বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:১১ এম
ভারতের তামিলনাড়ুতে গরু এবং বাছুর জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের বক্তব্য হলো, হাইকোর্ট মামলার মূল বিষয়ের সীমা অতিক্রম করে এমন একটি নির্দেশ দিয়েছে, যা রাজ্যের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে।
আইন বিষয়ক গণমাধ্যম লাইভ এল এবং বার অ্যান্ড বেঞ্চ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ মে হাইকোর্টের বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণের বেঞ্চ বিতর্কিত আদেশটি প্রদান করেন।
মামলাটি দায়ের করেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু মাক্কাল কাচ্চি-র সাধারণ সম্পাদক। আবেদনে দাবি করা হয়, ঈদুল আজহা (বকরিদ) উপলক্ষে কোয়েম্বাটুরে যেন প্রকাশ্যে পশু জবাই না হয় এবং কেবলমাত্র সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নির্ধারিত কসাইখানার মধ্যে জবাইয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
তামিলনাড়ু সরকার হাইকোর্টকে জবাবে জানায়, প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাই বন্ধে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, অনুমোদিত কসাইখানা চিহ্নিত করা হয়েছে, পরিদর্শনের জন্য কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং কেবল অনুমোদিত স্থাপনায় জবাই নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
শুনানির সময় হাইকোর্ট প্রথমে নির্দেশ দেয় যে, পশু জবাই শুধুমাত্র নির্ধারিত কসাইখানায় করতে হবে। তবে পরবর্তীতে আদালত নির্দেশ দেয় যে, ‘বকরিদের আগের দিন কিংবা বছরের অন্য কোনো দিনেই কোনো গরু বা বাছুর জবাই করা যাবে না।’ এই নির্দেশ বর্তমানে আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে তামিলনাড়ু সরকার জানাচ্ছে, হাইকোর্টের এই নির্দেশ কার্যত গোটা রাজ্যে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর এক সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা তামিলনাড়ু অ্যানিমাল প্রিজারভেশন অ্যাক্ট, ১৯৫৮-এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই আইনে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কর্মক্ষমতা বা প্রজননের জন্য অনুপযুক্ত গরুর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন সাপেক্ষে জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। এছাড়াও, পশু জবাই-সংক্রান্ত অন্যান্য আইনে জবাইয়ের পদ্ধতি ও শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু কোথাও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়নি।
সরকার আরও দাবি করেছে, মামলার আবেদনে রাজ্যব্যাপী গরু জবাই নিষিদ্ধ করার কোনো আবেদনই ছিল না। ফলস্বরূপ, হাইকোর্ট এমন একটি প্রতিকার দিয়েছে, যা মামলায় চাওয়া হয়নি এবং এইভাবে আদালত কার্যত বিদ্যমান আইনের পরিবর্তে নতুন আইন তৈরির মতো ভূমিকা নিয়েছে।
তামিলনাড়ু সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছে মাদ্রাজ হাইকোর্টের ২৭ মে-র আদেশ বাতিলের আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশও চেয়েছে।
এখন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, তামিলনাড়ুতে গরু এবং বাছুর জবাই-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি কাঠামো বহাল থাকবে, না হয় হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হুলিয়ান আলভারেজের ওপর নাকি অনেকের নজর। রিয়াল মাদ্রিদ, আর্সেনাল ও পিএসজির মতো ক্লাবগুলো তাকে দলে নিতে চায়। বার্সেলোনার নামও এই কাতারে আছে। দলটির প্রেসিডেন্ট হুয়ান লাপোর্তা এবার নিশ্চিত করেছেন, তারা আলভারেজের জন্য আসলেই প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।
২৬ বছর বয়সি আর্জেন্টাইনের জন্য বার্সেলোনার প্রস্তাব ১০০ মিলিয়ন ইউরোর। রবার্ট লেভানডোভস্কির জায়গা পূরণ করতে এই খরচ করতে আগ্রহী তারা। লেভানডোভস্কি এই সপ্তাহে শিকাগো ফায়ারে যোগ দিয়েছেন।
বার্সার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার অনুষ্ঠানে লাপোর্তা বলেন, ‘আমাদের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকো আলভারেজের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। ম্যানচেস্টার সিটিতে থাকার সময় থেকেই সে বার্সেলোনায় আসতে চেয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমি অ্যাতলেটিকোর প্রধান নির্বাহী মিগেল আনহেল গিল মারিনের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, তারা আলভারেজকে ছাড়তে চান না। তবে আমাদের প্রস্তাব বহাল আছে এবং আমরা সেটিতে অটল। চুক্তিটি এখনও সম্ভব, কিন্তু আমাদের প্রস্তাব অনির্দিষ্টকালের জন্য খোলা থাকবে না। অ্যাতলেটিকো না বলেছে, কারণ তাদের বিকল্প কোনো খেলোয়াড় নেই। তারা যদি একজন বিকল্প খুঁজে পায়, তাহলে দেখা যাবে কী হয়।’
গত সপ্তাহে আলভারেজ ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করার পর গিল মারিন অভিযোগ করেন, বার্সেলোনা ‘চরম অসম্মান’ দেখিয়েছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ একজন খেলোয়াড়কে প্রলুব্ধ করার অভিযোগে তারা ফিফার কাছে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার লাকি আক্তার নামের একজন নার্সের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে, যখন উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
লাকি আক্তার (২৮) হচ্ছেন পঞ্চগড়ের আটোয়ारी উপজেলার রামনকুমার ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মো. সামসুল হুদার কন্যা। তিনি গুনিয়াউক ১০শয্যার হাসপাতালে একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার শ্বশুরবাড়ি জেলার আখাউড়া উপজেলায় অবস্থিত। তিনি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে একটি বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের মৃত হুমায়ুন কবীরের ছেলে শরীফ আহমেদের (৩৫) সঙ্গে ৮-৯ বছর আগে লাকির বিবাহ হয়েছিল। লাকি নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক গ্রামের মুন্সী মুজাহিদ আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। বুধবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত তিনি নিজের কর্মস্থল গুনিয়াউক ১০শয্যার হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার সময় ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলায় পাখার লোহার হুকের সঙ্গে গলায় লায়লনের রশি পেচিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। এই খবর পেয়ে সন্ধ্যায় নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন নোমান মিয়া জানিয়েছেন, একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের মতে, স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের জন্য তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স আত্মহত্যা করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। পুলিশের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নৌকায় রঙয়ের কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে দুই শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে।
নিহত শ্রমিকদের নাম হচ্ছে, উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের শুশুয়া চর এলাকার বখতিয়ার ইসলামের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (২৫) এবং জিন্নদ আলীর ছেলে মো. ইয়াছিন আলী (৩০)।
বুধবার (১ জুলাই) বিকালে উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের শুশুয়া চর অঞ্চলে এ মর্মান্তিক ঘটনা সংঘটিত হয়।
জানা যাচ্ছে, যমুনা নদীর দুর্গম শুশুয়া চরে বিকালে তারা একসাথে নৌকায় রঙয়ের (আলকাতরা) কাজ করছিলেন। এই সময় হঠাৎ বজ্রপাতে তারা দুজনই ঘটনাস্থলে মারা যান। পরে তাদের স্বজনরা খবর পেয়ে দুজনের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। আর তাদের মৃত্যুর ফলে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভূঞাপুর থানার কর্মকর্তা (ওসি) একেএম রেজাউল করিম জানিয়েছেন, শুশুয়ার চরে বজ্রপাতে দুইজন দিনমজুরের মৃত্যুর ঘটনাটি তিনি জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের বিশ্বনাথে এক কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে দুই যুবককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।
বুধবার (১ জুলাই) সিলেটের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম রুবাইয়া ইয়াসমিন এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডবিধির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বিশ্বনাথ থানার শাহবাজপুর এলাকার মো. আশিক আলীর পুত্র জয়নাল (২৫) এবং কান্দিরগাও এলাকার মোঃ মঈনুদ্দিনের পুত্র নাজিম উদ্দিন (২৫)।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায় যে, ২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর বিকালে কিশোরী তার বাড়ি থেকে নানার বাড়ি যাওয়ার পথে জয়নাল ওই কিশোরীকে তার বাড়ির সামনে থেকে ডেকে নিয়ে যায় এবং বসতঘরে নিয়ে যান। সেখানে নাজিম উদ্দিন আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন। তারা দুজন মিলে সেখানে তাকে পালাক্রমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণের পর, যখন জয়নাল ঘর থেকে বের হয়ে যায়, তখন কিশোরী তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নিজের মায়ের কাছে ঘটনার কথা জানান। এরপর, মা ঘটনাস্থলে এসে মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং পরের দিন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই কিশোরী চারদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এই ঘটনায় ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেয়। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের এপিপি এডভোকেট নূর আহমদ মন্তব্য করেন, "এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে অপরাধ ও ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তারই প্রতিফলন এটি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ