প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মহাকাশে মেরিটাইম স্যাটেলাইট পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে সরকার, যা বঙ্গোপসাগরে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর জন্য করা হচ্ছে। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি জানায়, এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সমুদ্রপথে চোরাচালান, মানবপাচার রোধ এবং জলসীমায় অবৈধ মাছ আহরণ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। শিগগিরই ‘এআইএস-টু ডট জিরো’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করবে সংযুক্ত কর্তৃপক্ষ। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৮ সালের মাঝামাঝিতে মেরিটাইম স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণের প্রত্যাশা করছে সরকার।
একাত্তরের রক্ত দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মালিকানা আন্তর্জাতিক আদালতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে বঙ্গোপসাগরের বিশাল একটি এলাকায়। ২০১২ ও ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ নিরসনের পরে বাংলাদেশ সমুদ্রের বুকে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা পায়। সেই সময় থেকেই সুনীল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান বিশেষজ্ঞরা করেছেন। তবে, সার্বক্ষণিক নজরদারি গড়ে উঠেনি সাগরের এই বিশাল এলাকায়।
কোস্টগার্ডের নজরদারিকে ফাঁকি দিয়ে মানবপাচার, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম এই জলসীমা দিয়ে চলমান রয়েছে। সাগরে ৪০ মিটারের কম গভীরতার বাণিজ্যিক ট্রলারের ওপর মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা কতটা পালন করা হচ্ছে, এ বিষয়ে কোন নজরদারি নেই। এই পরিস্থিতিতে, নিজেদের জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার মেরিটাইম স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।
বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকা এখনও নজরদারির বাইরে রয়েছে। তিনি বলেন, "নজরদারি না থাকলে তো সেখান থেকে যে কেউ মাছ ধরে নিয়ে যাবে। বঙ্গোপসাগরে আমাদের যে সকল সম্পদ রয়েছে, সেগুলোর সঠিক ব্যবহারে অবশ্যম্ভাবীভাবে স্যাটেলাইট বেজড সমাধান প্রয়োজন।"
বিএসসিএল জানিয়েছে যে, অক্টোবরের মধ্যে ‘এআইএস-টু ডট জিরো’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই কাজটি সম্পন্ন হবে। এখানে স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে স্যাটেলাইট নির্মাণের জন্য ভেন্ডর বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কত টাকা খরচ হবে, তা স্যাটেলাইটের আয়ু ও কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করবে।
ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান আরও জানান, যদি এই বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়, তাহলে ন্যূনতম ১৮ মাসের মধ্যে স্যাটেলাইট পাঠানো সম্ভব হবে। এর আগে, ২০১৮ সালের ১১ মে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বিএস-ওয়ান সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন