মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:০২ এম
লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারের সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের কারণে ২ জন জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা ৯০ কেজি ইলিশ মাছ ৫টি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসন মিডিয়া সেলের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে, সদর উপজেলার মজু চৌধুরীর হাট এলাকায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় আটক দুই জেলেকে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) আইনে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এছাড়া, জব্দকৃত প্রায় ৯০ কেজি ইলিশ ৫টি এতিমখানা ও সরকারি শিশু পরিবারে বিতরণ করা হয়েছে। অভিযানে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এই অভিযান মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়।
মৎস্য বিভাগ জানায়, মা ইলিশ সংরক্ষণে লক্ষ্মীপুরসহ দেশের ২০টি জেলার নদ-নদী ও সাগরে ২২ দিনের জন্য সকল প্রকার মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। ৮ অক্টোবর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে এবং ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত এটি চলবে।
এই নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেঘনা নদীতে অভিযান জোরদার করেছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা, ২ বছরের কারাদণ্ড এবং উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে স্ত্রী শাহনাজ আক্তার (৩৩) কে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামী আহসান উল্লাহ (৪০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া এলাকার আমবাগ থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আজগর হোসেন জানান, আহসান উল্লাহ তার স্ত্রীর পরকীয়ার সন্দেহ করতেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও মারামারি ঘটতো। এর ফলস্বরূপ, গত ৮ অক্টোবর রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নাজিরেরবাগ ঢাল এলাকার নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে ধারালো ছুরি দিয়ে শাহনাজের গলা কেটে হত্যা করেন তিনি। হত্যার পর আহসান উল্লাহ পালিয়ে যান। নিহত শাহনাজ আক্তার বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থানার দক্ষিণ জাদুয়া এলাকার আলতাফ হোসেন সরদারের কন্যা। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মো. আনোয়ার হোসেন (৩৯) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন আরও বলেন, পরে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে আহসান উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের একটি দল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আহসান উল্লাহকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ফলে ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু সংক্রান্ত মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিতে এসেছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদারকে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রেকর্ড করার ক্ষেত্রে গুরুতর অবহেলার অভিযোগে আদালত তলব করেছেন। আদালত পাড়ায় ১০ জনের মামলা রেকর্ড করার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উখিয়ার আমলি আদালতের বিচারক ও কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ এ আদেশ দেন।
গত ১৭ অক্টোবর উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানীর পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এই ঘটনায় রিসোর্ট থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের পর এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছে। ওই দিন রাতে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস সূত্রধর অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করেন।
মামলায় রিসোর্টের একজন মালিক ও তিন ব্যবস্থাপকসহ মোট চারজনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া রিসোর্টের ১৯ কর্মচারীকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলার চার নম্বর আসামি, রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন সুমন (২৯), বর্তমানে কক্সবাজার কারাগারে রয়েছেন। মঙ্গলবার তার রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার এফআইআর, এজাহার ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ফায়ার লাইসেন্স ছিল না। রিসোর্টটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও জরুরি নির্গমন পথ (ফায়ার এক্সিট) ছিল না। ফলে আগুন লাগার পর পর্যটকরা বের হতে না পেরে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
আদালতের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে, ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০৪-ক, ৩৩৮ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব ধারায় সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড। তবে অবহেলার মাত্রা ও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা যুক্ত না করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী সাইফুদ্দিন খালেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, "যে ঘটনায় ১০ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে সেই ঘটনার একটি এজাহার এমন তুচ্ছতাচ্ছিল্যভাবে রেকর্ড করা গুরুতর অপরাধজনক কাজ বলে মনে করছি। এমনকি ১০ জন মানুষের প্রাণহানির শাস্তি কি মাত্র ৫ বছরের কারাদণ্ড?"
নথিতে দেখা যায়, ১৭ অক্টোবর ৩০৪-ক, ৩৩৮ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এর এক দিন পর, ১৯ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দ-বিধির ৩০৪ ধারা সংযোজনের আবেদন করেন। অথচ মামলা রেকর্ড করার সময় ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার ওই ধারাটি অন্তর্ভুক্ত করেননি। দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অপরাধের ধরণ অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে সোমবার রাতে উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) কামাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, "এ ধরনের মামলার ঘটনা সচরাচর ঘটে না। তাই ভুলক্রমে মামলায় ৩০৪ ধারা উল্লেখ করা হয়নি। পরে ভুল বুঝতে পেরে ৩০৪ ধারা (অজামিন যোগ্য) সংযোজনের আবেদন করা হয় আদালতে। আদালত সেই আবেদন শুনানি করতে গিয়ে ওসিকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।" অপরদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ পরিদর্শক (এসআই) রোমন ঘোষ বলেন, "মামলার তদন্তের স্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যা করার, তাই করা হচ্ছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই সদস্যকে, যারা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সাথে যুক্ত। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১১টার সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কোটচাঁদপুর মডেল থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
কোটচাঁদপুর মডেল থানার ওসি মেহেদী হাসান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন কোটচাঁদপুর উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে মো. ইবাদত হোসেন (৩৫), যিনি বলুহর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য। অপরজন হলেন কোটচাঁদপুর পৌরসভার রেলস্টেশন দর্গাতলা পাড়া এলাকার মো. আশাদুল ইসলামের ছেলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান ডালিম (৪২), যিনি কোটচাঁদপুর পৌরসভা যুবলীগের সদস্য।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আসা পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) একটি নতুন চালান কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি গাড়ি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে রাশিয়ার একটি বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটিতে ১২টি টিপিএসে মোট ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ