শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৯ পি.এম
কলকাতার দমদম বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভিড় ছিল অত্যন্ত সরগরম। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নারীদের টয়লেটে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটে লেখা ছিল, ৩০ নম্বর ফটকে একটি বোমা রাখা আছে। এই বার্তা মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় এবং বিমানবন্দর জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এরপরই শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নারীদের টয়লেটে চিরকুটটি পান এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। চিরকুটে ৩০ নম্বর ফটকে বোমা থাকার উল্লেখ ছিল।
চিরকুট পাওয়ার পরপরই বিমানবন্দর থানায় খবর দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা বিমানবন্দরে এসে তল্লাশি চালান। তবে তল্লাশির ফলস্বরূপ সন্দেহজনক কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে।
দুর্গাপূজার ছুটি শেষে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভিড় ছিল স্বাভাবিক দিনের তুলনায় বেশি। এই সময়ে বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রী ও বিমানবন্দরের কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
এর আগে গত ৮ অক্টোবরও কলকাতার একই বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছিল। সে সময় ইমেইলের মাধ্যমে বিমানবন্দরের ভেতরে বোমা থাকার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল তল্লাশি চালালেও সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের কানাইপুরে একটি বালুবোঝাই ট্রাক উল্টে পড়ে একটি প্রাইভেটকারের ওপর চাপা দিয়েছে। এই দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের ভেতরে থাকা ৭ বছর বয়সী একটি ছেলের সঙ্গে তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৩ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের তেঁতুলতলা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পলাশ মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগম (৩২) এবং তার ছেলে শাওন (৭)।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুমি তার পরিবারের সঙ্গে বাবার বাড়ি মাগুরা জেলার মোহম্মদপুর থেকে প্রাইভেটকারে করে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালু বোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে প্রাইভেটকারটির ওপর। এতে প্রাইভেটকারটি চ্যাপ্টা হয়ে যায় এবং দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা প্রাইভেটকারে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমি ও তার ছেলের মৃত্যু ঘটে। আহত ৩ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শ্রীবাস বাড়ৈ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের পাশাপাশি একটি অটোরিকশাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বালুর নিচে প্রাইভেটকারের ভেতরে একজন আটকা পড়েছিলেন, যাকে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করিমপুর হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে চার বন্ধুর ওপর বাঁশ দিয়ে হামলা চালিয়ে একটি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার তালপল্লি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। হামলার ফলে চার বন্ধু আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ভোলাহাট উপজেলার ঝাউবোনা এলাকার হাবিব (১৯), রোহান (১৯), হাসিব (২০) ও মোবাচ্ছের (১৯)।
পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর দুইটি মোটরসাইকেলে করে চার বন্ধু ভোলাহাট-শিবগঞ্জ সড়কের তালতলি বিল এলাকায় ঘুরতে যাচ্ছিলেন। তালপল্লি এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাদের একটি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও বাঁশ দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়, যার ফলে চার বন্ধু আহত হন। পরে দুর্বৃত্তরা একটি মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে বিলের রাস্তায় চেকপোস্টের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাবিবের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ভোলাহাট থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
এদিকে, তালপল্লি এলাকায় ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এল নিনোর প্রভাবে ইউরোপ মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। চলতি বছরের গ্রীষ্মে মহাদেশটির বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে তীব্র গরমের কারণে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন, এই মৃত্যুর মধ্যে প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজনের জন্য মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী।
গবেষকদের মতে, জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে অতিরিক্ত গরমের কারণে শহরাঞ্চলে অন্তত ৩২ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। দিনের বেলায় তীব্র গরমের পাশাপাশি রাতেও তাপমাত্রা না কমায় মানুষের শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার সুযোগ পায়নি।
লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ম্যালকম মিস্ত্রি মন্তব্য করেন, '৮৫৪টি শহর এলাকায় তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুর এই সংখ্যা সত্যিই বিস্ময়কর। তবে এর চেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব মৃত্যুর একটি বড় অংশ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটেছে।'
গবেষণায় দেখা গেছে, মাল্টা, ইতালি ও হাঙ্গেরিতে গরমে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ছিল। তবে মোট মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য এগিয়ে রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী কেটি হোয়াইট বলেছেন, 'এই মর্মান্তিক পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, জলবায়ু সংকটের কারণে এই গ্রীষ্মে হাজার হাজার পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে।'
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতালির নেপলস শহর। সেখানে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ৮১৫ জন গরমে মারা গেছেন। মৃতদের প্রায় অর্ধেক ৮৫ বছরের বেশি বয়সী হলেও, কম বয়সীরাও ঝুঁকিমুক্ত ছিলেন না। ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী অন্তত ৮৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এই গরমে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যগত জটিলতার পাশাপাশি একাকীত্ব ও দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
নেপলসের চিকিৎসক মারিও গুয়ারিনো বলেন, 'বর্তমান সময়ে আসল মহামারি হলো একাকীত্ব। গ্রীষ্মের সময় অনেক প্রবীণ মানুষ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা থাকেন। আয় কম থাকায় তারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র কিনতে পারেন না, অথবা বিদ্যুৎ বিলের ভয়ে তা চালানো থেকে বিরত থাকেন।'
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ মন্তব্য করেছেন যে, এনসিপি পুরোপুরি জামায়াতের পেটে ঢুকে গেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে তিনি ফেসবুকে একটি পোস্টে এই কথা বলেন।
পোস্টে আবু হানিফ উল্লেখ করেন, ‘শুধু জামায়াতের বিরোধিতা করার কারণে আজকে এনসিপির এই দুই নারী নেত্রীকে নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে বাদ দিয়ে দিলো। এই দুই নারী নেত্রীকে বাদ দিয়ে এনসিপি প্রমাণ করলো তারা এখন পুরোপুরি জামায়াতের পেটে ডুকে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, "এনসিপি গঠনের পর থেকেই মানুষের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছিলো যে এটি জামায়াত নিয়ন্ত্রিত একটি সংগঠন। নির্বাচনের সময় মানুষের ধারণা বাস্তবে প্রমাণিত হয়। জামায়াতের সাথে জোটের বিষয়ে এনসিপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের দুই সদস্য সামান্তা শারমিন ও নাহিদা সারওয়ার নিভা সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করেছিলেন। এই দুই নারীর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো, শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নয়, বিগত ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনেও তারা সামনে ছিলেন। শুধু জামায়াতের বিরোধিতা করার কারণে আজকে এনসিপির এই দুই নারী নেত্রীকে নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে বাদ দিয়ে দিলো। এই দুই নারী নেত্রীকে বাদ দিয়ে এনসিপি প্রমাণ করলো তারা এখন পুরোপুরি জামায়াতের পেটে ডুকে গেছে। কারণ এখন আর জামায়াতের বিরোধিতা করার মতো এনসিপির নীতিনির্ধারণী ফোরামে আর কেউ নেই। এর ফলে জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে এনসিপি পূর্বের তুলনায় আরও বেশি ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ