ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কক্সবাজারে লাইফগার্ডের অভাব: সাগরে ডুবে মৃত্যু বৃদ্ধি পেয়েছে তবুও নিরাপত্তা বাড়েনি


কক্সবাজারে লাইফগার্ডের অভাব: সাগরে ডুবে মৃত্যু বৃদ্ধি পেয়েছে তবুও নিরাপত্তা বাড়েনি

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ভিড় জমাচ্ছেন। কিন্তু যথেষ্ট লাইফগার্ড ও নিরাপত্তার অভাবে অনেকের আনন্দভ্রমণ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হচ্ছে। সাগরের প্রবল স্রোতে প্রতি বছর মৃত্যু ও নিখোঁজের ঘটনা বাড়ছেই।

সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থা জানাচ্ছে, ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের মাত্র দুই কিলোমিটারে লাইফগার্ড সেবা রয়েছে। অন্যদিকে, বাকি অংশে নিরাপত্তা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা নিরাপত্তা পতাকা নেই। এর ফলে জনপ্রিয় ১৫-২০টি পয়েন্টে সমুদ্রস্নানে নেমে চরম ঝুঁকিতে পড়ছেন পর্যটকরা।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরে সাগরে ডুবে ৭৬ জন পর্যটক মারা গেছেন। এর মধ্যে গত বছরই প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জন, তবে এ সময়ে এক হাজার ২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যাপ্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

সরেজমিনে দেখা যায়, সৈকতের সি-গাল পয়েন্টে বিপজ্জনক এলাকা চিহ্নিত করে লাল পতাকা টাঙানো হলেও, পর্যাপ্ত সতর্কবার্তা, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বা দৃশ্যমান লাইফগার্ড দেখা যায় না। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন ঘাটতির মধ্যেই অবাধে সমুদ্রে নামছেন পর্যটকরা। সী-সেফ লাইফগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত বছরেই এ পয়েন্টে সমুদ্রস্নানে নেমে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

লাল পতাকা থাকলেও এর গুরুত্ব সম্পর্কে অনেক পর্যটকের ধারণা নেই। ফলে বড় ঢেউ এবং তীব্র স্রোতের মধ্যেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নারী-পুরুষ, এমনকি শিশু-কিশোররাও গোসল করছেন।

শরীয়তপুর থেকে আসা পর্যটক জীবন মোল্লা জানান, নিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। বান্দরবান ভ্রমণের পর কক্সবাজারে এসে গাড়ি থেকে নেমেই সরাসরি সমুদ্রে নেমে পড়েন তিনি।

মো. লিংকন নামের আরেক পর্যটক বলেন, ‘সৈকতে সতর্ক করার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কোথায় নিরাপদ এবং কোথায় ঝুঁকিপূর্ণ, তা বোঝা যাচ্ছে না। লাল পতাকার অর্থ বিপজ্জনক এবং সমুদ্রে নামা নিষেধ জানলেও অনেকেই সেখানে নামছেন দেখে আমরাও নেমে পড়েছি।’

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে ইনানী। মেরিন ড্রাইভ দিয়ে পর্যটকরা পাথুরে সৈকত, ইনানী জেটি বা পাতুয়ারটেকে নামেন। তাতে দেখা যায়, বালিয়াড়ি পেরিয়ে অনেকেই সমুদ্রস্নানে নেমে পড়েন, কিন্তু ইনানী সৈকতের তিনটি পয়েন্টে কোনো লাইফগার্ড সেবা নেই। সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা নিরাপত্তা চিহ্নিত পতাকা তাও নেই।

ইনানীতে আসা পর্যটক শফিউল আলম জানান, কক্সবাজার থেকে আসার পথে কিছু সাইনবোর্ড চোখে পড়লেও ইনানী সৈকতের আশপাশে তেমন সতর্কবার্তা নেই। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে জোয়ার-ভাটা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং নিরাপদে সমুদ্রে নামার নির্দেশনা সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা জরুরি বলে জানান তিনি।

গাজীপুর থেকে আসা তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘সৈকতের এই অংশে আমরা কোথাও লাল-হলুদ সতর্কতামূলক পতাকা দেখতে পাইনি। কখন সমুদ্রে নামা নিরাপদ, আর কখন ঝুঁকিপূর্ণ এ ধরনের কোনো নির্দেশনাও চোখে পড়েনি।’

ঢাকার বনানী থেকে আসা পর্যটক রোকেয়া বেগম জানান, ‘সমুদ্রে নামার সময় কিছুটা ঝুঁকি অনুভব হয়। কেননা সমুদ্রের আচরণ সম্পর্কে আমাদের মতো অনেক পর্যটকেরই ধারণা থাকে না। পর্যটকদের সচেতন করতে সৈকতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী বা লাইফগার্ড থাকা অত্যন্ত জরুরি।’

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটক এলেও বিচকর্মী এবং দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। ইনানী এলাকার পর্যটন ব্যবসায়ী সিয়াম আহমেদ বলেছেন, ‘সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ২০০ থেকে ৩০০ মিটার পরপর বিচকর্মী বা লাইফগার্ড মোতায়েন থাকলে পর্যটকদের আগেই সতর্ক করা সম্ভব হতো। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসত।’

অন্য এক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, দুর্ঘটনা ঘটলে ট্যুরিস্ট পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিসকে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়, তবে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করা যায় কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার সুপারভাইজার মো. ওসমান গনি বলেছেন, ‘আমাদের উদ্ধার সরঞ্জাম বলতে মূলত রেসকিউ টিউব এবং রেসকিউ বোর্ড রয়েছে, যা হাতে প্যাডেল করে পরিচালনা করতে হয়। সৈকতের বিস্তৃতি বেশি হওয়ার কারণে মাত্র কয়েকটি পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড সদস্য ও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যটকদেরও সচেতন হতে হবে।’

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

ইনানী ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ‘ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও বিকেলে হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করে পর্যটকদের সতর্ক করা হয়। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানাই। তবে সৈকতটি অনেক বিস্তৃত হওয়ায় সার্বক্ষণিক নজরদারি সম্ভব হয় না। পর্যাপ্ত রেসকিউ টিম থাকলে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সহজ হতো।’

সার্বিক বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেছেন, ‘অনেক পর্যটক গোসল করতে নেমে নিরাপদ সীমার বাইরে চলে যান। জোয়ার-ভাটার স্রোতে পড়ে তারা বিপদের মুখে পড়েন। বর্তমানে একটি বিদেশি সংস্থার অর্থায়নে ২৭ সদস্যের লাইফগার্ড দল কাজ করছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই জনবল বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, লাইফগার্ড সেবার মানোন্নয়নে সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

আরও পড়ুন: হাসপাতালের টয়লেট নিজ হাতে পরিষ্কার করলেন এমপি খোকন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাগরে লঘুচাপের ঘনত্ব, সন্ধ্যার মধ্যে ৯ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


সাগরে লঘুচাপের ঘনত্ব, সন্ধ্যার মধ্যে ৯ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এর ফলে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দেশের ৯ জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এমন পরিস্থিতির কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত পূর্বাভাসে সকাল ৫টার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য এসব তথ্য প্রদান করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের সম্মানের জন্য জুলাই স্মৃতি স্মারক প্রদান করেছেন।

শুক্রবার (৪ জুলাই) রাজধানী ঢাকা শহরের আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই আন্দোলনে আহতদের স্মৃতি স্মারক প্রদান করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জুলাই-২৪ গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুর রব মিয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে স্মৃতি স্মারক গ্রহণ করেন।

এরপর শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই আন্দোলনে আহত আল মিরাজ এবং জুলাই যোদ্ধা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ইমনও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে স্মৃতি স্মারক গ্রহণ করেন।

এ সময় সঞ্চালক জানান, অনুষ্ঠানে উপস্থিত কিছু প্রতিনিধি স্মৃতি স্মারক গ্রহণ করলেও জুলাই স্মৃতি পরিবারের সব সদস্যের জন্য স্মৃতি স্মারক সংরক্ষিত রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে সেগুলো প্রত্যেক শহীদ পরিবার ও জুলাই আন্দোলনের আহতদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমি যদি মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম... জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


আমি যদি মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম... জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

‘যদি আমি মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, গেল ১৭ বছর আপনার ওপর যে অন্যায়-অত্যাচার হয়েছে, আমি কি সেই নির্যাতনের প্রতিশোধ নেব? সেই প্রতিশোধ নেবার ক্ষমতা আমার আছে। তবে আমার বিশ্বাস, আমার মা আমাকে বলতেন– প্রতিশোধ নয়, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাও। একই প্রশ্ন যদি আমি আমার ছোট ভাইকেও করতাম, সে-ও মায়ের মতোই একই ধরনের উত্তর দিত।’

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। এই সম্মেলন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী নিজের পরিবার ও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিটি আত্মত্যাগের রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তবে আমি মনে করি, প্রতিশোধের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে নিয়মতান্ত্রিক বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।” তিনি বলেন, “যারা হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই বিচার করা হবে। কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে বিচারের নামে যেন কোনো অবিচার না করি। স্বৈরাচারী সরকার যেভাবে বিচার ব্যবস্থা ব্যবহার করে মানুষের ওপর অবিচার করেছে, আমরা যেন সেই পথ অনুসরণ না করি।”

শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে শহীদ হয়েছে, সে যদি ওপর থেকে দেখে যে তার হত্যার বিচার করতে গিয়ে আমরা অন্য কারোর ওপর অন্যায়-অবিচারের আশ্রয় নিচ্ছি, তাহলে সেই শহীদ কষ্ট পাবে। আইন অনুযায়ী হত্যাকারীদের সঠিক বিচার করা হবে, প্রয়োজনে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য সময় নেয়া হবে।”

দেশে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে কোনোভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া যায় না। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই গণ-অভ্যুত্থানে প্রত্যেকের ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে, তবে তার মানে এই নয় যে কাউকে বঞ্চিত করে তা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে যে অর্জন এসেছে তা কোনো একক ব্যক্তি বা একক দলের নয়; এ অর্জন দেশের প্রতিটি শান্তিপ্রিয়, প্রতিটি গণতান্ত্রিক মানুষের। জুলাইয়ে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল এ দেশের ব্যবস্থার পরিবর্তন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যেই আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।”

উপস্থিত শহীদ পরিবার ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ জুলাই শহীদদের সত্যিকারের সম্মান করতে হলে আমাদের কাজের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশকে যদি আমরা সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারি, তবেই ভবিষ্যতে আপনারা গর্ব করে বলতে পারবেন যে নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আপনারা দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পেরেছেন। সবার কাছে আমার এটাই প্রত্যাশা।”

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এই স্মরণ সভায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নদীভাঙন ঠেকাতে কুড়িগ্রামের ৩৩ স্থানে জরুরি প্রয়োজন ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ জিও ব্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৩ পি.এম


নদীভাঙন ঠেকাতে কুড়িগ্রামের ৩৩ স্থানে জরুরি প্রয়োজন ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ জিও ব্যাগ

 দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলা কুড়িগ্রামে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির কারণে প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে জেলার ৮টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি স্থানে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন কবলিত ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ এসব স্থান নদীগর্ভে বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা করতে জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫শ’টি জিও ব্যাগ প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে প্রাপ্ত সরকারের তথ্যে জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে দারিদ্র্য পীড়িত এই জেলায় ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকায় সাড়ে ৪ শতাধিক চর রয়েছে।

ভৌগোলিক কারণে জেলাটি প্রতি বছরই একাধিকবার বন্যার সম্মুখীন হয়। সাম্প্রতিক বন্যা এবং পাহাড়ি ঢলে ইতোমধ্যে জেলার ৫টি উপজেলার ২৪টি ইউনিয়ন আংশিক প্লাবিত হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৪৯২টি পরিবারের মানুষ।

এছাড়া গত তিন মাসে নদীভাঙনে ১৪৯টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে এবং ২০৪ হেক্টর ফসলি জমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, উলিপুর, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার ৩৩টি পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্র আকারে দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে রৌমারী উপজেলায় চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি এবং রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

নদীভাঙনের শিকার স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, তীব্র স্রোতের কারণে তাদের চোখের সামনে বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। রৌমারীর সুখেরবাতি এলাকার বাসিন্দা ছমিরন বেওয়া (৬০) বাসস’কে বলেন, ‘নদী আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে। দুই দিনের মধ্যে ঘরবাড়ি ভেঙে বিলীন হয়ে গেল। এখন সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, তা জানি না। সরকারি সাহায্য বা বাঁধ দ্রুত না দিলে আমাদের আর বেঁচে থাকার উপায় থাকবে না।’

একই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সবুর মিয়া বলেন, ‘কষ্টের ফসল আমন ধানের বীজতলা নদী টেনে নিয়ে গেছে। নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুরো গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। আমরা দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর দাবি জানাচ্ছি।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ নদী তীর রক্ষার জন্য ২৫০ কেজি ওজনের মোট ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫শ’টি জিও ব্যাগের সম্ভাব্য চাহিদা নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে।

এর মধ্যে সুখেরবাতি এলাকার জন্য ৩৪ হাজার ৬শ’টি এবং কোদালকাটি এলাকার জন্য ৩০ হাজার জিও ব্যাগের চাহিদা রয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ নদী তীর রক্ষা এবং নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ সরবরাহের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠির অনুলিপি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবরও পাঠানো হয়েছে বলেও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%