প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জন্মের সময় থেকেই তার দুই হাত নেই। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই নিলা খাতুনের স্বপ্নের পথকে থামাতে পারেনি। তিনি অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পা দিয়ে লিখে কামিল (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সিরাজগঞ্জের নিলা খাতুনের এই সাফল্য আজ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দিনমজুর উসমান গনি ও শাহিনুর বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে নিলা তৃতীয়। জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই। তবে ছোটবেলা থেকে লেখাপড়ার প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রচণ্ড। প্রথমে মায়ের সহায়তায় স্কুলে যাতায়াত করলেও পরে নিজেই সব কাজ করতে শিখে যান। বর্তমানে তিনি পা দিয়েই লেখালেখি, পরীক্ষা দেওয়া এবং দৈনন্দিন সব কাজগুলো স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করেন।
শুধু লেখাপড়া নয়, ঘরের বিভিন্ন কাজেও দক্ষতার সঙ্গে পারদর্শী নিলা। পা দিয়ে তরকারি ও মাছ কাটার পাশাপাশি উঠান ঝাড়ু দেওয়া এবং টিউবওয়েল চাপিয়ে পানি তোলার কাজও করেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছেন। ২০১৭ সালে দাখিল পরীক্ষায় ৩.৭০ জিপিএ, ২০১৯ সালে আলিম পরীক্ষায় ৩.৮৬ জিপিএ এবং ২০২২ সালে ফাজিল পরীক্ষায় ২.৯২ সিজিপিএ পান। পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ আহমেদ কামিল মাদরাসা থেকে কামিল প্রথম বর্ষে ২.৯৮ এবং দ্বিতীয় বর্ষে ২.৯২ সিজিপিএ অর্জন করে মাস্টার্স (কামিল) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
নিলা খাতুন জানান, “শিক্ষকতা আমার সবচেয়ে প্রিয় পেশা।” তাই তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষক নিবন্ধনের (এনটিআরসিএ) জন্য আবেদন করেছেন। তার কথায়, “একটি সরকারি চাকরি পেলে আমার দীর্ঘদিনের সংগ্রাম সফল হবে।”
নিলার মা শাহিনুর বেগম বলেন, “ছোটবেলা থেকেই মেয়েটার পড়াশোনার খুব ইচ্ছা ছিল। অনেক কষ্টের মধ্যেও সে কখনো হাল ছাড়েনি।” তিনি আরও বলেন, “এখন চাই, সে যেন একটি সরকারি চাকরি পায়।”
অসুস্থ বাবা উসমান গনি জানিয়েছেন, “দিনমজুরি করে মেয়েটিকে পড়িয়েছি। অনেক কষ্ট করে সে আজ এই জায়গায় এসেছে। সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন, তার যোগ্যতার মূল্যায়ন করে তাকে একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হোক।”
কামারখন্দ ফাজিল মাদরাসার বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শমসের আলী বলছিলেন, “নিলা অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। দুই হাত না থাকলেও পা দিয়ে লিখে যে সাফল্য সে অর্জন করেছে, তা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
জীবনের প্রতিটি ধাপে প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে চলা নিলা খাতুন এখন শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তিনি তার সংগ্রামের গল্পকে সফলতার গল্পে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস, সাহস ও সম্ভাবনার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন