মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৯ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস একটি নতুন সরাসরি সম্প্রচার চ্যানেল চালু করেছে, যার নাম ‘ট্রাম্প টিভি’৷
চ্যানেলটির সম্প্রচার সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শুরু হয়। এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প টিভিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, বিভিন্ন ভিডিও এবং উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ২৪ ঘণ্টা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এই বিষয়গুলো নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হবে।
চ্যানেলটি চালু হওয়ার পর সেখানে গত ৩ জুলাই মাউন্ট রাশমোরে ট্রাম্পের দেওয়া একটি বক্তব্যের পুরোনো ভিডিও সম্প্রচার করা হচ্ছিল।
এই চ্যানেলটির উদ্বোধন এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত শুক্রবার ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। পরে, ওই তিন সংবাদমাধ্যম প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে।
এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক—এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স ও এনবিসি—হোয়াইট হাউসের যৌথ সংবাদ সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ রাখে। সেদিন সিএনএন হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকার কথা ছিল।
সাধারণত, হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ও প্রেসিডেন্টের কার্যক্রমের ভিডিও ধারণের জন্য এক বা একাধিক সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সেই ভিডিও ব্যবহার করতে পারে। এই ব্যবস্থাকেই যৌথ সংবাদ সংগ্রহ বলা হয়।
পাঁচটি বড় সংবাদমাধ্যম এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, "সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক ও স্বাধীন তথ্য পাওয়ার অধিকার জনগণের রয়েছে। কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত নয়।"
ট্রাম্প দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এসব সংবাদমাধ্যম তার প্রশাসন সম্পর্কে মিথ্যা বা নেতিবাচক খবর প্রকাশ করে।
সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণার পরও ট্রাম্প নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘ক্যানসার’ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক প্রচারণা চালানোর অভিযোগ করেছেন। তবে তিনি বলেন, এসব সংবাদমাধ্যম এখনও খবর প্রকাশ করতে পারবে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও থাকবে।
ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর শনিবার সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাদের সংবাদকর্মীদের প্রবেশপত্রও বাতিল করা হয়।
এই তিন সংবাদমাধ্যম আদালতে গিয়ে এই সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করার আবেদন করেছে। তাদের দাবি, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিলের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বুধবার এ বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ওই তিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তারা হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করবে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরোধের মধ্যেই সোমবার হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে নতুন হেলিপ্যাড উদ্বোধন করেন ট্রাম্প। তবে বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো যৌথ সংবাদ সংগ্রহ বন্ধ রাখায় অনুষ্ঠানটি তাদের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়নি।
হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ওয়েবসাইটে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হলেও ট্রাম্পের বক্তব্যের পুরো শব্দ শোনা যায়নি।
এএফপিসহ কয়েকটি আলোকচিত্র সংবাদমাধ্যমও নিষিদ্ধ তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতি সংহতি জানিয়ে হেলিপ্যাড উদ্বোধনের ছবি প্রকাশে বিলম্ব করে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের এই বিরোধের মধ্যে ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হলো। নতুন চ্যানেলটিতে ট্রাম্পের বক্তব্য, ভিডিও এবং হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের পাশাপাশি পুরোনো গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যও দেখানো হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা দেশটির সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
সূত্র: এএফপি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এক সময় গ্রামাঞ্চলে শীতলপাটির ব্যাপক চাহিদা ছিল। গরমের দিনগুলোতে মেঝেতে শীতলপাটি বিছানো স্বস্তি দিত, এবং এটি বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রা বদলেছে। প্লাস্টিক, ফোম ও আধুনিক উপকরণের প্রভাবের কারণে শীতলপাটির ব্যবহার কমে গেছে, ফলে এর সঙ্গে জড়িত কারিগরদের জীবনও সংকটে পড়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চার শিক্ষার্থী এই হারাতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা শীতলপাটির প্রচলিত ব্যবহারকে ছাড়িয়ে নান্দনিক স্যান্ডেল তৈরি করছেন। ঐতিহ্যবাহী উপকরণকে আধুনিক নকশা ও ব্যবহারিক প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে তাদের এই উদ্যোগ পুরোনো গল্পকে নতুনভাবে বুনে দেওয়ার চেষ্টা।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নাম ‘বুনন বাজার’। দলের সদস্য অপূর্ব কৃষ্ণ দে ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী। বাকি তিনজন ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের আবির দে, মো. আশিক মিয়া ও চৌধুরী খুবাইব বিন করিম। তাদের উদ্যোগের মাধ্যমে শীতলপাটিকে নতুনভাবে নকশা করে স্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের বাড়ি থেকে ভাবনার শুরু
শীতলপাটি থেকে স্যান্ডেল তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অপূর্ব কৃষ্ণ দের হাত ধরে। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন, পরিবারের অনেক সদস্য মূর্তা বা বেতি গাছ চাষ এবং শীতলপাটি তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। শীতলপাটির কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে কারিগরদের কাজ; সবকিছুই ছিল তার পরিচিত।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি লক্ষ্য করেন, শীতলপাটির প্রচলিত ব্যবহার কমে যাচ্ছে। এই চিন্তা থেকেই তার মাথায় নতুন ভাবনা আসে। তিনি ভাবেন, ঐতিহ্যবাহী উপকরণকে যদি নতুন কোনো পণ্যে ব্যবহার করা যায়?
সেই ভাবনা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। নকশা তৈরি, উপকরণ সংগ্রহ, নমুনা বানানো—একটির পর একটি ধাপ পেরিয়ে তারা এগোতে থাকেন শীতলপাটির স্যান্ডেল তৈরির দিকে।
শীতলপাটি দিয়ে স্যান্ডেল বানানোর চিন্তাটা কিভাবে মাথায় এলো জানতে চাইলে অপূর্ব কৃষ্ণ দে আরটিভিকে বলেন, "শীতলপাটি দিয়ে স্যান্ডেল বানানোর মূল চিন্তাটা প্রথমে আমার মাথায় আসে। আমার বাড়ি টাঙ্গাইলে। আমাদের পরিবারের অনেকেই মূর্তা বা বেতি গাছ চাষ এবং শীতলপাটি তৈরির সঙ্গে যুক্ত। ছোটবেলা থেকেই শীতলপাটির কাঁচামাল এবং কারিগরদের কাজ খুব কাছ থেকে দেখে এসেছি। সেখান থেকেই একটা চিন্তা আসে যে শীতলপাটিকে যদি শুধু প্রচলিত ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক কোনো পণ্যে রূপান্তরিত করা যায় কিনা।"
শীতলপাটি থেকে পায়ের উপযোগী স্যান্ডেল
শীতলপাটি সাধারণত মেঝেতে ব্যবহারের জন্য তৈরি হলেও, মানুষের পায়ের চাপ, হাঁটার সময় বাঁকানো এবং নিয়মিত ব্যবহার; সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সেটিকে স্যান্ডেলে রূপ দেওয়া সহজ ছিল না।
প্রথম দিকে মাপ, আকৃতি, কাটিং, ফিতার অবস্থান ও তলার কাঠামো নিয়ে একাধিকবার নমুনা তৈরি করতে হয়েছে। নিজেদের ব্যবহার, বন্ধুদের মতামত এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নকশা বদলাতে হয়েছে।
অপূর্ব বলেন, "প্রথম দিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল শীতলপাটিকে আরামদায়ক ও টেকসই স্যান্ডেলে রূপ দেওয়া। মাপ, আকৃতি, কাটিং, ফিতার অবস্থান ও তলার কাঠামো নিয়ে কয়েক দফা নমুনা তৈরি করে পরীক্ষা করতে হয়েছে। নিজেরা ব্যবহার করে দেখা, ক্রেতাদের মতামত নেওয়া এবং বারবার সংশোধনের মাধ্যমে নকশা ও গঠনে উন্নতি আনা হয়েছে। একই সঙ্গে শীতলপাটির স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও বুনন বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।"
তাদের কাছে শুধু স্যান্ডেল তৈরি করাই লক্ষ্য ছিল না। শীতলপাটির নিজস্ব সৌন্দর্য যেন নষ্ট না হয়, আবার পণ্যটিও যেন ব্যবহারকারীর কাছে আরামদায়ক হয়—এ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরিই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
চার শিক্ষার্থীর কাছে শীতলপাটির স্যান্ডেল শুধু একটি পণ্য নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং সেই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের গল্প।
তাদের স্যান্ডেলে তাই একদিকে রয়েছে আধুনিক নকশা, অন্যদিকে শীতলপাটির পরিচিত বুনন। দেশীয় কারুশিল্পকে নতুন প্রজন্মের রুচি ও ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত করাই তাদের মূল ভাবনা।
দলের আরেক সদস্য আশিক মিয়া আরটিভিকে বলেন, "আমাদের কাছে এটি শুধু একটি স্যান্ডেল নয়; এর সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি শিল্প ও কারিগরদের গল্প জড়িয়ে আছে। ঐতিহ্যকে শুধু সংরক্ষণ না করে আধুনিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। তাই শীতলপাটিকে নতুনভাবে ব্যবহার করে এমন একটি পণ্য তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠতে পারে।"
শুরুতে ছিল সংশয়, এখন সহযোগিতা
নতুন কোনো ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করলে সংশয় থাকা স্বাভাবিক। শীতলপাটি দিয়ে স্যান্ডেল তৈরির বিষয়টিও শুরুতে পরিবার ও বন্ধুদের কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল।
তবে প্রথম প্রোটোটাইপ তৈরি, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং ক্রেতাদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর তাদের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি এই কাজ চালিয়ে যাওয়া অবশ্য সহজ নয়। ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক ব্যস্ততার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পণ্যের নকশা, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের পরিকল্পনাও করতে হচ্ছে তাদের।
অপূর্ব বলেন, "শুরুতে শীতলপাটি দিয়ে স্যান্ডেল তৈরির ধারণাটি পরিবার ও বন্ধুদের কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হলেও, প্রোটোটাইপ তৈরি, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং গ্রাহকদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর তাদের আগ্রহ ও সহযোগিতা বেড়ে যায়। বন্ধুরা প্রোটোটাইপ ব্যবহার করে আরাম, নকশা ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে মতামত দিয়েছেন।"
বাজারে যখন নানা ধরনের স্যান্ডেল পাওয়া যায়, তখন একজন ক্রেতা কেন শীতলপাটির স্যান্ডেল কিনবেন; প্রশ্নটি তাই স্বাভাবিক।
আশিকের মতে, "শুধু শীতলপাটি দিয়ে তৈরি বলেই একজন ক্রেতা স্যান্ডেলটি কিনবেন—এমনটা তারা মনে করেন না। বরং পণ্যের আরাম, ব্যবহারযোগ্যতা ও নকশাকেই তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন।"
তিনি বলেন, "ক্রেতারা শুধু শীতলপাটি দিয়ে তৈরি বলেই স্যান্ডেলটি কিনবেন—এমন নয়। আরাম, ব্যবহারযোগ্যতা ও আধুনিক নকশাকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি এই স্যান্ডেলে দেশীয় কারুশিল্প, স্বতন্ত্র নকশা ও ঐতিহ্যের গল্প যুক্ত হয়েছে। লক্ষ্য হলো, ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটিকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করে এমন একটি স্যান্ডেল তৈরি করা, যা দেশীয় হওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী।"
তাদের কাছে ঐতিহ্য পণ্যের পরিচয়ের একটি অংশ; কিন্তু পণ্যটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে সেটিকে ব্যবহারকারীর প্রয়োজনও পূরণ করতে হবে।
প্রতিযোগিতা পেরিয়ে বাজারের পথে
‘বুনন বাজার’ এখন আর শুধু চার শিক্ষার্থীর পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নয়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এরই মধ্যে সাড়া পেয়েছে তারা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হাল্ট প্রাইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছে ‘বুনন বাজার’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায়ও সেরা আটে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। সেখানে আকিজ রিসোর্সেসের পৃষ্ঠপোষকতায় চার সদস্যই পেয়েছেন ইন্টার্নশিপের সুযোগ।
গত ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারেও প্রদর্শিত হয়েছে তাদের উদ্যোগ। সেখানে দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও পেয়েছে প্রশংসা। এই পথচলায় অর্থায়নের পাশাপাশি আর্থ সোসাইটির মেন্টরশিপ ও ব্যবসায়িক দিকনির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে সামনে রয়েছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। পণ্যের মান ঠিক রেখে উৎপাদন খরচ কমানো, উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো এবং আরও বেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছানো এখন তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
এক সময় যে শীতলপাটি ছিল কেবল ঘরের শীতলতার উপকরণ, সেটিই এখন হয়ে উঠছে ফ্যাশন ও সৃজনশীলতার অংশ। ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে নয়, বরং তাকে নতুনভাবে ব্যবহার করেই যে বাঁচিয়ে রাখা যায়—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চার শিক্ষার্থীর উদ্যোগ যেন তারই একটি ছোট্ট উদাহরণ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সরকারের পক্ষ থেকে আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেন উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আইন, ২০২২-এর ধারা-১০(২) অনুযায়ী, তানজিম ইবনে ওয়াহাবকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের পুনের ৪৬ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী স্ত্রীকে না জানিয়ে প্রেমিকাকে নিয়ে বিদেশে ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। ব্যবসার কাজে বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি তার নিয়মিত অভ্যাস হওয়ায় স্ত্রী সন্দেহ করেননি। তবে প্রেমিকার পাসপোর্টের জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত পুরো পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়।
তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যবসায়ী স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি ব্যবসার কাজে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যাচ্ছেন। কিন্তু তার আসল উদ্দেশ্য ছিল প্রেমিকাকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় কয়েক দিন ছুটি কাটানো।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রেমিকাকে নিয়ে তিনি মুম্বাই বিমানবন্দরে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে প্রেমিকার পাসপোর্ট নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। সমস্যার কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। ফলে বিদেশযাত্রার পরিকল্পনা বাতিল করে প্রেমিকাকে নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন ওই ব্যবসায়ী।
এরপর তিনি প্রেমিকার সঙ্গে মুম্বাইতেই কয়েক দিন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু স্ত্রীকে কীভাবে বিষয়টি বোঝাবেন, তা নিয়ে নতুন সমস্যা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই ব্যক্তি স্ত্রীকে ফোন করে জানান, অভিবাসন-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তার মোবাইল ফোন জমা দিতে হচ্ছে। এরপর তিনি ফোনটি বন্ধ করে দেন। পরদিনও স্ত্রীর সঙ্গে একবার কথা বলেন, কিন্তু এরপর তার ফোন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্ত্রী। একপর্যায়ে তিনি পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন যে, স্বামীকে সম্ভবত অপহরণ করা হয়েছে।
পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করলে শেষ পর্যন্ত ওই ব্যবসায়ী আর গোপন রাখতে পারেননি। পুলিশের কাছে তিনি পুরো ঘটনা স্বীকার করেন এবং জানান, অপহরণ নয়, বরং স্ত্রীকে না জানিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাই করেছিলেন তিনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় তেমন কিছু করার না থাকলেও, স্বামীর গোপন সম্পর্ক ও মিথ্যার কথা জানার পর তার দাম্পত্য জীবনে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুক্তির পূর্বেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে দক্ষিণী তারকা আল্লু অর্জুন এবং নির্মাতা অ্যাটলির প্রত্যাশিত সিনেমা ‘রাকা’। সিনেমাটি এখনও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি, তবে প্রযুক্তির নতুন ব্যবহারের মাধ্যমে এটি বিশ্বমঞ্চে একটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ‘রাকা’র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান পিকচার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সিনেমাটি ‘মোস্ট পিপল মোশন-ক্যাপচারড ইন রিয়েল-টাইম’ বিভাগে নতুন গিনেস রেকর্ড গড়েছে।
এই রেকর্ড গড়ার পেছনে রয়েছে সিনেমাটির বিশেষ প্রযুক্তিগত আয়োজন। ‘রাকা’র জন্য একসঙ্গে ৩৭ জন পারফর্মারের রিয়েল-টাইম মোশন ক্যাপচার করা হয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযুক্তির এই অভিনব প্রয়োগের স্বীকৃতি পেয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।
সান পিকচার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অর্জন ভারতীয় সিনেমাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। রেকর্ডের স্বীকৃতি হিসেবে আল্লু অর্জুন এবং অ্যাটলির হাতে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সনদও প্রদান করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই বিশ্বরেকর্ডের ঘোষণা আসে অ্যাটলির জন্মদিনেই। পরিচালককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সাদা-কালো ছবি প্রকাশ করেন আল্লু অর্জুন। ছবিতে দুজনকেই হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়।
অ্যাটলির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আল্লু অর্জুন বলেন, এমন দূরদর্শী ও দক্ষ পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তিনি গর্বিত। তিনি ভবিষ্যতে তার সঙ্গে আরও ‘জাদু’ তৈরির অপেক্ষায় আছেন বলেও জানান।
এর আগে আল্লু অর্জুনের ৪৪তম জন্মদিনে প্রকাশ করা হয়েছিল ‘রাকা’র প্রথম ঝলক। সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অবতারে দেখা যায় অভিনেতাকে। টাক মাথা, রুক্ষ চেহারা এবং মুখের একাংশে নেকড়ের থাবার মতো নকশা সব মিলিয়ে তার লুকে ফুটে ওঠে আদিম ও যোদ্ধাসুলভ আবহ।
সিনেমাটির ঘোষণার সময় নির্মাতারা জানিয়েছিলেন, ‘রাকা’র ভিএফএক্স ও মোশন ক্যাপচারের কাজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ প্রযুক্তিবিদদের যুক্ত করা হয়েছে। সিনেমাটির ভিএফএক্স দলের সঙ্গে আছেন ‘আয়রন ম্যান ২’ এবং ‘ট্রান্সফরমার্স: রাইজ অব দ্য বিস্টস’-এর মতো সিনেমায় কাজ করা ভিএফএক্স সুপারভাইজার জেমস ম্যাডিগান। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আরও একাধিক প্রযুক্তিবিদ এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে যুক্ত রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ