বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:৩৯ পি.এম
খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। টানা বৃষ্টি এবং উজানের ঢলের ফলে জেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের যোগাযোগ এখনও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানায় যে, খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙামাটি এবং মহালছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে, এছাড়াও দীঘিনালার সঙ্গে সাজেক-লংগদু উপজেলার সড়ক যোগাযোগও এখনো বাধাগ্রস্ত রয়েছে।
এদিকে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রাখার কারণে চেঙ্গী ও মাইনি নদীর পানির স্তর আবারও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। খাগড়াছড়ি সদর এবং দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু গ্রামে এখনো জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। অনেক পরিবার নিরাপত্তার জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। তাদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
জেলায় এখনো খারাপ আবহাওয়া বিরাজ করছে। এরই মধ্যে খাগড়াছড়ির শালবন, সবুজবাগ, কুমিল্লা টিলাসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোথাও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, খাগড়াছড়িতে মোট ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনের অনুযায়ী এসব কেন্দ্রে দুর্গত মানুষদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নাটোর জেলার সিংড়া এলাকায় বজ্রপাতে ইসমাইল হোসেন (৩৬) নামের এক কৃষকের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই মৃত্যু বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টায় ঘটে, যখন কৃষকটি তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী বিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। নিহত কৃষক উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের মুন্সি বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে বলেই জানা যাচ্ছে।
পুলিশ এবং স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে জানা যায়, নিহত ইসমাইল হোসেন সকাল ৬ টায় মাছ ধরার জন্য বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাঠের দিকে যান। সে সময় সেখানে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল এবং বজ্রের বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এই বজ্রপাতে কৃষকটির মৃত্যু ঘটে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। পরে স্থানীয় সিদ্দিক নামের এক প্রতিবেশী কৃষক মাছ ধরতে গিয়ে ইসমাইলকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেছেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বজ্রপাতে ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে মৃতদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গাজা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আল জাজিরা ও লিবার্টি ইনভেস্টিগেটসের যৌথ অনুসন্ধান অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিরক্ষা শিল্প ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট অস্ত্র কোম্পানির সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার জন্য ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
প্রতিবেদন উল্লেখ করছে যে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ১৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে অন্তত ২৩৬ জন শিক্ষার্থী ও কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ অন্তত ২৬টি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা তদন্ত করা হয়েছে কিংস কলেজ লন্ডনে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ও এই তালিকায় রয়েছে।
অনুসন্ধানে একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ১৮ বছর বয়সী এক মুসলিম ছাত্রী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাঁর লেকচারারের অতীত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকার তথ্য শেয়ার করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনবিষয়ক পোস্ট শেয়ার করেন। তাই তাঁকে সাময়িকভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং দুই হাজার শব্দের একটি অনুতাপমূলক প্রবন্ধ লিখতে বলা হয়। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তাঁকে ব্রিটিশ সরকারের ‘প্রিভেন্ট’ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদন আরও জানায়, ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণের জন্য কিংস কলেজসহ যুক্তরাজ্যের অন্তত এক ডজন বিশ্ববিদ্যালয় একটি বেসরকারি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য ১৩ জন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিক সতর্কতা প্রদান করা হয়। মিশরীয় শিক্ষার্থী উসামা ঘানেমকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাঁর শিক্ষার্থী ভিসাও বাতিল হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কিংস কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রতিরক্ষা শিল্প ও অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে আর্থিক সম্পর্ক বিদ্যমান। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রায় ২০ মিলিয়ন পাউন্ড এমন সব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে, যেগুলো গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া ২০২০ সাল থেকে বিএই সিস্টেমস, থেলস এবং রোলস রয়েসের মতো প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অন্তত ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন পাউন্ড গবেষণা তহবিল পেয়েছে কিংস কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সমিতির স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক জিনা রোমেরো কিংস কলেজের এই আচরণকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাহাড়ে বৃষ্টি থামছে না। কখনো ভারি, কখনো মাঝারি, আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অফিস গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে, রাঙামাটির ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৮০০ এর বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলাবাসি পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় ধসে এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে। এখনও তার নাম পরিচয় জানা যায়নি। এছাড়া, রাঙামাটি সদর এলাকার মগবানে ইউনিয়নে বানের পানিতে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে দলমনি চাকমা নামের এক ব্যক্তির।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচদিনের টানা ভারি বৃষ্টিতে ব্যাপক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটিতে। পাহাড় ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, কাপ্তাই-আসামবস্তি, রাজস্থলী-বাঙ্গালহালিয়া, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি দীঘিনালা ও সাজেক সড়ক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া রাঙামাটি শহরের উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন আভ্যন্তরীণ সড়ক ভেঙে গেছে। রাঙাপানি ভেদভেদী সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, রাঙামাটিতে ১৬টি স্থানে পাহাড় ধসের ফলে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আপাতত মাটি সরিয়ে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা চলছে। তবে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে যানচালাচল বন্ধ হয়ে রাঙামাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
এদিকে, পাহাড় ধসে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিলাইছড়িতে ৩৭টি স্থানে। কাউখালী উপজেলার বেশ কিছু মানুষের ঘর ভেঙে গেছে। নিন্মাঞ্চলে প্লাবিত হয়ে রাঙামাটি তিনটি উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, রাঙামাটির ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৮০০ এর বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে এবং তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া, ১০৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কাচালং নদীতে পানি বৃদ্ধি এবং দীঘিনালায় সড়কে পাহাড় ধসের কারণে পর্যটকদের সাজেকে অবস্থান করতে নিষেধ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। মাঠে কাজ করছে পুলিশ, সেনাবাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং স্বেচ্ছাসেবক দলগুলো।
এদিকে, গত বুধবার রাতে রাঙামাটিতে হঠাৎ সফর করেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দীন। তিনি রাঙামাটির বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১৩০০ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের পরবর্তীতে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।
এছাড়া, রাঙামাটির বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনিও আশ্রয় কেন্দ্রের মানুষদের খাবার বিতরণ করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির মানিকছড়িস্থ সাপছড়ি এলাকায় ঘটে যাওয়া আকস্মিক পাহাড় ধসের কারণে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে সম্পূর্ণরূপে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ছাত্রদল সেই রাস্তা পরিষ্কার করেছে।
টানা বর্ষণের ফলে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সাপছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে রাস্তার ওপর পড়ে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা কোদাল দিয়ে রাস্তা থেকে পাহাড় ধসে পড়া মাটি পরিষ্কারের কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ে রাস্তার মাটি সরিয়ে যান চলাচল আবারও স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।
রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অলি আহাদ এবং সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম রনির নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা রাস্তা পরিষ্কার করার কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অলি আহাদ বলেন, "রাজনীতি কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, রাজনীতি হোক মানুষের সেবায়, সংকটে ও জনকল্যাণে— এটিই আবারও প্রমাণ করলো ছাত্রদল।"
তিনি জানান, সাধারণ মানুষের যেকোনো দুর্যোগে ও প্রয়োজনে ছাত্রদল এমন ইতিবাচক ভূমিকা সর্বদা অব্যাহত রাখবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ