বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৪৫ পি.এম
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় চাঁদা আদায় করার সময় স্থানীয় উত্তেজিত জনতা এক অস্ত্রধারী চাঁদা সংগ্রাহককে (কালেক্টর) হাতেনাতে আটক করেছে। পরে তাকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের মারিশ্যারচর শিবারেগা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। আটক ব্যক্তির নাম ছিপন (২৬)। তার পরিচয় পাওয়া গেছে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা দল) একজন সংগ্রাহক হিসেবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছিপন দীর্ঘদিন ধরে ঐ এলাকায় সাধারণ কৃষক ও অধিবাসীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। তিনি চাঁদার দাবি করা টাকা না পাওয়ার পর স্থানীয় কৃষকদের সবজি বাগান নষ্ট করাসহ নানাবিধ কৃষি কাজে বাধা প্রদান ও হুমকি-ধমকি দিচ্ছিলেন। আজ সকালে ছিপন পুণরায় ওই এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে চাঁদা তুলতে গেলে অতিষ্ঠ ও ক্ষুব্ধ জনতা তাকে ঘিরে ফেলে এবং হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরবর্তীতে তাকে তল্লাশি করার সময় একটি দেশীয় অস্ত্র, চাঁদা আদায়ের রসিদ বই ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনার পরে উপস্থিত উত্তেজিত জনতা আটক ছিপনকে বিজিবির একটি টহলদলের কাছে সোপর্দ করে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে একটি ঘটনা ঘটে যেখানে ৫ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই ৫ জনের মধ্যে একজন শিশু, তিনজন নারী এবং একজন পুরুষ অন্তর্ভুক্ত আছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিজিবির মাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অতিরিক্ত পরিচালক মেজর তোয়াসীন হাবীব হাসান।
বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে দর্শনা সীমান্ত পিলার ৭৬/৪-এস বরাবর অবস্থিত গেট দিয়ে ৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গেদে ক্যাম্পের সদস্যরা।
যখন বিষয়টি নজরে আসে, তখনই বিজিবি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এসময় তাদের সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়। পরে বিএসএফ তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি নারীকে পাচারের অভিযোগে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা মো. রুবেলকে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাঁকে পাওয়া গেছে এই অভিযোগের কারণে যে তিনি ভুক্তভোগী ওই নারীর অর্থ ও পাসপোর্ট আত্মসাৎ করেছেন এবং তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আবু তালেব জানান, সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) গত ২১ জুলাই ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করেছে। উল্লেখ্য যে, রুবেল রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার খাগজানা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, যে আর্থিক সংকটে থাকা এক নারীর সঙ্গে একটি স্থানীয় এনজিওতে কর্মরত অবস্থায় রুবেলের পরিচয় হয়। পরে তিনি কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেন। এ জন্য প্রথমে এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিতে তিনি উৎসাহিত করেন এবং সেই টাকা ও ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে আরও অর্থ আদায় করে মোট চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্টে ওই নারীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রের সদস্যরা তার পাসপোর্ট ও সঙ্গে থাকা সব অর্থ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে তাঁকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করানো হয় এবং উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। তাঁকে অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং অন্য দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে স্থানীয়ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে গত ১ জুলাই ওই নারী দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, ভুক্তভোগীর তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের আদেশে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া, এই চক্রের অন্য অভিযুক্ত, তাদের মানবপাচার নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশে অবস্থানরত সম্ভাব্য অন্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে উচ্চ বেতনের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকার অনুমোদিত বৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। সেই সঙ্গে মানবপাচার কিংবা বিদেশে পাঠানোর নামে কোনো প্রতারণার তথ্য থাকলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সিআইডিকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ভারত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই আমন্ত্রণ সংক্রান্ত চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পৌঁছেছে, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্বারা পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ সময় তিনি ভারতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের বিষয়েও কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভারত একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশ। তিনি আশা করেন, আলোচনার মাধ্যমে ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো সমাধান করবে, যা ঢাকা প্রত্যাশা করছে।
রাষ্ট্রপতির বিষয়ে তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ফোনকালের সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিকট এ মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে, যদি কোনো তথ্য আসে, তাহলে বাংলাদেশ সরকার অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করবে।
এ ছাড়া দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে দুটি দেশের সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হবে বলেও শামা ওবায়েদ আশা প্রকাশ করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘কেন যাব মোরা দূরের পথে, সঠিক বিচার পেতে চলে যাই গ্রাম আদালতে’ অথবা ‘অল্প সময়ে স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে।’ এ স্লোগানে রাজশাহী জেলার ৭২টি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতগুলো আগে ছিল বেশ সক্রিয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে অধিকাংশ চেয়ারম্যান এবং মেম্বাররা পালিয়ে যাওয়ায় এখন গ্রাম আদালতগুলো অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।
আগে মাত্র ১০ টাকা দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া ফরমে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে সুষ্ঠু বিচার পেতে পারলেও এখন সেই গ্রাম আদালতগুলোর কক্ষ সার্বক্ষণিক অবস্থায় তালাবদ্ধ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ বেড়ে গেছে। ফলে ভুক্তভোগী ও বিচারপ্রার্থীদের ন্যায্য বিচার পেতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সার্বিক উন্নয়ন এবং সেবামূলক কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। ফলে রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলার ৭২টি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাম আদালতের বিচার কাজ যেই রুমে চলে, সেই রুমে ধুলার স্তুপ জমেছে। চেয়ারগুলো বছরব্যাপী সাজিয়ে রাখা হয়েছে, একটার ওপর একটা। বেশিরভাগ কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ছোটখাটো দেওয়ানি, ফৌজদারি ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি সুযোগ গ্রামবাসী পেতেন, তা এখন নিষ্ক্রিয়। ফলে বাধ্য হয়ে বিচারপ্রার্থীদের আদালতগামী হতে হচ্ছে, এতে মামলার জটও বাড়ছে। পরিলা ইউনিয়ন পরিষদের বাসিন্দা আকবর আলী জানান, প্রতিবেশীর সঙ্গে ছয় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন কিন্তু বিচার কাজ এখনও শুরু হয়নি। তিনি বলেন, “করবে শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলেন পারছে না।” আর দু'মাসের মধ্যে সমাধান না হলে দেওয়ানি আদালতে মামলাও করবেন।
এদিকে প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে মেম্বারদের মধ্যে থেকে একজন প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা একজন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে পরিষদের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। চেয়ারম্যান এবং প্যানেল চেয়ারম্যানদের ভাষ্যমতে, সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন গ্রাম আদালতে জমা পড়া অভিযোগের বিচার কাজ করা হচ্ছে। রাজশাহীর পবা উপজেলার ৯ নম্বর পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাঈদ আলী জানান, “আমাদের ইউনিয়নে প্রতি বৃহস্পতিবার গ্রাম আদালতের বিচার কাজ চলে। মাসে অভিযোগ পড়ে ২০ থেকে ২৫ টি।”
বাগমারা উপজেলার ১০ নম্বর মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল ইসলাম জানান, বিচারে একপক্ষ উপস্থিত হচ্ছে, অন্যপক্ষ আসছে না, এতে বিচার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ৫ নম্বর মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মেজর বিশ্বাস উল্লেখ করেন, “আমার এখানে বিচার কাজ করার জন্য কোন এজলাস নেই। তাই চেয়ারম্যানের রুমে বিচার কাজ করা হয়।”
এদিকে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আহমেদ জানান, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সেজন্য প্যানেল চেয়ারম্যানদের নিয়ে সভা এবং সেমিনারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন তারা।
অন্যদিকে রাজশাহীর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা বলেন, “কোন কোন অভিযোগের বিচার কাজ গ্রাম আদালতে করার বিষয় সম্পর্কে প্যানেল চেয়ারম্যানদের অবহিত করা হচ্ছে।” পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জেলায় মোট ৭২ জন ইউপি চেয়ারম্যান এবং সাধারণ মেম্বার ৬৩৯ জন, সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ২১৩ জন। গ্রাম আদালতের আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন লক্ষ টাকা জরিমানা হওয়ার বিধান রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের।
এদিকে, এক মাসে ৭২ টি ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ জমা পড়েছে প্রায় ১ হাজার ২'শ টি। এর মধ্যে বিচার কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৩'শ ৪৫টির।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ