ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা সাদিক: ‘সবার নামও মনে রাখতে পারি না’


৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা সাদিক: ‘সবার নামও মনে রাখতে পারি না’

আফগানিস্তানে বড় পরিবার এবং সন্তানের সংখ্যা অনেক এমন দম্পতির দেখা পাওয়া সাধারণ ঘটনা। তবে উরুজগান প্রদেশের মোহাম্মদ সাদিকের পরিবার সম্ভবত দেশটির অন্যতম বৃহত্তম পরিবার হিসেবে পরিচিত। মোহাম্মদ সাদিকের চার স্ত্রীর ঘরে ৫৮টি সন্তান রয়েছে, এবং তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তানের জন্ম হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। এত বড় পরিবার পরিচালনা করা বর্তমানে তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

সাদিক জানান, তার সমস্ত প্রচেষ্টা প্রতিদিন সন্তানদের খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবারের ছোট সন্তানরাও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।

এই পরিবারের চার নারীও বছরের পর বছর গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আরও পড়ুন: এআইয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত, বিশ্বজুড়ে বন্ধ বহু ওয়েবসাইট

মোহাম্মদ সাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় তার চার স্ত্রীর বয়স ছিল খুব কম, ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।

মোহাম্মদ সাদিক হাসতে হাসতে বলেন, কখনও কখনও তিনি তার সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারেন না। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তিনি সন্তানদের গুনে দেখেন, যাতে নিশ্চিত হতে পারেন যে, সবাই বাড়িতে আছে কি না।

‘উৎসবের’ আবহ

মোহাম্মদ সাদিকের মতে, ছোট সন্তানরা যখন তাকে ঘিরে জড়ো হয়, তখন তাদের বাড়ি কোলাহল, হাসি আর ব্যস্ততায় ভরে ওঠে, যেন সেখানে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে।

আরও পড়ুন: ইউরোপজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ তরুণেরা

তবে এই পরিবারের জীবনে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে গুরুতর আর্থিক সংকট। দারিদ্র্য কখনও কখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে কিছু সন্তানকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়। পরিবারটিতে দিনে মাত্র দুইবার রান্না হয়, সকালে এবং সন্ধ্যায়। পরিবারের দুই জন নারী রান্নার দায়িত্ব পালন করেন।

৫৭ বছর বয়সি মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, আরও সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ‘নবীর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো’।

তার এক মেয়ের বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মজার ঘটনা বর্ণনা করে সাদিক বলেন, ‘যে মৌলভি সাহেব বিয়ে পড়িয়েছিলেন, তিনি আমাকে আমার মেয়ের নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি কিছুক্ষণ চিন্তা করে ভুলবশত আমার অন্য এক মেয়ের নাম বলে ফেলি। তখন মৌলভি সাহেব হেসে বললেন, আপনি বাড়ি গিয়ে আবার দেখে আসুন, ভুল নাম বলেছেন কি না।’

‘নামটাও মনে থাকে না’

আরও পড়ুন: ইউরোপে তীব্র গরমে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

তিনি ব্যাখ্যা করেন, এত বেশি সন্তান থাকার কারণে সবার নাম মনে রাখা তার জন্য প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তিনি অধিকাংশকেই ‘বাবা’ বা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন।

মোহাম্মদ সাদিক একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘এক রাতে আমরা সবাই খাবারের টেবিলের চারপাশে বসেছিলাম। আমি সন্তানদের গোনা শুরু করি এবং দেখি একজন নেই। আমি এটাও জানতাম না যে অনুপস্থিত সন্তানটি ছেলে না মেয়ে। পরে আমি তাদের মায়েদের জিজ্ঞেস করি। তখন একজন জানান, তিনি তার সন্তানকে তার নানির বাড়িতে পাঠিয়েছেন এবং সে রাতটা সেখানে কাটাবে।’

মোহাম্মদ সাদিকের প্রথম বিয়ে হয়েছিল যখন তার বয়স ২০ বছর। তরুণীদের বিয়ে করার কারণ সম্পর্কে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি বিয়ের জন্য তাকে কয়েক বছর ধরে কনের পরিবারকে দেওয়া অর্থ জমাতে হয়েছে।

এত বড় পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার স্ত্রীরা খুব অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। শৈশব ও কৈশোরেই তারা বিয়ে, গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান পালনের বিশাল দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা তাদের জীবনের স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: ‘প্রজন্মের ক্ষোভ’: ইউরোপজুড়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরছে তরুণরা

মোহাম্মদ সাদিক এবং তার স্ত্রীরা জীবনে আরেকটি বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছেন। কয়েক বছরে তারা ১৪ সন্তান হারিয়েছেন, যা যেকোনো বাবা-মায়ের জন্য গভীর বেদনার বিষয়।

স্বাস্থ্য সংকট ও আর্থিক অনটন

বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে বিয়ে এবং গর্ভধারণ মা ও অনাগত শিশু উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। বারবার গর্ভধারণ নারীদের জন্য আরও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ হতে পারে।

আফগানিস্তান এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেখানে গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সময় নারীদের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে এখনো বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে, যেখানে মানসম্মত চিকিৎসাসেবার সুযোগ সীমিত।

আরও পড়ুন: কলম্বিয়ায় বিক্ষোভের সময় ৫ সাংবাদিকের ওপর পুলিশের হামলা: এনজিও

অন্যদিকে, দারিদ্র্যও এই পরিবারের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাবার খান এবং গ্রীষ্মকালে উঠানে খান, কিন্তু মৌলিক সুবিধাগুলোরও তাদের সীমিত প্রাপ্যতা রয়েছে। যে জায়গায় তারা গোসল করেন, সেটিই কাপড় এবং বাসন ধোয়ার জন্যও ব্যবহৃত হয়। একই স্থান শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

পরিবারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে শুধু মোহাম্মদ সাদিক নন, তার অনেক সন্তানও কাজ করে। কেউ কেউ কাগজ, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহ করে, যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় অথবা বিক্রি করে পরিবারের খরচে অবদান রাখা হয়।

সব কষ্ট সত্ত্বেও এই পরিবার প্রতিদিনের চাহিদা মেটানোর জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি দিনই নতুন একটি চ্যালেঞ্জ, খাবার, আশ্রয় এবং সন্তানদের প্রয়োজন মেটানোর চ্যালেঞ্জ।

শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে।

আরও পড়ুন: সউদিতে হুতিদের হামলার জের: আটকা হাজারো ভারতীয় ওমরাহযাত্রী

জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।

মোহাম্মদ সাদিকের দুই ইচ্ছে

শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে।

জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।

এসব কষ্টের মধ্যেও নিজে পড়াশোনা করতে না পারা মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তিনি তার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে সীমিত আয়ের কারণে তাদের শিক্ষার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, প্রতি একটি গাড়ি বিক্রির জন্য তিনি মাত্র এক হাজার আফগানি কমিশন পান। কিন্তু এত বড় পরিবারের চাহিদা তাদের সম্মিলিত আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই মোহাম্মদ সাদিক সরকার, সহায়তা সংস্থা এবং আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তিনি তার সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন।

নিজের ইচ্ছের কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘আমার জীবনে মাত্র দুটি বড় ইচ্ছা রয়েছে। প্রথম ইচ্ছা, আমার সন্তানরা শিক্ষা লাভ করুক, ধর্ম এবং পৃথিবী সম্পর্কে জানুক। দ্বিতীয়ত, তাদের যেন কখনও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে না হয় এবং তাদের পেট যেন ভরা থাকে।’

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জবির সমাবর্তন ফি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ পি.এম


জবির সমাবর্তন ফি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনে স্নাতক পর্যায়ের নিবন্ধন ফি প্রায় ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্নাতক ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে। মূল সনদের জন্য ৫০০ টাকা যুক্ত হওয়ায়, একজন স্নাতককে মোট ৫ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হবে।

ফি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ফি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বাড়তি খরচের কারণে চাকরিপ্রত্যাশী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারাতে পারেন। এ অবস্থায়, ফি কমানোর দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, স্নাতকোত্তর ও এমবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৪ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের ক্ষেত্রে ফি ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে। প্রফেশনাল প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধন ফি ৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিটি শ্রেণিতে নিবন্ধন ফি বেড়েছে ২ হাজার টাকা। নিবন্ধন ফির বাইরে সনদ ফি ও প্রযোজ্য সার্ভিস চার্জও দিতে হবে।

ফি বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা দেখা দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় ফি নির্ধারণ করা হয়েছে কি না। বিশেষ করে, পড়াশোনা শেষ করে চাকরির অপেক্ষায় থাকা স্নাতকদের জন্য এই ব্যয় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। একইসঙ্গে, নিয়মিত ও প্রফেশনাল প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

ফি বৃদ্ধির সমালোচনা করে জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ তার ফেসবুক পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ফির সঙ্গে জবির ফির তুলনা করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে, জবিতে সনদ ফিসহ স্নাতক পর্যায়ে ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৬ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি জানানোর পরও প্রশাসন ফি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করবে কি না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় ফি শিক্ষার্থীবান্ধব পর্যায়ে নির্ধারণের আহ্বান জানান জকসুর জিএস।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল ইসলাম আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফি নির্ধারণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, সমাবর্তনে অংশ নিতে ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের ভিত্তি কী। অন্যদিকে, জকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা এ আয়োজনকে ‘এলিট সমাবর্তন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, সমাবর্তনের আয়োজন করতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আর্থিক বাস্তবতা উপেক্ষা করা হচ্ছে।

ফি বৃদ্ধির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন বলেছেন, প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার অনুষ্ঠান আয়োজনের সার্বিক ব্যয় বেড়েছে। বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি সমাবর্তনের গাউন ও অন্যান্য পোশাকের খরচও বেড়েছে। তার ভাষ্য, সফলভাবে সমাবর্তন আয়োজন করতে হলে এসব ব্যয় বিবেচনায় নিতে হয়। শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপের বিষয়টি স্বীকার করে উপাচার্য বলেন, ফি কম রাখা গেলে ভালো হতো, তবে প্রশাসনিক ব্যয়ের কারণে এ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীদের একাডেমিক গাউন ও পোশাক তাদের দিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই উপলক্ষে গত ১৫ অক্টোবর থেকে অনলাইন নিবন্ধন শুরু হয়েছে, যা চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কচুয়ায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ পি.এম


কচুয়ায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কচুয়ায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা এবং লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কচুয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে সাচার বাজারে এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়।

দিবসটি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত র‍্যালিটি সাচার বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কচুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মো. জিয়া উদ্দিন মজুমদার। সভায় বক্তব্য রাখেন আতিকুর রহমান জুয়েল, ফারুক হোসেন, বোরহান উদ্দিন প্রধান, জিসান আহমেদসহ আরও অনেকে।

বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে যানবাহন পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সকলকে সচেতন হতে হবে।

একই দিনে, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কচুয়া উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ চালকদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় তারা চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো এবং সড়কে নিজের ও অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। তারা জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

এছাড়া, উল্লেখ্য যে, মরহুমা জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সূচনা হয়। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় আ. লীগ ও জামায়াতের মন খারাপ: আবু হানিফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় আ. লীগ ও জামায়াতের মন খারাপ: আবু হানিফ

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামিলীগ ও জামায়াতের মন খারাপ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে এই মন্তব্যটি প্রকাশ করেন।

আবু হানিফ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, "গতকাল শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বিগত যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার পূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। সারাদেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া কার্যকর পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। কোনো ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা ছাড়াই পূজা উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করায় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে ধন্যবাদ।"

তিনি আরও বলেন, "এটি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। একদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত নিষিদ্ধ আওয়ামিলীগের নাশকতার নানা ষড়যন্ত্র, অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নানা অতৎপরতা, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ছিল বেশ কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও সন্তুষ্ট সরকারের এই উদ্যোগে।"

আবু হানিফ বলেন, "একদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি নিষিদ্ধ আওয়ামিলীগ, অন্য দিকে বিরোধী দলের নানা রকম ষড়যন্ত্র ছিলো কিভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করা যায়। এসবের কারণে সরকারকে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়েছে, যার ফলে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি কিংবা সহিংসতার মত কোন ঘটনা ঘটে নাই। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। শান্তিপূর্ণভাবে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামিলীগ ও জামায়াতের মন খারাপ। কেননা তারা ভেবেছিলো কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হবে আর তারা সেটাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি ছুটিতে কবি নজরুল কলেজের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করলেন অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ পি.এম


সরকারি ছুটিতে কবি নজরুল কলেজের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করলেন অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান

সরকারি ছুটির দিনেও কবি নজরুল সরকারি কলেজের চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের অগ্রগতি দেখতে কলেজে এসে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে এসে নির্মাণাধীন প্রধান ফটকসহ কলেজের অন্যান্য চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

অধ্যক্ষ পরিদর্শনকালে মূল ফটকের পাশে একটি হরিতকী গাছ কেটে না ফেলে তা অন্যত্র সঠিকভাবে পুনরোপণ করা হয়েছে কি না, তা খোঁজখবর নেন। তিনি নবনির্মিত ভবন ও চলমান সংস্কারকাজগুলো সরাসরি পরিদর্শন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. ইউসুফ, কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রিন্টু ও কলেজ সাংবাদিক সমিতি’র সভাপতি মো. আতিক হাসান শুভ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. নাজমুল হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কে এম সিরাজুল ইসলাম ও সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বাইজীদ হোসেন সা’দ সহ কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃন্দ।

অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পরিদর্শন শেষে বলেন, "আসলে যেখানেই থাকি না কেন, কলেজেই তো আমাদের মন পড়ে থাকে। কলেজের প্রতি আমাদের একটি আত্মিক টান রয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় গেট নির্মাণ, ছয়তলা ভবনের কাজ এবং পুরোনো ভবনের অভ্যন্তরীণ সংস্কারসহ একাধিক উন্নয়নকাজ চলছে।"

তিনি আরও বলেন, "প্রধান ফটকের কাজের জন্য একটি ওষুধি গাছ কেটে না ফেলে তা অন্য কোথাও নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা এবং সার্বিক অগ্রগতি দেখতেই আজ আমি ক্যাম্পাসে এসেছি।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%