ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প


ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে কড়া হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে দেশটির সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে সব গুরুত্বপূর্ণ সেতু। 

বুধবার (১৫ জুলাই) এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই হুমকি দেন রিপাবলিকান নেতা। 

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে উপকূল ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় থাকা সবকিছু লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নিজে থামতে না বলব, ততক্ষণ এই আক্রমণ চলবে।

জ্বালানি স্থাপনায় হামলার বিষয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে তিনি একেবারে শেষের জন্য রেখে দিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি না বদলালে শেষ পর্যন্ত সেগুলোতেও আক্রমণ চালানো হবে। 

তিনি আরও বলেন, আজ রাতেও মার্কিন বাহিনী কঠোর হামলা চালাবেন। আগামী রাতেও এই হামলা অব্যাহত থাকবে। তার পরের রাতেও আকাশ থেকে বোমা ফেলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি ইরানের জন্য আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। কারণ তখন ইরানের প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। এরপর সেতুগুলো লক্ষ্য করে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে। তারা ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ অচল করে দেবেন। সব সেতু পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবেন। যদি তারা আলোচনার টেবিলে না আসে, তবে এটাই হবে চূড়ান্ত পরিণতি। 

ট্রাম্পের দাবি, নতুন একটি চুক্তি করা ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। তিনি জানান, সাক্ষাৎকার দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগেও মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানিরা আসলে চুক্তি করতে চায়। আর তাদের জন্য চুক্তি করাই এখন সবচেয়ে ভালো বিকল্প। নইলে তাদের দেশে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সবকিছু মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে চায় বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, আগে সেখানে তিনি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে একটি ফি আরোপের কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চাইছে। এই বিনিয়োগের বিষয়টি তার কাছে আরও বেশি ভালো মনে হয়েছে। তাই তিনি ফি আরোপের ধারণাটি আপাতত বাতিল করেছেন। হরমুজ প্রণালি অবশ্যই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। তা না হলে বিশ্বের অন্য দেশগুলোও একই ধরনের অবরোধ শুরু করবে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর।

ট্রাম্প আরও বলেন, এই লোকগুলোর সঙ্গে আলোচনার একমাত্র উপায় হলো শক্তি প্রদর্শন করা। আর সেই শক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা। মার্কিন বাহিনী সেটাই করে দেখিয়েছে। তিনি দাবি করেন, মাত্র দুই দিন আগে তাদের মধ্যে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরানিরা সেই চুক্তি ভেঙে দিয়েছে, যা চরম হতাশাজনক।এ

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড একটি বিস্তারিত বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা একেবারে দুর্বল করে দেওয়া হবে। এই লক্ষ্য নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা শুরু করেছে। 

পরে সেন্টকম আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে। এরই অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর বিপুলসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিপুল সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি। বর্তমানে অঞ্চলটিতে তাদের ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে শত শত সামরিক উড়োজাহাজও। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এই বিপুল সামরিক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলাবদ্ধতার ফলে প্রসূতি মা-রা গেলেন ঘরেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ পি.এম


জলাবদ্ধতার ফলে প্রসূতি মা-রা গেলেন ঘরেই

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার ফলস্বরূপ হাসপাতালে সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় নাজমা আক্তার (৩০) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু ঘটেছে।

এই ঘটনার উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি ঘটে বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামে।

নিহত নাজমা আক্তার ইসলামপুর গ্রামের জেলে মো. হক সাবের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নিঝুমদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণরূপে পানিতে তলিয়ে যায়। বিগত দুইদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও, বুধবার দুপুরে ফের অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে ইসলামপুর গ্রামের বিভিন্ন সড়ক ও চলাচলের পথ পানিতে ডুবে যায়। এই অবস্থার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটেছে।

এ পরিস্থিতির কারণে, বুধবার সকালে প্রসববেদনা শুরু হলে নাজমা আক্তারকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পরিবারের সদস্যরা। তবে চারদিকে পানি জমে থাকার দরুণ এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার ফলে, তাকে সময়মতো কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক জটিলতার কারণে তিনি মারা যান।

২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কেফায়েত হোসেন বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জোয়ারের পানি ও জলাবদ্ধতায় নিঝুমদ্বীপের নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় সড়ক পানির নিচে থাকায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। নাজমা আক্তারের মৃত্যু সেই দুর্ভোগের করুণ উদাহরণ। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী আক্তার বলেন, প্রসূতির আগে দুটি সন্তান রয়েছে এবং এটি তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার কথা ছিল। চারপাশে জোয়ার ও চলাচলের অসুবিধা রয়েছে। তাই ঘরের ভেতরে সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যু ঘটেছে। আমাদের রাস্তা নেই এবং ভালো হাসপাতালও নেই। এসব কারণে আমাদের মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চোখের সামনে ভিটেমাটি গিলে খাচ্ছে পদ্মা, নদীপাড়ের মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৮ পি.এম


চোখের সামনে ভিটেমাটি গিলে খাচ্ছে পদ্মা, নদীপাড়ের মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে

বর্ষা এলেই যেন জাগ্রত হয়ে ওঠে পদ্মার ক্ষুধার্ত চেহারা। উত্তাল ঢেউ এবং প্রচণ্ড স্রোতের মাঝখানে শুরু হয় নদীতীরের মানুষের নির্ঘুম রাত। একদিকে ভাঙনের গর্জন শোনা যাচ্ছে, অন্যদিকে ভাঙনে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর শঙ্কা। চোখের সামনে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর ধরে তৈরি হওয়া বসতভিটা, ফসলি জমি এবং জীবনের অবলম্বন। কান্না, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা এখন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাপাড়ের মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী, মুন্সিরচর এবং আকোটেরচর এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনের তীব্র স্রোত এবং পানির বৃদ্ধির ফলে নদীভাঙন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে, যার ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতোমধ্যে প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শত শত বিঘা ফসলি জমি, প্রায় দুই শতাধিক বসতঘর, কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি ইটভাটা এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে মতামত রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায় যে, ঢেওখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী, মুন্সিরচর এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা, আকোট, কালিখোলা, মোল্যাকান্দা ও খালাসীগ্রাম এলাকায় অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছেন।

স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে, যদি ভাঙন অব্যাহত থাকে, তাহলে আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী বাজার, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প, গুচ্ছগ্রামসহ প্রায় ১০টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি চর নাসিরপুরের চৌধুরীর হাট ও শিমুলতলী বাজার ঘাটও হুমকির মুখে পড়েছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ হল, বছরের পর বছর নদীশাসনের দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলস্বরূপ, প্রতি বর্ষায় নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের একটি শুদ্ধ দাবি হলো— 'ত্রাণ নয়, স্থায়ী বাঁধ চাই'। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, সাময়িক সহায়তার চেয়ে সুষম নদীশাসন প্রকল্পই পারেন এই অঞ্চলের মানুষদের ভাঙনের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানিয়েছেন, পদ্মা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি উপজেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

পদ্মার ভয়াল থাবায় বছরের পর বছর ধরে ভিটেমাটি হারানো মানুষের দীর্ঘশ্বাস যেন থামছেই না। এখন তাদের একমাত্র প্রত্যাশা হচ্ছে— স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদে নিজের ভিটেমাটিতে বসবাসের নিশ্চয়তা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭৬টি চেকে সই আদায়ের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে সমন, রিমান্ডে নিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


৭৬টি চেকে সই আদায়ের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে সমন, রিমান্ডে নিয়ে

রিমান্ডে নিয়ে ৭৬টি চেকে সই করিয়ে বিভিন্ন মামলা দেওয়া এবং প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় ডিবির সাবেক সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হকসহ চারজনকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছে আদালত। বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করেন।

অপর আসামিরা হলেন- ধানমন্ডি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান হাবিব এবং মোকাররম হোসেন জিমি।

এদিন মামলার বাদী মজুমদার আরিফুর রহমানের উপস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদনকে আমলে নেন আদালত। এসময় বাদীপক্ষের আইনজীবী আফজাল হোসেন মৃধা আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আগামী ১৯ আগস্ট আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ভিকটিমের ভাই মজুমদার আরিফুর রহমান বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ গত ২১ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামি সাইদুর রহমান হাবিবের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এবং এলসির মাধ্যমে আতিকুর রহমান তার এএসআর কম্পিউটারাইজড সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও এএসআর সোয়েটার লিমিটডের আধুনিকায়ন করার জন্য মালিকানাধীন রার্নি টাইগার্স (বিডি) লিমিটেডের মাধ্যমে চায়না থেকে মেশিনারিজ আমদানি করেন। পরবর্তী সময়ে আতিকুর রহমান আসামি সাইদুর রহমান হাবিবের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন।

আসামি একাধিকবার আতিকুর রহমানের কারখানার মেশিনারিজ পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে বন্ধ করে দেন। এরপর আতিকুর রহমান তার সঙ্গে সমঝোতা করে কিছু টাকা পরিশোধ করে পুনরায় সোয়েটার কারখানাটি সচল করেন। তবে আতিকুর রহমান সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী আসামি সাইদুর রহমান হাবিবের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং আদালতে ক্ষতিপূরণের জন্য সাইদুর রহমান হাবিবের নামে দেওয়ানি মোকাদ্দমা দায়ের করেন। এ কারণে সাইদুর রহমান হাবিব বাদী হয়ে আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা প্রথমে উত্তরা পশ্চিম থানা তদন্ত করে। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তভার ডিবি ডিএমপির ওপর ন্যাস্ত করা হয়। ২০২০ সালের ৭ জানুয়ারি আতিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ১৪ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশি রিমান্ডে থাকাকালে ১৫ জানুয়ারি রাতে মামলা নিষ্পত্তির প্রলোভন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংকে তার মালিকানাধীন এএসআর কম্পিউটারাইজড সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে থাকা অ্যাকাউন্টের ৭৬টি চেকে বাহক হিসেবে সাইদুর রহমান হাবিবের নাম উল্লেখ করে আতিকুর রহমানকে দিয়ে স্বাক্ষর করে নেওয়া হয়। আসামি সাইদুর রহমান হাবিব ১৬ জানুয়ারি আতিকুর রহমানকে নিজ জিম্মায় আদালত থেকে জামিনে নিয়ে আসেন। পরে আতিকুর রহমানকে ৭৬টি চেক থেকে চারটি চেক ফেরত দিয়ে আসামি সাইদুর রহমান হাবিব আরও চারটি চেক গ্রহণ করেন। আসামি সাইদুর রহমান হাবিব ও মোকাররম হোসেন জিমির কথামত জামিন হওয়ার শর্ত হিসেবে আতিকুর রহমানের জামিনের আবেদনে বাদী-বিবাদীর আপস মীমাংসার কথা উল্লেখ করা হয়। মামলাটি তদন্তকালে মো. নাজমুল হক, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান হাবিব এবং মোকাররম হোসেন জিমির বিরুদ্ধে অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে সরে গেছেন শিক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৩ পি.এম


শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে সরে গেছেন শিক্ষার্থীরা

কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সরে গেছেন। এরপর সচিবালয় থেকে শিক্ষা ভবন পর্যন্ত উভয়মুখী সড়ক ব্যবহারকারী যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে সরে যান।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের এডিসি রব্বানী হোসেন বলেছেন, শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করে সরে যাওয়ায় সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী এ কে এম রিয়াজুল মন্তব্য করেছেন, আগামীকাল যেহেতু পরীক্ষা রয়েছে, তাই এখানকার কর্মসূচি তারা শেষ করেছেন। তবে তাদের দাবিগুলো বহাল থাকবে।

রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেখানে প্রধানমন্ত্রী অফিস করেন। সে কারণে এখানে কোনো বিষয়কে আমরা ছোট করে দেখি না। নিরাপত্তার স্বার্থে সড়কটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। ছাত্ররা নিজেদের মধ্যে সমন্বয়হীনতায় পরে পরে সড়ক ছেড়ে চলে যায়। এরপরই আমরা সড়কে দেওয়া ব্যারিকেড সরিয়ে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করি।

এই আন্দোলনে ছাত্র ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, এই আন্দোলনে ছাত্ররা অথবা অন্য কেউ প্রবেশ করেছে কিনা, বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এ নিয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না।

প্রসঙ্গত, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলমান রাখার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ ও পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে ঢাকাসহ বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%