শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:১৫ এম
ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরির (২০২) রেকর্ড গড়েছেন হ্যারি ব্রুকস। কিন্তু, তার রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরির ম্যাচে ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে ৪২৯ রানের বিশাল স্কোর গড়েও জয় পেতে পারেনি।
অতীতে, চারশো বা তার বেশি রান করার ম্যাচে ব্রিটিশদের জয় নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু আজ ৪২৯ রান করেও ইংল্যান্ড পরাজয়ের মুখোমুখি হয়।
শ্রীলংকা ৪৩০ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স দেখায়। লংকানরা ১ বল হাতে রেখে ২ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে।
আজ হ্যারি ব্রুকস ১১৬ বল মোকাবেলা করে ২১টি চার এবং ১০টি ছক্কার সাহায্যে ২০২ রানের রেকর্ডময় ইনিংস খেলেন।
ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন হ্যারি ব্রুকস। এর আগে, বেন স্টোকস ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ১৮২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
আজকের রেকর্ড গড়া ম্যাচে, বাউন্ডারির সাহায্যে সর্বোচ্চ ১৪৪ রান করেন হ্যারি ব্রুকস। যা ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের কোনো ব্যাটসম্যানের জন্য সর্বোচ্চ রেকর্ড।
এর আগে, এক দিনের ম্যাচে বাউন্ডারির সাহায্যে সর্বোচ্চ ১২৪ রান করেছিলেন জস বাটলার।
ইংল্যান্ডের ৪২৯ রান করার পথে উইল জ্যাকস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি মাত্র ৩০ বল মোকাবেলা করে ৮টি চার এবং তিনটি ছক্কায় ৬৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। ৬৬ বলে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৬৯ রান করেন জো রুট। ওপেনার টম ব্যান্টন ৫১ বলে ৯টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৫০ রান করেন। বেন ডাকেট ৩৯ বলে ২৯ রান করেন।
এমন রেকর্ডময় ম্যাচে শ্রীলংকান ওপেনার আবিস্কা ফার্নান্দো এবং দাসুন শানাকা অবিশ্বাস্য সুন্দর ব্যাটিং করেন। তারা মাত্র ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন। তবে পবন রত্নানায়েক হতাশ হননি। তিনি ১০৬ বলে ১৫টি চার এবং তিন ছক্কায় ১৩০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসের সুবাদে শ্রীলংকা বিশাল জয় নিশ্চিত করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সড়কের কাজের তদারকির সময় নূরই আকরাম নামে একজন উপসহকারী প্রকৌশলীর কাছে দেড় লাখ টাকা পাওয়ার ঘটনায় অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে সাকোয়া ইউনিয়নের গিদালপাড়া এলাকায় স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
নূরই আকরাম বোদা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন।
স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন যে, সাকোয়া-নয়াদীঘি ভায়া বোয়ালমারী পাকা সড়কের নির্মাণ কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা বারবার অভিযোগ করলেও প্রকৌশলী তাতে গুরুত্ব দেননি। কাজের মান ও বরাদ্দ সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চাইলে প্রকৌশলী সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তার পথ আটকে ব্যাগ তল্লাশি করতে চাইলে এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আটক উপসহকারী প্রকৌশলীর কাছে থাকা ব্যাগ নিয়ে তল্লাশির চেষ্টা করছেন স্থানীয় কয়েকজন। একইসঙ্গে ব্যাগে টাকা থাকার দাবিও করা হয়। এ সময় উপসহকারী প্রকৌশলী দাবি করেন, তার কাছে পার্সোনাল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও টাকা রয়েছে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার সঙ্গে থাকা মোট দেড় লাখ টাকা উদ্ধার করে এবং তাকে হেফাজতে নেয়।
ঘটনার সময় প্রকৌশলী নূরই আকরাম দাবি করেন, টাকাগুলো তার ব্যক্তিগত এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য সঙ্গে রেখেছিলেন। তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা সময় সংবাদকে জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। ঘটনার পর থেকে তাকে পুলিশের হেফাজতে থানায় রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে টাকার উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি এলজিইডির জেলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) পঞ্চগড় জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরান দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আইআরজিসির দেওয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি জাহাজে তেল স্থানান্তরের কার্যক্রম চলছিল। হামলার পর সেগুলোর মধ্যে আগুন লেগে যায়। অন্যদিকে, তিনটি জাহাজ মাইন দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেছে ইরান।
তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য হলো, যদি ওয়াশিংটন প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ, যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিদেশে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তি এবং প্রতিটি মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন।
তিনি বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এসব মন্তব্য করেন।
মক্কায় দুই অভিবাসী বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া, তাদের জীবন রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের অভাব এবং বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে সিপিবি এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
সিপিবি সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ বাংলাদেশের সরকারের কাছে থাকা আবশ্যক হওয়া সত্ত্বেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছুই জানেনি বলে জানিয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের বিচার, কারাবাস এবং মৃত্যুর মতো গুরুতর ঘটনাগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের যে ভূমিকা থাকা দরকার, সে সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। নাগরিকদের জীবন রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারের ব্যর্থতা এবং মৃত্যুর পর তাদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য প্রমাণ করে যে, রেমিটেন্সের অর্থে দেশের মন্ত্রী-এমপি ও আমলাদের বিলাসী জীবন নিশ্চিত হলেও প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য সরকারের কোনো মাথা ব্যথা নেই।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকারকে অবিলম্বে বিদেশে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তি এবং প্রতিটি মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব প্রবাসী শ্রমিকের পাঠানো রেমিটেন্সে দেশের অর্থনীতি সচল থাকে, তাদের জীবন, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। বিদেশে কর্মরত এবং বসবাসরত বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষায় সরকারের কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ, আইনি সহায়তা এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি দাবি জানান, পৃথিবীব্যাপী কারাবন্দি বাংলাদেশি নাগরিকদের মুক্তির জন্য সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ইউক্রেনসহ সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে জোরপূর্বক সামরিক কাজে নিয়োজিত করা বাংলাদেশি নাগরিকদের উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্নার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফজলুর রহমান।
সমাবেশ পরিচালনা করেন সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মঈন।
বিক্ষোভে রাগীব আহসান মুন্না বলেন, বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের তালিকা প্রণয়ন, রাষ্ট্রের খরচে আইনি সহায়তা, নিয়মিত কারাগার পরিদর্শন এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তির জন্য সরকারকে জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।
জলি তালুকদার বলেন, সরকারের অবহেলার প্রতিবাদে প্রবাসী শ্রমিকরা রেমিটেন্স পাঠানো বন্ধ করে দিলে, সেটি হবে আইনি সহায়তা বঞ্চিত কারাবন্দি মানুষ এবং নিজ দেশের সরকারের কাছ থেকে চরম বঞ্চনার শিকার অসহায় প্রবাসীদের জন্য একটি উপযুক্ত জবাব। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরাইল থানার পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্গাপূজার সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা সৌজন্যমূলক আচরণ না পাওয়ার কারণে থানার কক্ষে বসে ওসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
এই ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সরাইল থানার ওসির কক্ষে। এ সময় রুমিন ফারহানা ওসির বিরুদ্ধে ঘুস, দুর্নীতি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করার অভিযোগ তুলেছেন।
সরাইল থানায় অবস্থানকালে, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপির পক্ষে এবং ওসির বিরুদ্ধে কয়েকশো লোক স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় পুরো এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
সরাইল থানার কক্ষে বসে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কতবার রিকোয়েস্ট করেছি যে নিরাপত্তা দেয়া হোক। আমাকে বিজয়নগরে নিরাপত্তা দিয়েছে, আমাকে আশুগঞ্জে নিরাপত্তা দিয়েছে। আইন আছে যে নির্বাচিত এমপি নিরাপত্তা চাইলে লোকাল এরিয়াতে হবে। গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগের সময় একজন এমপি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর এবং উনি মারা যাওয়ার পর এই আইনটা হয়। উনি আমার লোকের ফোনই ধরেন না এবং বলেন, উনি নির্বাচিত এমপি, ওনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে। তো এজন্যই মানুষ যা দেখছেন, বাইরে আরও ৫ থেকে ১০ হাজার মানুষ আছে। তো ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে, তাই না? সো মানুষ আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আর ওনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটার থেকে পয়সা নেয়া, আপনার বালু, ইটের ভাটার পয়সা নেয়া ইত্যাদি বিস্তর অভিযোগ। কোনো ঘটনা ঘটলে আপনারা জানেন যে এলাকাটা দাঙ্গাপ্রবণ। দাঙ্গা হওয়ার পরে যখন সব শান্ত হয়, তখন ওনারা ধীরে সুস্থে যান। এই বিষয়গুলো আমি আজকে জানতে এসেছিলাম। এবং উনি যে ব্যবহার আমার সঙ্গে করেছেন, সেটা একজন নির্বাচিত এমপির সঙ্গে করা যায় না।’
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, ‘সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এসেছিলেন। উনি এক দেড়শো লোক নিয়ে থানার মধ্যে হৈচৈ করে একটা অস্থিরতা ও মব তৈরি করেছেন। আমার অফিস কক্ষের মধ্যে কয়েকশো লোক ঢুকে এখানে একটা বিব্রতকর পরিস্থিতর সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয়, উনি কিছু লোককে শিখিয়ে এনেছেন, যারা আমার বিরুদ্ধে আজেবাজে কথাবার্তা বলছেন, যা আমি প্র্যাকটিস করি না। উনি বলছেন, আমি নাকি কোনো এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গিয়ে ভাত খেয়ে এসেছি। আমি কখনও কারও দাওয়াতেই যাই না। বিয়ের দাওয়াতেও যাই না। রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম ছাড়া কোনো কোনো খাবার-দাবার, খানাপিনায় অ্যাটেন্ড করি না। শুধু সরকারি প্রোগ্রাম যেখানে ইউএনও মহোদয় থাকেন এবং আমি থাকি, ম্যাজিস্ট্রেট থাকেন, তখন আমি যাই। উনি আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
ওসি বলেন, ‘উনি লোক সাজিয়ে নিয়ে এসেছেন। এক লোক বলেছেন, আমাকে নাকি মামলার আসামি ছাড়ার ব্যাপারে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন। লোকটাকে আমি কখনও দেখেছি বলে মনে পড়ে না। আসামিরা আসে, অফিসাররা আসামি ধরে হাজতে পাঠায়, আবার কোর্টে চলে যায়। আমার সঙ্গে ইন্টারোগেশনে কোনো প্রয়োজনই হয় না। সে নাকি আমাকেই ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে! এটা তো ওনার শেখানো বিষয়। উনি বলছেন যে, আমার বিরুদ্ধে বলেছে যে আমি ব্রিকফিল্ড থেকে টাকা নিই। ব্রিকফিল্ড এখানে হাওড় অঞ্চল, সবগুলো পানির নিচে ডুবানো আছে। উনি এই অভিযোগ কোত্থেকে আনলেন? এতে আমি খুব দুঃখ পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘পূজার মধ্যে আমাদের কঠিন প্রোগ্রাম ছিল। আমরা সামগ্রিকভাবে পুরো থানা এলাকার পূজামণ্ডপকে নিরাপদে রেখেছি। উনি বলছেন, রেকর্ড আছে। তো রেকর্ড তো উনি দেখাতে পারেননি। আমি নিরাপত্তা দেই, অস্বীকার করব কেন? এই থানা এলাকার প্রত্যেকটায় আমরা সামগ্রিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি পূজামণ্ডপে। এখন ওনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় গানম্যান চাইতে হবে, সেটা আলাদা বিষয়। উনি এসপির কাছে চাইবেন, গানম্যান ইস্যু হলে, গানম্যান থাকবে। কিন্তু আমি তো একটা টিম ওনার সঙ্গে ওইভাবে এনগেজ করে রাখতে পারি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে ওনি লোকজন নিয়ে ওনার অনুসারীদের নিয়ে আমার কক্ষে এসে অবরুদ্ধ করেছেন, মব করেছেন। থানার বাহিরে মিছিল করেছেন। আমি জানি না এখানে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো লোকজন ছিল কি না। কারণ তিনি ওদের না ধরার জন্য আমাকে সব সময় প্রেশারাইজ করেন। এই যে আজকে যারা এসেছেন, আমি চিনিও না ওদেরকে সবাইকে। হয়তো পরবর্তীকালে জানতে পারবো। ওনারা থানার মধ্যে খুব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। আমি নোট ডাউন করে রেখেছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ