ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শ্রীপুরের ৪০ পরিবার সাতদিন ধরে পানিবন্দি


শ্রীপুরের ৪০ পরিবার সাতদিন ধরে পানিবন্দি

লাগাতার ভারি বর্ষণে সাতদিন যাবৎ শ্রীপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কেওয়া উত্তরপাড়া (চাডা পুকুর পাড়) এলাকার ৪০টি পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরে-বাহিরে কোমর সমান পানি জমে থাকায় তারা দৈনন্দিন নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছে না। বসতবাড়িতে পানি ওঠায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। জলাবদ্ধতায় ওই এলাকায় বসবাসকারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চাডা পুকুরপাড় এলাকায় সরেজমিন গেলে পানিবন্দি পরিবারের ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগ করেন।

ওই এলাকার ৪০ পরিবারের প্রায় দুই শতাধিক মানুষের বসবাস। তাদের বসতঘর চাডা পুকুরপাড়ে অবস্থিত। বৃষ্টির ফোঁটা যেন দুঃস্বপ্ন তৈরি হচ্ছে। টানা বর্ষণ হলে তারা কোথায় দাঁড়াবে সে নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। পানিবন্দির কারণে পাড়ার স্কুল, কলেজ, মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

স্থানীয়দের অভিযোগ পানি জমে থাকায় পানিবন্দি পরিবারে রান্নাবান্না করতে না পেরে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। শ্রীপুর-মাওনা সড়কের কেওয়া বাজার এলাকায় নিচু জমিতে মাটি ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিপাত হলে চাডা পুকুরপাড় এলাকায় পানিবদ্ধতা শুরু হয়। অপরিকল্পিত মাটি ভরাটকারীকে এলাকাবাসী বারবার ধর্ণা দিলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেনি। পানিবদ্ধতার কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকে আত্মীয়র বাসায় অবস্থান নিয়েছেন। জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ির ভিতরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় রান্নাসহ দৈনন্দিন জীবনযাপনে কষ্ট হচ্ছে। অনেকটাই গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ ও গৃহপালিত পশু।

স্থানীয় আসাদ মিয়া বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে যায়। ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়া করতে পারে না। পচা-নোংরা পানি মাড়িয়ে চলতে গেলে চর্মরোগে আক্রান্ত হতে হয়।

তিনি জানান, পানিবন্দি থাকার খবরে শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী সরেজমিন এলাকায় গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা যায় সে বিষয়ে তাদের আশ্বাস দিয়েছেন।

রশিদা বেগম অভিযোগ করেন, তার ২টি রুমের ভেতর ১০ দিন যাবৎ পানি জমে থাকায় রান্না করতে পারছেন না। স্বামী সন্তানদেরকে নিয়ে শুকনো খাবার খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছেন। জমে থাকা পানি সরে না গেলে মাটি নরম হয়ে ঘরবাড়ি ভেঙে পড়বে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

ষাটোর্ধ্ব চাঁন মিয়া বলেন, ইট্টু (একটু) বৃষ্টিতেই পানিবন্দি হয়ে পড়ি আমরা। জলাবদ্ধতার কারণে ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে যায়। এলাকার ৪০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।

শ্রীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেদ আখতার বলেন, পানিবন্দি থাকার খবরে ওই এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বসবাসকারী বাসিন্দাদের পানি নিরসনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের কাজ শেষ করা হবে। যাতে পানিবদ্ধতা না হয় সেদিকে লক্ষ্য থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে ইন্টারনেট অফিসে চাঁদা দাবি ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৮ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২১ পি.এম


চট্টগ্রামে ইন্টারনেট অফিসে চাঁদা দাবি ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৮ জন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় 'ডিজিটাল ডট নেট' নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া চাঁদা দাবি ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের নাম হলো ইউনুস, ইমরান, আকবর হোসেন, সুমন, মনির, গিয়াস উদ্দীন, নয়ন এবং মো. আব্দুল নাহিদ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে পুলিশ মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়েছেন সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মেদ।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সিএমপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেছেন যে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবহার করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই সময় তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, যদি কেউ চাঁদা দাবি করে অথবা কোন প্রকার হুমকি প্রদান করে, তবে সেটি যেন সাথে সাথে পুলিশকে জানানো হয়। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ডেভিড ইমনকে ধরার জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৪ পি.এম


ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে কড়া হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে দেশটির সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে সব গুরুত্বপূর্ণ সেতু। 

বুধবার (১৫ জুলাই) এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই হুমকি দেন রিপাবলিকান নেতা। 

ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে উপকূল ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় থাকা সবকিছু লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নিজে থামতে না বলব, ততক্ষণ এই আক্রমণ চলবে।

জ্বালানি স্থাপনায় হামলার বিষয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে তিনি একেবারে শেষের জন্য রেখে দিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি না বদলালে শেষ পর্যন্ত সেগুলোতেও আক্রমণ চালানো হবে। 

তিনি আরও বলেন, আজ রাতেও মার্কিন বাহিনী কঠোর হামলা চালাবেন। আগামী রাতেও এই হামলা অব্যাহত থাকবে। তার পরের রাতেও আকাশ থেকে বোমা ফেলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি ইরানের জন্য আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। কারণ তখন ইরানের প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। এরপর সেতুগুলো লক্ষ্য করে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে। তারা ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ অচল করে দেবেন। সব সেতু পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবেন। যদি তারা আলোচনার টেবিলে না আসে, তবে এটাই হবে চূড়ান্ত পরিণতি। 

ট্রাম্পের দাবি, নতুন একটি চুক্তি করা ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। তিনি জানান, সাক্ষাৎকার দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগেও মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানিরা আসলে চুক্তি করতে চায়। আর তাদের জন্য চুক্তি করাই এখন সবচেয়ে ভালো বিকল্প। নইলে তাদের দেশে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সবকিছু মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে চায় বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, আগে সেখানে তিনি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে একটি ফি আরোপের কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চাইছে। এই বিনিয়োগের বিষয়টি তার কাছে আরও বেশি ভালো মনে হয়েছে। তাই তিনি ফি আরোপের ধারণাটি আপাতত বাতিল করেছেন। হরমুজ প্রণালি অবশ্যই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। তা না হলে বিশ্বের অন্য দেশগুলোও একই ধরনের অবরোধ শুরু করবে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর।

ট্রাম্প আরও বলেন, এই লোকগুলোর সঙ্গে আলোচনার একমাত্র উপায় হলো শক্তি প্রদর্শন করা। আর সেই শক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা। মার্কিন বাহিনী সেটাই করে দেখিয়েছে। তিনি দাবি করেন, মাত্র দুই দিন আগে তাদের মধ্যে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরানিরা সেই চুক্তি ভেঙে দিয়েছে, যা চরম হতাশাজনক।এ

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড একটি বিস্তারিত বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা একেবারে দুর্বল করে দেওয়া হবে। এই লক্ষ্য নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা শুরু করেছে। 

পরে সেন্টকম আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে। এরই অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর বিপুলসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন করা হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিপুল সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি। বর্তমানে অঞ্চলটিতে তাদের ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে শত শত সামরিক উড়োজাহাজও। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এই বিপুল সামরিক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলাবদ্ধতার ফলে প্রসূতি মা-রা গেলেন ঘরেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ পি.এম


জলাবদ্ধতার ফলে প্রসূতি মা-রা গেলেন ঘরেই

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার ফলস্বরূপ হাসপাতালে সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় নাজমা আক্তার (৩০) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু ঘটেছে।

এই ঘটনার উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি ঘটে বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামে।

নিহত নাজমা আক্তার ইসলামপুর গ্রামের জেলে মো. হক সাবের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নিঝুমদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণরূপে পানিতে তলিয়ে যায়। বিগত দুইদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও, বুধবার দুপুরে ফের অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে ইসলামপুর গ্রামের বিভিন্ন সড়ক ও চলাচলের পথ পানিতে ডুবে যায়। এই অবস্থার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটেছে।

এ পরিস্থিতির কারণে, বুধবার সকালে প্রসববেদনা শুরু হলে নাজমা আক্তারকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পরিবারের সদস্যরা। তবে চারদিকে পানি জমে থাকার দরুণ এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার ফলে, তাকে সময়মতো কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি মারা যান।

২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কেফায়েত হোসেন বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জোয়ারের পানি ও জলাবদ্ধতায় নিঝুমদ্বীপের নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় সড়ক পানির নিচে থাকায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। নাজমা আক্তারের মৃত্যু সেই দুর্ভোগের করুণ উদাহরণ। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী আক্তার বলেন, প্রসূতির আগে দুটি সন্তান রয়েছে এবং এটি তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার কথা ছিল। চারপাশে জোয়ার ও চলাচলের অসুবিধা রয়েছে। তাই ঘরের ভেতরে সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যু ঘটেছে। আমাদের রাস্তা নেই এবং ভালো হাসপাতালও নেই। এসব কারণে আমাদের মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চোখের সামনে ভিটেমাটি গিলে খাচ্ছে পদ্মা, নদীপাড়ের মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৮ পি.এম


চোখের সামনে ভিটেমাটি গিলে খাচ্ছে পদ্মা, নদীপাড়ের মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে

বর্ষা এলেই যেন জাগ্রত হয়ে ওঠে পদ্মার ক্ষুধার্ত চেহারা। উত্তাল ঢেউ এবং প্রচণ্ড স্রোতের মাঝখানে শুরু হয় নদীতীরের মানুষের নির্ঘুম রাত। একদিকে ভাঙনের গর্জন শোনা যাচ্ছে, অন্যদিকে ভাঙনে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর শঙ্কা। চোখের সামনে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর ধরে তৈরি হওয়া বসতভিটা, ফসলি জমি এবং জীবনের অবলম্বন। কান্না, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা এখন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাপাড়ের মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী, মুন্সিরচর এবং আকোটেরচর এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনের তীব্র স্রোত এবং পানির বৃদ্ধির ফলে নদীভাঙন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে, যার ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতোমধ্যে প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শত শত বিঘা ফসলি জমি, প্রায় দুই শতাধিক বসতঘর, কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি ইটভাটা এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে মতামত রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায় যে, ঢেওখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী, মুন্সিরচর এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা, আকোট, কালিখোলা, মোল্যাকান্দা ও খালাসীগ্রাম এলাকায় অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছেন।

স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে, যদি ভাঙন অব্যাহত থাকে, তাহলে আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী বাজার, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প, গুচ্ছগ্রামসহ প্রায় ১০টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি চর নাসিরপুরের চৌধুরীর হাট ও শিমুলতলী বাজার ঘাটও হুমকির মুখে পড়েছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ হল, বছরের পর বছর নদীশাসনের দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলস্বরূপ, প্রতি বর্ষায় নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের একটি শুদ্ধ দাবি হলো— 'ত্রাণ নয়, স্থায়ী বাঁধ চাই'। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, সাময়িক সহায়তার চেয়ে সুষম নদীশাসন প্রকল্পই পারেন এই অঞ্চলের মানুষদের ভাঙনের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানিয়েছেন, পদ্মা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি উপজেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

পদ্মার ভয়াল থাবায় বছরের পর বছর ধরে ভিটেমাটি হারানো মানুষের দীর্ঘশ্বাস যেন থামছেই না। এখন তাদের একমাত্র প্রত্যাশা হচ্ছে— স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদে নিজের ভিটেমাটিতে বসবাসের নিশ্চয়তা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%