১১:২২ এম
ঋণখেলাপির গ্যারান্টার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি এবং ভূমি করসহ বিভিন্ন সেবার বিলখেলাপি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এছাড়া, পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার আইনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এই বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে আইন সংশোধনের জন্য সুপারিশ পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, "আইন সংশোধনের বিষয়টা আইনগত ব্যাপার। আমরা প্রস্তাব পাঠাবো স্থানীয় সরকার বিভাগকে। স্থানীয় সরকার বিভাগ যদি আমাদের প্রস্তাব উপযুক্ত মনে করেন, তাহলে তারা সেভাবে ব্যবস্থা নিবেন।"
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
এর আগে, বেলা ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসি সচিব বলেন, "মূলত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সাথে যে আইনগুলো আছে, পাঁচ স্তরের-সিটি করপোরেশন, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং জেলা পরিষদ। এই আইনগুলোর ভেতরে আমাদের কমিশনের বিবেচনায় যে সমস্ত জায়গায় কিছু কিছু মনে হয়েছে যে স্ট্রিমলাইন করা দরকার, আমরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে সব আইনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা সমানভাবে উল্লেখ নেই। তাই সব আইনেই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে কমিশন নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।"
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এছাড়া, তিনি জানান, কমিশনের মত হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন না। পাশাপাশি, বর্তমানে একজন ব্যক্তিগত ঋণখেলাপি হিসেবে খেলাপি থাকলে তাকেও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবে কমিশন সম্মত হয়েছে।
তিনি বলেন, "শুধু ব্যাংক ঋণ নয়, বিদ্যুৎ, ওয়াসা, ভূমি করসহ বিভিন্ন সরকারি বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিলখেলাপিদেরও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্যতার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কর্ণধারের প্রতিষ্ঠানের নামে বকেয়া থাকলেও সেটি অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে।"
এছাড়া, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদেরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার ব্যাপারে কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে পরিবর্তনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব জানান, "সবগুলোর ভেতরে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।"
আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন
তিনি বলেন, "আইন সংশোধনের বিষয়টা আইনগত ব্যাপার। কমিশনের আলোচনা অনুযায়ী গৃহীত আইন সংশোধনের প্রস্তাবগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণ বিধিমালাও সংশোধন করা হবে।"
ইসির প্রস্তাব কবে পাঠানো হবে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, "যত তাড়াতাড়ি পারি পাঠিয়ে দেব।"
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, "এখন আমরা ১৬ বছর ও তদুর্ধ্বদের ডাটা কালেকশন করি এনআইডির জন্য অথবা ভোটার তালিকার জন্য। যখন একজন ১৮ বছরে পৌঁছান, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান।"
ইসি সচিব বলেন, "এই ডাটা কালেকশনটা কোন লেভেল পর্যন্ত নামানো যায়- সেটি নিয়ে আরও কিছু পর্যালোচনার পরে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা এসএসসি নাকি ক্লাস এইট নাকি প্রাথমিক, যেটাই হোক না কেন, একটি তুলনামূলক বিবরণী অনুযায়ী পরবর্তীতে সিদ্ধান্তে আসব।" সূত্র বাসস
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন