ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের, ভাঙ্গায় গ্রেপ্তার ১৭


দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের, ভাঙ্গায় গ্রেপ্তার ১৭

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পূর্বশত্রুতার জেরে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে সুমন মুন্সি (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে আটটার দিকে ভাঙ্গা পৌর সদরের কাপুড়িয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন কাপুড়িয়া সদরদি গ্রামের মিলন মুন্সির ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজ সুমন স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন।

 

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ছেলের নির্মম মৃত্যুতে মা সামেলা বেগমের কান্না কোনোভাবেই থামছে না। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে সুমনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের পোশাক ও স্যান্ডেল বুকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করছেন তিনি। কাঁদতে কাঁদতে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করলেও তার বুকফাটা আর্তনাদে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এলাকায় এখন কেবলই শোকের মাতম।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সামেলা বেগম বলেন, ‘আমার বুকের মানিককে কেড়ে নিলো ওরা। আমার বুকের মানিককে ফিরিয়ে দাও তোমরা। আমি কী নিয়ে বাঁচব, আমার সুমন কোথায় চলে গেল!’

 

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

ছেলের জামা বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমার কলজেডা ছেন্দা করে থুয়ে গেলা, ও আল্লাহ তুমি কী করলা! আমার বুক যারা খালি করেছে, আমি তাদের বিচার চাই, ফাঁসি চাই। এমন বিচার হোক যাতে অন্য কোনো মায়ের বুক আর খালি না হয়।’

 

জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে ওই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার রাতে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ১০টি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।

 

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে সুমন গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

 

সুমন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।

 

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে রাতে প্রধান শিক্ষককে পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৪ পি.এম


প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে রাতে প্রধান শিক্ষককে পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা

কুমিল্লার দেবিদ্বারে মো. মুক্তল হোসেন (৫০) নামের এক প্রধান শিক্ষক জনতার হাতে আটক হয়েছেন। তিনি প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় ছিলেন। এই ঘটনা মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ৯টার সময় উপজেলার বল্লভপুর গ্রামে ঘটে। মো. মুক্তল হোসেন মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে উপজেলায় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ঘটনাস্থলে তাকে আটক হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। যদিও, এর আগে এলাকার একটি মহল চিকিৎসার নাম করে তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঊজানীজোড়া গ্রামের ওই প্রবাসীর স্ত্রী (৩০) একজন শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। এই সূত্রে, প্রধান শিক্ষক মুক্তল হোসেনের সঙ্গে ওই নারীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পেশাগত কারণে, রাতে প্রায়ই তিনি ওই নারীর ঘরে যাতায়াত করতেন। বিষয়টি লক্ষ্য করে স্থানীয়রা পাহারা দেওয়া শুরু করে। মঙ্গলবার রাতে মুক্তল যখন ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করেন, তখন গ্রামবাসী ঘরটি ঘেরাও করে। এ সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তিনি স্থানীয়দের হাতে আটক হন। এরপর তাকে উত্তম মধ্যম দেওয়া হয়। দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, "রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় প্রধান শিক্ষক আটকের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, তাকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। কিন্তু পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।" যদিও, ওই নারীর প্রবাসী স্বামী দাবি করেছেন যে, শিক্ষক মুক্তল পারিবারিক একটি বিষয়ে তার স্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮ মাসের ভাড়া বকেয়া রেখে হোটেল ছাড়ার অভিযোগ এনসিপির ৫ নেতার বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৯ পি.এম


৮ মাসের ভাড়া বকেয়া রেখে হোটেল ছাড়ার অভিযোগ এনসিপির ৫ নেতার বিরুদ্ধে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ কয়েকজন নেতা রাজধানীর ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের (আবাসিক হোটেল) দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে প্রায় আট মাস ধরে নানা ‘অশ্লীল-অনৈতিক কর্মকাণ্ড’ ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হোটেলের সেই দুটি রুমে রাতভর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিতেন এনসিপির আরও কয়েক ডজন নেতা। ফলে সেখানে দিন-রাত অবাধ আনাগোনা ছিল নারীদের। এমনকি হোটেল ভাড়া পরিশোধ না করেই তারা চলে যান বলে অভিযোগ করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, এনসিপির ওই পাঁচ নেতা হলেন- ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপ। উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য সচিব। বাকিরাও দক্ষিণের কমিটিতে বিভিন্ন পদ-পদবিতে রয়েছেন। শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের আগে ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আরও জানা গেছে, তিনি স্থানীয় এমপির ঘনিষ্ঠজন ছিলেন এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তীতে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিবের পদ লাভ করেন। শাহরিয়ার একজন রাজনীতিবিদের ছেলে, তার বাবাও ছিলেন পতিত সরকারের যাত্রাবাড়ী এলাকার এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর বিশেষ সহকারী।

জানা যাচ্ছে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাঁচ নেতার কাছে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার আবাসিক হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা হোটেল ভাড়া বকেয়া রয়েছে। ভাড়া নেওয়া রুমে নারীদের অবাধ যাতায়াত করতেও দেখা গেছে। এ বিষয়টি নিয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। হোটেলটির মহাব্যবস্থাপক খন্দকার রুহুল আমিনের স্বাক্ষরে এ অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই পাঁচ নেতার নেতৃত্বে কয়েক ডজন নেতা সেখানে নিয়মিত রাত্রিযাপন করতেন। নারীদের আনাগোনাসহ নানা ধরনের অশ্লীল কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এনসিপির কয়েকজন সমন্বয়ক আওয়ামী লীগ কার্যালয় সংস্কারের কাজের কথা জানিয়ে হোটেলটিতে অবস্থান নেন। পরে তারা ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় আট মাস হোটেলের ৭২৫ ও ৭২৭ নম্বর কক্ষ দুটি ব্যবহার করেন।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিটি কক্ষের দৈনিক ভাড়া ছিল ৩ হাজার টাকা, যার ভিত্তিতে দুই কক্ষের মোট ভাড়া দাঁড়ায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা। বুকিংয়ের সময় তারা ১০ হাজার টাকা অগ্রিম পরিশোধ করলেও পরবর্তী সময়ে বাকি অর্থ পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দলীয় পরিচয়ের কারণে সরল বিশ্বাসে হোটেলে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু পরে তারা বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করেই হোটেল ত্যাগ করেন। পাওনা টাকা চাইলে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, হোটেলে অবস্থানকালে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে, এবং এ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যদি দলীয় নেতৃত্বের সহযোগিতায় বকেয়া অর্থ আদায় সম্ভব না হয়, এবং সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরবে।

অভিযোগপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপ। উল্লেখযোগ্য যে, এই পাঁচজনের নেতৃত্বে আরও কয়েক ডজন নেতা সেখানে নিয়মিত অবস্থান করতেন।

হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনালের হিসাব বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, এনসিপির নেতারা হোটেলে দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে আট মাস ছিলেন। হোটেল বুকিংয়ের সময় ১০ হাজার টাকা দিলেও পরে আরকোনো ভাড়া দেননি তারা। হোটেলে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে কেউ শনিরআখড়া, কেউ জুরাইন আবার কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা হোটেলে আসতেন, আড্ডা দিতেন রাতভর। তাদের সঙ্গেও লোকজন আসত। প্রায়ই তারা 'নারীদের' নিয়ে আসতেন। তাদের সঙ্গেও যারা আসতো তাদেরও 'নারীদের' নিয়ে আসতে দেখা গেছে। তারা বলতেন, 'নারী এলাওড না।' আমরা তখন বলেছি যে, আপনাদের কাজ আপনারা করুন, আমাদের কাজ আমাদের করতে দেন।

তিনি আরও জানান, বকেয়া ভাড়ার বিষয়ে তাদের সঙ্গে কয়েকবার বসেছি। তারা আমাদের ম্যানেজমেন্টকে বলেছিল টাকা আমরা দিয়ে দেবো। কবে নাগাদ দেবে তা বলেনি। প্রায়ই ভাড়া চাইতাম। তারা বিভিন্নভাবে ঘুরানোর চেষ্টা করতো। নির্বাচনের পরের দিন দেখি তারা আর নেই। পরে আমরা তালা ভেঙে রুম ক্লিন করে নতুন তালা দিয়ে রুম ভাড়া দিয়ে দিয়েছি। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আমরা এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর অভিযোগ করেছি।

অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার বলেছেন, 'হোটেলের রুম ভাড়ার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। নারী নিয়ে হোটেলে অবস্থানের প্রশ্নই আসে না। ওই ব্যক্তিটি আমি নই, তা যাচাই করার অনুরোধ জানাচ্ছি।'

তিনি আরও জানান, 'আমি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। শিক্ষার্থীদের মারধরের যে ভিডিওটির কথা বিভিন্ন সময়ে বলা হয়, ওই ভিডিও পুরোনো, ২০২৩ সালের।'

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক মির্জা গণমাধ্যমকে বলেন, 'ওই হোটেলে দুটি রুমে আমাদের কয়েকজন ছিল। তবে রুম ভাড়ার বিষয়ে আমি অবগত নই। ওই সময়ে রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন আন্দোলনের সময় আমি দু-একবার দেখা করতে হোটেলে গিয়েছি। আন্দোলনের সময় রাত হয়ে যাওয়ায় রাতে অনেকে সেখানে থাকতো। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।'

আরেক অভিযুক্ত এনসিপি নেতা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'হোটেল ভাড়ার বিষয়টি আমি অবগত না। ওই রুমটি তো আমার নামে বুক করা হয়নি। যে পাঁচজনের কথা বলা হচ্ছে, তাদের মধ্যে একজন ভাড়া নিয়েছে। তিনিই হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন। আমি তাদের সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলাম এটা সত্যি। দুই রুমে কখনো পাঁচজন, সাতজন এমনকি দশজনেও থেকেছি আমরা। সঠিক তথ্য জানতে হলে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।'

এনসিপির যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান সমন্বয়কারী মিরাসাত হোসেন হিমেল বলেন, 'আমি ওই হোটেলে গিয়েছি এমনটি মনে পড়ে না। হোটেলের কে অভিযোগ করেছেন আমাকে একটু জানান।'

অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, 'এই বিষয়ে অভিযোগ যেহেতু আসছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা কমিটি আছে, তারা বিষয়টি দেখছেন। শৃঙ্খলা কমিটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরে সেই অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রলারে আগুনে দগ্ধ দুই নাবিকের প্রাণ গেল চট্টগ্রামে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


ট্রলারে আগুনে দগ্ধ দুই নাবিকের প্রাণ গেল চট্টগ্রামে

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে ‘এফভি দেশ’ নামে একটি মাছ ধরার ট্রলারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ দুই নাবিকের মৃত্যু ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার সময় মৃত্যু ঘটে।

মৃতদেহের মধ্যে একজন হলেন মো. রুবেল (৩২), যার পৈতৃক বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায়, অপরজন শাহ আলম (৪০), যার বাড়ি নোয়াখালী জেলার। উভয়ই ট্রলারটির ইঞ্জিনরুমে কর্মরত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে ট্রলারটিতে বিস্ফোরণের ফলে আগুন লেগে যায়, যার ফলে কয়েকজন নাবিক দগ্ধ হয়। আহত নাবিকদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ট্রলারটির ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ জানান, গুরুতর আহত প্রকৌশলীরাও ছিলেন, তারা হচ্ছেন আশিকুজ্জামান, তামিম রুবেল এবং শাহ আলম। তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল তবে পথিমধ্যে রুবেল ও শাহ আলম মারা যান। আহত তামিমকে ঢাকাস্থ জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন এবং তার অবস্থাও বর্তমানে সংকটাপন্ন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. মোহাম্মদ এস. খালেদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ফলে আহত নাবিকরা, তাদের মধ্যে ছিল নিজাম উদ্দিন, মো. রাসেল এবং ছিদ্দিক আহমেদ, চিকিৎসা নিয়ে বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আখাউড়ায় ২ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও চারা বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


আখাউড়ায় ২ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও চারা বিতরণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এই মৌসুমে উফশী রোপা আমন ধান, মরিচ, গ্রীষ্মকালীন উফশী সবজি এবং ফলজ, বনজ ও ভেষজ ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৯৪৪ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, রাসায়নিক সার এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় রোপা আমন ধান চাষের জন্য ১ হাজার ১০০ জন কৃষককে ৫ কেজি ধানবীজ, ১০ কেজি এমওপি সার এবং ১০ কেজি ডিএপি সার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মরিচ চাষের জন্য ৫০ জন কৃষককে ১০ গ্রাম বীজ, ৫ কেজি এমওপি ও ৫ কেজি ডিএপি সার বিতরণ করা হয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের জন্য ৫০০ জন কৃষককে ৩০০ গ্রাম বীজ, ১৫ কেজি এমওপি ও ১৫ কেজি ডিএপি সার দেওয়া হয়েছে। ফলজ, বনজ ও ভেষজ গাছ রোপণের জন্য ২৬৪ জন কৃষককে পাঁচটি করে গাছের চারা, পাঁচটি খুঁটি এবং ৪০ কেজি জৈব সার দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, এছাড়া ৩০ জন কৃষককে পাঁচটি করে লেবুর চারা ও ৮ কেজি জৈব সার বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া।

এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন আব্দু, পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম, তামান্না ইসলাম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. ইসমাইল মুন্সি, মো. মশিউর রহমান সহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৯৪৪ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও চারা বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের এ উদ্যোগ কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের আরও উৎসাহিত করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%