মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০১ পি.এম
জুলাই গণআন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছেন মামুন ফরাজি, যিনি একজন প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশের গুলিতে আহত রাজুর পেট থেকে রক্তমাখা ভাত বের হচ্ছিল। রাজুকে হাসপাতালে পাঠানো হলেও ১৯ জুলাই তার মৃত্যু ঘটে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর একক বেঞ্চে বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সামনে মামুন জবানবন্দি দেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ আসামির বিরুদ্ধে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় তিনি অষ্টম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
মামুন তার জবানবন্দিতে বলেন, ১৮ জুলাই আসরের নামাজের পর মোহাম্মদপুরের আল্লাহ করিম মসজিদের কাছে ময়ূর ভিলার সামনে আন্দোলনে যোগ দেন। এ সময় পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালাতে থাকে। এতে অনেকেই আহত হন এবং তাদের বিভিন্ন যানবাহনে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরদিন ১৯ জুলাই সকাল থেকেই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে মামুন বলেন, শ্যামলী ও আসাদগেট এলাকায় তিনি পুলিশ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করতে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালাতে দেখেছেন।
সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে বাঁশবাড়ি এলাকায় পুলিশ, আনসার, র্যাব এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালান। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে আন্দোলনকারীরা জননী কুরিয়ার সার্ভিসের গলিতে আশ্রয় নেন।
মামুন জানান, কয়েকজন আন্দোলনকারী ওরিয়েন্টাল কোভান নামের একটি আবাসিক ভবনের গেটে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে রাজু নামে এক আন্দোলনকারীকে একজন পুলিশ ও আনসার সদস্য টেনে নিয়ে যান এবং পরে তাকে গুলি করা হয়।
তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ রাজুকে জননী কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে আনলে তিনি দেখতে পান, তার পায়ে ও পেটে গুলি লেগেছে এবং তার পেট থেকে রক্তমাখা ভাত বের হচ্ছিল। রাজুকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়, কিন্তু ১৯ জুলাই তিনি মারা যান।
রাজুকে গুলি করা আনসার সদস্য হিসেবে মামুন ওমর ফারুকের নাম উল্লেখ করেন।
জবানবন্দিতে মামুন আরও জানান, ওই দিন বিকেলে বছিলা তিন রাস্তার মাঝখানেও আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানে পুলিশ, র্যাব, আনসার এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র লোকজন আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। তার ভাষ্য, হেলিকপ্টার থেকেও র্যাব গুলি চালাচ্ছিল।
সন্ধ্যার দিকে গুলির তীব্রতা বেড়ে গেলে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন গলিতে আশ্রয় নেন। মামুন তখন মেহজাবিন বিউটি পার্লারের সামনে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির পেছনে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে জসিম নামে আরেক আন্দোলনকারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
সাক্ষী বলেন, জসিমের একটি গুলি হাতে লেগে দুটি আঙুল ঝুলে ছিল এবং আরেকটি গুলি তার বুকে লেগে পেছন দিয়ে বের হয়ে যায়। জসিমকে রনি ফার্মেসিতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রিকশায় করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ২৯ জুলাই বক্ষব্যাধি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান মামুন।
মামুন তার জবানবন্দিতে আরও বলেন, ২২ জুলাই মোহাম্মদপুর ফুটওভার ব্রিজের নিচে বিকেল ৪টার দিকে টিয়ারশেলের আঘাতে তিনি নিজেও আহত হন। এরপর তিনি আর আন্দোলনে অংশ নেননি।
মামুন তার জবানবন্দিতে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা, ফজলে নূর তাপস ও জাহাঙ্গীর কবির নানকের নির্দেশ এবং পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলির জন্য দায়ী করেন। তিনি মামলায় অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
এ মামলায় ২৮ আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন চারজন। তারা হলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক এবং যুবলীগ কর্মী ফজলে রাব্বি।
প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলায় শুনানি করেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মামুনুর রশিদ, সুলতান মাহমুদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের বিন্দুবাড়ি-সিংড়াতলী নতুন সড়ক নির্মাণে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি ধসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী জানান, পুরোনো রাস্তার রিকভারি করা (সেলভেজ) কিছু খোয়া ব্যবহারের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) শ্রীপুর প্রকৌশল অফিসের বাস্তবায়নে গাজীপুর জেলা পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন (জিডিআরআইডিপি) প্রকল্পের আওতায় বিন্দুবাড়ি-সিংড়াতলী সড়ক উন্নয়নে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ১ হাজার ৫০০ মিটার নতুন সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পোস্ট করেছেন। পরে স্থানীয়রা নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের বিষয়ে অভিযোগ তোলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডি কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছে। সড়কটি পূর্বে মাটির ছিল এবং স্থানীয়দের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। স্থানীয়দের দাবির পর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার মৌখিকভাবে ও ফোনে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
পুরনো কাদামাটির সড়কে কাদার ওপরেই ইট-খোয়া ফেলে কাজ শুরু করা হয়েছে। অথচ প্রথমে সড়কে মাটি কাটার কথা ছিল এবং পরে বালু ভরাটের কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের পুরোনো মাটি না কেটে ইট-খোয়া-বালু দিয়ে কাজ করেছে। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিসে গিয়ে সড়ক উন্নয়ন বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী রোমেল বড়ুয়া বলেন, "সকাল থেকে এই কাজের ফাইলটি পাওয়া যাচ্ছে না, তাই সঠিক তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।" ফাইল খুঁজে না পাওয়ার কারণে সড়কটির উন্নয়নের কাজ কবে থেকে শুরু হয়েছে এবং কবে নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, তা জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তৃপক্ষ।
তবে আমজাদ ট্রেডার্সের লোকজনকে ফোন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২৬ জুলাই ওই সড়ক উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন ব্যক্তি বলেন, সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ধরা কঠিন। কারণ, স্থানীয়রা কাজের ধরন জানেন না। যখন সড়কে নিম্নমানের খোয়া দেওয়া হচ্ছে, তখনই কিছু লোক বিষয়টি বুঝতে পারেন। কিন্তু উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "খুবই নিম্নমানের খোয়া দিয়ে রাস্তার কাজ চলছে।" উপজেলা প্রকৌশলীকে একাধিকবার ফোন করে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি শুধু "দেখছি" বলেই দায় সেরেছেন, কিন্তু সরেজমিনে আসেননি।
আরেক বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, "এটি কোনো টেকসই কাজ হচ্ছে না।" এক কোটি টাকার বেশি বাজেটের রাস্তায় যদি এমন পোড়া ইটের গুঁড়ো ও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়, আগামী বর্ষার শুরুতেই রাস্তা আবার নষ্ট হয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে। তিনি বলেন, সরকারি বড় অঙ্কের বাজেট থাকার পরও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও দাপ্তরিক ফাইল ‘গায়েব’ হওয়ায় কাজের মান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে। এলাকাবাসীর দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে টেকসই রাস্তা নির্মাণ করা হোক।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমজাদ ট্রেডার্সের প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, "সড়কে কোথাও অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ হয়নি। এগুলো অটো ব্রিকসের খোয়া এবং টেস্টের ফলাফল ভালো।"
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদুর রহমান বলেন, "আমরা বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে দেখব।" পুরোনো রাস্তার রিকভারি করা (সেলভেজ) কিছু খোয়া ওপরে দেওয়াতে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, "আমি ওই সড়ক পরিদর্শন করেছি। কোনো ধরনের ব্যত্যয় পাইনি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরে লাগেজ ও প্লাস্টিকের বস্তা থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনার সাথে জড়িত হিসেবে নিহতের প্রেমিক, তার মা এবং এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মাসকুর আলমের ছেলে মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) এবং মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)। নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০), যিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার কন্যা। স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা (মেম্বারবাড়ি) এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ডলি স্থানীয় বাঘেরবাজার এলাকার গোল্ডেন রিফিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর রাজদীঘির উত্তর পাড়ে পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন গাজীপুর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার। পিবিআই জানায়, পোশাক কারখানায় চাকরি করার সময় মিশন ইসলামের সাথে ডলির পরিচয় ঘটে। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলছিল। ডলি প্রায়ই মিশনের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।
তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসাথে রাতের খাবার গ্রহণ করেন। পরে বানু আক্তার পাশের কক্ষে ঘুমাতে যান, এবং মিশন ও ডলি একই কক্ষে অবস্থান করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ার কারণে ডলির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন মিশন। পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই রাতে মিশন ডলিকে ঘুমের ওষুধ ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ান। ডলি ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে লুঙ্গি দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে এবং বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর মরদেহটি ঘরের চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকালে ঘর পরিষ্কার করার সময় বানু আক্তার চৌকির নিচে ডলির মরদেহ দেখতে পান। এরপর মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন মিশন। মরদেহ গুম করতে একটি স্যুটকেস কেনা হলেও, মরদেহটি তাতে না ধরায় ব্লেড, বঁটি ও দা দিয়ে কোমর থেকে মরদেহটি দ্বিখণ্ডিত করা হয়। পরে কোমরের নিচের অংশ লাগেজে এবং ওপরের অংশ পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়।
এরপর মিশন তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে বাসা পরিবর্তনের কথা বলে ডেকে আনেন। মিল্টন এসে স্যুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় তুলতে সহযোগিতা করেন। পরে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও মিল্টন স্যুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় করে রাজেন্দ্রপুর এলাকায় যান। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে তারা ভবানীপুর এলাকায় পৌঁছান।
ভবানীপুর ব্রিজ এলাকায় মিশন ও মিল্টন স্যুটকেস ও বস্তা কালভার্টের নিচের খালের পানিতে ফেলে দেন। এ সময় মিল্টনের হাতে রক্ত লেগে যায়। তিনি মিশনের কাছে বস্তা ও লাগেজের ভেতরে কী রয়েছে জানতে চান। তখন মিশন তাকে জানান, সেখানে তার প্রেমিকা ডলি আক্তারের মরদেহ রয়েছে। পরে তারা নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান।
এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকায় হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেড পোশাক কারখানার উত্তর পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের খাল থেকে একটি লাগেজ ও প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। লাগেজের ভেতরে ছিল মরদেহের কোমরের নিচের অংশ, আর কোমরের ওপরের অংশ ছিল প্লাস্টিকের বস্তায়। মরদেহটি অজ্ঞাত এবং অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরে ধারাবাহিক অনুসন্ধান, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে পিবিআই। একই সাথে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদেরও শনাক্ত করা হয়। ডলি হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই সোহেল (৪৪) গত ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরে গণমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হলে পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ছায়াতদন্ত শুরু করে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মিজানুর রহমান মিল্টনকে এবং একই দিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গাজীপুর সদর মেট্রো থানাধীন বাহাদুরপুর (তুলসিভিটা) এলাকার পৃথক ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসামিদের দেওয়া তথ্য ও তাদের দেখানো স্থান অনুযায়ী মিশনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে মরদেহ খণ্ডিত করার কাজে ব্যবহৃত একটি বঁটি ও দা, ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন ও একজোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মরদেহ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, লাগেজ কেনার বিষয়ে তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পিবিআই।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার বলেন, অজ্ঞাত ও পচনশীল মরদেহ হওয়ায় শুরুতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্বস্ত সোর্সের সমন্বিত ব্যবহারে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, ঘটনার অন্যান্য দিক এবং উদ্ধার হওয়া আলামত নিয়েও তদন্ত চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় বর্তমানে বেকারির তৈরি খোলা পাউরুটি, যা বনরুটি নামে পরিচিত, এবং কেকের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ চরম সমস্যায় পড়েছেন।
সম্প্রতি, বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। কিছু ক্ষেত্রে, পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রেখে ওজন কমিয়ে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের খরচ বেড়ে গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ও চায়ের দোকান পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মানভেদে ১০ টাকা দামের ছোট পাউরুটি বর্তমানে ১৫ টাকায় এবং ১০ টাকার সাধারণ কেক ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ টাকার রুটি-কেকের দাম ২০ টাকা করা হয়েছে।
তবে বেশিরভাগ দোকানে পণ্যের দাম না বাড়িয়ে, আগের তুলনায় ওজন ও সাইজ ছোট করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আকার ও ওজনের ভিত্তিতে হিসাব করলে, পরিবারে ব্যবহৃত বড় পাউরুটির দাম বেড়ে ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। পাশাপাশি, বেকারিতে তৈরি শুকনো বিস্কুট, চানাচুর ও বনরুটির দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে।
বিক্রেতাদের মতে, ময়দা, চিনি, ভোজ্যতেল ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই কারণে সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বেকারি পণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের চাকরিজীবীরা। তাদের দৈনিক খাদ্য তালিকার একটি বড় অংশজুড়ে থাকে চা ও বেকারি পণ্য।
সেগুনবাগিচার রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সারাদিন রিকশা চালিয়ে দুপুরের খাটুনি শেষে ৫-১০ টাকার বিস্কুট আর চা খেয়ে একটু পেটের ক্ষুধা মিটাতাম। এখন সেই বিস্কুটের দামও ৫ টাকা বেড়ে গেছে। সকালে দুটো বনরুটি আর চা খেলে আগে ২০ টাকায় হয়ে যেত, এখন ৩০ টাকা লাগে। দিনে যদি চা-নাশতাতেই অতিরিক্ত ২০-৩০ টাকা চলে যায়, তবে দিনশেষে পরিবারকে কী দেবো?"
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক আসমা বেগম। তিনি বলেন, "বাচ্চারা সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে পাউরুটি বা বিস্কুট খেতে চায়। ভাত রান্না করার সময় থাকে না। কিন্তু এখন যে হিসাব, তাতে বাচ্চার মুখে দুটো বিস্কুট তুলে দেওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নিত্যপণ্যের সার্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ইতিমধ্যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এর ওপর বেকারি পণ্যের মতো সহজলভ্য ও জরুরি খাদ্যের দাম বৃদ্ধি নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে, কিছু কিছু বেকারির পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে একধরনের অরাজকতা দেখা গেছে। ঘোষিত ২০ শতাংশের পরিবর্তে তাদের পণ্যের দাম বেড়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। কারণ ১০ টাকার রুটি এখন ১৫ টাকা, আর ১৫ টাকারটি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। কোথাও কোথাও দাম না বাড়িয়ে কমানো হয়েছে ওজন।
বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন বলেন, "রুটি ও কেক তৈরির কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই আমরা এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
এই সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ক্ষুদ্র বেকারি প্রায় সাত হাজার রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে সাত শতাধিক।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। বাজারে মাছ, মাংস, সবজি, তেল, চিনি প্রভৃতি নিত্যসামগ্রীর দাম আগের তুলনায় বেশি। সেখানে রুটি, কেকের মতো বেকারি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচের পাল্লা আরও কিছুটা ভারী হয়েছে নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি একটি মেডিকেল টিম গঠন করেছে, যা জেলা ও মহানগর এবং অধীনস্থ ইউনিটসমূহে ঘোষিত সাত দিনের কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে জরুরি স্বাস্থ্য নির্দেশিকা প্রদান করবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই টিম গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির নির্দেশনা অনুযায়ী মেডিকেল টিমটি গঠন করা হয়েছে।
মেডিকেল টিমের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি ডা. লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
টিমের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন— কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. গালিব হাসান, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম, সহস্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. মাহমুদুল হাসান খান সুমন, সহস্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. আল মামুন হাসান খান এমিল এবং ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ডা. আমিরুল ইসলাম পাভেল।
যুবদলের স্বাস্থ্য সম্পাদক ও নবগঠিত মেডিকেল টিমের সদস্য ডা. বেলাল হোসেন নাজিম জানান, "দেশবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সচেতন করতে আমাদের এই মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই টিম কাজ করা শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে যুবদলের কর্মী হিসেবে আমরা সবসময়ই প্রস্তুত।"
ডেঙ্গু সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে এই চিকিৎসক বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হলো সচেতনতা। বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে, জমা পানি দূর করতে হবে এবং এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করতে হবে। পাশাপাশি মশারি ব্যবহার করতে হবে এবং জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ