা থেকে শনিবার ভোর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ ঘটত। এর আগে স্ত্রীকে একাধিকবার মারধরও করেছিলেন তিনি।
মেনহাজুল আলম বলেন, এ ঘটনায় রিনার ভাই সাফায়েত হোসেন রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সুমন সরকারসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সুমন সরকারকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে অংশগ্রহণের সময় ইতালিতে হামলার শিকার হওয়ার পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন তার সিনেমার টিমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, হামলার পর ভেনিসে অবস্থানরত সিনেমার টিমের সদস্যরা তাকে একপ্রকার বর্জন করেন এবং উৎসবের বাকি কার্যক্রমে তাদের সঙ্গে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাঁধন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালির মেস্ত্রে শহরে যাওয়ার সময় বাঁধনকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। তার অভিযোগ, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মীদের হাতে তিনি হামলার শিকার হন। এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
দেশে ফিরে বাঁধন বলেন, “আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজওন করেছে। ফেস্টিভ্যালের বাকি দিনগুলোতে তাদের সঙ্গে অংশ নিতে নিষেধ করেছে। এমনকি পরবর্তীতে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা আমাকে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।”
তবে এই কঠিন সময়ে সিনেমার সহকর্মীদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা তাকে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান অভিনেত্রী।
হামলার পর ইতালি ও বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথাও জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ঘটনার রাতেই সরকারি দপ্তর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডরও তাকে ব্যাপক সহযোগিতা করেছেন।
বাঁধনের ভাষ্য, ইতালি সরকারের কালচারাল মিনিস্টার, আন্ডার সেক্রেটারি এবং পুলিশ বিভাগ তাকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক তাকে লিডোতেই থাকার ব্যবস্থা করে দেন।
দেশবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাঁধন বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।” রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য ভুলে দেশ ও প্রবাসের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন তিনি কখনো ভুলবেন না বলেও জানান।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেন অভিনেত্রী। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচিত হয়। সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ঘটনাটিকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে অভিহিত করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত আইন নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অমিত শাহ মন্তব্য করেন, কয়েকটি রাজ্যে ইতোমধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ২০২৯ সালের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট শাসিত ২১টি রাজ্যে এই আইন কার্যকর হবে।
ভারতে ফৌজদারি আইন সবার জন্য অভিন্ন হলেও বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারের মতো ব্যক্তিগত বিষয়গুলো দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব আইন ও রীতিনীতির আওতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব ব্যক্তিগত আইনকে এক আইনের আওতায় আনার উদ্দেশ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি সরকার।
এখন পর্যন্ত ভারতের অন্তত চারটি রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর করা হয়েছে। তবে আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশ মনে করছে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তাদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত আইন পালনের অধিকারকে সীমিত করতে পারে।
অন্যদিকে ইউসিসির সমর্থকদের দাবি, এই আইন বহুবিবাহের সুযোগ বন্ধ করবে, নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পত্তির অধিকারে সমতা নিশ্চিত করবে এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারীদের আইনি সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে প্রায় ২২ কোটি মুসলিমের বসবাস রয়েছে। জনসংখ্যার দিক থেকে দেশটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল। তাই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম শাহীনুজ্জামান শাহীনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি একটি অপহরণ মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ডিসি জানান, এস এম শাহীনুজ্জামান শাহীনকে রোববার রাতে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।
ডিসি বলেন, শাহীনুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি অপহরণ মামলা রয়েছে। অপহরণের ঘটনাটি উত্তরা ক্লাবের পাশে ঘটে এবং মামলাটিতে তিনি চার্জশিটভুক্ত আসামি।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে ‘কাঁচি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা ছিল শাহীনুজামানের। তিনি জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
এই মামলার বিষয়ে শাহীনুজ্জামান জানতেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, শাহীন উত্তরায় ব্যবসা করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে—এ বিষয়ে তিনি নিজে জানতেন না।
শাহীনুজ্জামানের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে ডিসি তারেক আহমেদ বলেন, তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে বিমানের ভেতর এক নারী যাত্রীর বিরুদ্ধে পোশাক খুলে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটেছে। বিমানটি মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর ওই নারীকে আটক করে পুলিশ।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৭৭৯ বাল্টিমোর বিমানবন্দর থেকে মায়ামির উদ্দেশে রওনা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে যাত্রা শুরু করা বিমানটি মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় ৯ নম্বর সারির এক নারী যাত্রীর আচরণ নিয়ে ককপিটে খবর দেন কেবিন ক্রুরা।
এয়ারলাইভের তথ্য অনুযায়ী, ৯-ডি আসনে বসা ওই যাত্রী নিজের পোশাক খুলে ফেলেন এবং সহযাত্রীদের সামনে আপত্তিকর আচরণ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় বিমানের প্রধান অ্যাটেনডেন্ট বিষয়টি এয়ারলাইন্সের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও মায়ামি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানান।
এছাড়াও, বিমান অবতরণের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিত রাখার অনুরোধ করা হয়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্লাইটটি মাঝপথে জরুরি অবতরণ না করে নির্ধারিত গন্তব্য মায়ামি বিমানবন্দরেই যায়।
বিমানটি গেটে পৌঁছানোর পরপরই পুলিশ সেখানে প্রবেশ করে অভিযুক্ত নারী যাত্রীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে ফ্লাইট চলাকালে কেবিন ক্রুরা ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ