প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পূর্বশত্রুতার জেরে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে সুমন মুন্সি (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে আটটার দিকে ভাঙ্গা পৌর সদরের কাপুড়িয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন কাপুড়িয়া সদরদি গ্রামের মিলন মুন্সির ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজ সুমন স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন।
ছেলের নির্মম মৃত্যুতে মা সামেলা বেগমের কান্না কোনোভাবেই থামছে না। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে সুমনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের পোশাক ও স্যান্ডেল বুকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করছেন তিনি। কাঁদতে কাঁদতে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করলেও তার বুকফাটা আর্তনাদে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এলাকায় এখন কেবলই শোকের মাতম।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সামেলা বেগম বলেন, ‘আমার বুকের মানিককে কেড়ে নিলো ওরা। আমার বুকের মানিককে ফিরিয়ে দাও তোমরা। আমি কী নিয়ে বাঁচব, আমার সুমন কোথায় চলে গেল!’
ছেলের জামা বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমার কলজেডা ছেন্দা করে থুয়ে গেলা, ও আল্লাহ তুমি কী করলা! আমার বুক যারা খালি করেছে, আমি তাদের বিচার চাই, ফাঁসি চাই। এমন বিচার হোক যাতে অন্য কোনো মায়ের বুক আর খালি না হয়।’
জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে ওই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার রাতে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ১০টি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে সুমন গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
সুমন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বুধবার (১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন