ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মীর শাহে আলম: গুপ্ত শুধু জামায়াত-আওয়ামী লীগে নয়, বিএনপিতেও রয়েছে


মীর শাহে আলম: গুপ্ত শুধু জামায়াত-আওয়ামী লীগে নয়, বিএনপিতেও রয়েছে

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেছেন যে, বট ও গুপ্ত শুধু জামায়াত-শিবির বা আওয়ামী লীগে নয়, বিএনপিতেও বিদ্যমান।

তিনি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী এ সময় বলেন, প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জ ও বগুড়াকে আলাদাভাবে দেখছেন না। সরকার দেশের সব অঞ্চলকে সমান উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিশ্বাসী। তাই বগুড়ার উন্নয়নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন: মাগুরায় মদপানের পর দুই যুবকের হাসপাতালে মৃত্যু

দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এবারের দুর্গোৎসবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে তিনটি অঞ্চলে দুর্গাপূজা পরিদর্শনে গেছেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বিগত নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন। সেই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে সারা দেশে ১ হাজার ২০০টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসনও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেছে।

বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়া একটি কৃষি ও খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। প্রধানমন্ত্রী সমতাভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বাস করেন। বগুড়ার জন্য অতিরিক্ত কিছু চাওয়া হচ্ছে না; বরং বিগত সময়ে যে উন্নয়ন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে চাওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত ২০ বছর বগুড়ার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফখরুদ্দীন-মঈন উদ্দিনের সরকারও ছিল ভয়াবহ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার উত্তরাঞ্চলের মানুষকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধোঁকা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‎

আরও পড়ুন: বিরোধীদলের আচরণই স্নাইপার মন্তব্যে দুঃসাহস জুগিয়েছে: রাশেদ খাঁন

বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ, বিমানবন্দর, সিটি করপোরেশন, স্পোর্টস ভিলেজ, সড়ক উন্নয়ন, পৌরসভার উন্নয়ন, বগুড়া ওয়াসা এবং বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঠদান ও গবেষণা তথ্য পেতে রুয়েট শিক্ষার্থীর ‘ফ্যাকাল্টি রিভিউ’ উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১২ পি.এম


পাঠদান ও গবেষণা তথ্য পেতে রুয়েট শিক্ষার্থীর ‘ফ্যাকাল্টি রিভিউ’ উদ্যোগ

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণার ক্ষেত্র ও অর্জন সম্পর্কে তথ্য একত্রিত করার পাশাপাশি পাঠদান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। ‘রুয়েট ফ্যাকাল্টি রিভিউ’ নামের এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজহার আলী।

শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিকল্পনায় সহায়তা করার পাশাপাশি গঠনমূলক মতামত বিনিময়ের মাধ্যমে পাঠদানের মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগটি গঠিত হয়েছে, জানান উদ্যোক্তা শিক্ষার্থী। প্ল্যাটফর্মটিতে রুয়েটের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, উচ্চশিক্ষা, গবেষণার আগ্রহ, অভিজ্ঞতা ও অর্জন সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক কোন দেশ থেকে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি করেছেন এবং বর্তমানে কোন দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। ফলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ ও সম্ভাব্য বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের গবেষণার বিষয় অনুযায়ী রুয়েটের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের খুঁজে দেখতে পারবেন। নির্দিষ্ট বিষয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ওই বিষয়ে কাজ করা শিক্ষকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে গবেষণার বিষয় নির্বাচন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের গবেষণাক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং সম্ভাব্য গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক খুঁজে পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজতর হবে বলে দাবি করেছেন উদ্যোক্তা শিক্ষার্থী আজহার।

প্ল্যাটফর্মটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিক্ষক রিভিউ। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিক্ষকদের কাছে পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বা পরামর্শ প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এই পরিস্থিতিতে প্ল্যাটফর্মটি তাদের মতামত জানানোর একটি বিকল্প মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের পাঠদানের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে প্রশংসা করার পাশাপাশি গঠনমূলক মতামতের মাধ্যমে উন্নতির ক্ষেত্রগুলোও চিহ্নিত করতে পারবেন।

উদ্যোক্তার মতে, এই ধরনের অভিজ্ঞতা বিনিময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করতে পারে। শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক মতামত শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি পর্যালোচনা ও উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তার মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা নয়; বরং তাদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও অর্জন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য এক জায়গায় এনে শিক্ষার্থীদের উপকৃত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।

পরিচয় প্রকাশ না করে রিভিউ দেওয়ার ব্যবস্থা প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে। রিভিউদাতার নামের পরিবর্তে ওয়েবসাইটে ‘এনোনিমাস স্টুডেন্ট’ দেখানো হয়। উদ্যোক্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরিচয় গোপন রেখে মতামত প্রকাশের ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে আর্গন২আইডি ও ইউজার-সেন্ট্রিক সিক্রেট প্রাভেসি মেকানিজম নিয়ে কাজ করা হয়েছে, যেখানে আজহার আলী তার বন্ধুর কারিগরি সহায়তা পেয়েছেন।

এ বিষয়ে প্ল্যাটফর্মের উদ্যোক্তা ও রুয়েট শিক্ষার্থী মো. আজহার আলী বলেন, "রুয়েটের শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও অর্জন সম্পর্কে তথ্য এক জায়গায় এনে শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য করাই আমার মূল লক্ষ্য ছিল। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহের গবেষণাক্ষেত্র অনুযায়ী শিক্ষক খুঁজে পাবেন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কেও ধারণা পাবেন। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গঠনমূলক মতামত বিনিময়ের মাধ্যমে পাঠদানের মান উন্নয়নেও প্ল্যাটফর্মটি ভূমিকা রাখতে পারে।"

প্রজেক্টটির ডকুমেন্টেশন ও ডেটাবেসের কাঠামো সম্পর্কে জানার জন্য গিটহাবে একটি প্রকাশ্য রিপোজিটরি রাখা হয়েছে। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ ওপেন-সোর্স প্রকল্প নয়; গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারিগরি বাস্তবায়ন প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ‘রুয়েট ফ্যাকাল্টি রিভিউ’ রুয়েট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বা অনুমোদিত কোনো প্ল্যাটফর্ম নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীর উদ্যোগে তৈরি একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল প্রকল্প। শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও অর্জনের তথ্য সহজলভ্য করা এবং পাঠদান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখাই এর উদ্দেশ্য।

প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা যাবে ‘রুয়েট ফ্যাকাল্টি রিভিউ’ এর ওয়েবসাইটে (https://www.ruetfacultyreview.site)। প্রকল্পের প্রকাশ্য ডকুমেন্টেশন ও ডেটাবেসের কাঠামো দেখা যাবে ‘গিটহাব রিপোজিটরিতে’ (https://github.com/Ajhar146/ruet-faculty-review-public.git)।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের অভিযুক্ত আলিস আল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১২ পি.এম


সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের অভিযুক্ত আলিস আল ইসলাম

বাংলাদেশের আলিস আল ইসলাম সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের জন্য অভিযুক্ত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচের কর্মকর্তারা তার বোলিং নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

আইসিসি এই বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনে ২৯ বছর বয়সী এই বোলারের বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অবৈধ বোলিং অ্যাকশন বলতে বোঝায়, কোনো বোলারের বল করার পরিবর্তে বলটি ছুড়ে মারার বিষয়টি। আইসিসির সংজ্ঞা অনুযায়ী, বল করার সময় বোলারের কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি প্রসারিত হলে সেটিকে অবৈধ বোলিং অ্যাকশন হিসেবে গণ্য করা হয়।

আইসিসির অবৈধ বোলিং অ্যাকশন সংক্রান্ত বিধিমালা অনুসারে, আলিসকে আইসিসি অনুমোদিত পরীক্ষাকেন্দ্রে স্বাধীন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সেখানে তার বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষা করা হবে। যদি তিনি পরীক্ষা উতরে যান, তবে স্বীকৃত ক্রিকেটে বোলিং করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।

সুনিল নারিন ও সিকান্দারের মতো বোলিং অ্যাকশনে বল করা আলিস শারজাহতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে মোট ৮.৩ ওভার বল করেন। তিনি ৪৭ রানের বিনিময়ে কোনো উইকেট নিতে পারেননি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রটোকল ভেঙে জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


প্রটোকল ভেঙে জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলা বন্দরের জেটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এই সময়ে তিনি প্রটোকল ভেঙে গাড়ি থেকে নেমে জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি বন্দর জেটিতে প্রবেশ করেন। সেখানে প্রায় ৫০ মিনিট অবস্থান করার পর সোয়া ৪টার দিকে তিনি জেটি থেকে বের হয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দিকে রওয়ানা দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পথে নেতা-কর্মীদের আহ্বানে প্রটোকল ভেঙে গাড়ি থেকে নেমে জনগণের সঙ্গে মিশে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং কয়েকজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এরপর তিনি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যান। অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে মোংলা বন্দর ত্যাগ করেন।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের হিরন পয়েন্ট ও সুন্দরবন পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ানে যান। নলিয়ান থেকে নৌপথে দুপুর পৌনে ১টার দিকে তিনি মোংলার দিগরাজ নৌঘাঁটিতে পৌঁছান। নৌঘাঁটিতে এসে তিনি নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ বিএনএস আবু বকর পরিদর্শন করেন।

দুপুরে তিনি নৌঘাঁটিতেই মধ্যাহ্ন বিরতি করেন। এরপর মোংলা বন্দর জেটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মোংলা বন্দর জেটি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার এবং বাগেরহাট জেলা প্রশাসক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা সাদিক: ‘সবার নামও মনে রাখতে পারি না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা সাদিক: ‘সবার নামও মনে রাখতে পারি না’

আফগানিস্তানে বড় পরিবার এবং সন্তানের সংখ্যা অনেক এমন দম্পতির দেখা পাওয়া সাধারণ ঘটনা। তবে উরুজগান প্রদেশের মোহাম্মদ সাদিকের পরিবার সম্ভবত দেশটির অন্যতম বৃহত্তম পরিবার হিসেবে পরিচিত। মোহাম্মদ সাদিকের চার স্ত্রীর ঘরে ৫৮টি সন্তান রয়েছে, এবং তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তানের জন্ম হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। এত বড় পরিবার পরিচালনা করা বর্তমানে তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

সাদিক জানান, তার সমস্ত প্রচেষ্টা প্রতিদিন সন্তানদের খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবারের ছোট সন্তানরাও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।

এই পরিবারের চার নারীও বছরের পর বছর গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

মোহাম্মদ সাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় তার চার স্ত্রীর বয়স ছিল খুব কম, ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।

মোহাম্মদ সাদিক হাসতে হাসতে বলেন, কখনও কখনও তিনি তার সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারেন না। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তিনি সন্তানদের গুনে দেখেন, যাতে নিশ্চিত হতে পারেন যে, সবাই বাড়িতে আছে কি না।

‘উৎসবের’ আবহ

মোহাম্মদ সাদিকের মতে, ছোট সন্তানরা যখন তাকে ঘিরে জড়ো হয়, তখন তাদের বাড়ি কোলাহল, হাসি আর ব্যস্ততায় ভরে ওঠে, যেন সেখানে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে।

তবে এই পরিবারের জীবনে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে গুরুতর আর্থিক সংকট। দারিদ্র্য কখনও কখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে কিছু সন্তানকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়। পরিবারটিতে দিনে মাত্র দুইবার রান্না হয়, সকালে এবং সন্ধ্যায়। পরিবারের দুই জন নারী রান্নার দায়িত্ব পালন করেন।

৫৭ বছর বয়সি মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, আরও সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ‘নবীর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো’।

তার এক মেয়ের বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মজার ঘটনা বর্ণনা করে সাদিক বলেন, ‘যে মৌলভি সাহেব বিয়ে পড়িয়েছিলেন, তিনি আমাকে আমার মেয়ের নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি কিছুক্ষণ চিন্তা করে ভুলবশত আমার অন্য এক মেয়ের নাম বলে ফেলি। তখন মৌলভি সাহেব হেসে বললেন, আপনি বাড়ি গিয়ে আবার দেখে আসুন, ভুল নাম বলেছেন কি না।’

‘নামটাও মনে থাকে না’

তিনি ব্যাখ্যা করেন, এত বেশি সন্তান থাকার কারণে সবার নাম মনে রাখা তার জন্য প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তিনি অধিকাংশকেই ‘বাবা’ বা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন।

মোহাম্মদ সাদিক একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘এক রাতে আমরা সবাই খাবারের টেবিলের চারপাশে বসেছিলাম। আমি সন্তানদের গোনা শুরু করি এবং দেখি একজন নেই। আমি এটাও জানতাম না যে অনুপস্থিত সন্তানটি ছেলে না মেয়ে। পরে আমি তাদের মায়েদের জিজ্ঞেস করি। তখন একজন জানান, তিনি তার সন্তানকে তার নানির বাড়িতে পাঠিয়েছেন এবং সে রাতটা সেখানে কাটাবে।’

মোহাম্মদ সাদিকের প্রথম বিয়ে হয়েছিল যখন তার বয়স ২০ বছর। তরুণীদের বিয়ে করার কারণ সম্পর্কে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি বিয়ের জন্য তাকে কয়েক বছর ধরে কনের পরিবারকে দেওয়া অর্থ জমাতে হয়েছে।

এত বড় পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার স্ত্রীরা খুব অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। শৈশব ও কৈশোরেই তারা বিয়ে, গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান পালনের বিশাল দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা তাদের জীবনের স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠে।

মোহাম্মদ সাদিক এবং তার স্ত্রীরা জীবনে আরেকটি বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছেন। কয়েক বছরে তারা ১৪ সন্তান হারিয়েছেন, যা যেকোনো বাবা-মায়ের জন্য গভীর বেদনার বিষয়।

স্বাস্থ্য সংকট ও আর্থিক অনটন

বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে বিয়ে এবং গর্ভধারণ মা ও অনাগত শিশু উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। বারবার গর্ভধারণ নারীদের জন্য আরও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ হতে পারে।

আফগানিস্তান এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেখানে গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সময় নারীদের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে এখনো বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে, যেখানে মানসম্মত চিকিৎসাসেবার সুযোগ সীমিত।

অন্যদিকে, দারিদ্র্যও এই পরিবারের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাবার খান এবং গ্রীষ্মকালে উঠানে খান, কিন্তু মৌলিক সুবিধাগুলোরও তাদের সীমিত প্রাপ্যতা রয়েছে। যে জায়গায় তারা গোসল করেন, সেটিই কাপড় এবং বাসন ধোয়ার জন্যও ব্যবহৃত হয়। একই স্থান শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

পরিবারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে শুধু মোহাম্মদ সাদিক নন, তার অনেক সন্তানও কাজ করে। কেউ কেউ কাগজ, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহ করে, যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় অথবা বিক্রি করে পরিবারের খরচে অবদান রাখা হয়।

সব কষ্ট সত্ত্বেও এই পরিবার প্রতিদিনের চাহিদা মেটানোর জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি দিনই নতুন একটি চ্যালেঞ্জ, খাবার, আশ্রয় এবং সন্তানদের প্রয়োজন মেটানোর চ্যালেঞ্জ।

শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে।

জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।

মোহাম্মদ সাদিকের দুই ইচ্ছে

শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে।

জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।

এসব কষ্টের মধ্যেও নিজে পড়াশোনা করতে না পারা মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তিনি তার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে সীমিত আয়ের কারণে তাদের শিক্ষার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, প্রতি একটি গাড়ি বিক্রির জন্য তিনি মাত্র এক হাজার আফগানি কমিশন পান। কিন্তু এত বড় পরিবারের চাহিদা তাদের সম্মিলিত আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই মোহাম্মদ সাদিক সরকার, সহায়তা সংস্থা এবং আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তিনি তার সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন।

নিজের ইচ্ছের কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘আমার জীবনে মাত্র দুটি বড় ইচ্ছা রয়েছে। প্রথম ইচ্ছা, আমার সন্তানরা শিক্ষা লাভ করুক, ধর্ম এবং পৃথিবী সম্পর্কে জানুক। দ্বিতীয়ত, তাদের যেন কখনও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে না হয় এবং তাদের পেট যেন ভরা থাকে।’

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%