০১:৫৬ পি.এম
‘যদি আমি মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, গেল ১৭ বছর আপনার ওপর যে অন্যায়-অত্যাচার হয়েছে, আমি কি সেই নির্যাতনের প্রতিশোধ নেব? সেই প্রতিশোধ নেবার ক্ষমতা আমার আছে। তবে আমার বিশ্বাস, আমার মা আমাকে বলতেন– প্রতিশোধ নয়, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাও। একই প্রশ্ন যদি আমি আমার ছোট ভাইকেও করতাম, সে-ও মায়ের মতোই একই ধরনের উত্তর দিত।’
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। এই সম্মেলন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী নিজের পরিবার ও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিটি আত্মত্যাগের রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তবে আমি মনে করি, প্রতিশোধের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে নিয়মতান্ত্রিক বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।” তিনি বলেন, “যারা হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই বিচার করা হবে। কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে বিচারের নামে যেন কোনো অবিচার না করি। স্বৈরাচারী সরকার যেভাবে বিচার ব্যবস্থা ব্যবহার করে মানুষের ওপর অবিচার করেছে, আমরা যেন সেই পথ অনুসরণ না করি।”
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে শহীদ হয়েছে, সে যদি ওপর থেকে দেখে যে তার হত্যার বিচার করতে গিয়ে আমরা অন্য কারোর ওপর অন্যায়-অবিচারের আশ্রয় নিচ্ছি, তাহলে সেই শহীদ কষ্ট পাবে। আইন অনুযায়ী হত্যাকারীদের সঠিক বিচার করা হবে, প্রয়োজনে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য সময় নেয়া হবে।”
দেশে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে কোনোভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া যায় না। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই গণ-অভ্যুত্থানে প্রত্যেকের ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে, তবে তার মানে এই নয় যে কাউকে বঞ্চিত করে তা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে যে অর্জন এসেছে তা কোনো একক ব্যক্তি বা একক দলের নয়; এ অর্জন দেশের প্রতিটি শান্তিপ্রিয়, প্রতিটি গণতান্ত্রিক মানুষের। জুলাইয়ে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল এ দেশের ব্যবস্থার পরিবর্তন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যেই আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।”
উপস্থিত শহীদ পরিবার ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ জুলাই শহীদদের সত্যিকারের সম্মান করতে হলে আমাদের কাজের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশকে যদি আমরা সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারি, তবেই ভবিষ্যতে আপনারা গর্ব করে বলতে পারবেন যে নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আপনারা দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পেরেছেন। সবার কাছে আমার এটাই প্রত্যাশা।”
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এই স্মরণ সভায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন