০৭:২৬ পি.এম
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার ফলস্বরূপ হাসপাতালে সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় নাজমা আক্তার (৩০) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু ঘটেছে।
এই ঘটনার উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি ঘটে বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামে।
নিহত নাজমা আক্তার ইসলামপুর গ্রামের জেলে মো. হক সাবের স্ত্রী।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নিঝুমদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণরূপে পানিতে তলিয়ে যায়। বিগত দুইদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও, বুধবার দুপুরে ফের অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে ইসলামপুর গ্রামের বিভিন্ন সড়ক ও চলাচলের পথ পানিতে ডুবে যায়। এই অবস্থার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটেছে।
এ পরিস্থিতির কারণে, বুধবার সকালে প্রসববেদনা শুরু হলে নাজমা আক্তারকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পরিবারের সদস্যরা। তবে চারদিকে পানি জমে থাকার দরুণ এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার ফলে, তাকে সময়মতো কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি মারা যান।
২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কেফায়েত হোসেন বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জোয়ারের পানি ও জলাবদ্ধতায় নিঝুমদ্বীপের নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় সড়ক পানির নিচে থাকায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। নাজমা আক্তারের মৃত্যু সেই দুর্ভোগের করুণ উদাহরণ। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী আক্তার বলেন, প্রসূতির আগে দুটি সন্তান রয়েছে এবং এটি তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার কথা ছিল। চারপাশে জোয়ার ও চলাচলের অসুবিধা রয়েছে। তাই ঘরের ভেতরে সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যু ঘটেছে। আমাদের রাস্তা নেই এবং ভালো হাসপাতালও নেই। এসব কারণে আমাদের মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন