প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
‘কেন যাব মোরা দূরের পথে, সঠিক বিচার পেতে চলে যাই গ্রাম আদালতে’ অথবা ‘অল্প সময়ে স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে।’ এ স্লোগানে রাজশাহী জেলার ৭২টি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতগুলো আগে ছিল বেশ সক্রিয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে অধিকাংশ চেয়ারম্যান এবং মেম্বাররা পালিয়ে যাওয়ায় এখন গ্রাম আদালতগুলো অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।
আগে মাত্র ১০ টাকা দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া ফরমে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে সুষ্ঠু বিচার পেতে পারলেও এখন সেই গ্রাম আদালতগুলোর কক্ষ সার্বক্ষণিক অবস্থায় তালাবদ্ধ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ বেড়ে গেছে। ফলে ভুক্তভোগী ও বিচারপ্রার্থীদের ন্যায্য বিচার পেতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সার্বিক উন্নয়ন এবং সেবামূলক কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। ফলে রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলার ৭২টি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাম আদালতের বিচার কাজ যেই রুমে চলে, সেই রুমে ধুলার স্তুপ জমেছে। চেয়ারগুলো বছরব্যাপী সাজিয়ে রাখা হয়েছে, একটার ওপর একটা। বেশিরভাগ কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ছোটখাটো দেওয়ানি, ফৌজদারি ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি সুযোগ গ্রামবাসী পেতেন, তা এখন নিষ্ক্রিয়। ফলে বাধ্য হয়ে বিচারপ্রার্থীদের আদালতগামী হতে হচ্ছে, এতে মামলার জটও বাড়ছে। পরিলা ইউনিয়ন পরিষদের বাসিন্দা আকবর আলী জানান, প্রতিবেশীর সঙ্গে ছয় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন কিন্তু বিচার কাজ এখনও শুরু হয়নি। তিনি বলেন, “করবে শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলেন পারছে না।” আর দু'মাসের মধ্যে সমাধান না হলে দেওয়ানি আদালতে মামলাও করবেন।
এদিকে প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে মেম্বারদের মধ্যে থেকে একজন প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা একজন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে পরিষদের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। চেয়ারম্যান এবং প্যানেল চেয়ারম্যানদের ভাষ্যমতে, সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন গ্রাম আদালতে জমা পড়া অভিযোগের বিচার কাজ করা হচ্ছে। রাজশাহীর পবা উপজেলার ৯ নম্বর পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাঈদ আলী জানান, “আমাদের ইউনিয়নে প্রতি বৃহস্পতিবার গ্রাম আদালতের বিচার কাজ চলে। মাসে অভিযোগ পড়ে ২০ থেকে ২৫ টি।”
বাগমারা উপজেলার ১০ নম্বর মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল ইসলাম জানান, বিচারে একপক্ষ উপস্থিত হচ্ছে, অন্যপক্ষ আসছে না, এতে বিচার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ৫ নম্বর মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মেজর বিশ্বাস উল্লেখ করেন, “আমার এখানে বিচার কাজ করার জন্য কোন এজলাস নেই। তাই চেয়ারম্যানের রুমে বিচার কাজ করা হয়।”
এদিকে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আহমেদ জানান, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সেজন্য প্যানেল চেয়ারম্যানদের নিয়ে সভা এবং সেমিনারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন তারা।
অন্যদিকে রাজশাহীর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা বলেন, “কোন কোন অভিযোগের বিচার কাজ গ্রাম আদালতে করার বিষয় সম্পর্কে প্যানেল চেয়ারম্যানদের অবহিত করা হচ্ছে।” পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জেলায় মোট ৭২ জন ইউপি চেয়ারম্যান এবং সাধারণ মেম্বার ৬৩৯ জন, সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ২১৩ জন। গ্রাম আদালতের আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন লক্ষ টাকা জরিমানা হওয়ার বিধান রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের।
এদিকে, এক মাসে ৭২ টি ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ জমা পড়েছে প্রায় ১ হাজার ২'শ টি। এর মধ্যে বিচার কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৩'শ ৪৫টির।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন