ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চোখের সামনে ভিটেমাটি গিলে খাচ্ছে পদ্মা, নদীপাড়ের মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে


চোখের সামনে ভিটেমাটি গিলে খাচ্ছে পদ্মা, নদীপাড়ের মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে

বর্ষা এলেই যেন জাগ্রত হয়ে ওঠে পদ্মার ক্ষুধার্ত চেহারা। উত্তাল ঢেউ এবং প্রচণ্ড স্রোতের মাঝখানে শুরু হয় নদীতীরের মানুষের নির্ঘুম রাত। একদিকে ভাঙনের গর্জন শোনা যাচ্ছে, অন্যদিকে ভাঙনে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর শঙ্কা। চোখের সামনে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর ধরে তৈরি হওয়া বসতভিটা, ফসলি জমি এবং জীবনের অবলম্বন। কান্না, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা এখন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাপাড়ের মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী, মুন্সিরচর এবং আকোটেরচর এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনের তীব্র স্রোত এবং পানির বৃদ্ধির ফলে নদীভাঙন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে, যার ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতোমধ্যে প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শত শত বিঘা ফসলি জমি, প্রায় দুই শতাধিক বসতঘর, কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি ইটভাটা এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে মতামত রয়েছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

সরেজমিনে দেখা যায় যে, ঢেওখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী, মুন্সিরচর এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা, আকোট, কালিখোলা, মোল্যাকান্দা ও খালাসীগ্রাম এলাকায় অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছেন।

স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে, যদি ভাঙন অব্যাহত থাকে, তাহলে আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী বাজার, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প, গুচ্ছগ্রামসহ প্রায় ১০টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি চর নাসিরপুরের চৌধুরীর হাট ও শিমুলতলী বাজার ঘাটও হুমকির মুখে পড়েছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ হল, বছরের পর বছর নদীশাসনের দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলস্বরূপ, প্রতি বর্ষায় নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের একটি শুদ্ধ দাবি হলো— 'ত্রাণ নয়, স্থায়ী বাঁধ চাই'। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, সাময়িক সহায়তার চেয়ে সুষম নদীশাসন প্রকল্পই পারেন এই অঞ্চলের মানুষদের ভাঙনের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানিয়েছেন, পদ্মা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি উপজেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

পদ্মার ভয়াল থাবায় বছরের পর বছর ধরে ভিটেমাটি হারানো মানুষের দীর্ঘশ্বাস যেন থামছেই না। এখন তাদের একমাত্র প্রত্যাশা হচ্ছে— স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদে নিজের ভিটেমাটিতে বসবাসের নিশ্চয়তা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭৬টি চেকে সই আদায়ের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে সমন, রিমান্ডে নিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


৭৬টি চেকে সই আদায়ের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে সমন, রিমান্ডে নিয়ে

রিমান্ডে নিয়ে ৭৬টি চেকে সই করিয়ে বিভিন্ন মামলা দেওয়া এবং প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় ডিবির সাবেক সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হকসহ চারজনকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছে আদালত। বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করেন।

অপর আসামিরা হলেন- ধানমন্ডি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান হাবিব এবং মোকাররম হোসেন জিমি।

এদিন মামলার বাদী মজুমদার আরিফুর রহমানের উপস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদনকে আমলে নেন আদালত। এসময় বাদীপক্ষের আইনজীবী আফজাল হোসেন মৃধা আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আগামী ১৯ আগস্ট আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ভিকটিমের ভাই মজুমদার আরিফুর রহমান বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ গত ২১ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামি সাইদুর রহমান হাবিবের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এবং এলসির মাধ্যমে আতিকুর রহমান তার এএসআর কম্পিউটারাইজড সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও এএসআর সোয়েটার লিমিটডের আধুনিকায়ন করার জন্য মালিকানাধীন রার্নি টাইগার্স (বিডি) লিমিটেডের মাধ্যমে চায়না থেকে মেশিনারিজ আমদানি করেন। পরবর্তী সময়ে আতিকুর রহমান আসামি সাইদুর রহমান হাবিবের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন।

আসামি একাধিকবার আতিকুর রহমানের কারখানার মেশিনারিজ পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে বন্ধ করে দেন। এরপর আতিকুর রহমান তার সঙ্গে সমঝোতা করে কিছু টাকা পরিশোধ করে পুনরায় সোয়েটার কারখানাটি সচল করেন। তবে আতিকুর রহমান সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী আসামি সাইদুর রহমান হাবিবের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং আদালতে ক্ষতিপূরণের জন্য সাইদুর রহমান হাবিবের নামে দেওয়ানি মোকাদ্দমা দায়ের করেন। এ কারণে সাইদুর রহমান হাবিব বাদী হয়ে আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা প্রথমে উত্তরা পশ্চিম থানা তদন্ত করে। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তভার ডিবি ডিএমপির ওপর ন্যাস্ত করা হয়। ২০২০ সালের ৭ জানুয়ারি আতিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ১৪ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশি রিমান্ডে থাকাকালে ১৫ জানুয়ারি রাতে মামলা নিষ্পত্তির প্রলোভন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংকে তার মালিকানাধীন এএসআর কম্পিউটারাইজড সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে থাকা অ্যাকাউন্টের ৭৬টি চেকে বাহক হিসেবে সাইদুর রহমান হাবিবের নাম উল্লেখ করে আতিকুর রহমানকে দিয়ে স্বাক্ষর করে নেওয়া হয়। আসামি সাইদুর রহমান হাবিব ১৬ জানুয়ারি আতিকুর রহমানকে নিজ জিম্মায় আদালত থেকে জামিনে নিয়ে আসেন। পরে আতিকুর রহমানকে ৭৬টি চেক থেকে চারটি চেক ফেরত দিয়ে আসামি সাইদুর রহমান হাবিব আরও চারটি চেক গ্রহণ করেন। আসামি সাইদুর রহমান হাবিব ও মোকাররম হোসেন জিমির কথামত জামিন হওয়ার শর্ত হিসেবে আতিকুর রহমানের জামিনের আবেদনে বাদী-বিবাদীর আপস মীমাংসার কথা উল্লেখ করা হয়। মামলাটি তদন্তকালে মো. নাজমুল হক, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান হাবিব এবং মোকাররম হোসেন জিমির বিরুদ্ধে অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে সরে গেছেন শিক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৩ পি.এম


শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে সরে গেছেন শিক্ষার্থীরা

কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সরে গেছেন। এরপর সচিবালয় থেকে শিক্ষা ভবন পর্যন্ত উভয়মুখী সড়ক ব্যবহারকারী যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে সরে যান।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের এডিসি রব্বানী হোসেন বলেছেন, শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করে সরে যাওয়ায় সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী এ কে এম রিয়াজুল মন্তব্য করেছেন, আগামীকাল যেহেতু পরীক্ষা রয়েছে, তাই এখানকার কর্মসূচি তারা শেষ করেছেন। তবে তাদের দাবিগুলো বহাল থাকবে।

রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেখানে প্রধানমন্ত্রী অফিস করেন। সে কারণে এখানে কোনো বিষয়কে আমরা ছোট করে দেখি না। নিরাপত্তার স্বার্থে সড়কটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। ছাত্ররা নিজেদের মধ্যে সমন্বয়হীনতায় পরে পরে সড়ক ছেড়ে চলে যায়। এরপরই আমরা সড়কে দেওয়া ব্যারিকেড সরিয়ে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করি।

এই আন্দোলনে ছাত্র ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, এই আন্দোলনে ছাত্ররা অথবা অন্য কেউ প্রবেশ করেছে কিনা, বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এ নিয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না।

প্রসঙ্গত, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলমান রাখার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ ও পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে ঢাকাসহ বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের ৭ সেনা মার্কিন হামলায় নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৪ পি.এম


ইরানের ৭ সেনা মার্কিন হামলায় নিহত

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের ইরানশাহরে অবস্থিত বাম্বুর সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন হামলায় দেশটির অন্তত সাতজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের সেনাবাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, মার্কিন বাহিনীর এই কাপুরুষোচিত আগ্রাসনের উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। স্ট্র্যাটেজিক ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলা তীব্র পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ের মধ্যে এই বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ইরানের সেনাবাহিনীর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী সিস্তান-বেলুচিস্তানের ওই সামরিক ঘাঁটিতে ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। হামলায় ইরানশাহরের ৩৮৮তম ব্রিগেডের সাতজন পেশাদার সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাটি মূলত ওই ঘাঁটির একটি স্যানাটোরিয়াম, গেস্টহাউস এবং প্রহরা চৌকি লক্ষ্য করে চালানো হয়। ইরানি বাহিনী এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে উপযুক্ত সময়ে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

চলমান এই সংঘাতের জেরে ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রতিনিয়ত হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দেশটিতে ৩০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনী মূলত হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী দক্ষিণ ইরানকে লক্ষ্য করে তাদের হামলা জোরদার করেছে। এর বিপরীতে, ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের আন্তর্জাতিক নির্দেশনা না মানা জাহাজগুলোর ওপর পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পরপরই তেহরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের প্রবেশাধিকার সীমিত করে দেয়। এটি বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের প্রধান রুট। এরপর গত সপ্তাহে মার্কিন হামলা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে কৌশলগত এই নৌপথটি ইরান পুনরায় বন্ধ করে দেয়। এই উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গভীর রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা করেছে যে, তারা ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নৌ অবরোধ পুনরায় শুরু করেছে।

এর প্রতিক্রিয়ায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি’ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। অথচ এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে মার্কিন প্রশাসন বিশ্ববাণিজ্যের স্বার্থে এই জলপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছিল।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার (১৩ জুলাই) নতুন ঘোষণা দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে বিশেষ নিরাপত্তা দেবে। তবে বিনিময়ে ওই পথ দিয়ে পরিবাহিত সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের এমন একতরফা ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে পড়ে মো. রাসেল মিয়া (৩২) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ১০ তলা ইউটিলিটি-৪ ভবনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

শ্রমিকদের সূত্রে জানা যায়, ভবনটিতে কাজ করার সময় রাসেল নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে অন্যান্য শ্রমিকরা তাকে খুব দ্রুত উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু ঘটে।

নিহত রাসেলের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। কাজের উদ্দেশ্যে তিনি ময়মনসিংহে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর পর তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে সেখানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণকাজ চলাকালে মাঝে মাঝে শ্রমিক হতাহতের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে, ২০১৯ ও ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছিল। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে নির্মাণকাজে শ্রমিকদের আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। কিছুদিন আগেও নির্মাণাধীন একটি ছাত্র হলের ছাদের একটি অংশ ধসে একজন শ্রমিক আহত হয়। ধারাবাহিক এসব দুর্ঘটনার পরও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, 'আমরা সেই ভবনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দুর্ঘটনা ঘটার কারণ জানতে চেয়েছি।' তিনি আরো বলেন, 'শ্রমিকদের নিরাপত্তায় আমরা নিয়মিত তদারকি করছি, তবুও দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা নিহতের পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করবো, এ নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে।'

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের উপ-প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুবুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%